Showing posts with label mystery. Show all posts
Showing posts with label mystery. Show all posts

Sunday, 16 October 2022

ফেরেস্তাদের ডেকে পাঠানো এক শক্তিশালী ম্যাজিক


মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়া জুড়ে বিভিন্ন স্থানে উজ্জ্বল, কখনো কখনো ডানা যুক্ত প্রাণীর দেখা পাওয়া গিয়েছে। অদ্ভুত এক সত্তাকে সিরিয়ার বিপর্যস্ত রাস্তায় আহতদের নিরাপদ স্থানে যেতে সাহায্য করা থেকে শুরু করে উজ্জলাকার মানুষ্যজাতীয় প্রাণীকে মসজিদে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে এবং কেবলমাত্র ক্যামেরাতেই এদেরকে দেখা যায়। এছাড়া বিশালাকৃতি ডানাযুক্ত প্রাণীকে সৌদি আরবিয়া এবং ইসরাইলের আকাশে উড়ে যেতে দেখা গেছে। এই সাক্ষ্যগুলি ঈশ্বরের ফেরেশতাকে পাঠানোর বিষয়টিকে মনে করতে বাধ্য করে। কিন্তু কিছু মধ্যযুগীয় জাদুকরদের মত অনুযায়ী এই প্রাণীগুলি মনুষ্যদ্বারাও তলব করা যেতে পারে।

এখানে প্রশ্ন হল এই প্রাণীগুলি কি শান্তিপ্রিয় সত্তা নাকি কোন অশুভ শক্তি?

আরব এবং ইসলামিক বিভিন্ন প্রথায় এবং বিভিন্ন প্রাচীন ম্যাজিক বা যাদুবিদ্যায় একটি মিল পাওয়া যায়, যেখানে অনেক সময় ফেরেশতা, জীন, দানব এবং অন্যান্য সত্তাকে ডেকে পাঠানো হয়।
বিশেষ করে যখন মুসলিম বা ইসলামিক প্রথার মধ্যে যখন এই অতি মানবিক শক্তির বা সত্তার কথা ওঠে, তখন তিন প্রকার জীবনের উল্লেখ পাওয়া যায় যাদের অদেখা জগতের অংশ হিসেবে মনে করা হয়।
এরা হলো 'শয়তান্স' যাদেরকে টেকনিক্যালি দুষ্ট জ্বীন অথবা পশ্চিমে যাদের 'ডেমন' বলে এবং এঞ্জেল বা ফেরেশতা বা পরি।




প্রথমত আমরা 'ফেরেশতা' বা এনজেল নিয়ে আলোচনা করি।
মুসলিম মত অনুযায়ী ফেরেশতা অথবা 'মালায়খা' যাদেরকে মনুষ্য জাতির পূর্বের সৃষ্টি করা হয়েছে, ঈশ্বরের আদেশ মানার জন্য এবং আমাদের সাথে যোগাযোগের জন্য।
যদিও কিছু মধ্যযুগীয় আরবিক জাদুকর বা সাধকদের মতে এই সত্তা গুলিকে যাদুকরি বিদ্যার সাহায্যে ডাকা যেতে পারে। যাদুবিদ্যার সংজ্ঞা হিসাবে আমাদের মনে বিভিন্ন বিতর্ক দেখা দিতে পারে কিন্তু এই পোস্টে আমরা যাদুবিদ্যাকে একটি লুকায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অংশ হিসাবে ধরে নিতে পারি যা মানুষের বোঝাপড়ার বাইরে।
যেহেতু বৈজ্ঞানিক গবেষণা ক্রমাগত উন্নত হয়ে চলেছে এবং সাথে সাথে জাদুবিদ্যা সময়ের সাথে সাথে পাল্টেছে তাই এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে জাদুকররা ভবিষ্যতের বা সময়ের তুলনায় এগিয়ে যাওয়া প্রযুক্তির কাছে পৌঁছে গিয়েছেন বা ব্যবহার করেন যার ফলে এগুলি বর্তমানের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝা যায় না।




লেখক C. Clark এর মতে যে কোন যথাযথ উন্নত প্রকারের প্রযুক্তিকে ম্যাজিক বলা যেতে পারে।
ইসলামে ম্যাজিক বা জাদুর ব্যবহার করা যেখানে জ্বীনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে হয় সেটি অনুমোদিত নয়; যেহেতু জিন এবং মানুষের একে অপরের সাথে যোগাযোগ করা অনুমোদিত নয়।
জাদুগরিবিদ্যা, যাকে বলা হয় 'ulum al-ghayb' যার মধ্যে ভবিষ্যৎবাণী, নক্ষত্র বিদ্যা এবং ভাগ্য নির্ণয় করা যায়।
প্রাচীনতম যাদুবিদ্যার মন্ত্রগুলি প্রাচীন ইরাকে কাদামাটির ফলকের উপর খোদাই করা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতা এবং স্থানের মধ্যে অন্যতম প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় জাদুকরী বিদ্যার মন্ত্র গুলি মাদুলি বা কবজে খোদাইকৃত অবস্থায় এবং অন্যান্য বস্তুর উপর পাওয়া গেছে; এদিকে রোমানরা বিশ্বাস করতেন জাদুকরি বিদ্যার বইগুলি পার্শিয়ানরা আবিষ্কার করেন এবং কোন কোন জাদুকরদের মতে ফেরেশতাকে ডেকে পাঠানোর ম্যাজিক গুলি প্রফেট সলোমনও চর্চা করতেন।




প্রাচীন জগতের ফেরেশতা সম্পর্কিত সবচেয়ে বিখ্যাত লেখাগুলি পাওয়া গিয়েছিল 'ডেড সী স্ক্রোল' এর 'বুক অফ ইনক' থেকে।
এছাড়া কিছু কম পরিচিত লেখাও পাওয়া গিয়েছে যেমন ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে Zakariya al-Qazwini এর লেখা বই ʿAjāʾib al-makhlūqāt wa-gharāʾib al-mawjūdāt'। যদিও বইটি যাদু বিদ্যার থেকে বেশি ক্রিপ্টো জুলজি এবং কসমোলজি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও লোককাহিনীর ভিত্তিতে এটি একটি এনসাইক্লোপিডিয়া হিসেবে তৈরি করা হয়েছে; এখানে আল কাজুনি ফেরেশতাদের শরীরের আকৃতি নিয়ে বিবরণ দিয়েছিলেন এবং তারা কি প্রকার প্রাণী এবং কোথায় থাকে সে সম্পর্কিত আলোচনা করেছিলেন। যদিও আরও একটি বিপদজনক লেখা যা পাওয়া যায় 'Shams al-Ma'arif' নামক বইটিতে যা থেকে মানুষকে একদম দূরে থাকা উচিত। ১৩ শতাব্দীতে লেখা এই বইটির লেখক ছিলেন আলজেরিয়ান পন্ডিত Ahmad al-Buni। এটি ছিল সমকালীন এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী জাদুকরী মন্ত্রের বই।




আমি যা বুঝতে পেরেছি এই লেখাগুলি কেবলমাত্র কাগজে লেখা অবস্থাতেই পাওয়া যায় মাগরিব এবং লেবানন অঞ্চলে এবং তাও প্রচুর পরিমাণে সংক্ষেপে ও এডিট করার পর। এই সংস্করণগুলি আসলটির থেকে অনেকটা পিছিয়ে - যেটি তিনটি বিশাল খণ্ডে লেখা হয়েছিল। এই অঞ্চলগুলির অনেক স্থানেই এটি নিষিদ্ধ ছিল; তার কারণ আছে যদিও এটি দাবি করে এটি তার পাঠকদের ফেরেশতা জাতীয় সত্তার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করবে, যা মানুষের উপকারের কাজে আসবে। ইসলামিক বিশেষজ্ঞদের মতে এই বইটি বা এই ধরনের বইগুলি ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপদজনক। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে যারা জাদুকরি বিদ্যার সাহায্যে অতিপ্রাকৃত শক্তিকে কাজে লাগাতে চাইবে তার ফলে কিছুই হবে না কোন কাজ হবে না। যদিও তাদের মধ্যে কয়েকজনের সে যতই কম হোক এই বই ব্যবহারের ফলে গোলমেলে অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘটবে যেমন রহস্যময় মৃত্যু, অসুস্থতা - যার ব্যাখ্যা করা যায় না এবং মনুষ্য প্রকৃতির অস্বাভাবিক রকমের সত্তার উদ্ভব ঘটবে। বলা হয়, এই লেখাগুলি অভিশপ্ত এবং এই অভিশাপ বংশধররাও বহন করতে পারে। সাধারণভাবে যদি বলি এটা মনে করা হয় যে এই ধরনের বইগুলি দ্বারা কেবলমাত্র দুষ্ট বা অশুভ জিনকেই ডেকে পাঠানো যায় যেহেতু ভালো ও নিরপেক্ষ জিনদের মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করার কোন উৎসাহ থাকে না।
এদিকে ফেরেশতা যারা এমন একপ্রকার পবিত্র এবং অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাণী যাদের উপর এই ধরনের লেখার কোন প্রভাবই পড়া সম্ভব নয় এবং কেবলমাত্র ঈশ্বর নিজেই তাদের ডেকে পাঠাতে পারেন। অবশেষে এগুলি ইজিপশিয়ান স্বঘোষিত জাদুকর 'আব্দুল ফাতে আল সাঈদ আল তখী'র কিছু লেখায় নিয়ে যায়। মনে করা হয়, তার জাদুর বইগুলি সবচেয়ে শক্তিশালী লেখাগুলির মধ্যে একটি। তিনি এক রহস্যময় ব্যক্তি ছিলেন যিনি জ্যোতির্বিদ্যা, জাদু এবং আত্মা বহিষ্করণের উপর ত্রিশটির উপর বই লিখেছিলেন।




তখী বিংশ শতাব্দীর সমসাময়িক লেখক ছিলেন। যদিও তার পরিচয় এবং জীবনী রহস্যে ঘেরা এমনকি আরব গবেষকদের কাছেও।
তার অন্যতম একটি লেখা ছিল হারুত এবং মারুত কে নিয়ে এবং হাজার বছর আগের মানুষদের জন্য লেখা কালো জাদুর পুথি।
সাধারণভাবে যদি বলি হারুত এবং মারুতের কাহিনী ইসলামিক শিক্ষায় সবচেয়ে প্রচলিত বা বিখ্যাত কাহিনীগুলির মধ্যে একটি যাতে ম্যাজিকের কথা বলা হয়েছে এবং কেন এগুলি ক্ষতিকারক তা বোঝানো হয়েছে। ঈশ্বর মানুষ এবং মনুষ্যত্বের উপর পরীক্ষা করার জন্য এই দুই ফেরেশতাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। প্রচলিত এক ট্র্যাডিশন মতে এই দুই ফেরেশতা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে ঠিক যেমন মানুষ দুর্নীতির প্রতি আসক্ত হয়।
এই মতে, পৃথিবীতে আসার আগে একদল ফেরেস্তা মানুষের অপরাধ বা খারাপ কাজকে দেখে আমাদের এই দুর্বলতার প্রতি উপহাস করতো। ঈশ্বর তখন ঘোষণা করেন যে, একই পরিস্থিতিতে থাকলে ফেরেশতারাও একই রকম আচরণ করবেন যেমন মানুষরা করছেন এবং তিনি প্রস্তাব করেছিলেন, কিছু ফেরেশতাকে পৃথিবীতে পাঠানো হবে এটা দেখার জন্য যে কতটা ভালোভাবে তারা ধর্ম, ব্যভিচার এবং মদ্যপান থেকে নিজেকে আগলে রাখবে। এরপর পৃথিবীতে হারুত এবং মারুত কে এক মহিলা দ্বারা উত্তেজিত করা হয়, যার ফলশ্বরূপ তারা সেই সময়ের সাক্ষী থাকা এক মানুষকে হত্যা করে ফেলে। তারা মানুষের মতনই সমসাময়িক আচরণ করেছে এটা বুঝতে পারার পর এই জুড়ি পৃথিবীতে নিজের সাজা মেনে নেয় যেটি হল, ব্যাবিলনে বিচারের দিন অর্থাৎ কায়ামত পর্যন্ত তাদের উল্টো করে পা বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হবে। যদিও এই কাহিনীটি ইসলামিক এস্কেটোলজির একটি অংশ, কিন্তু ফেরেশতা মানুষদের সাথে কিভাবে ব্যবহার করে সেই সম্পর্কিত মৌলিক যে ধারণা আছে তার সম্পূর্ণ বিরোধী। কিছু কিছু বিশেষজ্ঞের থিওরি অনুযায়ী হারুত এবং মারুত আসলে মানুষ ছিল যারা শয়তানের থেকে ম্যাজিক শিখেছিল যেহেতু তাদের আচার-আচরণ একদমই ফেরেশতাদের মত ছিল না। এই কারণে অনেক ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা কাহিনীর এই অংশটিকে মানতে চান না এবং তাদের মতে এটি বানানো ঘটনা এবং কাহিনীটি zoroastrianism এবং জুডাইজম থেকে নেওয়া হয়েছে।




ক্রিশ্চান প্রথাতেও ফেরেশতা এবং ম্যাজিকের সম্পর্ক এবং তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে ক্ষতি করার কাহিনী পাওয়া যায়। 'বুক অফ ইনক' অনুযায়ী মানুষদের ওপর নজর রাখার জন্য নজরদারি ফেরেস্তাদের পৃথিবীতে পাঠানো হয় এবং খুব দ্রুত তারা নারীদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে যার ফলে স্বর্গে গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এর ফলে অনেক ফেরেশতাদের বহিষ্কৃত করা হয় যার ফলে তারা ডেমন বা জিনে পরিণত হয় এবং ধীরে ধীরে এর ফলে মানুষদের ম্যাজিকের মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ করার সূত্রপাত হয়। এই প্রথা থেকে এনোখিয়ান ম্যাজিকের ধারণার জন্ম হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে এনোখিয়ান ম্যাজিক হচ্ছে এখনো পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী যাদুবিদ্যা। এটির ভিত্তি হল ১৬ শতাব্দীতে জন ডি এবং এডওয়ার্ড কেলির লেখনি থেকে, তাদের মতে এই যাদুবিদ্যাটি তারা সরাসরি ফেরেশতাদের থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছেন।
যদিও বলা হয়ে থাকে যারাই এই ধরনের জাদুবিদ্যার চর্চা করে থাকেন কখনো না কখনো তারা এরই শিকারে পরিণত হয়, সে তারা দানব, জীন অথবা ফেরেশতা যাকেই ডেকে পাঠাক না কেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, পল ফস্টারের বিষয়টি; তিনি বিংশ শতাব্দীর একজন সাধক এবং জাদু বিদ্যার অনুশীলনকারী ছিলেন যিনি দাবি করেন এনখিয়ান ম্যাজিক খুব ভয়ংকর এবং তিনি ২৫ টির উপর ঘটনা জানেন যেখানে এই বিদ্যার অনুশীলনকারীরা গম্ভীরভাবে মস্তিষ্ক এবং শরীরের মধ্যে বিচ্ছিন্ন অবস্থা অনুভব করেছিলেন, এদের মধ্যে একজন ছিলেন বিখ্যাত অকালটিস্ট অ্যালেস্টার ক্রাউলি।
ঠিক একই রকম ভাবে আলবার্টাস ম্যাগনাসের কথা বলা যায় যিনি ১৩ শতকের একজন ক্যাথলিক খ্রিস্টান ভিক্ষু ছিলেন; এই সময় অনেকগুলি বিখ্যাত ফেরেশতাকে ডাকার ঘটনা শোনা যায় যেগুলি নক্ষত্রিক যাদুবিদ্যার একটি রূপ ছিল এখানে যতই পজিটিভ পবিত্র আচার-আচরণ পালন করা হোক না কেন এর মাধ্যমে ডেমন বা জিনদের ডাকা যেত।

এটি ইসলামিক ধারণার সাথে অনুরুপ অর্থাৎ ফেরেশতাদের মানুষের যাদু বিদ্যার দ্বারা চালিত বা নিয়ন্ত্রিত করা যায় না এবং যে প্রকারের জগদবহির্ভূত সত্তার সাথেই এই ধরনের বিদ্যার চর্চাকারীরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করুক না কেন এগুলি শেষ পর্যন্ত দুষ্ট প্রকৃতির হবে এবং অবশেষে তাদেরই ক্ষতি করার চেষ্টা করবে।
অনেক মানুষের প্রশ্ন থাকে যে বিভিন্ন জ্বীনরা বিভিন্ন ধরনের ধর্ম কেন পালন করবে? অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারী এই সত্তাদের ঈশ্বরের আসল রূপের জ্ঞান থাকা উচিত এবং তাই জন্য তারা সকলে একই রকম ধর্ম পালন করা উচিত । এর জবাবে কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর 'এম থিওরি' কে ব্যবহার করা যেতে পারে, এইভাবে আমাদের বাস্তবতার সংজ্ঞাও দেওয়া যেতে পারে। যদি আমরা ধরে নিই মানুষ, জীন এবং ফেরেশতারা তিনটি আলাদা আলাদা ডাইমেনশনে থাকে যেগুলি একে অপরের থেকে ভিন্ন। অনেক থিওরিটিক্যাল ফিজিসিস্ট এর মত অনুযায়ী মানুষরা কেবলমাত্র ৩ ডায়মনেশন যুক্ত প্রাণী, যারা চতুর্থ ডাইমেনশন অর্থাৎ সময়ের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রতিটা উপরের দিকের ডাইমেনশন নিচের দিকের ডাইমেনশন গুলি থেকে গোপন বা লুক্কায়িত থাকে তাহলে আমরা যদি মনে করি জিনরা তৃতীয় ও চতুর্থ ডাইমেনশনের মধ্যে অবস্থানকারী তাহলে তারা আমাদের মত সময়ের দ্বারা এইরকম ভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়। যদিও তারা ফেরেশতাদের তুলনায় নিচের ডাইমেনশনে অবস্থানকারী ফলে এরা তাদের দেখতে পায় না। তাই তাদের দিক থেকে দেখতে গেলে তারা মানুষের থেকে অজানা বা অদেখা জগত সম্পর্কে সামান্য বেশি জানে। তবুও যেহেতু তারা আমাদের থেকে বেশি জানে তাই তাদের এই ক্ষমতা আছে যাতে তারা বিভিন্ন ভঙ্গিমা করে এবং আমাদের চিন্তা ভাবনায় হেরফেরের মাধ্যমে আমাদেরকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে তারা ফেরেশতাদের মতই, যেটা তারা নয়।

Wednesday, 5 October 2022

ইন্ডিয়ান আর্মি এবং ইয়েতি রহস্য

১৯ এপ্রিল ২০১৯ ,সম্প্রতি কালে ইয়েতির পায়ের ছাপ পাবার ঘটনা গুলির মধ্যে যেটি সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় করে দিয়েছিল, প্রায় ছয় মিলিয়ন ফলোয়ার সমৃদ্ধ ভারতীয় সেনাবাহিনীর টুইটার একাউন্টে প্রকাশিত করা হয়েছিল। এই খানে তারা দাবি করেছিলেন যে ফটোগ্রাফ গুলি ইন্ডিয়ান আর্মি মাউন্টেনিয়ারিং এক্সপিডিশনের সময় তোলা হয়েছিল এবং এই পদচিহ্নগুলি বিশালাকৃতি প্রায় ৩২*১৫ ইঞ্চির ছিল।




পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট মাকালুর বেসে অবস্থিত মাকালু বেসক্যাম্প, যা পূর্ব নেপালের দিকে প্রায় ৪৮৭০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। হিমালয়ের এই অঞ্চলটি ১৯৫০ সাল পর্যন্ত বাইরের দুনিয়ার কাছে অজানা ছিল যতদিন না ব্রিটিশ অভিযাত্রী এরিক সিম্পটন প্রথম এখানে আরোহন করেন। তারপরেও কিছু হাতে গোনা ট্রেকারের দল ছাড়া এই অঞ্চলে তেমন কেউ যেত না সুতরাং স্থানটি ইয়েতিদের পক্ষে একটি আদর্শ স্থান হতে পারে।
প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি ১৯৫১ সালে এরিক সিম্পটন যখন একটি এভারেস্টের এক্সপিডিশন করছিলেন এবং সামিট অব্দি যাওয়ার রুটগুলি নিয়ে সার্ভে করছিলেন তখন তিনি প্রথম এখানে ইয়েতির পদচিহ্নের ফটো তোলেন।



মেনলাং বেসিনে প্রায় ১৯ হাজার ফিটে তারা এক দ্বিপদ প্রাণীর পদচিহ্ন দেখতে পান, যেগুলি ১৩*৮ ইঞ্চি আয়তনের ছিল এবং যেটি প্রায় এক মাইল দূরে গ্লেসিয়ারের দিকে চলে গিয়েছিল। সিম্পটনের সঙ্গী টম বারদিলন ফটো গুলির মধ্যে একটিতে নোট করেছিলেন, "আমি অত্যন্ত নিশ্চিত যে হিমালয় বসবাসরত পরিচিত কোন প্রাণী এত বিশালাকৃতির হতে পারে না"।



ঠিক সেরকমই হিমালয়ের পাওয়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিগুলোতে ডান দিকে বা বাদীকে অন্য কোন চিহ্ন না থাকায় এগুলিকে দ্বিপদ প্রাণীর মতোই মনে হচ্ছে; ঠিক যেন ইয়েতি বরফে আচ্ছাদিত প্রান্তরটি অতিক্রম করে যাচ্ছিল শীতকালীন খাদ্য সংগ্রহের জন্য। পদচিহ্নগুলো খুব বিশালাকৃতি হলেও বরফে এগুলি খুব গভীরে গিয়েছিল যা চিহ্নিত করে এটি খুব বিশাল আকৃতির কোন দ্বিপদ প্রাণীর যা পৃথিবীর অন্য কোন প্রান্তরে পরিচিত না। যখনই ইয়েতি প্রসঙ্গ আসে অনেকেরই আঙ্গুল হিমালয়ান বাদামি ভাল্লুকের দিকে অবশ্যই গিয়ে থাকে এবং এই সময়েও সেটির পুনরাবৃত্তি হয়েছিল কিন্তু আমাদেরকে এটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে ভালুকরা দ্বিপদ না। তারা সাধারণত এই তুষারাবৃত পর্বত প্রান্তরে চার পায়ের সাহায্যেই চলাচল করতে পারে। কেবলমাত্র আক্রমণ অথবা আত্মরক্ষা করার সময়ে নিজের দু পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। অপরদিকে রেকর্ড করা সবকটি পদচিহ্নই দ্বিপদ প্রাণীর ছিল। এমন কোন তুষার ভাল্লুক হবে যার পদচিহ্ন ৩২ ইঞ্চি লম্বা হবে?


সবচেয়ে বিশালাকৃতি বাদামি ভাল্লুক অথবা কৃষ্ণাঙ্গ ভাল্লুক হল কোডিয়াক ভাল্লুক যাদেরকে দক্ষিণ পশ্চিম আলাস্কায় দেখতে পাওয়া যায়। এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বিশালাকৃতি নথিভূক্ত কোডিয়াক ভাল্লুকের ওজন ৭৫১ কেজি ছিল এবং এর পায়ের দৈর্ঘ্য ৪৬ সেন্টিমিটার অর্থাৎ ১৮ ইঞ্চি ছিল; যেটি মাকালুতে পাওয়া ৩২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের অর্ধেক। আমাদের কাছে এটা মানা ছাড়া আর কোন উপায় নেই যে মনুষাকৃতির মাকালুতে পাওয়া এই পদচিহ্নগুলি মানুষের জানা কোন প্রাণীর না; যে ক্ষেত্রে একমাত্র একটি শব্দ মাথায় আসে কিংবদন্তি নিঃশব্দসঞ্চারী অদ্বিতীয় দ্বিপদ দানব 'ইয়েতি' যা হিমালয়ের অনাবৃষ্টিত দুর্গম গভীর স্থানে ঘুরে বেড়ায় এবং যার গল্প স্থানীয় লোককাহিনীতে এবং শেরপা সম্প্রদায়গুলির মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শেরপাদের কাছে এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক মতামত বা যুক্তি গুলি কোনরকম চিন্তার বিষয় না; এটি তাদের লোককাহিনীর একটি স্থায়ী অংশ এবং এই উঁচু পার্বত্য প্রান্তরে যেখানে ইয়াক পালন করে, আলু চাষ করে এবং এই তুষারবৃত পর্বতগুলি আরোহন করতে সাহায্য করে তাদের জীবিকা চলে- তার একটি রোজকার জীবনের অংশ। তারা হাতের তালুর মত এই অঞ্চলগুলিকে চেনে; এমনকি বলা যায় একমাত্র তারাই এই অঞ্চলের বিশেষজ্ঞ।


শেরপদের মধ্যে অসংখ্য ইয়েতি দেখার এবং তার পদচিহ্নের কাহিনী শোনা যায়- অনেকে আবার একপ্রকার শিস দেওয়ার বা তীক্ষ্ণ শব্দ শুনেছে তাদের যাত্রা দরুন - যা মনে করা হয় ইয়েতির শব্দ; এছাড়া অনেকে তাদের দেহের তীব্র গন্ধ পেয়েছে। সাধারণত তারা ইয়েতির বর্ণনা দেয়- একটি বড় মাথা যুক্ত বানর প্রজাতির প্রাণী হিসাবে, যার লম্বা হাত এবং মানুষের মতো মুখ, বোঁচা নাক এবং লাল ও কালো লোম দিয়ে দেহ আচ্ছাদিত। সাধারণত এটি দুই পায়ে হেঁটে হেঁটে চলে কিন্তু কখনো কখনো পার্বত্য ঢাল দিয়ে দ্রুত গতিতে চলার জন্য একে হাত ও পা দুটি ব্যবহার করতে দেখা গেছে।


শেরপাদের বিশ্বাস ইয়তিকে সহজে দেখতে পাওয়া যায় না তার প্রাথমিক একটি কারণ হচ্ছে এটি নিশাচর প্রাণী। এর একপ্রকার অতীপ্ৰাকৃত বা দৈবিক ক্ষমতা আছে এবং নিজের ইচ্ছায় এটি অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে এবং একে দেখতে পাওয়া অশনি সংকেত হিসেবে মনে করা হয়। কেউ কেউ দাবি করেন যদি ইয়েতি আপনাকে প্রথমে দেখে ফেলে তাহলে এটি একপ্রকার জাদু বা ম্যাজিক জাতীয় কিছু প্রয়োগ করে আপনায় নড়াচড়া করা থেকে বিরত করে দেয়, তারপর সে শিকারকে আক্রমণ বা খেয়ে ফেলতে পারে। যেকোনো শেরপার মুখ থেকেই শোনা যায় যে যদি আপনি ইয়েতিকে দেখতে পারেন তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিচের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যান। যদি ইয়েতি আপনাকে একটি খাড়া স্থানে নিচের দিকে ধাওয়া করে তাহলে হাওয়া তার লম্বা চুলগুলি চোখে ঢেকে কিছু সময়ের জন্য তার দৃষ্টির ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা আপনাকে পালাতে সাহায্য করবে। তবে সাধারণ ক্ষেত্রে এটি মানুষের পক্ষে ক্ষতিকারক হয় না। যদিও একে একা থাকতে দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যদি আপনি একে না ঘাটান সেও আপনার বিরক্ত করবে না, সাধারণত ইয়েতি ছোট ছোট প্রাণী যেমন ব্যাঙ থেকে শুরু করে ইদুরের মতো প্রাণী যাকে 'পিকা' বলে পরিচিত যেগুলি হিমালয়ে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, এগুলি খেয়েই বেঁচে থাকে যদিও 'ইয়াক' এর উপর আক্রমণ ও তাদের মেরে ফেলার ঘটনাও শোনা যায়। শেরপারা মনে করেন ইয়তিকে খুঁজতে কোন সংঘটিত অভিযান কখনো সাফল্য লাভ করবে না এই প্রাণীটি নিজের ইচ্ছা অনুসারে অদৃশ্য হতে পারে এবং কখনো কখনো আকস্মিকভাবে এর দেখা পাওয়া যায়।


ইন্ডিয়ান আর্মির দেওয়া ইয়েতি ফুটপ্রিন্টের আরেকটি চমকপ্রদ বিষয় হলো, ঠিক একই প্রকার পদচিহ্ন মেজর বিল টিলমান ১৯৩৭ সালে দেখতে পেয়েছিলেন যার উল্লেখ লেখক গ্রাহাম হল্যান্ডের 'Yeti: an abominable history' বইটিতে দেখা গেছে। গ্রাহাম হল্যান্ড ছিলেন ১৫ তম ব্রিটিশ অভিযাত্রী যিনি এভারেস্ট আরোহন করেছিলেন। হিমালয় আনুমানিক ৩০ টির কাছাকাছি অভিযান করেছিলেন তিনি। এই সময়কালীন তিনি শেরপাদের কাছ থেকে ইয়েতি সম্পর্কিত অনেক কাহিনী শুনেছিলেন; তিনি তার বইয়ের প্রচারের জন্য একটি আর্টিকেল লিখেছিলেন যার নাম ছিল 'top 10 yeti and abominable snowman sightings'. এখানে বেশকিছু কৌতূহল পূর্ণ তথ্য ছিল যার মধ্যে বিল টিলম্যানের বিবরণ গুলি--
টিলম্যান তার ডাইরিতে লিখেছিলেন, দুটি গ্লেসিয়ারের মাঝ বরাবর যাওয়ার সময় তিনি বরফের ওপর তুষারমানবের পদচিহ্ন দেখতে পান এগুলি ৮ ইঞ্চি ডায়ামিটার এবং ১৮ ইঞ্চি লম্বা ছিল এবং কনুই অথবা বুড়ো আঙ্গুলের চিহ্ন ছিল না। এগুলি ৩ অথবা ৪ দিনের পুরনো ছিল তাই পুরো বাইরের দিকটা হয়তো বরফের গলে যাওয়ার জন্য নিখুত ছিল না। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এগুলি সোজা লাইনে ছিল একটার পর একটা - যার ডান অথবা বাঁদিকে টাল খাওয়ার কোন চিহ্ন ছিল না। একটি চার পেয়ে প্রাণী সব সময় চলাচলের সময় একটির উপর আরেকটি পায়ের চিহ্ন রেখে যায় এবং তাদের চলাচলের পদচিহ্নগুলি এরকম হয় না। যাইহোক এই প্রাণীটি অথবা দানব টি খুব ভারী ছিল কারণ এই পদচিহ্নগুলো এক ফুটের কাছাকাছি গভীর ছিল। "আমরা এগুলিকে এক মাইলজুড়ে অনুসরণ করেছি যতক্ষণ না এটি কিছু পাথরের আড়ালে হারিয়ে গেছিল। এই পদচিহ্নগুলি একটি গ্লেসিয়ারের জলাশয় থেকে নেমে এসেছিল যেখান থেকে হয়তো প্রাণীটি জল খেয়েছিল এবং পরের দিন আমরা ঠিক একই রকম পায়ের চিহ্ন বরফের লেকের উত্তর দিকে পেয়েছিলাম।"


এটা খুব চাঞ্চল্যকর বিষয় যে প্রায় ৮৫ বছরের আগে মেজর টিলম্যানের পাওয়া ইয়েতির পদচিহ্নগুলি যেরকম সোজা ছিল একটার পর একটা যার ডান বা বাদিকে কোন ডেভিয়েশন ছিল না ঠিক একই প্রকারের পদচিহ্ন ইন্ডিয়ান আর্মি, মাকালুতে পেয়েছিল। পার্থক্য হল এই যে, মাকালুর পদচিহ্ন গুলি বিশালাকৃতি ছিল - ৩২*১৫ ইঞ্চির যেখানে মেজর টিলমানের গুলি ছিল - ১৮*৮ ইঞ্চির হয়তো মেজর টিলমানের দেখা পদচিহ্নগুলি ইয়েতির ছোট প্রজাতির এবং মাকালুর ইয়েতি গুলো সম্ভবত ইয়েতির অপর প্রজাতি যারা বিশালাকৃতি এবং ইয়াক খেয়ে থাকে।
গ্রাহাম হল্যান্ড তার আর্টিকেলে এর ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, যেগুলি তিনি অরুণাচল প্রদেশ থেকে লাদাখে হিমালয়ের রেঞ্জ ভ্রমণ কালে গ্রামবাসীদের থেকে শুনেছিলেন; সে অনুসারে তিন প্রকারের ইয়েতি হয়ে থাকে - প্রথমটি হল সবচেয়ে বিশালাকৃতির এবং ভয়ানক 'dzu-teh' যারা দু পায়ে দাঁড়ালে 8 ফুট লম্বা হয় এবং এটি এক থাবায় একটি ইয়াককে মেরে ফেলতে পারে।
এর থেকে ছোটটি হল 'chu-the' অথবা 'থেলমা' - একপ্রকার হালকা লাল রংয়ের বাচ্চাদের মত ছোট আকৃতির প্রাণী যে দু পায়ের ভর করে হাটে এবং হাতগুলি লম্বা হয়; এই প্রাণীকে সিকিম এবং নেপালের জঙ্গলে দেখতে পাওয়া যায়।
এছাড়া আর এক প্রকার হলো 'meh-teh' যারা অনেকটা মানুষের মতো দেখতে এবং এদের দেহে কমলা লাল রঙে লোম দেখতে পাওয়া যায়। এরা মানুষকে আক্রমণ করে এবং এদেরকে মনস্ট্রি গুলির দেয়ালে আঁকা চিত্রে দেখতে পাওয়া যায় বলা হয় এদের নামটি বিবর্তিত হয়ে 'yeh-teh' অথবা 'ইয়েতি' হয়েছে।



হল্যান্ডের শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী মাকালুতে পাওয়া পদচিহ্ন গুলি হয়তো এই ৮ ফুট লম্বা 'dzu-teh' এর হতে পারে যার বর্ণনা হল্যান্ডের কাহিনীতে শোনা যায়। হিমালয়ের বনমানুষ সম্পর্কে পশ্চিমে মানুষদের সবচেয়ে প্রথম বর্ণনাটি পাওয়া যায় হকটন হজশনের লেখা থেকে যেটি ১৮৩২ সালে সময়কালীন ছিল। হজসন নেপালের প্রথম ব্রিটিশ বাসিন্দা ছিল এবং প্রথম ইংরেজ - যাকে 'নিষিদ্ধ ভূমি'তে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি তার ডাইরিতে লিখেছিলেন, তার শিকারিরা একবার এক বনমানুষের আগমনে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে গিয়েছিল। হয়তো এটি ওরাং হতে পারে,
"কিন্তু তাদের বর্ণনায় আমার সন্দেহ আছে; সম্ভবত তারাই প্রাণীটিকে 'রাক্ষস' বা দৈত্য ভেবে গুলি করার পরিবর্তে পালিয়ে গিয়েছিল। তারা বলেছিল এটি লম্বা ও কালো চুলে ঢাকা ছিল এবং কোন লেজ ছিল না। নেপালি শিকারিরা ইয়েতিকে 'রাক্ষস' বলায় আমি এটা লক্ষ্য করেছিলাম যে, রাক্ষস কথাটির বর্ণনা দুটি ভারতীয় মহাকাব্য 'রামায়ণ' এবং 'মহাভারতে' পাওয়া যায়। তাদের সাধারণত এক প্রকার শয়তানিক, দুষ্ট, ভয়ঙ্কর দেখতে নিশাচর জাতীয় এবং নরখাদক হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল। যখন পুরো পৃথিবী ঘুমাতে যায় তখন তারা তাদের ডেরা থেকে বেরিয়ে আসে এবং জঙ্গলে শিকার শুরু করে; তাদের বিশালাকৃতি দেহ লাল লোমে ঢাকা এবং তারা অসম্ভব শক্তিশালী। মানুষের শক্তি তাদের কাছে কিছুই না, তারা গভীর দুর্গম জঙ্গলে বসবাস করত এবং হিমালয়ের ঢালগুলিতে তাদের শক্তি এবং ক্ষমতা অসম্ভব রকম ভাবে বেড়ে যেত; সন্ধ্যা এবং ভোরের সময় এই সময় গুলিতে তাদের যেকোন ভাবে হোক এড়িয়ে চলা উচিত তারা তাদের মায়াবী ক্ষমতার দ্বারা উধাও হয়ে যেত অথবা আকাশে উড়ে যেত এবং মানুষের মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করার জন্য অনেক রকম আকৃতি ধারণ করতে পারত।"

মহাভারতে মানুষ খেকো দানবদের নিয়ে অনেকগুলি গল্প ছিল কিন্তু এর মধ্যে একটি উল্লেখ্য একটি হল রাক্ষস ও রাজপুত্র ভীমের যুদ্ধের কাহিনী। ভীম ছিলেন তার সময়কালে পৃথিবীর সবচেয়ে বলশালী মানুষ। একদা ভীম এবং তার ভাইয়েরা অর্থাৎ পঞ্চপান্ডবেরা রাত্রিকালীন এক ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করছিলেন, যেখানে তার সাথে 'হিড়িম্বা' নামক এক রাক্ষসের লড়াই হয়; অন্যান্য ভাইয়েরা যখন ঘুমিয়ে পড়েছিল তখন তিনি তাদেরকে পাহারা দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় রাক্ষসটি মানুষের গন্ধ পায় এবং রক্ত পিপাসু হয়ে জঙ্গল ধেয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। হিরিম্বার অসাধারণ শক্তি এবং হিংস্রতা ছিল, সাথে তার লম্বা এবং তীক্ষ্ণ দাঁত ছিল। সে ক্ষুধার্ত এবং মানুষের মাংসের লোভে এগিয়ে আসছিল। তার লম্বা চেহারা এবং বিশালাকৃতি পেট ছিল এবং তার দেহের রোমগুলি লাল রঙের ছিল। তার কাঁধ গাছের উপরিভাগের মত চওড়া ছিল এবং তার কান তীরের মত তীক্ষ্ণ ছিল যাতে তাকে আরও ভয়ানক দেখাচ্ছিল। কাহিনীর এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে একসময় ভীম এই রাক্ষসের সাথে ভয়ানক এক হাতাহাতি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন। তারা দুজনেই ভূমিতে গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন এবং নিজেদের মধ্যে কুস্তি লড়ছিলেন সাথে গর্জন চলছিল। এই সময় ভীমের ছোট ভাই অর্জুন ঘুম থেকে জেগে উঠেছিল এবং ভীমকে এই রাক্ষসকে সময় নষ্ট না করে তাড়াতাড়ি নিধন করার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন; যেহেতু ভোরের সময় এর মায়াবী শক্তি বেড়ে যাবে। অবশেষে ভীম রাক্ষসের ওপর নিজের প্রাধান্য নিয়ে তার ভবলীলা সঙ্গ করে তার নিধন করেন। ভীম 'বকাসুর' নামে এক দানবের সাথে লড়েছিল যার বর্ণনা দেওয়া হয় - বিশাল দেহ এবং বিশাল শক্তি যার লাল চোখ ছিল, লাল রঙের দাড়ি এবং লাল রঙের চুল ছিল এবং তাকে ভয়ানক দেখতে ছিল এবং তার পায়ের হাড়ে যেন মাটি নিচের দিকে গর্ত হয়ে ঢুকে যাচ্ছিল। পরিষ্কারভাবে এই মানুষখেকো হিংস্র নিশাচর মহাভারতের প্রাণীরদের দেহ লাল রোমে ঢাকা ছিল। ঠিক ইয়েতির এক প্রজাতির মত যারা মানুষদের আক্রমণ করে, মহাভারতে এটাও বলা হয় যে রাক্ষসরা ঘন জঙ্গলে বসবাস করে, বিশেষ করে হিমালয়ের দুর্গম প্রান্তর গুলিতে। প্রাচীন এই কাহিনী গুলোর মাধ্যমে ইয়েতির সাথে ভারতীয় মহাকাব্যের রাক্ষসদের কিছুটা মিল পাওয়া যায়। যেখানে কিছু কিছু রাক্ষস ছোট আকৃতির, মানুষখেকো, লাল লোমে ঘেরা যারা হয়তো 'meh -teh' এর মত ছিল সেখানে অন্যান্যরা মানুষখেকো ছিল না এবং হয়তো তারা বিশালাকৃতি ইয়েতিদের মত ছিল অর্থাৎ 'dzu-teh' এর মত যাদের কালো রোমে দেহ ঢাকা ছিল এবং 'ইয়াক' এর মত প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকত।


দুর্ভাগ্যবশত যেহেতু এখনকার দিনের বেশিরভাগ বৈজ্ঞানিক ও বিশেষজ্ঞরা প্রাচীন কিংবদন্তিগুলিকে কল্পকাহিনী হিসাবে উল্লেখ করে থাকেন, তাই আমরা এক্ষেত্রে ইয়েতির মত প্রাণীদের দেখতে পাওয়ার কাহিনী ও প্রাচীন কাহিনী গুলোতে একই রকম দেখতে প্রাণীর মধ্যে মিল পেয়েও এর ব্যাখ্যা দিতে পারি না।
ইয়েতি সংক্রান্ত ঘটনাগুলি সম্ভবত হিমালয়ের অঞ্চলে হাজার হাজার বছর ধরে বিদ্যমান যার ফলে এগুলি শেরপাদের লোকোকাহিনীর অংশ হয়ে গিয়েছে। কেবলমাত্র বিংশ শতকের শুরুর দিকে যখন মাউন্টেনিয়ার এক্সপিডিশনগুলি শুরু হয়েছিল তখন, এটি আরো বিশালাক্কারের পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে থাকলো। অবশ্যই বর্তমানকালে ইয়েতিরা হয়তো আরো নির্জনে ও গোপনে থাকার নির্ণয় নিয়েছে - যেখানে একসময় তাদের খুব সহজেই দেখা যেত কিন্তু কেন এমনটা হয়েছে তা অনুমান করা একটু কঠিন। তারা কি মানুষদের ভয় পায়? ঠিক যেমনটা আমরা তাদের পাই? তারা কি আমাদের কে অসৎ, নির্দয় শিকারি হিসেবে মনে করে - যারা তাদেরকে ধ্বংস করে ও তাদের শান্তির জীবনকে শেষ করে দেবে? আমরা এসব কিছুই বলতে পারি না যতক্ষণ না তাদের সাথে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ বলেন ইয়েতিদের নিজস্ব ভাষা আছে এবং শিস এবং গর্জনের মতো সুরে তারা নিজেদের মধ্যে ভাব আদান-প্রদান করে। অনেকে মনে করে তারা পার্বত্য উপত্যকা অঞ্চল গুলির রক্ষা কর্তা। এক্ষেত্রে মিল পাওয়া যায় 'মহাভারতের' যেখানে তাদেরকে বলা হয়েছে 'হিমালয়ের রক্ষক' হিসাবে। কিন্তু পাহাড়কে তারা কাদের থেকে রক্ষা করছে এবং তারা কোন সম্পদকে রক্ষা করছে? এর আগে আমরা হিমালয়ের যে রহস্য গুলি আলোচনা করেছি, তারা কি এই ধরনের কোন আধ্যাত্মিক জগতের বা রহস্যময় কোন গোপন অঞ্চলে যাওয়ার স্থানকে রক্ষা করছে? প্রাচীনকালে কাহিনীতে এই ধরনের স্থানকে আমাদের গ্রহের ভারসাম্য রক্ষাকারী অঞ্চল হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে হয়তো তারা এই স্থানে ভুল করে মানুষের চলে আসাকে রক্ষা করার জন্য অথবা কোনো অন্য শক্তির আগমন ঠেকাতে আছে ? কোনো কিছুই অসম্ভব নয় .....






Sunday, 22 August 2021

হিমালয়ের হারিয়ে যাওয়া রহস্যময় শহর

বহু প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ইতিহাস এবং সভ্যতায় বহু জাদুকরী ও রহস্যময় বিভিন্ন স্থানের গল্প প্রচলিত হয়ে এসেছে।  আমরা এমন একটি প্রাণী যারা হয়তো সত্যিই এই ধরনের শ্রুতি, যেমন হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা, গুপ্ত রহস্যময় শহর ইত্যাদিতে রোমাঞ্চ অনুভব করি যা বিভিন্ন কিংবদন্তি ও কাহিনীর সৃষ্টি করেছে; যেগুলি জাতি-স্থান-দেশ বিশেষে কোনরকম ব্যতিক্রম হয়নি। এরকমই একটি কাল্পনিক গুপ্ত শহরের কথা বহু যুগ ধরে হিমালয় পর্বতে ছড়িয়ে আছে যে স্থানটি জাদুকরী, রহস্যময় এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।



বহু প্রাচীন কাল থেকেই (ঠিক কতটা প্রাচীন কেউ বলতে পারে না) 'সাম্ভালা' নামক একটি রহস্যময় স্থান বা জগতের কথা শ্রুতি হয়ে ছড়িয়ে আছে। এই সাম্ভালা নামটি সংস্কৃত থেকে এসেছে যার অর্থ 'শান্তির স্থান' বা 'নিঃশব্দের স্থান' জাতীয় হতে পারে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন রকম নামকরণ করা হয়েছে এমনকি কোথাও 'নিষিদ্ধ নগরী', 'সাদা জলের দেশ', 'বিশুদ্ধ দেশ', 'প্রভাবশালী আত্মাদের দেশ', 'রহস্যের দেশ' এবং আরো অনেক রকমের অতিরঞ্জিত নামে তিব্বতে এবং আশেপাশের শ্রুতি কথা হাজার হাজার বছর ধরে প্রচলিত হয়ে আসছে। 

এই শহরটি হিমালয় পর্বতমালা ও গোবি মরুভূমি মধ্যে কোন এক স্থানে অবস্থিত বলে মনে করা হয়। এটি পৃথিবীতে এক ধরনের স্বর্গের মত যেখানে রহস্যময়তা এবং চিরস্থায়ী শান্তি, ভালবাসা এবং আনন্দ অবস্থান করে। এখানে কোন যুদ্ধ নেই, দারিদ্রতা নেই, রোগ নেই, খিদে নেই; এখানে অবিচ্ছিন্ন সম্প্রীতি রয়েছে এবং কোন দুঃখ-রাগ বা যন্ত্রণা নেই। এই স্থানটি প্রচুর পরিমাণে ঐশ্বর্যশালী এবং সুন্দর স্থান যেখানে সকলে সর্বদা তরুণ, স্বাস্থ্যবান থাকে। এখানে যে সকল প্রাণী থাকে তাদের নিজস্ব এক পবিত্র ভাষা আছে। এটি এমন একটি রাজত্ব যেখানে কখনো ঠান্ডা বা রাত্রি আসেনা, এখানকার বাসিন্দারা অনন্তকাল ধরে স্বর্গসুখের অধিকারী হয়ে আছে। প্রায়শই বলা হয় এই শহরটি ও 'valley of  blue moon"  শহরটি একই স্থান। বিভিন্ন প্রাচীন পুঁথিতে, ভবিষ্যত বাণীতে সাম্ভালা স্থানটির উল্লেখ পাওয়া গেছে।  প্রায়শই উল্লেখ করা হয়েছে, "এই স্থানটিতে একদিন অন্ধকার এবং আলোর একটি অন্তিম যুদ্ধ হবে যেখান থেকে আলো জয়ী হবে এবং একটি স্বর্ণযুগের সূচনা করবে ও পৃথিবীকে বিশেষ জ্ঞান প্রদান করবে।"



 হরেক রকমের প্রবাদে বলা হয়েছে যে একদিন পৃথিবী এক ভয়ঙ্কর বিপর্যয় পূর্ণ যুদ্ধ এবং হিংসায় ধ্বংস হবে এবং কেবলমাত্র সাম্ভালা এর থেকে রেহাই পাবে। এই বিনাশ কালে এই স্থানটি একমাত্র আশ্রয়স্থল থাকবে এবং এরপর এখান থেকে এক আলোকিত বা জ্ঞানদীপ্ত সম্রাটের উদয় হবে যে পৃথিবী কে আবার দৈব আলো প্রদর্শন করবে।

এডউইন বেরনবাম নামক একজন সাম্ভালা বিশেষজ্ঞ 1920 সালে লিখেছিলেন যুগ যুগ ধরে তিব্বত এবং মঙ্গোলিয়ার মানুষরা সাম্ভালায় বিশ্বাস করতেন; তারা মনে করতেন, সেখানে "এনলাইটেনড" বা "সর্ব জ্ঞানী" রাজা অবস্থান করছেন এবং  সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানকে রক্ষা করে চলেছেন এবং যখন বাইরের পৃথিবীর সমস্ত রকম আধ্যাত্বিক মূল্য ধ্বংস হয়ে যাবে বা হারিয়ে যাবে, তখন ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী এই রাজা তার পবিত্র স্থান থেকে বেরিয়ে আসবেন, অশুভ শক্তিকে বিনাশ করবেন এবং একটি স্বর্ণযুগের প্রতিষ্ঠা করবেন।



এই কথাগুলো শুনতে হয়তো খুবই ভালো লাগে কিন্তু বিষয়টি হলো সাম্ভালা নিয়ে একটি বিশেষ কিংবদন্তি শোনা যায় যেটি হল, এখানে যে কেউ যেতে পারবেনা। শ্রুতি অনুযায়ী এই ভূমি এবং এর শহর পার্থিব জগতের থেকে লুক্কায়িত হয়ে আছে এবং এখানে আমাদের মত সাধারন মানুষের পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব। বলা হয় এটি পৃথিবীতে অবস্থিত থাকলেও আমাদের শারীরিক বা ভৌত জগতের মধ্যে পুরোপুরি পড়ে না; এটি কিছুটা এই জগত এবং পরবর্তী জগতের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান করে, যেখানে কেবলমাত্র পবিত্র হৃদয়, ধ্যান, আধ্যাত্মিক অগ্রগতি, অত্যন্ত ভালো কর্মফল অথবা এনলাইটমেন্ট ইত্যাদি না প্রাপ্ত হলে কেউ খুঁজে পাবেনা। কেবলমাত্র শারীরিকভাবে সেই স্থানে যাত্রা করতে চাইলে এর ফলাফল ব্যর্থতা। শারীরিকের থেকে আধ্যাত্মিক শক্তি এই স্থানে প্রবেশ করতে মুখ্য ভূমিকা নেবে এবং কেবলমাত্র তখনই এই স্থানটিকে ভৌত জগতের মত আপনি দেখতে এবং অনুভব করতে পারবেন।  যদিও সাম্ভালা সম্পর্কে যে বিশ্বাস কেউ এখানে শারীরিকভাবে পৌঁছতে পারবে না তবুও মানুষ চেষ্টা না করে থেমে থাকেনি এই নিয়ে প্রচুর কাহিনী ছড়িয়ে আছে এরমধ্যে অনেক স্থানে মানুষ সফল হয়েছে বলেও শোনা গেছে।



এরকমই একটি কাহিনী পাওয়া গিয়েছে এনথ্রপলজিস্ট হেলেন ভালবর্গ এর লেখায় তার বইটির নাম ছিল "সিম্বলস অফ এটার্নাল ডকট্রিন ফর্ম সাম্ভালা টু প্যারাডাইস" যেখানে একটি চ্যাপ্টারে তিনি এক শিকারির বিবরণ দিয়েছেন যে এই স্থানটিকে খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছিল।

একটি গোপন পার্বত্য অঞ্চলের বরফে মোড়া স্থান থেকে এই একাকী শিকারী এক রহস্যময় মন্ত্র ধ্বনি ও ড্রামের আওয়াজ শুনতে পায়। তিব্বতের বাসিন্দাদের থেকে এই কাহিনীটি পাওয়া গেছে, যেখানে তারা বলেন খুব সহজেই এই সুরেলা ধ্বনিকে অনুসরণ করে সেই শিকারি সেই মহান স্থানের দরজায় পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং এটা অতিক্রম করে সে নিজেকে একটি খুবই সুন্দর উপত্যকায় খুঁজে পেল যা শস্য-শ্যামলা ধানের ক্ষেতে আবৃত এবং সেখানে গ্রামবাসী এবং সুন্দর মনেস্ট্রি ছিল। এইখানকার বাসিন্দারা খুবই শান্তিপ্রিয় এবং খুশি ছিল এবং তারা সেই শিকারীকে সাদরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং তাকে থাকতে বলেছিল। তিনি খুবই খুশি হয়েছিলেন তাদেরকে দেখতে পেয়ে কিন্তু খুব দ্রুতই তিনি নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য চিন্তিত হয়ে পড়লেন এবং তিনি চেয়েছিলেন তাদেরকেও সেই সুন্দর উপত্যকায় নিয়ে আসার জন্য কিন্তু এখানকার বাসিন্দারা তাকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে তিনি এখানে ফিরে আসার রাস্তা আর খুঁজে পাবেনা কিন্তু সেও দৃঢ় হয়েছিল, বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য। এরপর যখন সে সেই দরজাটি অতিক্রম করে, সেইসময়  তার পাশে নিজের বন্দুক এবং জুতো ঝুলিয়ে রেখেছিল সেই দরজাটি চিহ্নিত করে রাখার জন্য। খুব নিশ্চিন্তভাবে সে তার স্ত্রী এবং সন্তানদের কাছে ফিরে গিয়েছিল কিন্তু যখন সে সেই স্থানটিতে ফিরে এসেছিল, সে তার বন্দুক এবং জুতোজোড়াকে একটি পাহাড়ের দেওয়ালের  ফাটলে ঝুলতে দেখেছিল।

পাশ্চাত্য দেশের মানুষেরাও এই স্থানটি পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। 1833 সালে হাঙ্গেরীয়ান পন্ডিত স্যান্দর করসল দাবি করেছিলেন, তিনি ৪৫ ডিগ্রী এবং ৫০ ডিগ্রী নর্থ ল্যাটিচিউড এর মাঝামাঝি স্থানে একটি অসাধারণ দেশ খুঁজে পেয়েছিলেন, যাকে 'হারিয়ে যাওয়া শহর' বলা হয়। 

বিখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক এবং 'থিওসফিক্যাল সোসাইটি'র সহ স্থাপক হেলেনা ব্লভাটসকি দাবি করেছিলেন, তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন স্থানীয় রহস্যময় বিশ্বাসগুলি নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং সেখান থেকে বিস্ময়কর জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছেন। 

 1920 সালে নিকোলাস রোরিখ নামক এক অভিযাত্রী তিব্বত এবং হিমালয়ে পাঁচ বছর ধরে এক্সকার্শন করেছিলেন- আপাতদৃষ্টিতে কেবলমাত্র স্থান গুলিকে জরিখ করার জন্য কিন্তু গুজবে শোনা যায় এটি আসলে সাম্ভালাকে খুঁজে বের করার জন্য করা হয়েছিল। তার ভ্রমণকালে নিকোলাস খুব প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রবেশ করেছিলেন যা সেই সময় অন্য কোনো পাশ্চাত্য দেশের মানুষ পৌঁছাতে পারেনি। যে স্থানটি অন্যান্য সভ্যতা থেকে অনেক দূরে আলাদা ছিল, এই ঠান্ডা দুর্গম প্রান্তে তিনি প্রাচীন বইয়ের এক সংগ্রহ অথবা পুথি খুঁজে পেয়েছিলেন যা এক দুর্গম অঞ্চলের মনস্ট্রিতে ছিল। পুঁথিগুলো মনে করা হয় সেই রহস্যময় শহরের পৌঁছনোর পথ দেখাতে পারত এবং তিনি এর প্রতিটি গুজব এবং নির্দেশনাকে অনুসরণ করেছিলেন। তারা বিশ্বাস করতেন যে, আলতাই পর্বতমালার মধ্যে বেলু খা পরবর্তী হল সাম্ভালার প্রবেশদ্বার কিন্তু এটা জানা যায়নি তিনি আসলে সেটা খুঁজে পেয়েছিলেন নাকি।



সাম্ভালাকে নিয়ে আরো একটি বিখ্যাত এক্সপিডিশন হয়েছিল 1920 সালে 'বলশেভিক ক্রিপ্টোগ্রাফি' এবং 'সোভিয়েত সিক্রেট পুলিশের' অন্যতম প্রধান গ্লেব বকি ও তার লেখক বন্ধু আলেকজান্ডার বার্চেনকোর প্রচেষ্টায়। তারা কমিউনিজমের আরো দৃঢ় ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করার উদ্দেশ্যে সেই শহরটির খুঁজে বার করার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তারা আশা করেছিলেন যে এই হারিয়ে যাওয়া শহরের রহস্যময় জাদুকরী বিদ্যা তাদেরকে পারফেক্ট কমিউনিস্ট হওয়ার রহস্য সমাধান করতে সাহায্য করবে। কিন্তু এক্সপিডিশনটি নিষ্ফল হয় এবং এর পরবর্তীকালে আরেকটি ফলোআপ প্ল্যান তৈরি করা হলেও সেটিকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, বরঞ্চ এটি সোভিয়েতের দ্বারা 1924 সালে একটি ব্যর্থ মিশন হিসাবে আখ্যায়িত হয়ে গিয়েছিল। 

সম্ভালা কে নিয়ে আরো অনেক এক্সপিডিশন হয়েছিল। যেমন, পরবর্তীকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল কিন্তু যতদূর শোনা যায় এগুলি ফলপ্রসূ হয়নি এবং আসলে কি সাম্ভালার অস্তিত্ব আছে কিনা তা পরিস্কার না হলেও বহু লোক এখনো প্রচেষ্টায় লেগে আছে,  সেই আধ্যাত্মিক যাত্রা সফল না হলেও বহু মানুষ দাবি করেছেন তারা সেখানে পৌছতে পেরেছিলেন কিন্তু কেউ এর পক্ষে কোন প্রমাণ প্রদর্শন করতে পারেননি। মানচিত্রে এর অবস্থান এর স্বপক্ষে একচিলতে স্থান দেখানো সম্ভব হয়নি। এমনকি এই স্থানটি যেটি নিয়ে বহু যুগ ধরে প্রবাদ চলে আসছে এমনকি প্রাচীন বিভিন্ন পুথিগুলির থেকেও এর সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে এই হারিয়ে যাওয়া দেশ বা শহর সাম্ভালা কেবলমাত্র হেঁয়ালিপূর্ণ এবং অনতিক্রম্য রয়ে গিয়েছে হয়তো ভবিষ্যতেও থেকে যাবে।.......

Sunday, 25 July 2021

রহস্যময় কালভ্রমণকারী ও একটি দুর্ঘটনা যা পৃথিবীকে টাইম ট্রাভেলের প্রমান দিলো --

সময় এমন একটি বিষয় যা পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কে ঘিরে রেখেছে এটিকে শুনতে যতটা সহজ মনে হয় একে বোঝা তার থেকে বহু কঠিন বিষয়। মনে করা হয়, সময় এমন একটি বিষয় যা ক্রমশ এগিয়ে চলেছে - একে বদলানো বা পুনর্গঠন করা সম্ভব নয় কিন্তু মাঝে মাঝেই এমন কিছু ঘটনায় এমন কিছু ব্যক্তির আগমন ঘটে যা টাইম ট্রাভেল বা সময়ের মধ্যেকার যাত্রা সম্পর্কে রহস্যের সৃষ্টি করে। সাধারণত বিভিন্ন মানুষ যারা টাইম ট্রাভেল করেছেন বলে দাবি করেন তাদের কাছে তার স্বপক্ষে সেরকম কোনো প্রমাণ না থাকার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ এগুলিকে বিশ্বাস করেনি। আজ আপনাদের সামনে এমন একটি ঘটনার উল্লেখ করব যাতে এই টাইম ট্রাভেল সম্পর্কিত যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।



 1951 সালের জুন মাসের রাত প্রায় 11.3০ নাগাদ নিউইয়র্ক টাইমস স্কোয়ারে রাস্তার মাঝে হঠাৎ করে এক ব্যক্তির আগমন ঘটে। ব্যক্তিটি হঠাৎ করে রাস্তার মাঝখানে কি করে এলো তা কেউ বলতে পারে না, কেউই তাকে রাস্তা পার করতে দেখেনি। 

এই ব্যক্তিটি অনেক আগেকার পুরনো দিনের পোশাক পরিহিত ছিল।  ব্যক্তিটির হাবভাব দেখে পরিষ্কার মনে হচ্ছিল যে সেও সেই স্থানে নিজেকে পেয়ে খুবই হতবাক হয়ে গিয়েছে। সে টাইমস স্কোয়ারে চারদিকে ঝাঁ-চকচকে উচু উচু বিল্ডিং গুলি এবং মোটরগাড়ি গুলিকে খুব বিস্ময়ের সাথে দেখছিল এবং আশেপাশের মানুষেরাও এই ব্যক্তিটিকে ঠিক ততটাই বিস্ময় সহকারে দেখছিল। যখনই এই ব্যক্তিটি রাস্তার ধারে যাওয়ার চেষ্টা করল সামনে আসা একটি গাড়িতে ধাক্কা খেয়ে গুরুতরভাবে জখম হয়ে গিয়েছিল এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। 



তল্লাশি করার সময় তার কাছ থেকে বেশকিছু অদ্ভুত রকমের এবং অবাক করা জিনিসপত্র পাওয়া গিয়েছিল। যেমন একটি ফাইভ সেন্ট বিয়ারের টোকেন, একটি ঘোড়ার গাড়ি পরিষ্কার করার বিল যাতে ঠিকানা দেওয়া ছিল লাইভেরী আস্তাবল, লেক্সিংটন এ্যাভেনিউ।  1951 সালের কোন এড্রেস বুকে এই ঠিকানাটি খুঁজে পাওয়া যায়নি এছাড়া প্রায় 70 ডলারের কাছাকাছি পুরনো নোট এবং কয়েন তার কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছিল এছাড়া একটি বিজনেস কার্ড তার থেকে পাওয়া গিয়েছিল, যাতে নাম লেখা ছিল 'রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ' এবং তাতে অ্যাড্রেস ছিল - "ফিফথ এভিনিউ, নিউইয়র্ক" . তার সাথে একটি চিঠি পাওয়া গেল যেটি ফিফথ এভিনিউ নিউইয়র্ক থেকে ফিলাডেলফিয়া পাঠানোর কথা ছিল এবং সেই লেটারে 1876 সালের স্ট্যাম্প মারা ছিল। 



এই ব্যক্তির থেকে পাওয়া সব জিনিস গুলির থেকে একটি বিষয় লক্ষ্য করা গেছে সেগুলি পুরনো সময়ের হলেও একদম নতুনের মত অক্ষত ছিল। এই ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ক্যাপ্টেন হুবার্ডকে ক্যাপ্টেন হুবার্ড যখন ফিফথ এভিনিউতে তদন্তের জন্য পৌঁছান তিনি এই ঠিকানায় একটি অফিস পান।  যেখানকার লোক এই রুডল্ফ নামের কোন ব্যক্তিকে চিনতেন না। ক্যাপ্টেন হুবার্ড সেই সময়কার সমস্ত টেলিফোন ডাইরেক্টরি এবং অ্যাড্রেস বুক খুঁজে ফেলেন কিন্তু তিনি এই নামের কোন ব্যক্তির সন্ধান পাননি। এই ঘটনার বেশ কয়েকদিন চলে যাওয়ার পর কোন পুলিশ স্টেশনে রুডল্ফ নামের কোন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট দাখিল করা হয়নি তাই কোন রকম সূত্র না পাওয়া গেলেও ক্যাপ্টেন হুবার্ড তার তদন্ত জারি রাখেন এবং একদিন 1939 সালের একটি এড্রেস বুকে "রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ জুনিয়ার" নামে এক ব্যক্তির ঠিকানা খুঁজে পান ওই ঠিকানায় পৌঁছে জানতে পারেন, এখন ঐ ঠিকানায় অন্য একজন থাকে যারা রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ জুনিয়ারের থেকে এই জমিটি কিনেছিল। 



এরপর বিভিন্ন রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ জুনিয়ারের ব্যাংক একাউন্টের তথ্য তিনি খুঁজে পেতে সক্ষম হন। ব্যাংক থেকে জানা যায় রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ জুনিয়ারের ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ করা হয়ে গিয়েছে কারণ পাঁচ বছর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল কিন্তু ওনার স্ত্রী তখনও বেঁচে ছিল এবং ফ্লোরিডায় কোথাও বসবাস করছিল।

 ক্যাপ্টেন হুবার্ড ফ্লোরিডার ওই ঠিকানায় গিয়ে রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ জুনিয়ারএর সম্পর্কে খোঁজ করেন। সেখানে তার স্ত্রী যা জানিয়েছিলেন তা শুনে ক্যাপ্টেন হুবার্ড হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন তিনি জানতে পারেন রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ আসলে রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ জুনিয়ারের পিতা ছিলেন যিনি 29 বছর বয়সে 1876 সালে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। তিনি তাঁর বাড়ি থেকে এক সন্ধ্যেবেলা ঘুরতে বেরিয়ে ছিলেন এবং তারপরে আর কোনদিনও ফিরে আসেননি এগুলি শুনে ক্যাপ্টেন হোবার্ট ও তার কর্মীরা হয়রান হয়ে যান কেউ কিছু বুঝতে পারছিল না যে এটা কি করে সম্ভব।


 

কৌতুহলী হুবার্ড 1876 সালের সমস্ত মিসিং ডায়েরি গুলি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন এবং একদিন তার হাতে আসে রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ নামে এক ব্যক্তির 1876 সালের একটি মিসিং রিপোর্ট।  নিরুদ্দেশ সংক্রান্ত তথ্যতে নিরুদ্দেশ ব্যক্তির যে বিবরণ দেয়া হয়েছিল 1951 সালে পাওয়া রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ এর সাথে হুবহু মিল খায়। ক্যাপ্টেন হুবার্ড এর সংগ্রহ করা এই প্রমাণগুলি থেকে এটা প্রমাণ হয়ে যায় যে মিসিং রিপোর্টের রুডল্ফ এবং 1951 সালে পথদুর্ঘটনায় মৃত রুডল্ফ একি ব্যক্তি কিন্তু প্রশ্ন হল 1876 সালে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি 1951 সালে কি করে পৌঁছে ছিল এই প্রশ্নের জবাব আজ অব্দি কেউ দিতে পারেনি। কেবলমাত্র কিছু থিওরি পাওয়া যায় যা বলে - এটা একটি টাইম ট্রাভেল সম্পর্কিত ঘটনা যাতে রুডল্ফ হঠাৎ করে টাইম ট্রাভেল করে ফেলেছিলেন।.....

Saturday, 8 May 2021

প্রাচীন মহাকাশযান রহস্য, সক্রেটিস কি মহাকাশে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন?

প্রাচীন গ্রীস বহু আগে বিজ্ঞান এবং গণিতের বিশেষ অগ্রগতির জন্য খ্যাতি লাভ করেছিল যা পরবর্তীকালে পাশ্চাত্যের সভ্যতাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। স্যামোসের আরিস্টারকাস কোপার্নিকাসের অনেক আগেই হেলিওসেন্ট্রিক কসমোলজি বা সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের প্রস্তাবনা দিয়েছিল এবং এছাড়াও রাইট ব্রাদার্সদের 1903 সালে উড়োজাহাজ আবিষ্কারের বহু আগেই বাষ্প চালিত উরন্ত যন্ত্র আবিষ্কারক হিসাবে তার সম্মান আছে।

এটা খুব অবাক করা বিষয় নয় যে বহু লোক দাবি করে, প্রাচীন গ্রিক এবং অন্যান্য সমকালীন অত্যাধুনিক সভ্যতা গুলি যেমন প্রাচীন চীন এবং ভারত - যারা হয়তো এখনকার মানুষের ধারণার বাইরেও উন্নত ছিল এমনকি প্রাচীন মহাকাশযান তারা বানাতে সক্ষম হয়েছিলেন।



সক্রেটিস পৃথিবীকে উপর থেকে দেখতে যে রঙিন বলের মতো মনে হয়, তার যা বর্ণনা দিয়েছেন সেটা অনেকটা কক্ষপথ থেকে বর্তমানের পৃথিবীতে দেখতে যে রকম লাগে তার সাথে মিল পাওয়া যায়।

অরবিটের এই কক্ষপথ মহাকাশচারী এবং মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের কাছে একটি বিখ্যাত প্যাসেজ যেখান থেকে ভূমির উপরে থেকে একটি পজেটিভ ভিউ পাওয়া যায়।



অন্যান্যরা যদিও মনে করেন আরো একটি লেয়ার আছে, কিন্তু কিছু গবেষকরা মনে করেন যে, এটি আসলে একটি প্রমাণ যে আসলে সক্রেটিস পৃথিবীপৃষ্ঠকে অরবিট থেকে দেখেছিলেন অথবা তার কাছে হয়তো অন্য কোন উন্নত সভ্যতার রেকর্ড ছিল যাদের কাছে প্রাচীন মহাকাশযান ছিল এবং ফলস্বরূপ তারা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দৃশ্যের নিখুঁত বর্ণনা দিতে সক্ষম হয়েছিল।

এমনকি এটাও হতে পারে হয়তো প্রাচীন গ্রিকদের কাছে আরও উন্নত প্রযুক্তি ছিল যা বর্তমান আর্কিওলজিস্ট ও ঐতিহাসিকদের ধারণার বাইরে।



প্রাচীন গ্রীকের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি --

যদিও গ্রিসের থেকে বিজ্ঞানের সূত্রপাত হয়নি তবে আধুনিক বিজ্ঞান যেভাবে পরিচালিত হয়ে চলেছে তার শিকড় প্রাচীন গ্রিসের চিন্তাধারা থেকে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, প্রাচীন মিশরীয় এবং মেসোপটেমিয়া সভ্যতা, তাদের উন্নত জ্যোতির্বিদ্যা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য পরিচিত।

প্রাচীন মিশরীয় এবং মেসোপটেমিয়ান পুরোহিতরা কেবলমাত্র জ্যোতির্বিদ্যায় আগ্রহী ছিলেন যেটি তাদের ক্যালেন্ডার পঞ্জিকা তৈরি করতে এবং জ্যোতির্বিদ্যার মাধ্যমে ঈশ্বরের ইচ্ছাকে জানতে সাহায্য করত। তেমনি  চিকিৎসকরা কেবলমাত্র এ্যানাটমী এবং ফিজিওলজিতে আগ্রহী ছিলেন যা তাদের চিকিৎসায় সাহায্য করত।

প্রাচীন সভ্যতা গুলির মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে আরেকটি পার্থক্য বলা যায়, প্রাকৃতিক ঘটনাগুলিকে ব্যাখ্যা করতে ঈশ্বরের কথা তুলে ধরা হতো; যদিও এতে কিছু ব্যতিক্রম ছিল কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সভ্যতা গুলি বিজ্ঞানকে দৈনন্দিন কার্যকলাপে ব্যবহার করত, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে বোঝার জন্য নয়। বিশ্বের গঠনগত ও অন্যান্য কার্যকলাপ বিষয়টি তখন পুরান শাস্ত্রের  অন্তর্গত রাখা হতো এই ভাবেই প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকরা চিন্তা ভাবনা করতেন। পরবর্তীকালে যেগুলি দর্শনবিদ্যায় প্রবেশ করে। 



প্রথম থেলস (৬২৪-৫৪৬ খ্রি পু:) এর সময় থেকে সক্রেটিস পূর্ব গ্রিক দার্শনিকরা বিজ্ঞানকে অন্যান্য কারনে ব্যবহার করা শুরু করলো। তাদের বৈজ্ঞানিক প্রয়োগ গুলো কেবলমাত্র ব্যবহারিক কারণ যেমন ক্যালেন্ডার তৈরি জন্য নয় বরং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে বোঝানোর কাজে লাগাতে শুরু করলেন। এছাড়াও বজ্রপাত, ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ হিসেবে ঈশ্বরকে জড়িত না করে এই দার্শনিকরা তাদের প্রকৃতির উপর অভিজ্ঞতা থেকে জড়বাদী ব্যাখ্যা খোজার চেষ্টা করলেন। যেমন - থেলস ব্যাখ্যা দিলেন, ভূমিকম্পের কারণ হলো - যার উপর স্থলভাগ ভেসে আছে সেই সমুদ্রের ঢেউ পৃথিবীর ডিস্ক গুলিতে ধাক্কা মারে ফলে ভূমিকম্প ঘটে থাকতে পারে।

 সক্রেটিস পূর্ব দার্শনিকদের বেশিরভাগ ধারণা এবং ব্যাখ্যা গুলি আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে সম্পূর্ণ ভুল ছিল কিন্তু যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার কারণ হলো তারাই প্রথম এই ভৌত জগৎকে অতিপ্রাকৃত বা দৈবিক ছেড়ে প্রাকৃতিক বা পদার্থবিদ্যাগত দিক দিয়ে ব্যাখ্যা করার বা বোঝার চেষ্টা করেছিলেন।



এই প্রচেষ্টা গুলি পরবর্তীকালে বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং-এ কিছু ফলপ্রসূ উন্নয়ন এনেছিল।

 পরবর্তী কালের গ্রিক এবং হেলেনিস্টিক বৈজ্ঞানিকরা প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কে এই ধরনের চিন্তাভাবনা করেই বাষ্প চালিত যন্ত্র, এনালগ রোবট আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং যুক্তি দিয়েছিলেন যে মানুষের বুদ্ধি মস্তিষ্ক থেকে আসে হৃদয় থেকে নয় - যেরকম প্রাচীন সভ্যতার মানুষেরা বিশ্বাস করত এবং এটাও বলেছিলেন যে পৃথিবী গোলাকার, চ্যাপ্টা নয় যেমনটা প্রাচীন জ্যোতির্বিদ এবং কিছু সক্রেটিস পূর্ব দার্শনিক যেমন থেলস এবং অনাক্সাগোরাস বলেছিল।

প্রথম যে গ্রিক দার্শনিক গোল আকৃতি পৃথিবীর স্বপক্ষে যুক্তি রেখেছিলেন তিনি হলেন পর্মানিডস (খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দি)।

 পিথাগরিয়ান স্কুল অফ ফিলোসফির প্রতিষ্ঠাতা পিথাগোরাসও  (570 থেকে 490 খ্রিস্টপূর্বাব্দ) গোলাকার পৃথিবীর সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন। সবচেয়ে বিখ্যাত পিথাগোরিয়ানদের মধ্যে একজন হলেন ফিলোলাস যিনি গোলাকার পৃথিবীতে বিশ্বাস করতেন। এছাড়া তিনি বলেছিলেন, পৃথিবী চলমান এবং এটি বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে মোটেই অবস্থিত নয়। ফিলোলাস সক্রেটিসের সমকালীন তাই সম্ভবত সক্রেটিসও তার চিন্তাধারার সাথে পরিচিত ছিল সক্রেটিসের বর্ণনা অনুযায়ী, পৃথিবী একটি রঙিন বলের মতো এবং ফিলোলাসের বর্ণনা অনুযায়ী এটি চলমান। 

 এছাড়া প্লাটো যিনি সক্রেটিসের সবচেয়ে বিখ্যাত ছাত্র ছিলেন তিনি বিশ্বাস করতেন, পৃথিবী গোলাকার ও ফিলোলাসের মহাকাশ সম্পর্কিত চিন্তাধারাগুলো কে বিশ্বাস করতেন। সক্রেটিস নিজে মহাকাশবিদ্যা সম্পর্কে প্রথমে তেমন কোনো চিন্তা ভাবনা করেননি এমনকি হয়তো সময়ও দিতেন না যদি প্লাটো এই বিষয়ে তার সাথে অসম্মতি না জানাতো।


সক্রেটিস এর সময়কালীন গোলাকৃতি পৃথিবী সম্পর্কিত ধারণা অনেকেই মেনে নিয়েছিলেন, শুধু তাই না বেশিরভাগ বিদ্বান মেধাবী গ্রীকরা দর্শন শাস্ত্রের চর্চায় আগ্রহ প্রকাশ ও যোগদান করতে শুরু করেছিল। তার মানে এই দাঁড়ায় যে তিনি এমন কিছু উল্টোপাল্টা বলেননি, যেটা প্রাচীন গ্রীকদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। এটা হয়তো প্রমাণ হতে পারে যে পৃথিবী পৃষ্ঠকে অরবিট থেকে দেখতে কেমন হয় তা সম্পর্কে গ্রিকদের প্রাথমিক ধারণা ছিল। কিন্তু তার মানে এই হয় না যে এই ধারণাটি কক্ষপথে পৌঁছাতে পারলেই হবে, এছাড়া আরেকটি সমস্যা হল প্রাচীন মানুষদের অরবিট থেকে পৃথিবীকে দেখার স্বপক্ষে কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই এবং অবশ্যই মহাকাশযান তৈরি করা সংক্রান্ত তো বটেই।

এছাড়া যদি কেউ উঁচু পর্বতের শীর্ষে যেতে পারে তবে পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে তার ধারণা হওয়া খুব একটি অসম্ভব কিছু নয়। আবার এটাও সম্ভব হতে পারে এই বিষয়গুলি কোন প্রাচীন মহাকাশযানের অস্তিত্ব থাকার প্রমাণ। অথবা কোনো উন্নত সভ্যতা যারা তাদের এই জ্ঞান দিয়েছিলো। আপনার কি মনে হয় ?



Sunday, 11 April 2021

রহস্যময় গোপন দস্তাবেজ যখন সরকারের সংগ্রহ থেকে হারিয়ে যায় ---

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে কিভাবে কিছু কিছু বিশেষ ধরনের সরকারি ফাইল বা দস্তাবেজ হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং তা কখনো আর খুঁজে পাওয়া যায় না।  এই ধরনের ঘটনা অনেকবার ঘটেছে, এর একটি নিখুঁত উদাহরণ হল রসঅয়েলের ঘটনা সংক্রান্ত যা 1947 সালের জুলাই মাসে ঘটেছিল। এমনকি ইউ এস এয়ার ফোর্স এখনো স্বীকার করে যে রসওয়েল আর্মি এয়ার ফিল্ডের থেকে বেরোনো ফাইলগুলি যেগুলো সংগ্রহ করে রাখা দরকার ছিল সেগুলো আর কখনো পাওয়া যায়নি। 



ঠিক এরকমটাই ঘটেছিল 1980 সালের 'রেন্দেলসম ফরেস্ট ইউএফও ল্যান্ডিং' সংক্রান্ত ফাইলের ক্ষেত্রে; এই ঘটনা সংক্রান্ত বহু ফাইলের অস্তিত্বের উল্লেখ থাকলেও সেগুলো কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।  এরকমই বিভিন্ন বিতর্কিত হারিয়ে যাওয়া ফাইলের ঘটনার একটি ঘটেছিলো  1970 সালে। এর সাথে আমেরিকান সরকারের ক্ষমতাশালী কিছু ব্যক্তিত্ব জড়িয়ে পড়ে এবং যেই ফাইলটি একসময় সকলের চোখের সামনে ছিল সেটি খুব দ্রুত অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনাটি যে এডগার হুভার কে কেন্দ্র করে সে বেশ কয়েক দশক ধরে এফ বি আই এর হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। 1972 সাল পর্যন্ত সে পালিয়ে বেরিয়েছিল এবং এরপর তার মৃত্যু ঘটে এবং এফবিআই ও পাল্টে যায়। 



77 বছর বয়সের হুবারের মৃত্যুর ঘটনা যখন পাওয়া যায়, তার কাছের বন্ধু এবং অ্যাসোসিয়েট ডাইরেক্টর টলসন এবং সেক্রেটারি গ্যন্ডী খুব দ্রুত উবারের গোপন ফাইল গুলি নিয়ে নেয়। হ্যাঁ, এগুলি কোন সাধারন ফাইল না যা হুবার এবং তার স্পেশাল এজেন্টরা সংগ্রহ করে রেখেছিল, এগুলি কোন সাধারন সংগ্রহের অংশ নয়-- এগুলি এফ বি আই এর হেডকোয়ার্টারে এমন গোপনীয়তার সাথে রাখা ছিল যা বেশিরভাগ কর্মকর্তাদের হাতের বাইরে ছিল। হুভারের প্ল্যান ছিল তার মৃত্যু ঘটলে, এই স্পর্শ কাতর ফাইলগুলি হয় ধ্বংস করে দেওয়া হবে অথবা এফবিআইয়ের কোন বিশ্বস্ত কর্মকর্তার হাতে দেওয়া হবে।  

অবাক করা বিষয় হলো এই নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিতদের মধ্যে একজন ছিলেন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এম নিক্সন। এফ বি আই এর তখনকার ডাইরেক্টর লুইস প্যাট্রিক গ্রে খুব দ্রুত এই গোপন ফাইল গুলি কব্জা করে এবং সেগুলিকে হোয়াইট হাউসে তার বসের কাছে পাঠিয়ে দিতে উদ্যত হন। কিন্তু গ্যন্ডী এবং টলসন খুব দক্ষতার সহকারে এই দস্তাবেজ গুলো গ্রে এর হাত থেকে দূরে রাখেন এবং বলতে গেলে সকলের থেকেই সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেন কিন্তু সেটা পুরোপুরি সফল হয়নি। 



টলসন এবং গ্যন্ডী গোপনে দস্তাবেজগুলি হুভারের ঘর থেকে নিয়ে এসে ভূগর্ভস্থ একস্থানে লুকিয়ে রাখে। ঠিক সেই সময় একটি প্রসেস শুরু করা হয় যার উদ্দেশ্য হলো গোপনীয়তায় ভরা ক্ষতিকারক অথবা গুরুত্বপূর্ণ এই দস্তাবেজ গুলির সবকটিকে ধ্বংস করে দেওয়া যদিও বহু জিনিসপত্র অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। অবাক করা বিষয় হল, এই দস্তাবেজ ধ্বংস করার জন্য জেমস জেসাস অংলেন্টন সহায়ক হিসেবে এসেছিলেন, যিনি বছরের পর বছর জুড়ে সি আই এ তে 'চিফ অফ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স' পদাধিকারী ছিলেন তিনি হুবারের বাড়িতে এসেছিলেন; সম্ভবত তার ভয় ছিল এই দস্তাবেজ গুলির মধ্যে তার বিরুদ্ধে কোন তথ্য থাকতে পারে। কানাঘুষো তে শোনা যায়, হুবারের ফাইলগুলি নষ্ট করার প্রক্রিয়া চলাকালীন একসময় অংলেনটন বেশকিছু বিশালাকৃতির ফাইলের বাক্স নিয়ে কোন এক অজ্ঞাত স্থানে উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তিনি এই ফাইলগুলি কোথাও সুরক্ষিত করে রেখেছেন অথবা নষ্ট করে দিয়েছেন তা হয়তো আমরা কোনদিনও জানতে পারবো না। 



এর মধ্যে একটি কানাঘুষো শোনা যায় যে অংলেনটন মার্লিন মনরোর গোপনীয় ফাইলের হদিশ পেয়েছিলেন। অবশ্যই মার্লিন সংক্রান্ত ফাইলগুলি এফবিআই প্রকাশ করে একটি অসাধারণ কাজ করেছিল, কিন্তু এফবিআইয়ের ওয়েবসাইটে এই হলিউড কিংবদন্তি সম্পর্কে যে ফাইল গুলি পাওয়া যায় তা হুবারের সংগ্রহের মধ্যে থেকে খুবই সাধারণ কতগুলি; কিন্তু গোপন মারলিনের ফাইলগুলি 1972 সালে হুবারের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে এবং এটি আরেকটি রহস্য যা অমীমাংসিত হয়ে রয়েছে।



প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বহু সময় ধরে হুবারের এই গোপনীয় ফাইল গুলি সম্পর্কে ভীতসন্ত্রস্ত ছিলেন। কারণ, গ্যন্ডী এবং টলসন আদতে ফাইলগুলি ধ্বংস করেছে অথবা কোথাও লুকিয়ে রেখেছে তা সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত সন্দিহান ছিলেন এবং এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপদজনক ও স্পর্শ কাতর কিছু তথ্য থাকতে পারতো, যাই হোক না কেন এই ফাইল গুলিতে যা কিছুই থাকুক না কেন সেগুলি কি ধ্বংস করা হয়েছিল, নাকি এখনো সেগুলো কোনো গোপন জায়গায় পুঁতে রাখা হয়েছে, হয়তো কোন একদিন প্রকাশ্যে আসবে সেদিন কি আমেরিকা সম্পর্কে আমাদের অবাক করা কিছু ধারনার সৃষ্টি হবে? দেখা যাক....


Saturday, 3 April 2021

মানুষ কি ভবিষ্যতে কোন বিষাক্ত প্রাণী তে বিবর্ধিত হবে?

একটি নতুন গবেষণায় তথ্য পাওয়া গেছে যে, মানুষ বিবর্তনের মাধ্যমে একটি বিষাক্ত প্রজাতিতে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। যদিও এর সম্ভাবনা খুবই কম; এই গবেষণা দেখা গেছে স্তন্যপায়ী এবং সরীসৃপদের সালিভারি গ্ল্যান্ডে বিষ তৈরি করার উপাদান আছে এবং এই ভাবেই একশটির ওপরে বিষহিন প্রজাতি বিষাক্ত প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। 




মজার ব্যাপার হলো স্তন্যপায়ীরা তাদের বিষ অন্য ভাবে ব্যবহার করে।
যেমন রক্তচোষা বাঁদরেরা তাদের বিষাক্ত লালা ব্যবহার করে ক্ষতস্থানের রক্ত তঞ্চন বা ব্লাড ক্লট হওয়া রোধ করে সেখান থেকে ক্রমাগত রক্ত পান করার জন্য।
বিষাক্ত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীরা তাদের বিষ তাদের থেকে বিশাল আকৃতির প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচতে এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের শিকারকে অসার বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত করতে ব্যবহার করে, যাতে শিকারকে তারা পরে ফিরে এসে খেতে পারে। 

আবার প্লাটিপাস জাতীয় প্রাণীদের স্যালাইভা বা লালারসে বিষ থাকে না, তাদের পায়ের পেছনদিকে বিষাক্ত স্পার থেকে নির্গত হয় যা আত্মরক্ষার কাজে আসে। 



প্রাইমেট অর্থাৎ বানর ও মানুষ জাতীয় উন্নত প্রজাতির মধ্যে একমাত্র 'স্লো লরিস' হল একটি বিষাক্ত প্রজাতি যাদের বিষ এতটা শক্তিশালী যা মাংসে পচন ঘটাতে পারে কিন্তু তারা অন্য কোন প্রাণীর উপর এগুলি প্রয়োগ করে না। কেবলমাত্র নিজেদের উপরই প্রয়োগ করে। 
তাহলে মানুষ কি এই স্লো লোরিস এর মত বিষাক্ত হবে নাকি তার থেকেও বেশি অর্থাৎ সাপ বা মাকড়সার মতো?

জাপানের 'ওকিনাওয়া ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির' এভলিউশনারি জেনেটিক্স এর ডক্টরাল স্টুডেন্ট এবং এই গবেষণার সহ-সম্পাদক অগ্নিশ বড়ুয়ার মতে, মূলত আমাদের শরীরে এর জন্য প্রয়োজনীয় সবরকম উপাদানই উপস্থিত আছে। এখন এটা কেবল বিবর্তনের উপর নির্ভর করে, যে সে আমাদের কখন ও কোথায় নিয়ে যাবে।




এই গবেষণার অপর সহ-সম্পাদক 'অস্ট্রেলিয়ান ইউনিভার্সিটির' এভলিউশনারি বায়োলজিস্ট আলেকজান্ডার মিখায়েভ এবং বড়ুয়া দুজনে মিলে কেবলমাত্র বিষ নয় বরং এই সম্পর্কিত জিন গুলি নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন। তারা এক ধরনের 'ব্রাউন পিট' প্রজাতির সর্প যাকে 'তাইওয়ান হাবু' বলা হয় তাকে নিয়ে পরীক্ষায় দেখেছেন, এমনিওট (যে সকল প্রজাতির প্রাণীরা তাদের ডিম ভিতরে বহন করে অথবা বাইরে প্রসব করে) জাতীয় প্রজাতির মধ্যে অনেকগুলি জিনের মিল আছে এবং সেই সকল জিনের মধ্যে ফোল্ডিং প্রোটিন আছে।

মানুষের লালারসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, বিশেষ করে 'কালীক্রেইন' যেই প্রোটিনগুলি অন্য প্রোটিনগুলির পচন ঘটায়। এই প্রোটিন গুলিকে লালারসে পাওয়া যায় এবং এগুলি বিভিন্ন বিষের মধ্যে বর্তমান থাকে। 'অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ডের' বায়োকেমিস্ট এবং ভেনোম বা বিষ সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ফ্রাই এই গবেষণার অংশ না হলেও তিনি দাবি করেছেন, সকল প্রাণিকুল জুড়ে যে কোন বিষের মধ্যে এইভাবে এই কালীক্রেইন এর উপস্থিতি কোন আকস্মিক ঘটনা হতে পারেনা। এটি যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি অত্যন্ত সক্রিয় উৎসেচক এবং এটি কিছু একটা ঘটাতে চলেছে।




তবে গবেষকদের মতে আপাতত আমাদের বিষাক্ত প্রাণীতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম, যদি না এমন কিছু ঘটে যা আমাদের ভবিষ্যতে বিষাক্ত প্রাণীতে বিবর্তিত হতে বাধ্য করে। লন্ডনের 'ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম'এর বিষ বা ভেনম সংক্রান্তঃ গবেষক রোনাল্ড জেনার এই গবেষণার অংশ না হলেও তিনি 'লাইভ সাইন্স' কে একটি ইন্টারভিউতে এই সংক্রান্ত একটি পুনরুক্তি করেন যে, কোন প্রাণী আত্মরক্ষার্থে অথবা শিকার করার প্রয়োজনে বিষাক্ত প্রাণীতে বিবর্তিত হয়।

এই গবেষণাটি 'প্রসিডিংস অফ দা ন্যাশনাল একাডেমী অফ সাইন্সেস' জার্নালে প্রকাশিত হয় এখানে আপনারা বিস্তারে এ সম্পর্কিত তথ্য পড়তে পারেন।