Showing posts with label স্স্থ্যশরীর. Show all posts
Showing posts with label স্স্থ্যশরীর. Show all posts

Thursday, 25 June 2020

আদা বা Ginger সম্পর্কিত কিছু আকর্ষণীয় তথ্য --

আদা বা Ginger পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং জনপ্রিয় মসলা বা গুল্মজাতীয়র মধ্যে অন্যতম পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন রকম ভাবে একে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।



আদার গল্পটি প্রায় 5,000 বছরেরও বেশি পুরনো। প্রাচীন চিনা দার্শনিক কনফুসিয়াস চিকিৎসা ক্ষেত্রে এর উল্লেখযোগ্য অবদানের কথা বর্ণনা করেছিলেন এবং রোমানদের কাছে এটি ধন সম্পদ এবং উর্বরতার প্রতীক ছিল।

আদার প্রথম উৎপত্তি খুঁজে পাওয়া যায় প্রাচীন চীনের দক্ষিণ অংশে; সেখান থেকে এটি ছড়িয়ে পড়ে ভারত, মালুকু আইসল্যান্ড, এশিয়ার অন্যান্য অংশ এবং পশ্চিম আফ্রিকায়। ইউরোপ প্রথম এইগুলোকে দেখতে পায় প্রথম শতাব্দীর সময় যখন প্রাচীন রোমানরা ভারতের সাথে বাণিজ্য করতো। যখন এর পতন ঘটে ইউরোপ এই মসলার কথা ভুলেই গিয়েছিল, যতক্ষণ না মার্কোপোলো তার প্রাচ্য দেশগুলিতে যাত্রাকালীন এইগুলি কিনে নিয়ে এসেছিল। পনেরশো শতাব্দীতে নিউ ওয়ার্ল্ডে এটি আবার পুনরাবিষ্কৃত হয়। আদা ক্যারিবিয়ানে কিনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে এটি খুব সহজে বেড়ে উঠতে শুরু করে। বর্তমানে ভারতে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি আদা উৎপাদিত হয় যার পরিমাণ প্রায় 11,09,000 টনের কাছাকাছি।



আদা কেনার সময় কিছু সতর্কতাঃ

আদা সব সময় তাজা অবস্থায় কেনা উচিত যেগুলি মসৃণ ত্বক ও সুগঠিত হয়, এছাড়া একটু তুলনামূলকভাবে ভারী হয়। যেহেতু টাটকা আদা কেনাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য, সেহেতু অল্প পরিমাণে সবসময় কেনা উচিত যাতে বাড়িতে অনেক সময় ধরে পড়ে থেকে এর কার্যকারিতা কমে না যায়।
দাগ যুক্ত নরম বা আঁশযুক্ত আদা কেনা থেকে বিরত থাকা উচিত, এছাড়া ভেজা বা হালকা ভেজা রকমের আদা কিনবেন না কারণ এতে ছাতা ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কিভাবে বাড়িতে আদা রাখবেন--

আদা সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় দুদিন পর্যন্ত বেশ ভালোই থাকতে পারে কিন্তু আপনি যদি এটিকে কেটে ফেলেন তাহলে চেষ্টা করবেন এটিকে রেফ্রিজারেটরে রেখে দেওয়ার যাতে এর স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট না হয়। একটি কাপড়ে ভালো করে মুড়ে সেটিকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে যতটা সম্ভব বাতাস মুক্ত অর্থাৎ আঁটোসাঁটো করে বেঁধে ফ্রিজারে বা রেফ্রিজারেটরে রাখার চেষ্টা করবেন। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় আদাকে কেটে ভদকা বা অ্যালকোহলের ডুবিয়ে সংরক্ষণ করা, গতানুগতিক পদ্ধতিতে মাটিতে পুঁতে রাখা ইত্যাদি প্রক্রিয়াতেও সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে।



আদার উপকারিতা--

--আদা বমি বমি ভাব এর ক্ষেত্রে খুবই উপকার দেয় যেমন --  সার্জারি অথবা কেমোথেরাপির পর বমি বমি ভাব এছাড়া মাতৃত্বকালীন বমি বমি ভাব ইত্যাদি ক্ষেত্রে খুব ভালো উপকার দেখা গেছে তবে বেশি পরিমাণ আদা খাওয়া উচিত না এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

--মাসেল পেন বা পেশীর ব্যথা এর ক্ষেত্রে আদা উপযোগী।

--গাঁটে ব্যথা বা স্টিফনেস এর ক্ষেত্রে আদা কিছুটা নিরাময় দিতে পারে।

--হার্টের সমস্যা এবং সুগারের সমস্যা আদা কিছুটা নিরাময় দিতে পারে।

--বেশকিছু প্রকার ক্যান্সার, যেমন- প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার এবং ওভারিয়ান ক্যান্সারের ক্ষেত্রে আদার উপকারী তা দেখা গেছে। তবে এ নিয়ে আরো গবেষণা দরকার। 

--কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে আদার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বায়ো একটিভ পদার্থগুলি আমাদের মস্তিষ্কের ইনফ্লেমেটরি প্রতিক্রিয়াগুলি আটকাতে সাহায্য করে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
--আদার অ্যাক্টিভ উপাদান 'জিঞ্জেরল' ইনফেকশনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এছাড়া আদার রস বিভিন্ন প্রকারের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি আটকায়।

--গবেষণায় দেখা গেছেখাবার খাওয়ার এক ঘন্টা আগে 1.2 গ্রাম আদার পাউডার খাওয়ার ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং খুব দ্রুত আমাদের পাকস্থলী খালি করতে সাহায্য করে।

--একটি পুরনো গবেষণায় দেখা গেছিল আদা, লেবু এবং ব্রাউন সুগার এর মিশ্রণ মদ্যপান করার আগে খেলে মদ্যপান পরবর্তী হ্যাংওভার বা মাথা ধরা, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি সম্ভাবনা কমে যায়।

--যে যেসকল ডায়াবেটিস রোগীদের হাই ব্লাড প্রেসার আছে, লিকার চায়ের সাথে সামান্য আদা খাওয়ার ফলে ব্লাড প্রেসারে সামান্য উপকারিতা দেখা যায় গেছে।



সাধারণ ক্ষেত্রে আদা স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী এবং নিরাপদ কিন্তু বেশি পরিমাণে খেলে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, যেমন--

--গর্ভাবস্থা--
গর্ভাবস্থাকালীন আদা খাওয়া নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক দেখা যায়। সাধারণত 1 থেকে 3 শতাংশ পরিমাণ আদা এই সময় খাওয়া নিরাপদ কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে দিনে 1500 মিলিগ্রামের বেশি খাওয়া উচিত নয়। বমি বমি ভাব এর জন্য বেশি পরিমাণ আদা খেলে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। তবে বেশির ভাগ গবেষণায় সকালে বমি বমি ভাব এর জন্য অল্প পরিমাণ আদা খাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

--সাধারণত ডেলিভারির কিছু আগে থেকে আদা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয় কারণ এর ফলে রক্তপাতের বৃদ্ধি হতে পারে।

--বেশি পরিমাণ আদা সেবনের ফলে ডায়রিয়া হতে পারে কারণ এটি ইন্টেসটাইন এর মধ্যে দিয়ে খাদ্য এবং মল এর চলাচল এর গতি বৃদ্ধি করে ফলে ইন্টেসটাইন বিশ্রাম পায় না।

--রক্তপাত--
আদায় এন্টি প্লেটলেট প্রপার্টি থাকার জন্য বেশি পরিমাণ খাবার ফলে রক্তপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

--বেশি পরিমাণে আদা খেলে বুক জ্বালা বা অম্বল হতে পারে 

--যারা ব্লাড প্রেসার এর জন্য ঔষধ সেবন করছে তাদের আদা খাওয়া বেশি পরিমাণে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয় কারণ, এর ফলে হার্টের সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে।
--যেহেতু এটি ব্লাড সুগার লেভেল কম করতে সাহায্য করে তাই ডায়াবেটিস এর ওষুধের সাথে এটি খেলে ব্লাড সুগার লেভেল অতিরিক্ত কমে গিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

--এছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওরাল এলার্জি সিনড্রোম এর কারণে আদা খেলে মুখে চুলকানি বা জ্বালা হতে এবং খাদ্যের স্বাদ হারানো ইত্যাদি দেখা গেছে।

*** আমার এই পোস্টটি বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে গঠিত। আপনার যদি কোন শারীরিক সমস্যা থাকে তবে নিয়মিত আদা খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই নিজের চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে এটি সেবন করবেন। এই পোষ্টের বিভিন্ন সূত্র লিঙ্কগুলি দিলাম ---

১. https://www.webmd.com/vitamins/ai/ingredientmono-961/ginger
২. https://www.medicalnewstoday.com/articles/265990
৩. https://timesofindia.indiatimes.com/life-style/food-news/7-side-effects-of-ginger-you-must-be-aware-of/photostory/71594784.cms?picid=71594894
৪.https://www.stylecraze.com/articles/dangerous-side-effects-of-ginger/

Tuesday, 31 March 2020

গরমে ঘামের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে কয়েকটি টিপস-

গরমকাল আসছে সাথে ঘামের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

যদিও ঘাম খুবই স্বাভাবিক এক প্রক্রিয়া যা গরম কালে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। শরীর থেকে বেরোনো ঘাম কিন্তু সব সময় দুর্গন্ধ পূর্ণ হয়না, আসলে কিছু ব্যাকটেরিয়া আপনার শরীরের কিছু অংশে বংশবিস্তার করে এবং দ্রুত তাদের সংখ্যা বাড়াতে থাকে এরপর আপনার চামড়ার উপরের কেরাটিন নামক প্রোটিন ভাঙ্গার সময় এই দুর্গন্ধের উৎপত্তি হয়। সাধারণত বগলে সবচেয়ে বেশি এর প্রভাব দেখা যায় এছাড়াও যৌনাঙ্গের আশেপাশে, থাই এর উপরের অংশ পায়ের তলা এই সকল স্থানেও ব্যাকটেরিয়ার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।

আপনার কখনো কি মনে হয় যে আপনার গায়ের গন্ধ ততটা ভালো নয়?তাহলে পুরোপুরি গরম আসার আগে এখনই কিছু নিয়ম মেনে চলা শুরু করে দিতে পারেন--

 ১. রোজ দিনে অন্তত একবার করে স্নান করুন এর ফলে চামড়ায় থাকা ব্যাকটেরিয়া গুলি এবং জমে থাকা ঘাম ধুয়ে যাবে যদি আবহাওয়া গরম হয় তাহলে একবারের বেশি স্নান করুন।
২. অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করুন।

৩. ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করুন; ডিওড্রেন্ট গুলিতে অ্যালকোহল থাকে যা ব্যাকটেরিয়া নিধন করতে সাহায্য করে এবং  চামড়াকে এসিডিক করে দেয় ফলে যা ব্যাকটেরিয়াদের বাঁচার জন্য অনুপযোগী হয়ে যায়। এছাড়া দুর্গন্ধ দূর করে এটি দিনে দুবার ব্যবহার করতে পারেন।

৩. Anti-perspirant বা রোল অন ব্যবহার করতে পারেন, এগুলিতে অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড থাকে এবং অনেক সময় কিছু পরিমাণে ডিওড্রেন্ট থাকে এরা ঘাম বেরোনো ব্লক করে দেয় এরফলে কম ঘাম বেরোয়। তবে স্নান করার পর বা বেরোনোর সময় এগুলি দিলে কতটা কার্যকরী দাড়ায় না কারণ ঘামে এগুলো ধুয়ে যায় তাই আপনি রাত্তিরে শোয়ার আগে ব্যবহার করতে পারেন যাতে যখন আপনি ঘুমিয়ে থাকবেন তখন ঘাম হবে না এবং এগুলি আপনার চামড়ার ওপর নিজেদের কাজ  করার সুযোগ পাবে, এরপর দরকার হলে দিনে আরও একবার অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট বা সাধারণ ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। তবে আপনাকে সতর্ক করে দিই কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট এর সাথে ব্রেস্ট ক্যান্সার বা প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে এবং যেহেতু শরীর থেকে ঘাম বেরোনো কমে যায় ফলে তাপমাত্রা জনিত কিছু সমস্যা দেখা যেতে পারে।
৪.যতটা পারুন শুকনো থাকার চেষ্টা করুন কারণ ব্যাকটেরিয়া শুকনো জায়গায় সহজে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না।

৫. যদি আপনি লক্ষ্য করেন যে ব্যায়াম করার জন্য আপনার সবচেয়ে বেশি ঘাম এবং দুর্গন্ধ হচ্ছে তাহলে অবশ্যই আপনার ব্যায়াম করার জন্য যে কাপড়গুলি পড়েন সেগুলিকে নিয়মিত পরিষ্কার করুন কারণ হতে পারে এই কাপড়গুলি ব্যাকটেরিয়া তে ভরে গেছে ।
৬. নিজের খাদ্যাভাসের পরিবর্তন করুন তেল-ঝাল-মসলা জাতীয় খাবার কম খান এবং পিয়াজ রসুন এগুলি বেশি খেলে অনেক সময় ঘামের মাধ্যমে এদের গন্ধ বেরিয়ে আসে।
৭.আপনার যদি অতিরিক্ত ঘাম অথবা হাইপারহাইড্রোসিস এর সমস্যা থাকে তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং তার কথামত ট্রিটমেন্ট করেন।
৮. নিয়মিতভাবে বগলের চুল সেভ করতে হবে কারণ দেখা গেছে এই সকল অঞ্চলে চুল থাকলে সহজে ঘাম উবে যেতে পারে না যা ব্যাকটেরিয়া কে প্রোটিন ব্রেকডাউন করতে আরো সময় দেয় তাই নিয়মিত বগলের তলায় চুল পরিষ্কার পরিষ্কার করবেন অর্থাৎ সেভ করবেন।
৯. দিনে অন্তত একবার গরম জলে পা দুটি পরিষ্কার করবেন আঙ্গুলের মাঝখান গুলো পরিষ্কার করতে ভুলবেন না ।

১০. পায়ে দুর্গন্ধের সমস্যা থাকলে অবশ্যই ফাইবার এবং ফুলের তৈরি মৌজা পড়ার চেষ্টা করবেন এবং প্রতিদিন পরিষ্কার মোজা পরার চেষ্টা করবেন।
১১. প্লাস্টিক লাইনিং করা জুতো বেশি সময় ধরে পড়বেন না চেষ্টা করবেন চামড়া লাইনিং এর জুতো পড়তে কারণ চামড়ার জুতো থেকে সহজে ঘাম উবে যেতে পারে । চেষ্টা করবেন একটা জুতো যাতে দুদিন না পড়তে হয় কারণ একটা রাত্তিরে জুতো পুরোপুরি শুকাতে পারে না।
১২. খরখরে ঝামাপাথর বা পিউমিক স্টোন দিয়ে পা ধোয়ার সময় ঘষে দেবেন কারণ ব্যাকটেরিয়া চামড়ার মৃতকোষ গুলির ওপর নির্ভর করে বৃদ্ধি পায় ফলে এই মৃত চামড়া স্তর ঘষে তুলে দিলে পা পরিষ্কার থাকবে ।
১৩. কাজের মাঝে সময় পেলে জুতো খুলে খালি পায়ে থাকার চেষ্টা করবেন বা দিনে কিছু সময় খালি পায়ে থাকার চেষ্টা করবেন ।
১৪.সুতি বা সিল্কের জামা কাপড় পড়ার চেষ্টা করবেন । 
১৫. নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে জল খান, দরকার হলে সঙ্গে সবসময় বোতল রাখুন । পর্যাপ্ত পরিমাণে জল গায়ের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে।
১৬. স্নান করতে যাওয়ার আগে বগলের তলায় কিছুক্ষণ লেবুর রস  এবং বেকিং সোডা মিশিয়ে লাগিয়ে রাখতে পারেন এর ফলে লেবুর এসিডিটি আপনার চামড়ার পিএইচ বাড়িয়ে দেয় যার ফলে সেখানে ব্যাকটেরিয়ার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কমে যায় ।

কিছু কিছু মেডিক্যাল সমস্যা অতিরিক্ত ঘামের কারণ হতে পারে যেমন থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের, লিভারের, কিডনির অথবা ডায়াবেটিসের সমস্যা।
যদি নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো দেখতে পারেন তাহলে একবার ডাক্তার কে দেখিয়ে নেওয়া উচিত-

  • রাত্তিরে আপনি ঘামতে শুরু করেন।
  • কোন কারন ছাড়াই আপনি স্বাভাবিক যেরকম ঘামতে তার থেকে অনেক বেশি ঘামতে শুরু করেছেন।
  • আপনার গা দিয়ে ঠান্ডা ঘাম নির্গত হচ্ছে।
  • অতিরিক্ত ঘাম আপনার নিত্যদিনের কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

Sunday, 4 August 2019

বর্ষায় চুলের যত্নের টিপস

প্রবল গরমের পর যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে, তখন আশ মিটিয়ে ভিজতে ইচ্ছে করে। সমস্যা হল, সেই বৃষ্টিস্নানের মধ্যে যত আরামই থাক, তা কিন্তু আপনার চুলের পক্ষে মোটেই সুখকর নয়! গ্রীষ্মের তুলনায় বর্ষাকালে চুল পড়া বেড়ে যায়। চুলের যত্ন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অনেকে। এটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ, এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলের দরকার হয় বাড়তি যত্ন। তবে উদ্বেগের কিছু নেই। চুল পড়া রোধে তাই এই সময় ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অনুসরন করতে পারেন।



সাবধানতা---

---বর্ষার সময় চুল শুকনো রাখাটা জরুরি।এই সময় ভেজা চুল আচড়ানো মোটেও ঠিক নয়।

---বৃষ্টির জল থেকে চুল বাঁচিয়ে রাখুন। কারণ বৃষ্টির জলে প্রচুর অ্যাসিড উপাদান থাকে, নোংরাও থাকে প্রচুর। তাই একান্ত ঝামেলায় না পড়লে বৃষ্টির জল চুলে না লাগতে দেওয়াই উচিত। বড়ো ছাতা বা হুড দেওয়া রেনকোট ব্যবহার করুন। যদি কোনওভাবেই বৃষ্টির জল এড়াতে না পারেন, তা হলে বাড়ি ফিরে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে নেবেন।


---সফ্ট , ডিপ ক্লেনজ়িং শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধীরে ধীরে মাসাজ করবেন, যাতে বৃষ্টির জলের কোনও নোংরা চুলে থেকে না যায়। এই মরশুমে চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক, তাই ভালো শ্যাম্পু দিয়ে সপ্তাহে দু’বার চুল ধুয়ে ফেলুন। তাতে চুল পুষ্টি পাবে, ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও হতে পারবে না।

----চুলে তেল লাগালে শুষ্কতা দূর হয়, ডিপ কন্ডিশনিংয়ের সুফলও মেলে। তবে অতিরিক্ত তেল লাগাবেন না, পরিমাণমতো তেল চুলে লাগিয়ে সারা রাত রেখে পরের দিন শ্যাম্পু করে নেবেন।


---মরশুমের এই সময়টায় চুল বেশি বাঁধলে ভিতরে আর্দ্রতা জমে থাকে, চুল ন্যাতানো দেখায়। চুল মুখে পড়লে একটা টপ নট বা একটা আলগা বিনুনিই যথেষ্ট। একটানা অনেকক্ষণ চুল বেঁধে রাখবেন না।


---মোটা চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ান, তাতে জট ছাড়ানো সহজ হবে। কন্ডিশনার লাগানোর পরেও চিরুনি দিয়ে চুলের জট ছাড়িয়ে নিন, তাতে গোটা চুলে সমানভাবে কন্ডিশনার ছড়িয়ে যেতে পারবে।


---চুলের দৈর্ঘের মাঝামাঝি অংশ থেকে শেষভাগ পর্যন্ত কন্ডিশনার লাগান, তবে অতিরিক্ত কন্ডিশনার লাগানোর দরকার নেই। ঠান্ডা জল দিয়েই চুল ধোবেন।


---এই সময়টাই চুল কেটে ফেলার পক্ষে সবচেয়ে ভালো। তাতে বাড়তি ঝামেলা মিটবে, চুলের শেপও সুন্দর থাকবে।


ঘরোয়া উপাদান --

---সারারাত মেথি বীজ জলে ভিজিয়ে রাখার পর সকালে বেটে নিন। এরপর তার সঙ্গে টক দই মেশান। মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় ভালো করে ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর ঠাণ্ডা জল দিয়ে চুলটা ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল পড়া বন্ধ হবে। কারণ মেথিতে থাকা লেসিথিন এবং নিকোটিনিক অ্যাসিড চুলে পুষ্টি দান করে।

---এই সময় চুলে খুব জট পড়ে। রুক্ষ চুলের সমস্যায় যারা ভুগেন, তাদের জন্য এই প্যাক খুব কার্যকর। দুটো ডিম ভেঙে তাতে তিন চামচ মধু যোগ করে ফেটিয়ে নিন। এই প্যাকটিও স্নানের আগে চুলে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন খুব ভালো করে। শ্যাম্পুর পর ক্ষারবিহীন বা খুব অল্প ক্ষারযুক্ত কোনও কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন চুল।

---চুল পড়া রোধে খাঁটি অ্যালোভেরা ব্যবহার করুন। অ্যালোভেরার জেল চুলের গোড়ায় দিন। মাথার ত্বকের পিএইচ-এর মাত্রায় ভারসাম্য আনে এটি। মাথায় ম্যাসাজের পর কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর হালকা উষ্ণ পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

---দুই চামচ টক দই ও তিন চামচ মধু মিশিয়ে একটা হেয়ার প্যাক বানিয়ে নিন। স্নানের আগে এই মিশ্রণ মেখে নিন চুলে। তারপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

---একটি পাকা কলা চটকিয়ে তার সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু,এক টেবিল চামচ কাঁচা দুধ,এক টেবিল চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট চুলে লাগিয়ে রাখুন। পরে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহ দুই দিন এটা করলে উপকার পাবেন।

---স্নানের সময় এক মগ পানিতে মিশিয়ে নিন আধ কাপের চেয়ে একটু বেশি পরিমাণ মধু। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহারের পরিবর্তে এই মিশ্রণ ঢেলে দিন চুলে। আঙুল চালিয়ে হালকা ম্যাসাজ করুন। পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন চুল।

---পেঁয়াজের রস চুল পড়া রোধ করতে দারুন কার্যকরী। চুল পড়া রোধে চুলের গোড়ায় ভালভাবে পেঁয়াজের রস বা বাটা লাগান। আধ ঘণ্টা পর চুল ধুয়ে ফেলুন। এতেও উপকার পাওয়া যাবে।


---ক্রমশ বাড়তে থাকা খুশকি এ সময়ের বড় ঝক্কি। চুলের এসব হটাতে নিম পাতা বড় ওষুধ। জলে নিমপাতা ফুটিয়ে নিন। পানি রং গাঢ় সবুজ হওয়ার পর তা ঠাণ্ডা করুন। এবার এই তরলকে চুলে তেলের মতো ব্যবহার করুন। প্রতি সপ্তাহে একবার এই নিমের জল ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

---এই সময় চুলে নিয়মিত তেল লাগাতে হবে।তেল চুলের গোঁড়ায় ভালোভাবে ম্যাসাজ করে লাগান এবং একটি শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন বা একটি গরম তোয়ালে পেঁচিয়ে নিন মাথায়। এতে  আপনার চুল প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্র হবে এবং চুলের শুষ্কতা দূর হবে।


---চুলের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে নিজেই হেয়ার মাস্ক তৈরি করুন। ২-৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল নিন। আধা টেবিল চামচ লেবুর রস এবং আধা টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল নিন। এবার সব উপাদান ভালোমতো মেশাতে থাকুন। এতে পাতলা জেলের মতো তৈরি হবে। এই মিশ্রণ চুলের গোড়ায় প্রয়োগ করুন। আধা ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পুর ব্যবহারে ধুয়ে ফেলুন।

Saturday, 16 March 2019

পায়ের গন্ধ দুর করার কয়েকটা সহজ উপায় --

পায়ে দুর্গন্ধ হওয়া খুবই বিরক্তিকর এবং বিব্রতকর একটা ব্যক্তিগত শারীরিক সমস্যা। ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে যে কারোরই এই বিব্রতকর শারীরিক সমস্যাটি হতে পারে।
অনেকে এটাকেই রোগ ভেবে ভুলও করে থাকেন। পা ঘামা কোনো রোগ নয় বরং এ থেকে নানা ধরনের রোগের উদ্ভব ঘটে থাকে। অনেকের শুষ্ক আবহাওয়ায় পা ঘামে আবার কারও কারও ক্ষেত্রে বছরজুড়ে। এ কারণেই পায়ে দুর্গন্ধ হয়।

শরীরের যেকোন অংশের চেয়ে এমনকি বগলের চেয়েও বেশি ঘর্ম গ্রন্থি থাকে পায়ের পাতায়। যখন পায়ের পাতার ঘর্মগ্রন্থি থেকে ঘাম নির্গত হয় তখন পুরো স্থানটি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন স্থলে পরিণত হয়। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে (যেমন-বয়ঃসন্ধি কালে অথবা প্রেগনেন্সির সময়), স্ট্রেসের মধ্যে থাকলে, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে, ব্যায়াম করলে বা গরমের কারণে পা ঘামতে পারে।

অনেকেই অস্বস্তিজনক পরিস্থিতিতে পড়েন পায়ের গন্ধের জন্য। পা-ঢাকা জুতো পরে কিছু বিশেষ জায়গায় যেতেই হয় অনেককে। আর সেখানেই বাধে সমস্যা। এই জুতোর গন্ধে অনেকেই কাছে ঘেঁসে না। অস্বস্তিকর এই পরিস্থিতি লজ্জারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মূলত যাঁদের পা ঘামে তাদেরই বেশি এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু এর থেকে আপনি মুক্তি পেতে পারেন সহজেই। কি করবেন পায়ের গন্ধ দূর করতে দেখে নিন তার কিছু কৌশল।


---পায়ে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হওয়ার মতো অংশগুলো বাদ দিন
ঘামের সাথে সাথে পায়ে থাকা ব্যাকটেরিয়াও দায়ী দূর্গন্ধ তৈরি করার জন্য। তাই পায়ের আঙ্গুলের নখ একেবারেই বড় করবেন না। কারণ এই সকল ব্যাকটেরিয়া নখ, নখের নীচের মোটা চামড়া এবং নখের আশেপাশেই বেশী জন্মে থাকে। নিয়মিতভাবে পায়ের নখ, নখের চারপাশের মোটা চামড়া কেটে ফেলুন। এরই সাথে পায়ের গোড়ালি নিয়মিত এক্সফলিয়েট করুন।

--জুতো পরার সময় অবশ্যই মোজা ব্যবহার করুন। কারণ পাতলা সুতির মোজা পায়ের সঙ্গে আটকে থাকে এবং তা পায়ের ঘাম শুষে নিতে সহায়ক। ফলে পায়ে জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে না। সিনথেটিকের বা উলের মোজাও ঘাম-রোধক। তবে এ ক্ষেত্রে মনে রাখবেন প্রতিদিন একই মোজা ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রতিদিন অন্তত একবার মোজা পরিবর্তন করতে হবে।

---বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জুতার ভেতর থেকে পায়ের ঘাম বেরোতে পারেনা। অনেকক্ষণ এমন অবস্থায় থাকার ফলে পা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। চামড়ার জুতায় গন্ধ ছড়ায় না। জুতা কেনার আগে এর শুকতলাটা দেখে নেবেন যেন তা ভালো হয়। জুতার এই অংশই ঘাম টেনে নেয়। মোজা কেনার ক্ষেত্রে দেখে নিন যেন সুতির তৈরি হয়, প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য কয়েক জোড়া মোজা রাখুন। ১দিন ব্যবহারের পর ধুয়ে ফেলুন।যাদের পা ঘামে মাত্রাতিরিক্ত এবং গন্ধও ছড়ায় তারা পায়ের জন্য ফ্রেড লোশন লাগাতে পারেন। জুতা পরার ১ঘণ্টা আগে পায়ে মাখতে হবে। এরপর জুতা পরুন। পা সব সময় শুকনো রাখার চেষ্টা করুন।জুতা/মোজা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।চর্মরোগে অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করুন l

--সাধারণত পা ধোয়ার পরে আমরা কিন্তু পা ভালোমতো মোছার দিকে একেবারেই খেয়াল রাখি না। পোডোলজিস্টদের মতে পা ধোয়ার পরে পায়ের আঙ্গুলের মাঝেও ভালোমতো মুছে নিন তোয়ালে অথবা নরম কাপড় দিয়ে। কারণ, অনেক সময় পায়ে য সকল ফাংগাল ইনফেকশন হয়, তার জন্যে পায়ের এমন ভেজাভাবও অনেকাংশে দায়ী।


-- ঘাম ও দুর্গন্ধ দূর করার জন্য পায়ের পাতার নীচের দিকে আন্ডারআর্ম ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট স্প্রে ব্যবহার করুন। এরপর কিছুটা ফুট পাউডার পায়ের পাতার উপর ছিটিয়ে দিন। এটি অতিরিক্ত ঘাম শোষণ করে নিবে এবং দুর্গন্ধ দূর করতেও সাহায্য করবে।


--পায়ের বাজে ব্যাকটেরিয়া সমূলে বিনষ্ট করার জন্যে এবং পায়ের ঘাম কমানোর জন্যে চায়ে থাকা ট্যানিন খুবই উপকারী। আপনি চাইলে পায়ের যত্নে প্রতিদিন চা ব্যবহার করতে পারেন গোসলের সময়ে। 

যেভাবে ব্যবহার করবেন: এক লিটার গরম পানিতে তিন চা চামচ চা ভিজিয়ে দিন। এর সাথে দুই লিটার ঠান্ডা পানি যোগ করুন। এখন এই মিশ্রণে দুই পা ১৫-২০ মিনিটের জন্যে ভিজিয়ে রেখে দিন।


--- নুন জল পায়ে ফাঙ্গাসের আক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। নিয়মিত নুন জলের ব্যবহারে পা অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার সমস্যা একেবারেই কমে আসে।

রোজ বাড়িতে ফিরে সামান্য উষ্ণ গরম জলেতে নুন মিশিয়ে এতে পা ডুবিয়ে রাখুন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট। পা ঘামার সমস্যা দূর হবে, সেই সঙ্গে আপনার পা ছত্রাকের আক্রমণ থেকেও রেহাই পাবে।

--একই জুতা প্রতিদিন পরলে জুতায় লেগে থাকা ঘাম শুকনোর সময় পায় না। সেই জুতোই আবার পরলে জীবাণু বাসা বাঁধে পায়ে। তার থেকেই দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। তাই অন্তত দুই জোড়া জুতা রাখুন। একদিন এক জোড়া পরলে অন্যদিন অন্যজোড়া ‍জুতো পরুন।


--জুতার ধরণও অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। অনেক বেশি আঁটসাঁট জুতা যেমন- বুট জুতা সম্ভবত গন্ধের সৃষ্টি হয়। কারণ এই ধরণের জুতায় বায়ু চলাচল করতে পারেনা। যদি সম্ভব হয় তাহলে সামনের দিকে খোলা জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করুন। অ্যাথলেটিক জুতা ব্যবহার করতে পারেন যার পাশ দিয়ে জালের মত অংশ থাকে যা দিয়ে ভেন্টিলেশনের সুবিধা থাকে।


--পায়ের বাজে গন্ধ দূর করার জন্যে তো বটেই পায়ে জন্ম নেওয়া বাজে ব্যাকটেরিয়া দূর করতেও দারুণ সাহায্য করবে অ্যারোমাথেরাপি অয়েল। এক্ষেত্রে ল্যাভেন্ডার অয়েল সবচেয়ে বেশী কার্যকরি এবং উপযোগী হবে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন: ৪-৫ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল দিয়ে দুই পায়ের পাতা খুব ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। অথবা, ২-৩ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল ৩-৪ লিটার পানিতে মিশিয়ে দুই পা ১৫-২০ মিনিট পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখুন।


---বেকিং সোডার অ্যাসিডিক উপাদান পা পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে এবং পায়ে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা সৃষ্টি করে।

এতে করে পা অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া এবং পায়ে বিশ্রী দুর্গন্ধ হওয়ার সমস্যা আর থাকে না।

পা খুব ভাল করে পরিষ্কার করে, হাতে সামান্য বেকিং সোডা নিয়ে পায়ে ভালো করে ঘষে নিন। এর ফলে পায়ে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বন্ধ হবে। চাইলে বন্ধ জুতোর ভেতরেও ছিটিয়ে নিতে পারেন খানিকটা বেকিং সোডা, এতেও অনেক উপকার পাবেন।

--জুতা পরার আগে পায়ে পাউডার লাগিয়ে নিন। জুতার ভেতরেও পাউডার ছিটিয়ে দিতে পারেন। এতে পা কম ঘামাবে।

---অনেকেই ঘরেও জুতা অথবা স্যান্ডেল পরে থাকতে পছন্দ করেন। তবে ঘরে থাকাকালীন অবস্থায় কোন স্যান্ডেল অথবা জুতা না পরাটাই সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে করে পায়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বেশী হয়ে থাকে।

---এসব একেবারেই সহজ এবং সুবিধাজনক পদ্ধতি মেনে চললে পায়ের দুর্গন্ধ কমে যাবে অনেকটাই। এছাড়া বাইরে ব্যবহৃত জুতা এবং মোজা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং শুকাতে হবে। কিন্তু, পায়ের দুর্গন্ধ যদি অতিরিক্ত হয় এবং পায়ে চুলকানির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞর শরণাপন্ন হতে হবে।

--সপ্তাহে একদিন গরম পানিতে শ্যাম্পু মিশিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে রেখে পরিষ্কার করে নিন পা। অথবা হালকা গরমপানিতে সাবানের ফেনা করে পা ধুয়ে নিন। এতে ত্বকে থাকা জীবাণুর সংখ্যা কমবে।


Saturday, 22 December 2018

গলা খুসখুস করলে কি করতে পারি ?




‘খক খক, খুক খুক’ ক্লাসে বা অফিসে বসে কাশছেন আপনি অনবরত। আপনার কাশির শব্দে তাকিয়ে আছে আপনার দিকে সবাই। কি বিব্রতকর পরিস্থিতিতেই না পড়েছেন আপনি! শীত ও বসন্তের এই সময়টাতে অধিকাংশ মানুষই খুসখুসে কাশির যন্ত্রণায় ভোগেন। কারণে অকারণে শুকনো কফের থেকে কাশি ওঠে কিছুক্ষণ পর পর।


 খুসখুসে কাশির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ঘরোয়া কিছু উপায় আছে । ওষুধ না খেয়ে প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করেই কমিয়ে ফেলা সম্ভব খুসখুসে কাশি।

-গরম বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে কাশি অনেকটাই তরল হয়ে আসবে এবং আরাম মিলবে। হালকা গরম লবণ পানি দিয়ে গার্গল করলেও উপকার হবে।

- ঠান্ডা খাবার ও পানীয় পরিহার করুন।

-প্রাচীনকাল থেকেই গলা খুশখুসে ভাব দূর করতে ব্যবহার করা হয় আদা চা। ২ কাপ জলে আদা কুচি দিয়ে ফুটিয়ে সামান্য মধু মিশিয়ে পান করলে খুশখুসে ভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বেশ সহজেই। কারণ আদা মধুর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান গলার গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া কমায় এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

-প্রচুর জল পান করুন। প্রতিবার হালকা গরম জল খাওয়ার চেষ্টা করুন। দিনে অন্তত ১২ গ্লাস হালকা গরম জল পান করলে খুসখুসে কাশি কিছুটা কমে যায়।

-রাতে বিরক্তিকর কাশি থেকে বাঁচতে একটু উঁচু বালিশ ব্যবহার করুন, শোবার আগে একটু গার্গল করুন।

-খুসখুসে কাশির উৎপাত দেখা দিলে ধূমপান ছেড়ে দিন। ধূমপান করলে কাশি বাড়ে। তাই কাশি কমাতে ধূমপান ছাড়ুন এবং ধূমপায়ীদেরকে এড়িয়ে চলুন।

-কলা একটি নন-অ্যাসিডিক খাবার যা গলা খুশখুসে ভাব কমাতে বিশেষ ভাবে কার্যকরী। এছাড়াও কলা একটি লো গ্লাইসেমিক খাবার যা ঠাণ্ডা-সর্দি ভাব কমায়।

-কুসুম কুসুম গরম পানি পান করা ভালো। হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গড়গড়া করা উচিত।

-প্রয়োজনমতো গরম কাপড় পরা। তীব্র শীতের সময় কান-ঢাকা টুপি পরা এবং গলায় মাফলার ব্যবহার করা ভালো।

-সমপরিমাণ লেবুর রস এ মধুর মিশ্রন গলার ভেতরের ইনফ্লেমেশন কমায় এবং ঠাণ্ডা লেগে গলার ভেতর সরু হয়ে আসার ফলে যে সমস্যা তৈরি হয় তা দূর করতে সহায়তা করে।

-ঘরে মশার ওষুধ কিংবা এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে করবেন না। খুসখুসে কাশি বেড়ে যেতে পারে এগুলোর কারণে।

-নাকের ভিতরে হালকা বাম ব্যবহার করতে পারেন। এটি নাকের পথকে পরিষ্কার করে কাশি কমাতে সহায়তা করবে।

--বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই, বিশেষ করে সঙ্গে জ্বর না থাকলে। চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন বা মনটিলুকাস্ট জাতীয় ওষুধ খাওয়া যায়। এগুলো গলা বা শ্বাসনালিতে কাশি উৎপাদনকারী রাসায়নিকের পরিমাণ কমাবে, শ্বাসনালিকে প্রসারিত করবে। ফলে জমে থাকা কফ বেরিয়ে আসতে পারবে। প্রচলিত কফ সিরাপ কাশি আরও শুষ্ক করে দিতে পারে।

-প্রতিদিন চারটি তুলসি পাতা নিয়ে, তার সাথে মধু মিশিয়ে চিবিয়ে খেয়ে নিন। চায়ের সাথে তুলসি পাতা মিশিয়েও খাওয়া যায়। তুলসী পাতা দ্রুত খুসখুসে কাশি নিরাময়ে সহায়ক।


-প্রতিদিন হালকা গরম জলে স্নান করুন। এতে শুকনা কফ ও খুসখুসে কাশির উপদ্রব কমে যাবে।

-অতিরিক্ত ঘাম যেনো না হয় সেটা খেয়াল করা। বেশি ঘেমে গেলে ভেজা কাপড় দিয়ে ঘাম মুছে ফেলতে হবে।

-শুষ্ক কাশিতে প্রচুর পানি পান করতে হয়। এবং অবশ্যই সেই পানি হালকা গরম হতে হবে। সারাদিনই অল্প অল্প করে গরম পানি পান করলে, খুসখুসেজাতীয় কাশি দূর হয়ে যাবে। দিনে অন্তত ১২ গ্লাস হালকা গরম পানি পান করুন। কাশি থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে।

-ধুলাবালি, ধূমপান এড়িয়ে চলা। এর জন্য মাস্ক ব্যবহার করা।

-ঠাণ্ডা লেগে গলায় ব্যথা হওয়া অনেক স্বাভাবিক ঘটনা। এই সমস্যা দূর করতে নেশ সহায়তা করে ডিমের সাদা অংশ। কারণ ডিমের সাদা অংশ গলার ভেতরের গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া কমায় এবং ইনফ্লেমেশন দূর করে।

-ঘরের দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ না রেখে মুক্ত ও নির্মল বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা।

-গাজরকে বলা হয় সুপার ফুড। বিশেষ করে শীতকালীন এই সকল সাধারণ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার সব চাইতে ভালো সবজি হচ্ছে এই গাজর। গাজরের ভিটামিন ও মিনারেলস দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যার ফলে সর্দি-ঠাণ্ডা ও কাশি থেকে মুক্তির জন্য আমাদের দেহই কাজ করে থাকে। তবে সর্দি-ঠাণ্ডা ও কাশির সময় কাঁচা না খেয়ে সেদ্ধ করা গাজর খাওয়া উচিত।

-হাত ধোয়ার অভ্যাস করা। বিশেষ করে চোখ বা নাক মোছার পরপর হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।

-প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এক চামচ মধু খেয়ে নিন। মধু খুসখুসে কাশি কমাতে সাহায্য করে।


Tuesday, 8 May 2018

গরমে সতেজ ত্বক (ছেলে ও মেয়ে উভয়)--


গরমে বাড়ির বাইরে বেরনোর নাম শুনলেই গায়ে যেন জ্বর এসে যাচ্ছে। সারা বছরের যত্ন যেন এক নিমেষেই শেষ! সব পরিশ্রমে জল ঢেলে দিচ্ছে যেন সূর্য মামা।
সারাদিন বাইরেই কাটাতে হয়, তাই ত্বকে ধুলাবালিও বেশি জমে।আয়নার দিকে তাকালেই মনটা কেমন যেন ভার হয়ে যাচ্ছে তো? এখনি এতটাও ভেঙে পড়ার কিছুই হয়নি। হাতের কাছেই  আছে জেল্লা ফিরে পাওয়ার ম্যাজিক। যাতে ত্বক যেমন ভালো থাকে তেমনি আপনি থাকেন ফ্রেশ।


-ত্বক ভালো রাখতে হলে সপ্তাহে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ দিন বার মুখে স্ক্রাব করুন।

-জল দিয়ে কিছু সময় মুখ ধুয়ে নিলে তা সজেত থাকে। এতে ত্বক যেমন ভালো থাকে তেমনি আপনি থাকেন ফ্রেশ।


অ্যালো ভেরা--

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে স্কিনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ত্বকের স্বাস্থের উন্নতিতে এই প্রকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে অ্যালো ভেরার ভিতরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান, ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে প্রদাহের মাত্রা কমায়। ফলে একাধিক ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনাও যায় কমে।

প্রশ্ন হল অ্যালো ভেরাকে কাজে লাগিয়ে ত্বকের পুড়ে যাওয়া ভাবকে কমান যায় কীভাবে? এক্ষেত্রে ত্বকের যে যে জায়গা পুড়ে গেছে সেখানে অ্যালো ভেরা জেল লাগিয়ে কিছু সময় রেখে দিতে হবে। এইভাবে নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা করলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন এই প্রকৃতিক উপাদানটির সাহায্যে ত্বকের পরিচর্য়া করলে পোড়া ভাব যেমন কমে, তেমনি পুনরায় যাতে ত্বকের ক্ষতি না হয়, সে সম্ভাবনাও বাড়তে থাকে।

শসা -

ত্বকের ভিতরে প্রদাহের মাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে শসার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। প্রচন্ড সূর্যালোকে যাতে ত্বক পুড়ে না যায়, সে বিষয়েও খেয়াল রাখে এই প্রকৃতিক উপাদানটি। তাই গরমে ত্বকের পরিচর্যায় শসাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডার্মাটোলজিস্টরা।

-পরিমাণ মতো শসা নিয়ে তার পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটির সঙ্গে পরিমাণ মতো লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রনটি মুখে লাগিয়ে কম করে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে মুখটা ধুয়ে ফেলতে হবে।

-প্রতিদিন ঘরে ফিরে মুখ ধোয়ার আগে শসার টুকরো দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট মুখ ঘষে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। এটি ত্বক গভীর থেকে পরিষ্কার করে। এ ছাড়া শসার রস ত্বকে প্রাকিতিক মশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে।

-রোদ থেকে বাড়ি ফিরে এক টেবিল চামচ করে শসার রস, লেবুর রস এবং গোলাপ জল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। ট্যান হয়ে যাওয়া অংশে তুলোর সাহায্যে মিশ্রণটি লাগান। উপকার পাবেন।


তরমুজ-

সুস্বাদু এই ফলটিকে কাজে লাগিয়ে ত্বকের পোড়া ভাব কমিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। সেই সঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে চোখে পরার মতো। ত্বকের পোড়াভাব কমাতে যত রকম ভাবে কাজে লাগাতে পারেন তরমুজকে।

- অল্প পরিমাণ তরমুজ নিয়ে তার রস সংগ্রহ করে সেটি মুখে লাগাতে পারেন।

- তরমুজের খোসা মুখে ঘোষলেও সমান উপকার পাওয়া যায়। তাই এই গরমে ত্বককে সুন্দর রাখতে নিয়মিত তরমুজ যেমন খেতে হবে, তেমনি এই ফলটিকে ত্বকের পরিচর্যায় কাজেও লাগাতে পারেন!

চন্দন গুঁড়ো এবং হলুদ-

একাধিক গবেষণা অনুসারে চন্দন গুঁড়োয় উপস্থিত প্রকৃতিক তেল একদিকে যেমন ত্বকের পোড়া ভাব কমায়, তেমনি উজ্জ্বল করে তোলে। তাই ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সময় লাগে না।

– যদি চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে অল্প পরিমাণে হলুদ গুঁড়ো মেশাতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই, হলুদের অন্দরে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি উপাদান, ত্বকের ভিতরে প্রদাহ কমায়। ফলে তাপ প্রবাহের কারণে নানাবিধ ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।সম পরিমাণে চন্দন এবং হলুদ গুঁড়ো নিতে হবে। তারপর তার সঙ্গে পরিমাণ মতো গোলাপ জল মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিয়ে সেই পেস্টটা মুখে লাগিয়ে কম করে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা। এই মিশ্রণটি নিয়মিত মুখে লাগালে দেখবেন ত্বকের সৌন্দর্য বাড়তে একেবারেই সময় লাগবে না।

-এছাড়া কাঁচা হলুদের সঙ্গে কাঁচা দুধ মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করে সম্পূর্ণ মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। কাঁচা হলুদ ত্বকের কোমলতা ধরে রাখে এবং কাঁচা দুধ স্কিনের কমপ্লেকশনকে আরো ফর্সা করতে সাহায্য করে। এছাড়া শুষ্ক ত্বকের জন্য মধু ব্যবহার করতে পারেন। এটি অনেক বেশি উপকারী ছেলেদের ত্বকের জন্য।

নারকেল তেল-

চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এই গরমে ত্বকের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে নারকেল তেলের বিকল্প হয় না বললেই চলে। এই তেলটির ভিতরে মজুত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় 'স্কিন প্রোটেকশন প্রপাটিজ’, যা ত্বকের পোড়া ভাব কমানোর পাশাপাশি স্কিনকে উজ্জ্বল এবং তুলতুলে করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বাড়ি থেকে বেরনোর আগে একেবারে অল্প পরিমাণে নারকেল তেল নিয়ে মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করতে হবে। তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!


- ত্বক শুষ্ক হলে আপনি এতে লেবু খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন। লেবু কেটে খোসাসহ মুখে ভালভাবে ঘষে নিলে তা ব্রণ থেকে শুরু করে এ্যালার্জির সমস্যা নিমিষেই দূর করে। লেবুর সাইট্রিক এসিড আপনার ত্বকের অতিরিক্ত তেল, পিগমেন্টেশন, রোদে পোড়া দাগ দূর করতেও সাহায্য করে, এর ভিটামিন ‘সি’ মুখের কালো দাগ দূর করে ত্বককে আরো ফর্সা করতে সাহায্য করে।

-দুই টেবিল চামচ বেসন, এক চিমটে গুঁড়ো হলুদ, এক টেবিল চামচ কমলা লেবুর রস এবং ঠাণ্ডা গোলাপ জল একটি পাত্রে মিশিয়ে মিশ্রণতৈরি করে নিন। ২০ মিনিট পর মুখে, হালকা ঘষে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

-একটা আলুর পেস্ট বানিয়ে তাতে এক চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে পুড়ে যাওয়া অংশে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। উপকার পাবেন।

-এক টেবিল চামচ মুসুর ডাল সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সেই ডালের সঙ্গে ১ চামচ অ্যালোভেরার রস এবং ১ চামচ টমাটোর রস মিশিয়ে নিন। ২০ মিনিট ত্বকে রেখে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।

Thursday, 5 April 2018

হাত ও পায়ের রোদে পোড়া দাগ দুর করার ৩ টি সহজ উপায়-

১-
তরল দুধ বাটিতে নিন৷
তুলার বল বানিয়ে দুধে বলটি ভিজিয়ে হাতে লাগান৷
২-৩ মিনিট রাখুন৷এরপর ধুয়ে ফেলুন৷
২-
চিনি, লেবুর রস এবং নারকেল তেল একসাথে মিশিয়ে নিন৷
মিশ্রণ টিতে হাত ও পায়ে লাগিয়ে আলতো ভাবে স্ক্রাব করুন৷
৫-৬ মিনিট এইভাবে স্ক্রাব করুন৷
এরপর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন৷
৩-
বেসন, মুলতানি মাটি এবং শশার একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরী করুন৷ এইবার পেস্টটি আপনার হাত ও পায়ে লাগান৷
১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন৷
হালকা ম্যাসাজ করে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন৷
৩ টি পদ্ধতির পর হাত পা ভালো করে ধুয়ে লোশন লাগিয়ে নিন৷
* এইভাবে সবগুলি পদ্ধতি সপ্তাহে ২-৩ বার করুন৷আপনার হাত ও পায়ের রোদে পোড়া দাগ দূর হয়ে যাবে৷

Wednesday, 28 March 2018

চুল পড়া প্রতিরোধে রসুন

চুল পড়া রোধে রসুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চুল পড়া প্রতিরোধে রসুন অনেকটা ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এটি শুধু চুল পড়া ঠেকায় না সেইসঙ্গে মাথার ত্বকের ইনফেকশন ও খুশকি দূর করতে সহায়ক। শুধু তাই নয়, রসুন নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
বিশেষজ্ঞদের মত, তেলের মতো করে চুলে ও মাথার ত্বকে রসুনের রস লাগালে অনেক দ্রুত নতুন চুল গজায়। রসুনের রসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ এলিসিন যা রক্তে হিমোগ্লোবিন সঞ্চালন বাড়িয়ে দিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া রসুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কপার যা চুলকে ঘন ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তোলে।

রসুনের রস ব্যবহার পদ্ধতি---
------1. প্রথমে রসুন পেস্ট করে এর রস বের করে নিতে হবে। এরপর একটি এয়ার টাইট বোতলে তা সংরক্ষণ করতে হবে। যাতে যখন প্রয়োজন তখন তেলের মতো করে এই রস চুলে ব্যবহার করা যায়।
-------2. চুল শুষ্ক হলে গোলাপজলের পানিতে তা আধাঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। গোলাপজল চুলের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখে। এই আধাঘণ্টা পর ভালো করে চুলে ও মাথার তালুতে রসুনের রস লাগাতে হবে।
-------3.চুলে রসুনের রস লাগিয়ে আধাঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এরপর চিরুনি দিয়ে তা আঁচড়াতে হবে। তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এবার চুলে ভালো করে মাইল্ড শ্যাম্পু লাগিয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এর ১৫ মিনিট পর কন্ডিশনার লাগিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

Thursday, 15 March 2018

গরমে ঘুমান আরামে – সহজ উপায় ও কৌশল--

ক্লান্তিকর দিন শেষে একটু আরামের ঘুম সবার জন্যেই দরকার। শরীর ও মন সুস্থ রাখার জন্যে পরিমিত আরামদায়ক ঘুমের বিকল্প নেই। ঠিকমত ঘুমাতে না পারলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয় না, যার প্রভাব পরে কর্মক্ষেত্রে। সারাদিনের প্রচন্ড গরম সহ্য করা গেলেও ঘুমাতে গেলে গরম বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বাড়িতে যদি এয়ার কন্ডিশনার বা এয়ার কুলার না থাকে। উচ্চ তাপমাত্রায় আমাদের মগজ শরীরকে না ঘুমানোর নির্দেশ দেয় ফলে বিড়ম্বনা বেড়ে যায় বহুগুণ। তাহলে গরমে শান্তিতে ঘুমানোর জন্যে কী করা যায়? একটু কৌশল অবলম্বন করলেই এই গরমেও শান্তিতে ঘুমানো যায় খুব সহজেই।


ঘুমানোর আগে গোসল করুন
যদি অনেক গরম থাকে তাহলে ঘুমানোর আগে স্নান করলে শরীরের তাপমাত্রা সাধারণের তুলনায় অনেক কমে যাবে। যার ফলে শরীরে ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব নিয়ে ঘুমাতে সুবিধা হবে। ঘুমানোর আগে স্নান করলে ঘুমও গভীর হবে। যদি স্নান করা সম্ভব না হয় তাহলে সারা শরীর মুছে দিতে পারেন কিংবা পায়ের পাতা কিছুক্ষন জলে ভিজিয়ে তারপর ঘুমাতে যান।
স্নান করুন স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে
বাইরে থেকে গরমে ঘেমে একাকার হয়ে বাড়ি ফিরে বরফ ঠান্ডা জলে স্নান করা উচিত না। এতে করে শরীরের ভিতরে তাপ ভিতরেই থেকে যাবে। যদি বাড়ি এসে ঘুমানোর আগে স্নান করুন তবে তা করবেন স্বাভাবিক তাপমাত্রার জলে।
ঘরের মেঝেতে ঘুমান
বিছানার তুলনায় ঘরের মেঝে ঠান্ডা থাকে। তোশকের চেয়ে কম আরামের হলেও এতে অনেক গরম কম লাগে। গরম বাতাস উপরে দিকে থাকে বেশি। তাই মেঝেতে ঘুমানো আরামদায়ক। চাইলে ঘুমানোর আগে ঘরের মেঝে জল দিয়ে মুছে নিতে পারেন। শুকানোর পর পাটি বিছিয়ে শুয়ে পড়ুন।
বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন
জানালা খোলা রাখা সম্ভব হলে খোলা রাখুন। এতে ঘর ঠান্ডা থাকবে। জানালার সামনে ভারী কাপড় ভিজিয়ে ঝুলিয়ে রাখলে বাইরের বাতাস প্রবেশের সময় ঠাণ্ডা বাতাস পাবেন। তাছাড়া ঘরে অতিরিক্ত একটা পোর্টেবল ফ্যান ব্যবহার করতে পারেন। জানালার কাছাকাছি রাখলে বাইরে থেকে ঠান্ডা বাতাস ভিতরে ঢুকবে। ফ্যানের সামনে এক পাত্র বরফ রাখতে পারেন। এতে ঘরের বাতাস ঠাণ্ডা হয়ে আসবে। আবার ঘরের গরম বাতাস বাইরে বের করতে চাইলে ফ্যান জানালার দিকে ঘুরিয়ে রাখুন।
প্রয়োজন হলে একা ঘুমান
গরমের দিনে এক বিছানায় বেশি মানুষ না ঘুমানোই ভালো। গরমের সময়ে সাথে কেউ ঘুমালে তা বিরক্তির কারণ হতে পারে। কেননা বিছানায় আরেকজন মানুষ থাকা মানে তাপের আরেকটি উৎস। এ কারণে বিছানায় একা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। একজন বিছানায় এবং আরেকজন মেঝেতে ঘুমাতে পারেন। এতে হাত-পা ছড়িয়ে আরামে ঘুমাতে পারবেন।
বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে রাখুন
সকেট থেকে প্লাগ খুলে রাখুন, আলো সব নিভিয়ে দিন, ইলেক্ট্রনিক্স গেজেট গুলোর ব্যবহার রাখুন কম। এসব গ্যাজেট তাপ উৎপাদন করে যা আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ফোন এবং ল্যাপটপ রাখুন বিছানা থেকে দূরে। মোট কথা ঘর ঠান্ডা রাখার জন্যে যা করণীয় তাই করুন।
আরামদায়ক পোশাক
দিনে বা রাতে গরমের সময় সবাই একটু হালকা পোশাকই পরে থাকেন। ঘুমানোর সময়েও সবচাইতে আরামদায়ক, হালকা পোশাক পরুন এ সময়ে। হালকা ও আরামের জন্যে সুতির পোশাক বেছে নিতে পারেন। এতে ঘাম সহজে শুকিয়ে যায় ও শরীর থেকে তাপ চলে যায়।
বিছানা
গরমের দিন সম্ভব হলে বিছানার চাদর প্রতিদিন রাতে বদলে নিন। কারণ পরিষ্কার বিছানায় ঘুমালেই মনে এক রকমের প্রশান্তি আসে; যা ভালো ঘুমাতে সহায়তা করে। তবে এক্ষেত্রে বিছানার চাদর সুতির হওয়াই ভালো। আর ফোমের বিছানায় গরম লাগবে বেশি। ভালো হয় জাজিম ও তোশক ব্যবহার করলে। আরামের ঘুমের জন্যে শিমুল তুলার বালিশও ব্যবহার করতে পারেন।
খাওয়া দাওয়া
খাওয়ার ১ থেকে দুই ঘন্টা পর্যন্ত পরিপাক ক্রিয়ার জন্যে শরীর গরম থাকে। তাই শান্তিতে ঘুমাতে চাইলে ঘুমাতে যাওয়ার এক থেকে দুই ঘন্টা আগেই খেয়ে নিন রাতের খাবার। আর রাতে এমন খাবার খাওয়া উচিত নয় যা খেলে আপনার অস্বস্তির হয়।
জল পান করুন বেশি করে
স্বাভাবিক ভাবেই গরমে সবারই খুব ঘাম হয়। শরীরের সিস্টেম ঘামের মাধ্যমে তাপমাত্রা কমিয়ে আনে। এই জন্যেই দরকার বেশি করে জল পান। শরীর সতেজ রাখতে বেশি করে জল পান করা উচিত। খুব বেশি ঘামার প্রবণতা থাকলে ঘুমাতে যাওয়ার আগে শরীরে ট্যালকম পাউডার মেখে নিন। এক্ষেত্রে মেনথল ফ্লেভারের পাউডার বেশ আরাম দেবে।

Wednesday, 14 March 2018

চুল পড়া বন্ধে পেঁয়াজের রসের ব্যবহার --

কীভাবে কাজ করে?
পেঁয়াজের রসে আছে প্রচুর পরিমণে সালফার। এটি মাথার ত্বকের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে থাকে। এমনকি সালফার আপানার ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এতে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান আছে যা মাথার তালুকে বিভিন্ন রোগ জীবাণু হতে রক্ষা করে।
সপ্তাহে ২/৩ বার পেঁয়াজের রস ব্যবহারে এটি মাথার তালুর বিভিন্ন সমস্যা যেমন ফাঙ্গাস, খুশকি, ইনফেকশন থেকে মাথার তালুকে রক্ষা করে থাকে। এটি সব ধরণের চুলের অধিকারীরাই ব্যবহার করতে পারেন।


১। কাঁচা পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজের রস থেকে সবচেয়ে ভাল ফল পেতে চাইলে এটি সরাসরি ব্যবহার করুন। ২/৩ টি বড় পেঁয়াজ নিয়ে ব্লেন্ড করে রস করে ফেলুন। রস মাথার তালুতে আঙ্গুলের ডগা দিয়ে ম্যাসাজ করে লাগান। কমপক্ষে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ বার এটি ব্যবহার করুন। এক, দু মাসের মধ্যে আপনি পরিবর্তন দেখতে পাবেন।
২। মধু পেঁয়াজের রস
এটি আপনি খেতেও পারেন আবার চুলেও ব্যবহার করতে পারেন। সিকি কাপ পেঁয়াজের রসের সাথে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন এটি পান করুন। এটি আপনার হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে। এটি আপনি চুলে ও লাগাতে পারেন। ১০ মিনিট ম্যাসাজ করে শ্যম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন।

৩। পেঁয়াজের রস এবং তেল
৩ টেবিলচামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ১ টেবিল চামাচ নারকেলের তেল,১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। সপ্তাহে তিনবার এটি আপানার চুলে ব্যবহার করুন। আপনি যদি শুষ্ক মাথার ত্বকের অধিকারী হয়ে থাকেন তবে এটি খুব ভাল ফল দিবে।
৪। পেঁয়াজ এবং লেবুর রস
৩ টেবিল চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ২ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এটি মাথার তালুতে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করুন। লেবুর রস খুশকি দূর করতে অনেক বেশী কার্যকরী। আর পেঁয়াজের রস নতুন গোঁজাতে কার্যকরী।

কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার উপকারিতা--

কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার উপকারিতার কথা সব চিকিৎসক, ডায়েটিশিয়ানরাই বলে থাকেন। শুধু বলেন বলেই না, আমরা নিজেরাও জানি সুস্থ থাকতে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া কতটা প্রয়োজনীয়।
পেঁয়াজের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ সালফার থাকার কারণে এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাংগাল গুণ সাধারণ সর্দি, কাশি থেকে হার্টের সমস্যাও দূরে রাখতে পারে।
আর যদি কাঁচা পেঁয়াজ খেতে ভাল না লাগে? তাহলেও রয়েছে উপায়। জেনে নিন না খেয়েও কী ভাবে বিভিন্ন সমস্যায় ব্যবহার করতে পারেন কাঁচা পেঁয়াজ।

বুকে ইনফেকশন -- পেঁয়াজ কুরে নিয়ে ১-২ টেবল চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। পেস্ট বুকে লাগিয়ে তোয়ালে জড়িয়ে রাখুন। ইনফেকশন কমে যাবে।
কাটা-ছেঁড়া -- পাতলা করে পেঁয়াজের সাদা ফিল্ম কেটে নিয়ে কাটার ওপর লাগিয়ে গজ দিয়ে বেঁধে রাখুন। রক্ত পড়া সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে।
জ্বর -- জ্বর কিছুতেই কমছে না? পায়ের তলায় নারকেল তেল মালিশ করে পেঁয়াজের স্লাইস রেখে মোজা পরে থাকুন। জ্বর কমে যাবে।
কাশি--: পেঁয়াজ অর্ধেক করে কেটে নিন। দুটো আধা ভাগের ওপর এক টেবল চামচ করে ব্রাউন সুগার দিয়ে এক ঘণ্টা রেখে দিন। দিনে দু’বার করে খেলে কাশি কমে যাবে।
কানের ব্যথা - পেঁয়াজ কুরে পাতলা কাপড়ে বেঁধে নিন। ব্যথা কানের কাছে কাপড় বেঁধে রাখুন।
শিশুদের পেটের সমস্যা - হলুদ পেঁয়াজ ডুমো করে কেটে জলে ফুটিয়ে অনিয়ন টি বানিয়ে নিন। সেই চা শিশুদের খাওয়ালে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
বমি - বার বার বমি হচ্ছে? পেঁয়াজ বেটে রস তৈরি করে নিন। সঙ্গে বানিয়ে রাখুন পেপারমিন্ট টি। দু’চা চামচ পেঁয়াজের রস খেয়ে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করুন। এ বার দু’চা চামচ পেপারমিন্ট টি খান। এ ভাবে এক বার পেঁয়াজের রস, এক বার চা ১৫ মিনিট ধরে খেলে বমি কমে যাবে।

Friday, 9 March 2018

অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার বিপদগুলো-

লবণ ছাড়া কোনও খাবারই রান্না করা সম্ভব নয়। চিনি এবং লবণের হাত ধরেই তো খাবারে স্বাদ আসে। কিন্তু বেশি মাত্রায় লবণ খাওয়াও একেবারে উচিত নয়। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পিছনে লবণ এর একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। আবার শরীরে লকণের যোগান ঠিক মতো না হলেও বিপদ!
লবণ কমে গেলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে না। সেই সঙ্গে রক্তচাপ এবং হজম ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাহলে উপায়? অল্প করে লবণ খাওয়া যেতেই পারে। রান্নার সময় প্রয়োজন মতো লবণ দিন। কিন্তু কাঁচা লবণ যতটা পারবেন, কম খাবেন। কারণ প্রচুর মাত্রায় কাঁচা লবণ খেলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহু গুণে বৃদ্ধি পায়।
প্রসঙ্গত, আজকাল চিকিৎসক মহল লবণ খাওয়া নিয়ে বেজায় চিন্তিত। কারণ গত কয়েক বছরে আমাদের দেশের পাশাপাশি সারা বিশ্বেই নন-কমিউনিকেবল ডিজিজে আক্রান্তের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেড়ে গেছে, আর তার পেছনে অন্যতম কারণ হল অতিরিক্ত মাত্রায় লবণ খাওয়া। এমনকী বাচ্চাদের মধ্যেও অসুস্থতা বাড়ছে, বেশি মাত্রায় লবণ খাওয়ার কারণে। তাই এই বিষয়টির দিকে যদি এখন থেকেই খেয়াল রাখা না যায়, তাহলে কিন্তু বিপদ!
চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার কারণে কী কী শারীরিক সমস্যা হতে পারে, সে সম্পর্কে।

১. উচ্চ রক্তচাপ
অতিরিক্ত পরিমাণে লবণ খেলে রক্তচাপ আর স্বাভাবিক থাকে না, বাড়তে শুরু করে। আর যদি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা যায়, তাহলে কিন্তু আর্টারিরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা বহু গুণে বেড়ে যায়। তাই তো অতিরিক্ত কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। না হলে আসন্ন মৃত্যুর জন্য তৈরি হন।
২. হার্টের রোগ
বেশি মাত্রায় লবণ শরীরে প্রবেশ করলে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিওর সহ একাধিক হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে হার্ট ফেইলিওর হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তাই হার্টকে যদি বেশি দিন সুস্থ রাখতে চান, তাহলে লবণ খাওয়ার পরিমাণ যে কমাতে হবে বন্ধুরা।
৩. ক্যান্সার
একেবারে ঠিক শুনেছেন। বেশি লবণ খেলে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগেও আক্রান্ত হতে পারেন। একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে লবণ খেলে পাকস্থলির ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়।
৪. কিডনি খারাপ হতে শুরু করে
শরীরে ইলোকট্রোলাইটসের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে লবণ কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কিন্তু তাই বলে বেশি মাত্রায় লবণ খাওয়া একেবারেই চলবে না। কারণ যত বেশি করে লবণ আমাদের শরীরে প্রবেশ করবে, তত কিডনির কর্মক্ষমতা কমে যেতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে বাড়বে রক্তচাপও, যা যে কোনও মানুষকে ধীরে ধীরে শেষ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
৫. পাকস্থলির আলসার
শরীরে বেশি মাত্রায় লবণের প্রবেশ ঘটলে পাকস্থলির আবরণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়, ফলে পাকস্থলি আলসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে শরীরে জলের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে নানা রকমের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।
৬. অস্টিওপোরোসিস
শরীরে লবণের মাত্রা যত বাড়বে, তত পানির পিপাসা পাবে। আর পানি বেশি করে খেলে প্রস্রাবও বেশি করে হবে। ফলে শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বেরিয়ে যেতে শুরু করবে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে। আর এমনটা হলেই ধীরে ধীরে হাড় দুর্বল হয়ে গিয়ে দেখা দেবে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগ।
৭. মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমবে
বেশি মাত্রায় লবণ খেলে ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি কমে যেতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে ব্রেণ ফাংশন ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং কমবে মনোযোগও। আর এই লক্ষণগুলি দেখা গেলে দৈনন্দিন জীবন যে কতটা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে, তা নিশ্চয় বলে দিতে হবে না। তাই সব শেষে বলবো, লবণ খান, কিন্তু বেশি মাত্রায় খাবেন না। তাহলেই দেখবেন সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারছেন।