Showing posts with label ইতিহাসে খাদ্য. Show all posts
Showing posts with label ইতিহাসে খাদ্য. Show all posts

Thursday, 25 June 2020

আদা বা Ginger সম্পর্কিত কিছু আকর্ষণীয় তথ্য --

আদা বা Ginger পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং জনপ্রিয় মসলা বা গুল্মজাতীয়র মধ্যে অন্যতম পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন রকম ভাবে একে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।



আদার গল্পটি প্রায় 5,000 বছরেরও বেশি পুরনো। প্রাচীন চিনা দার্শনিক কনফুসিয়াস চিকিৎসা ক্ষেত্রে এর উল্লেখযোগ্য অবদানের কথা বর্ণনা করেছিলেন এবং রোমানদের কাছে এটি ধন সম্পদ এবং উর্বরতার প্রতীক ছিল।

আদার প্রথম উৎপত্তি খুঁজে পাওয়া যায় প্রাচীন চীনের দক্ষিণ অংশে; সেখান থেকে এটি ছড়িয়ে পড়ে ভারত, মালুকু আইসল্যান্ড, এশিয়ার অন্যান্য অংশ এবং পশ্চিম আফ্রিকায়। ইউরোপ প্রথম এইগুলোকে দেখতে পায় প্রথম শতাব্দীর সময় যখন প্রাচীন রোমানরা ভারতের সাথে বাণিজ্য করতো। যখন এর পতন ঘটে ইউরোপ এই মসলার কথা ভুলেই গিয়েছিল, যতক্ষণ না মার্কোপোলো তার প্রাচ্য দেশগুলিতে যাত্রাকালীন এইগুলি কিনে নিয়ে এসেছিল। পনেরশো শতাব্দীতে নিউ ওয়ার্ল্ডে এটি আবার পুনরাবিষ্কৃত হয়। আদা ক্যারিবিয়ানে কিনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে এটি খুব সহজে বেড়ে উঠতে শুরু করে। বর্তমানে ভারতে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি আদা উৎপাদিত হয় যার পরিমাণ প্রায় 11,09,000 টনের কাছাকাছি।



আদা কেনার সময় কিছু সতর্কতাঃ

আদা সব সময় তাজা অবস্থায় কেনা উচিত যেগুলি মসৃণ ত্বক ও সুগঠিত হয়, এছাড়া একটু তুলনামূলকভাবে ভারী হয়। যেহেতু টাটকা আদা কেনাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য, সেহেতু অল্প পরিমাণে সবসময় কেনা উচিত যাতে বাড়িতে অনেক সময় ধরে পড়ে থেকে এর কার্যকারিতা কমে না যায়।
দাগ যুক্ত নরম বা আঁশযুক্ত আদা কেনা থেকে বিরত থাকা উচিত, এছাড়া ভেজা বা হালকা ভেজা রকমের আদা কিনবেন না কারণ এতে ছাতা ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কিভাবে বাড়িতে আদা রাখবেন--

আদা সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় দুদিন পর্যন্ত বেশ ভালোই থাকতে পারে কিন্তু আপনি যদি এটিকে কেটে ফেলেন তাহলে চেষ্টা করবেন এটিকে রেফ্রিজারেটরে রেখে দেওয়ার যাতে এর স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট না হয়। একটি কাপড়ে ভালো করে মুড়ে সেটিকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে যতটা সম্ভব বাতাস মুক্ত অর্থাৎ আঁটোসাঁটো করে বেঁধে ফ্রিজারে বা রেফ্রিজারেটরে রাখার চেষ্টা করবেন। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় আদাকে কেটে ভদকা বা অ্যালকোহলের ডুবিয়ে সংরক্ষণ করা, গতানুগতিক পদ্ধতিতে মাটিতে পুঁতে রাখা ইত্যাদি প্রক্রিয়াতেও সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে।



আদার উপকারিতা--

--আদা বমি বমি ভাব এর ক্ষেত্রে খুবই উপকার দেয় যেমন --  সার্জারি অথবা কেমোথেরাপির পর বমি বমি ভাব এছাড়া মাতৃত্বকালীন বমি বমি ভাব ইত্যাদি ক্ষেত্রে খুব ভালো উপকার দেখা গেছে তবে বেশি পরিমাণ আদা খাওয়া উচিত না এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

--মাসেল পেন বা পেশীর ব্যথা এর ক্ষেত্রে আদা উপযোগী।

--গাঁটে ব্যথা বা স্টিফনেস এর ক্ষেত্রে আদা কিছুটা নিরাময় দিতে পারে।

--হার্টের সমস্যা এবং সুগারের সমস্যা আদা কিছুটা নিরাময় দিতে পারে।

--বেশকিছু প্রকার ক্যান্সার, যেমন- প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার এবং ওভারিয়ান ক্যান্সারের ক্ষেত্রে আদার উপকারী তা দেখা গেছে। তবে এ নিয়ে আরো গবেষণা দরকার। 

--কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে আদার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বায়ো একটিভ পদার্থগুলি আমাদের মস্তিষ্কের ইনফ্লেমেটরি প্রতিক্রিয়াগুলি আটকাতে সাহায্য করে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
--আদার অ্যাক্টিভ উপাদান 'জিঞ্জেরল' ইনফেকশনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এছাড়া আদার রস বিভিন্ন প্রকারের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি আটকায়।

--গবেষণায় দেখা গেছেখাবার খাওয়ার এক ঘন্টা আগে 1.2 গ্রাম আদার পাউডার খাওয়ার ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং খুব দ্রুত আমাদের পাকস্থলী খালি করতে সাহায্য করে।

--একটি পুরনো গবেষণায় দেখা গেছিল আদা, লেবু এবং ব্রাউন সুগার এর মিশ্রণ মদ্যপান করার আগে খেলে মদ্যপান পরবর্তী হ্যাংওভার বা মাথা ধরা, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি সম্ভাবনা কমে যায়।

--যে যেসকল ডায়াবেটিস রোগীদের হাই ব্লাড প্রেসার আছে, লিকার চায়ের সাথে সামান্য আদা খাওয়ার ফলে ব্লাড প্রেসারে সামান্য উপকারিতা দেখা যায় গেছে।



সাধারণ ক্ষেত্রে আদা স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী এবং নিরাপদ কিন্তু বেশি পরিমাণে খেলে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, যেমন--

--গর্ভাবস্থা--
গর্ভাবস্থাকালীন আদা খাওয়া নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক দেখা যায়। সাধারণত 1 থেকে 3 শতাংশ পরিমাণ আদা এই সময় খাওয়া নিরাপদ কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে দিনে 1500 মিলিগ্রামের বেশি খাওয়া উচিত নয়। বমি বমি ভাব এর জন্য বেশি পরিমাণ আদা খেলে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। তবে বেশির ভাগ গবেষণায় সকালে বমি বমি ভাব এর জন্য অল্প পরিমাণ আদা খাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

--সাধারণত ডেলিভারির কিছু আগে থেকে আদা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয় কারণ এর ফলে রক্তপাতের বৃদ্ধি হতে পারে।

--বেশি পরিমাণ আদা সেবনের ফলে ডায়রিয়া হতে পারে কারণ এটি ইন্টেসটাইন এর মধ্যে দিয়ে খাদ্য এবং মল এর চলাচল এর গতি বৃদ্ধি করে ফলে ইন্টেসটাইন বিশ্রাম পায় না।

--রক্তপাত--
আদায় এন্টি প্লেটলেট প্রপার্টি থাকার জন্য বেশি পরিমাণ খাবার ফলে রক্তপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

--বেশি পরিমাণে আদা খেলে বুক জ্বালা বা অম্বল হতে পারে 

--যারা ব্লাড প্রেসার এর জন্য ঔষধ সেবন করছে তাদের আদা খাওয়া বেশি পরিমাণে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয় কারণ, এর ফলে হার্টের সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে।
--যেহেতু এটি ব্লাড সুগার লেভেল কম করতে সাহায্য করে তাই ডায়াবেটিস এর ওষুধের সাথে এটি খেলে ব্লাড সুগার লেভেল অতিরিক্ত কমে গিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

--এছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওরাল এলার্জি সিনড্রোম এর কারণে আদা খেলে মুখে চুলকানি বা জ্বালা হতে এবং খাদ্যের স্বাদ হারানো ইত্যাদি দেখা গেছে।

*** আমার এই পোস্টটি বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে গঠিত। আপনার যদি কোন শারীরিক সমস্যা থাকে তবে নিয়মিত আদা খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই নিজের চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে এটি সেবন করবেন। এই পোষ্টের বিভিন্ন সূত্র লিঙ্কগুলি দিলাম ---

১. https://www.webmd.com/vitamins/ai/ingredientmono-961/ginger
২. https://www.medicalnewstoday.com/articles/265990
৩. https://timesofindia.indiatimes.com/life-style/food-news/7-side-effects-of-ginger-you-must-be-aware-of/photostory/71594784.cms?picid=71594894
৪.https://www.stylecraze.com/articles/dangerous-side-effects-of-ginger/

Sunday, 11 March 2018

ভারতীয় খাবার

অনেকে ভাবতে পারেন আমরা ভারতীয় তো ভারতীয় খাবারের বিষয়ে এটুকু তো জানিই। হ্যাঁ তা ঠিক। কিন্তু ভারতীয় খাবারের বিষয়ে এমন অনেক তথ্য রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা। এই তথ্যগুলি বেশ মজাদারও বটে।
ভারতীয় খাবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল মশলা। শুকনো মশলা, বাটা মশলা, কত রং কত স্বাদ, কত সুগন্ধ।

--ভারতীয় খাবারে মূলত ৬ ধরণের স্বাদ পাওয়া যায়। মিষ্টি, টক, নোনতা, ঝাল, তেতো এবং কষাটে খাবার। কিন্তু সবচেয়ে মজাদার বিষয় হল কোনও একটি খাবারে আপনি এই ৬টি স্বাদই একসঙ্গে পাবেন না।
--প্রত্যেক ভারতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে মশলার ব্যবহার হয়। এই প্রত্যেক মশলার বিবিধ গুণাবলী রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যকে সুফল প্রদানকারী গুণও রয়েছে। ভারতের মতো কোনও দেশে এত রকমের এত রংয়ের মশলা পাওয়া যায় না।
--মিষ্টির ব্যবহার মিষ্টির ব্যবহার পর্তুগীজরা চিনির ব্যবহার প্রথম ভারতে শুরু করে তার আগে খাবারে মিষ্টি স্বাদ আনতে মধু এবং মিষ্টি ফলের ব্যবহার করা হত।
Image result for indian food
--চিকেন টিক্কা মশলার রহস্য চিকেন টিক্কা মশলার রহস্য ভারতীয় এই অতি জনপ্রিয় খাদ্যটির উদ্ভব ভারতে হয়নি। যদিও এই চিকেন টিক্কা মশালার ইতিহাস নিয়ে নানা মত রয়েছে। কেউ বলেন যুক্তরাজ্যের এক ভারতীয় রেস্তোরাঁর হেঁশেলেই প্রথম দুর্ঘটনাবশত আবিস্কার হয় এই পদটি। আবার অনেকে বলেন গ্লাসগো-য় এক মুসলিম শেফ নিজের রেস্তোরাঁয় পরীক্ষা নিরিক্ষা করে এই পদটির আবিষ্কার করেন।
--দম বিরিয়ানির উদ্ভব দম বিরিয়ানির উদ্ভব দম বিরিয়ানি হল বিরিয়ানি তৈরির একটি পদ্ধতি। অযোধ্যার নবাব নিজের রাজ্যে খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হলেন। তাই তিনি নির্দেশ দিলেন বড় বড় হাড়িতে ঢাকা দিয়ে আটা ডেলা দিয়ে আটকে গরম ভাপে রান্না করা হবে। এই পদ্ধতিতে রান্নার ফলে অনেক পরিমান খাবার একসঙ্গে কম জ্বালানি খরচ করে রান্না করা যাবে। তখন কে জানত এই পদ্ধতিই পরে 'দম' নামে রসনা জগতে শোরগোল ফেলে দেবে।
--ভারতীয় খাবারের ৩ বিভাগ ভারতীয় খাবারকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। সাত্ত্বিক (টাটকা, ফল সবজি ও জুস), রাজসিক (তেল, ঝাল, মশলায় পরিপূর্ণ খাবার) এবং তামসিক (মাছ, মাংস এবং সুরা)।
--সিঙাড়া ভারতের নয় সিঙাড়া ভারতের নয় সন্ধ্যেবেলা চায়ের সঙ্গে আলুর বা কিমা সিঙাড়ায় কামড় দিতে গিয়ে কখনও ভেবেছেন এই সিঙাড়া ভারতের নয়, ভারতের আমদানি মাত্র। দশম শতাব্দীতে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম এই খাদ্যের উদ্ভব হয়। মধ্য এশিয়ার এক ব্যবসায়ী ত্রয়োদশ বা চতুর্দশ শতাব্দীতে ভারতে নিয়ে আসেন এই সিঙাড়া।

ইতিহাসে চানাচুর

একটু কাঁচা পেঁয়াজ-মরিচের কুচি আর কয়েক ফোঁটা সর্ষের তেলের সাথে মুড়ি-চানাচুরের মাখানো রেসিপি সত্যি বর্ণিল করে তুলতে পারে ঘরে কিংবা বাইরের যেকোনো আড্ডা। ঘরের বৈঠক খানায় আলিশান থালা-বাসন, নিরন্নের শতছিন্ন থালা কিংবা আড্ডাবাজদের সম্বল খবরের কাগজে সমান দ্যুতি ছড়ানো এই খাবারের নাম চানাচুর। ভারতবর্ষে জন্ম অথচ একদিনও চানাচুর খাননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। কিন্তু কেউকি ভেবে দেখেছি কোথা থেকে শুরু হয়েছিলো এই চানাচুরের যাত্রা। 
Image result for Bombay mix
কাদের হাত ঘুরে কালের খেয়ায় ভর করে এই চানাচুর মুড়ির সাথে কিংবা চকমকে প্যাকেটে করে হাজির হলো আমাদের হাতে হাতে কিংবা বৈঠক খানার বৈঠক-রাস্তার পাশের আড্ডাবাজিতে?
বর্তমান ভারতীয় সিনেমা শিল্পের প্রাণকেন্দ্র মুম্বাইয়ের বন্দর এলকায় মোগল যুগের মাঝামাঝি কিছু মানুষকে বিশেষ ধরণের মুড়মুড়ে ডালভাজা বিক্রি হতে দেখা যেতো। গুড়ো ডালকে বিশেষভাবে ঝাল মশলা সহকারে ভেজে বিক্রি করা হতো চুড়ানামে। সময়ের আবর্তে এই চুড়া মুম্মাইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করে প্রায় পুরো ভারতজুড়ে। তবে ভারতের নানা স্থানে আলুবিহীন নতুন পদের এই খাবারটি পরিচিতি পায় ভিন্ন ভিন্ন নামে। কোথাও একে ডাকা হতো চিবাড়া নামে, কোথাওবা একে চিব্দু কিংবা ভূষো নামেও পরিচিতি পেতে দেখা গেছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগে ইংরেজদের পাশাপাশি আরো অনেক ইউরোপীয় নাগরিকের আগমণ ঘটেছিলো ভারতবর্ষে। তাদের মধ্যেও বেশ মুখরোচক খাদ্য হিসেবে স্থান করে নেয় এই চুড়া। তাদের হাত ধরে এর বিস্তার ঘটে ইউরোপের নানা দেশে। অনেক ইউরোপীয় এলাকায় বেশ জনপ্রিয় এই খাবারকে ডাকা হয় ভিন্ন ভিন্ন নামে। যেমন, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের অধিবাসীরা প্রথমে মুম্বাই থেকে

উৎপত্তিলাভ করা এই খাবারকে ডাকে বোম্বে মিক্স হিসেবে।
মায়ানমারের মানুষের মাঝে ‘সারকালে চিই’ নামে পরিচিত এই ধরণের একটি খাবারের জনপ্রিয়তা মন্দ নয়। শ্রীলঙ্কাতে উত্তেজক গাছ-গাছড়ার সাথে বিভিন্ন ধরণের শুকনো কারি লিফ মিশিয়ে তার সাথে কাসাবা যুক্ত করে বিক্রি করা হয়। এর সাথে সিঙ্গাপুরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘ক্যাকাং পুতিই’ এর বেশ মিল রয়েছে। তবে নেপালের সেই ডালমুঠ কিংবা পশ্চিম বাংলা বা আমাদের বাংলাদেশে যে চানাচুর বিক্রি হতে দেখা যায় তার সাথে তামিল নাড়– ও কেরালার মিক্স্রারের বেশি মিল রয়েছে। সেখানে পাকোড়া, চানা ডাল, বুন্ধি, কারাসেভ, মুরুক্কু আর ওমাপড়ি একসাথে মিশিয়ে ব্রিক্রি হতে দেখা যায় যা খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু। সবথেকে অবাক কাণ্ড এই চানাচুর আফ্রিকার দেশ কেনিয়া, জিম্বাবুয়ে, তাঞ্জানিয়া, উগান্ডা এমনকি খোদ দক্ষিণ আফ্রিকাতে পর্যন্ত বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে চিবদো বা চিবরা নামে। তবে এখানে ঝালের বদলে মিষ্টি জাতীয় চানাচুরও বিক্রি হতে দেখা যায়। আর দক্ষিণ আফ্রিকার ‘কাপে মালায়’ সম্প্রদায় এই খাবারকে তাদের মাঝে জনপ্রিয় করেছে ‘শ্লাঙ্গেতজিয়েস’ নামে।
Image result for Bombay mix
বাংলাদেশ তথা ভারতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এ খাবারটির সবথেকে মজার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একে আপনি মুঠো করে খেতে পারবেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রচুর ঝালমশলা যুক্ত হলে সেটা খাওয়ার জন্য চামচ ব্যবহার করা হলেও তার সাথে চানাচুরের মূল ঐতিহ্য খাপ খায়না। আর এভাবেই চানাচুর স্থান করে নিয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট এমনকি আমেরিকাতে পর্যন্ত। সেখানে যে কয়টি ভারতীয় শুকনা খাবারের আইটেম দেখতে পাওয়া যায় তার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় হচ্ছে এই চানাচুর। পাকিস্তানেও এই খাবারটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে চিবাড়া বা নিমকো নামে যার সাথে লক্ষেèৗ অঞ্চলে প্রচলিত নামের বিশেষ মিল রয়েছে। এই জাতীয় একটি অনেক বেশি ঝাল আর কুড়মুড়ে ভাজা ডালের ডিশ আমেরিকায় প্রচলিত হয়েছে গুজরাটি মিক্স বা গথিয়া মিক্স হিসেবে। এখানে চানাচুরের সাথে প্রচুর চীনাবাদাম আর অসহ্য রকম ঝাল দেয়া হয়ে থাকে। একই ধরণের খুব ঝাল একটি খাবার অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে ভুজিয়া মিক্স হিসেবে।
সমসাময়িককালে বেশিরভাগ মানুষের কোলেস্টরোল ভীতি এই আলুবিহীন ভারতীয় খাবার চানাচুরকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। খুব সম্ভবত উড়িয়া শব্দ চানাচুড়ার অপভ্রংশ থেকে বাংলায় চানাচুর শব্দটি এতো জনপ্রিয় হয়ে থাকতে পারে। তবে এই বিষয় নিয়ে বিস্তৃত গবেষণা না হওয়ার নিশ্চিত করে কিছু না বলাটাই শ্রেয়। আসলে বিভিন্ন রকম ডালভাজার সাথে, অসাধারণ স্বাদের কিছু মশলা, তেল, ঝাল, সবুজ মটরভাজা, চীনাবাদাম, কর্ন আর লবনের মিশ্রণে তৈরি হওয়া সুস্বাদু একটি কুড়মুড়ে খাবারকেই আমরা জানি জানি চানাচুর হিসেবে। মীর জুমলার সময়কালে আগত বাহিনীর সাথে বেশ কয়েকজন বাবুর্চির আগমণ ঘটেছিলো বর্তমান বাংলাদেশে। একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলে সেই সময় থেকেই বাংলাদেশের মানুষের মাঝে এই খাবারটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার শেকড় খুঁজে নেয়া যেতেই পারে। সময়কাল বিচারে তাই অন্যসব মোগলাই খানার সমসাময়িক হবে এই চানাচুর। এর সময়কাল তাই কমপক্ষে ৪০০ বছর ধরে নেয়াটা বোধকরি ভুল হবে না।

Saturday, 3 March 2018

যে খাবারগুলি আমরা ভুল সময় খাই-

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অপরিহার্য। দেহের পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য এই খাবারগুলো আমরা খেয়ে থাকি। আপনি জানেন কি, এই পুষ্টিকর খাবারগুলো খাওয়ার সঠিক সময় রয়েছে? ভুল সময়ে খাবারগুলো খাওয়ার কারণে হজমে সমস্যা দেখা দেওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক পরিচিত এই খাবারগুলো খাওয়ার সঠিক সময়টি।
১। দুধ পুষ্টিকর সুষম খাবার বলতে আমরা মূলত দুধকে বুঝি। বিশেষজ্ঞদের মতে এই দুধ খাওয়ার সঠিক সময় হল রাত। দুধ হজম হতে সময় বেশি লেগে থাকে, যার কারণে দিনের বেলা এটি খাওয়া হলে আপনি অলসবোধ করতে পারেন। রাতে দুধ পান করুন, এতে শরীর রিল্যাক্স হবে এবং কোষগুলো দুধের পুষ্টি ভালভাবে শুষে নিতে পারবে।
২। দই: দিনের বেলা দই খেলে হজমে সাহায্য করবে। কিন্তু এই দই-ই রাতে খেলে হজমে সমস্যা করবে। আবার টকদই আয়ুর্বেদ অনুসারে রাতে টকদই খাওয়া হলে, এটি শরীরে তাপ বৃদ্ধি করে দেয়। যা হজমের সমস্যা, বুক জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে থাকে। তারা আরও মনে করেন দুপুরের গরমে দই খাওয়া একই সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে।
৩। ভাত: রাতে জমিয়ে নয়, ভাত খান দুপুরে। ভাত পুষ্টিবিদ এবং ডায়েটিশিয়ানের মতে ভাত এবং ব্রেড জাতীয় খাবার রাতে না খাওয়াই ভাল। এটি পেট ভরিয়ে রেখে হজমে সমস্যা করে থাকে। রাতে ভাত ওজন বৃদ্ধি করে, হজমে দীর্ঘ সময় নিয়ে থাকে।
৪। আপেল: সকালে উঠে আপেল খেলে শরীর থাকবে ঝরঝরে। এর মধ্যে থাকা পেকটিন কোষ্ঠাকাঠিন্য রুখতে সাহায্য করে।
৫। গ্রিন টি ওজন হ্রাস করতে কিংবা স্বাস্থ্য রক্ষার্থে অনেকেই সবুজ চা বা গ্রিন টি পান করে থাকেন। দিনের যেকোন সময় এটি পান করা স্বাস্থ্যকর নয়। সকালে এটি পান করা থেকে বিরত থাকুন, এতে থাকা ক্যাফিন ড্রিহাইড্রেশন এবং অ্যাসিডিটি সৃষ্টি করতে পারে। তাই বিকেল অথবা সন্ধ্যায় এটি পান করুন।
৬। কফি অনেক বিশেষজ্ঞরা রাতে কফি পান করতে নিষেধ করে থাকেন। এটি ঘুমে সমস্যা সৃষ্টি করে আপনাকে রাতে জাগিয়ে রাখে। সকাল অথবা দুপুরে কফি পান করতে পারেন। এটি আপনার কর্মোদ্যম বৃদ্ধি করে আপনার ঘুম তাড়াতে সাহায্য করে থাকে।
৭। মিষ্টি: খাওয়ার পর মিষ্টিমুখ করাই আমাদের রীতি। তবে মেদ জমাতে না চাইলে মিষ্টি বা আইস ক্রিম খান সকালে। রাতে খেলেই বিপদ।
চিনি এবং চিনি জাতীয় খাবার সবচেয়ে ভাল সময় হল সকালবেলা। এরা শক্তি বৃদ্ধি করে সারাদিনে কাজে উদ্যম দিয়ে থাকে। রাতে চিনি জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভাল।
৮। কলা সকাল অথবা বিকেলে কলা খাওয়ার উপযুক্ত সময়। তবে অবশ্যই খালি পেটে খাবেন না। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড যা বুক জ্বালাপোড়া দূর করে দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে। রাতে কলা খাওয়া অনেকেরই ঠান্ডার সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে।
৯। মাংস: লাঞ্চ বা ডিনার নয়, মাংস খেতে হলে খান বিকেলে।
বাদাম: ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে পরিপূর্ণ বাদাম খাওয়ার সেরা সময় সন্ধে বেলা। সকাল, দুপুর বা রাত নয়।
১০।ড্রাই ফ্রুটস: খেজুর, ফিগ, কিসমিস জাতীয় ড্রাই ফ্রুটস খাওয়ার উপযুক্ত সময় সকাল ঘুম থেকে উঠে। রাতে খেলেই অম্বল হবে।
.
১১।চিজ: ব্রেকফাস্টে খান চিজ। এতে ওজন কমবে। খবরদার এক্সট্রা চিজ পিজা দিয়ে ডিনার করবেন না। মুটিয়ে যাবেন।

Friday, 2 March 2018

যে খাদ্যে রাতে ঘুম আসে নাঃ

ঘুম স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। সুস্থভাবে জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত ঘুম অত্যন্ত অন্তত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুম খুব জরুরি। অনেক পরীক্ষার পড়া, ব্যবসা বা অফিসের কাজ শেষ করার জন্য রাত জাগতে হয়। ফলে ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। এর জন্য অনেকটা দায়ী আপনার নিত্যদিনের খাবার। কারণ এমন কিছু খাবার আছে যা আপনাকে নির্ঘুম রাখাবে সারা রাত।

১. ওয়াইন: অনেকের ধারণা রাতে শোয়ার আগে একটু ওয়াইন খেলে মানুষের চিন্তাগুলো সরিয়ে আরো ভালো ঘুম হবে। ঘটনা মোটেও তা নয়। এলকোহলের প্রতিক্রিয়া কেটে গেলেই ঘুমের ঘোর কেটে যাবে। শুরু হবে মাথাব্যথা, প্রচণ্ড ঘাম। রাতকে তখন মনে হবে অসম্ভব লম্বা।
২. গ্রিন টি: যদিও গ্রিন টির অনেক উপকার আছে কিন্তু ঘুমের খুব ক্ষতি করে। তার জন্য দায়ী গ্রিন টিতে থাকা রাসায়নিক।
৩. চিকেন: যদিও ডায়েটে প্রোটিন থাকা খুব দরকার। কিন্তু বেশি পরিমাণে প্রোটিন খেলে ঠিক মতো ঘুম আসবে না। আর চিকেনে সবচেয়ে বেশি প্রোটিন। তাই ডিনারে চিকেন না খাওয়াই ভালো। কারণ বেশি প্রোটিন শরীরে প্রচুর এনার্জি তৈরি করে। এতে শরীর শান্ত হওয়ার পরিবর্তে উত্তেজিত হয়।
৪. পিৎজা: প্রতিদিন পিৎজা খেলে হজম শক্তির ব্যাঘাত ঘটে। পিৎজার সাথে যে টমাটো সস খাওয়া হয়, তাতে এসিডিটি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাজেই ঘুমানোর আগে পিৎজা কখনোই খাওয়া উচিৎ নয়।
৫. আইসক্রিম: রাতে আইস ক্রিম বা অন্য কোনো ডেসার্ট এড়িয়ে চলাই উচিৎ। এতে হাই ফ্যাট আর প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। তাই শুতে যাওয়ার আগে খেলে আপনার শরীর ফ্যাট বার্ন করে উঠতে পারবে না ফলে আপনি রেস্টলেস হয়ে উঠবেন। এছাড়া শুতে যাওয়ার আগে এইসব খাবার খেলে গাড় ঘুম হবে না।
৬. চকলেট: আইসক্রিমের মতোই চকলেট, ক্যান্ডি ঘুমের জন্য ক্ষতিকর। ডার্ক চকলেটে ক্যাফেইন থাকে, কাজেই ঘুমের আগে এটা খেলে ঘুম আসতে দেরি হবে। যদি খেতেই চান তবে মিল্ক চকলেট খান। এটা ঘুমের ক্ষতি করে না।

৭. মশলাদার খাবার: মরিচ বা সর্ষে বাটা দেয়া খাবার রাতে না খাওয়াই ভালো। এতে শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রসুনকে ‘হট হার্ব’ বলা হয় যা খেলে অম্বল আর বুক জ্বালার সমস্যা হতে পারে।
৮. চিজ: উপকথা অনুযায়ী রাতে চিজ খেলে দুঃস্বপ্ন দেখবেন। চিজে থাকা রাসায়নিক ব্রেনকে স্টিমুলেট করে আর আপনাকে সারা রাত জাগিয়ে রাখতে পারে। কারো কারো আবার মাইগ্রেনের সমস্যাও দেখা দিতে পারে চিজ খাওয়ার ফলে।
৯. পাস্তা: পাস্তাতে উচ্চ মাত্রায় গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকে যেটা আপনার রক্তে সুগারের মাত্রাকে বাড়িয়ে তুলবে।
ফলে ভালো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা অনিবার্য।
এদিকে ঘুমাতে যাওয়ার তিন ঘণ্টা আগে অন্তত রাতের খাবার সেরে ফেলার চেষ্ট করুন। তাহলেই ভালো ঘুম হবে। আর সকাল বেলা ফ্রেশ মন নিয়ে শুরু করুন নিজের কাজকর্ম।

Wednesday, 28 February 2018

পোস্ত নিয়ে কিছু তথ্য--

-গাছের Latex হল আফিম‚ সেই গাছের শুকনো বীজই আমাদের অতি আদরের পোস্তদানা |
- কয়েক হাজার বছর ধরে মানুষ অভ্যস্ত আফিম ও পোস্তদানায় |
- মিশরে খ্রিস্টের জন্মের ১৫৫০ বছর আগে পোস্ত ছিল সিডেটিভ | ব্রোঞ্জ যুগে মিনোয়ান সভ্যতায় পোস্ত ছিল পরিচিত | দু জায়গাতেই ব্যবহৃত হতো ওষধি হিসেবে |
- ২৭০০-১৫৫০ খ্রিস্টপূর্বে ক্রীট দ্বীপে পোস্ত খাওয়ানো হতো শিশুদের | দুধ বা মধুতে মিশিয়ে | যাতে তাদের কান্না বন্ধ হয় |
- সুমেরীয় সভ্যতায় পোস্ত ছিল ওষধি | অনিদ্রা দূর করতে‚ ফার্টিলিটি বাড়াতে দেওয়া হতো পোস্ত | এমনকী কালো জাদুতে পোস্ত ছিল অদৃশ্য-বিদ্যার টোটকা |
- ভারতীয় সভ্যতাতেও আফিম বা পোস্তর মূল পরিচয় ছিল ওষধি | ধন্বন্তরি তাঁর বইয়ে নিদান দিয়েছেন পোস্তকে নিয়ে |


- সম্রাট আকবর এর কদর বাড়ান রান্নার উপকরণ হিসেবে | তাঁর নির্দেশে বাংলায় বাড়ানো হয় পোস্ত চাষ | মুঘল হেঁশেলে রান্নায় স্বাদ বাড়াতে বা কোনও ঝোল ঘন করতে পোস্তর কদর ছিল বেশ |
- ব্রিটিশরা এসে আবিষ্কার করল চিনে বেআইনি গাঁজার বিশাল বাজার | তারা বাংলা বিহার ওড়িশা জুড়ে ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দিল গাঁজা চাষ |
- ফলত পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে গ্রাম বাংলায় অতি দ্রুত বেড়েছিল পোস্ত চাষ |
- চাষিদের ঘরে হাহাকার | আফিম ব্যবসা কর ব্রিটিশদের আঙুল ফুলে কলাগাছ |
- এদিকে গাঁজা চাষের বাই প্রোডাক্ট হিসেবে পড়ে থাকল প্রচুর উদ্বৃত্ত ওপিয়াম সিড বা পোস্ত দানা |
- ফলে বাঙালি হেঁশেলে হুহু করে ঢুকে পড়ল পোস্ত | মোটেও দামী খাবার নয় | সাধারণ গৃহস্থ আলুসিদ্ধ-পান্তাভাতে খেত পোস্ত বাটা আর পোস্তর বড়া |
- শুকনো জায়গায় চাষ হয় বলে বাংলার পশ্চিম প্রান্তে বেশি চাষ হতো | ফলে এদেশীয়দের রসুইয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করে পোস্ত |
- ধীরে ধীরে পদ্মানদীর ওপাড়েও জমিয়ে বসে পোস্তর স্বাদ |

- ব্রিটিশদের রাজধানী প্রথমে বাংলায় হওয়ায় ইউরোপীয়‚ জুইশ খাবার যেমন কেক-পেস্ট্রি সাজাতেও ব্যবহৃত হতে লাগল পোস্ত |
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে পোস্ত হয়ে গেল মহার্ঘ্য | গাঁজা চাষ ব্যাপক ভাবে রোধ করা হল | ফলে পোস্তর যোগানও রুদ্ধ হল |
- আকবরের সময়ের মতো পোস্ত আবার অভিজাত হয়ে পড়াতে আম বাঙালির মহা মুশকিল হল | এদিকে তাদের তো খেয়ে খেয়ে অভ্যাস হয়ে গেছে | কিন্তু সরকারি উদ্যোগে পোস্ত হয়ে গেল দুর্মূল্য |