Showing posts with label খাদ্য ও পুষ্টি(Food & Nutrition). Show all posts
Showing posts with label খাদ্য ও পুষ্টি(Food & Nutrition). Show all posts

Sunday, 19 July 2020

বাস্তব জীবনের নায়ক যারা পৃথিবীকে বাঁচিয়েছিলেন - পর্ব 3 --

খুব কম বৈজ্ঞানিকই নরমান বর্লোগের মত এত পুরস্কার পেয়েছেন এবং বলতে গেলে এতগুলি পুরস্কার এই বাস্তব জীবনের নায়কেরই প্রাপ্য। পৃথিবীতে বিলিয়ন এর ওপর জীবন বাঁচানোর কৃতিত্ব খুব কম বৈজ্ঞানিকই পেয়েছেন।

বর্লোগ আগের দুজনের মতো চাপের পরিস্থিতিতে ঠান্ডা মাথায় মুহুর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে নয়, বরঞ্চ কঠোর পরিশ্রমে পৃথিবীকে বাঁচিয়েছিলেন। বিংশ শতকের শুরুর দিকে আমাদের গ্রহ কৃষিজাত উৎপাদনের পতনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিপদের সম্মুখীন হয়। যদি এই পরিস্থিতির পরিবর্তন না ঘটতো তবে, চারিদিকে বিশাল দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তো এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিতে খুবই ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলত। 'ইউনিভার্সিটি অফ মিনেসোটা'র থেকে স্নাতক হওয়ার পর ফরেস্ট্রি, প্লান্ট প্যাথলজি এবং জেনেটিক্সে ডিগ্রী নিয়ে নরমান বর্লোগ তার কাজ শুরু করেন।

1942 সালে তাকে রকফেলার ফাউন্ডেশনের মেক্সিকোয় অবস্থিত 'ম্যাক্সিকান এগ্রিকালচারাল প্রোগ্রাম' কো-অপারেটিভের বৈজ্ঞানিক হিসাবে নিযুক্ত করা হয়। তিনি সেখানে 1944 থেকে 1960 সাল পর্যন্ত কাজ করেন। এই সময় যেসকল কৃষকেরা রোগগ্রস্ত এবং গম উৎপাদক শস্য নিয়ে সমস্যায় থাকতো, তিনি তাদের সাহায্য করার উপায় খুঁজছিলেন। তিনি গমের প্রজাতিগুলি নিয়ে গবেষণা করতে থাকেন তিনি এমন একটি প্রজাতি খুঁজছিলেন যা বিভিন্ন পরিবেশে পৃথিবীর যেকোন স্থানে বেড়ে উঠতে পারে। যখন তিনি এরকম কিছু খুঁজে পেলেন না, তিনি একটি তৈরি করে ফেললেন। গ্রাজুয়েট হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যে বর্লোগ একটি রোগ প্রতিরোধী গমের প্রজাতি তৈরি করলেন যেটা অন্যান্য গুলি থেকে অনেক বেশি পরিমাণে এবং ভালোভাবে বেড়ে উঠতে সক্ষম, যারা প্রতিকূল আবহাওয়াতেও টিকে থাকতে পারতো - তার এই কাজ প্রথমদিকের উদ্ভিদের জেনেটিক মিউটেশন সংক্রান্ত আবিষ্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম। 

মেক্সিকোতে বর্লোগ সাফল্য পাওয়ার পর ভারতীয় এবং পাকিস্তানী সরকার তাকে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করে এবং রকফেলার ফাউন্ডেশন এবং ইউনাইটেড নেশন এর 'ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন' এর সহায়তায় তিনি এশিয়া মহাদেশের তার কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেন। যেখানে ভারত এবং পাকিস্তান উভয় দেশে সেইসময় প্রচুর পরিমাণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে খাদ্যশস্যের ঘাটতি দেখা দিচ্ছিল, সেই সময়ে অর্থাৎ 1960 সালে বর্লোগ সেখানে ফসল উৎপাদনের প্রায় 60 শতাংশ বৃদ্ধির জন্য দায়ী ছিলেন। তিনি উভয় দেশকেই কৃষিতে আত্মনির্ভর হতে সাহায্য করেছিলেন।

তার এই নতুন গমের প্রজাতি দিয়ে বর্লোগ উন্নয়নশীল দেশগুলির লাভজনক রপ্তানি, একটি স্থায়ী খাদ্যের উৎপাদন ক্ষেত্র এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি করতে সাহায্য করলেন। গবেষণায় বলা হয়েছিল যে তিনি এই হস্তক্ষেপ না করলে 1980 সালের মধ্যে কেবল ভারতীয় উপমহাদেশে  বিলিয়নের ওপর মানুষের অনাহারে মৃত্যু ঘটতো যেখানে বর্তমানে এখানে জনবিস্ফোরণ ঘটছে। 

1970 সালে তিনি শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পান। তাকে 'ফাদার অফ গ্রীন রিভলিউশন' বলা হয়। তিনি 'ট্রিটিক্যাল' নামক একপ্রকার গম ও রাই এর শংকর প্রজাতি তৈরি করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে তার এই পদ্ধতি অবলম্বন করে অন্যান্যরা বিভিন্ন নতুন প্রজাতির উচ্চ উৎপাদনশীল ধানের সৃষ্টি করেছিল। তার এই ধরনের কার্য প্রণালী দ্বারা তিনি আরো বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশকে সাহায্য করেছিলেন। পরবর্তীকালে 1960-69 সালে বর্লোগ 'ইন্টার আমেরিকান ফুড ক্রপ' প্রোগ্রামের ডাইরেক্টর হিসাবে কাজ করেছিলেন এবং 1964 থেকে 1979 সালে মেক্সিকো সিটির 'ইন্টারন্যাশনাল মেজ এন্ড হুইট ইমপ্রুভমেন্ট সেন্টারের' ডাইরেক্টর হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন।

বর্তমানে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বাসিন্দা হিসাবে আপনার কেমন লাগছে? আজ  আমরা যে খাদ্য শস্য খেয়ে বেঁচে আছি নিত্যনৈমিত্তিক ভালো-মন্দ যা কিছুই হোক করতে পারছি তার পেছনে এই মানুষটির আবদান কোথাও না আছে ?

Thursday, 25 June 2020

আদা বা Ginger সম্পর্কিত কিছু আকর্ষণীয় তথ্য --

আদা বা Ginger পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং জনপ্রিয় মসলা বা গুল্মজাতীয়র মধ্যে অন্যতম পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন রকম ভাবে একে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।



আদার গল্পটি প্রায় 5,000 বছরেরও বেশি পুরনো। প্রাচীন চিনা দার্শনিক কনফুসিয়াস চিকিৎসা ক্ষেত্রে এর উল্লেখযোগ্য অবদানের কথা বর্ণনা করেছিলেন এবং রোমানদের কাছে এটি ধন সম্পদ এবং উর্বরতার প্রতীক ছিল।

আদার প্রথম উৎপত্তি খুঁজে পাওয়া যায় প্রাচীন চীনের দক্ষিণ অংশে; সেখান থেকে এটি ছড়িয়ে পড়ে ভারত, মালুকু আইসল্যান্ড, এশিয়ার অন্যান্য অংশ এবং পশ্চিম আফ্রিকায়। ইউরোপ প্রথম এইগুলোকে দেখতে পায় প্রথম শতাব্দীর সময় যখন প্রাচীন রোমানরা ভারতের সাথে বাণিজ্য করতো। যখন এর পতন ঘটে ইউরোপ এই মসলার কথা ভুলেই গিয়েছিল, যতক্ষণ না মার্কোপোলো তার প্রাচ্য দেশগুলিতে যাত্রাকালীন এইগুলি কিনে নিয়ে এসেছিল। পনেরশো শতাব্দীতে নিউ ওয়ার্ল্ডে এটি আবার পুনরাবিষ্কৃত হয়। আদা ক্যারিবিয়ানে কিনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে এটি খুব সহজে বেড়ে উঠতে শুরু করে। বর্তমানে ভারতে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি আদা উৎপাদিত হয় যার পরিমাণ প্রায় 11,09,000 টনের কাছাকাছি।



আদা কেনার সময় কিছু সতর্কতাঃ

আদা সব সময় তাজা অবস্থায় কেনা উচিত যেগুলি মসৃণ ত্বক ও সুগঠিত হয়, এছাড়া একটু তুলনামূলকভাবে ভারী হয়। যেহেতু টাটকা আদা কেনাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য, সেহেতু অল্প পরিমাণে সবসময় কেনা উচিত যাতে বাড়িতে অনেক সময় ধরে পড়ে থেকে এর কার্যকারিতা কমে না যায়।
দাগ যুক্ত নরম বা আঁশযুক্ত আদা কেনা থেকে বিরত থাকা উচিত, এছাড়া ভেজা বা হালকা ভেজা রকমের আদা কিনবেন না কারণ এতে ছাতা ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কিভাবে বাড়িতে আদা রাখবেন--

আদা সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় দুদিন পর্যন্ত বেশ ভালোই থাকতে পারে কিন্তু আপনি যদি এটিকে কেটে ফেলেন তাহলে চেষ্টা করবেন এটিকে রেফ্রিজারেটরে রেখে দেওয়ার যাতে এর স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট না হয়। একটি কাপড়ে ভালো করে মুড়ে সেটিকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে যতটা সম্ভব বাতাস মুক্ত অর্থাৎ আঁটোসাঁটো করে বেঁধে ফ্রিজারে বা রেফ্রিজারেটরে রাখার চেষ্টা করবেন। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় আদাকে কেটে ভদকা বা অ্যালকোহলের ডুবিয়ে সংরক্ষণ করা, গতানুগতিক পদ্ধতিতে মাটিতে পুঁতে রাখা ইত্যাদি প্রক্রিয়াতেও সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে।



আদার উপকারিতা--

--আদা বমি বমি ভাব এর ক্ষেত্রে খুবই উপকার দেয় যেমন --  সার্জারি অথবা কেমোথেরাপির পর বমি বমি ভাব এছাড়া মাতৃত্বকালীন বমি বমি ভাব ইত্যাদি ক্ষেত্রে খুব ভালো উপকার দেখা গেছে তবে বেশি পরিমাণ আদা খাওয়া উচিত না এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

--মাসেল পেন বা পেশীর ব্যথা এর ক্ষেত্রে আদা উপযোগী।

--গাঁটে ব্যথা বা স্টিফনেস এর ক্ষেত্রে আদা কিছুটা নিরাময় দিতে পারে।

--হার্টের সমস্যা এবং সুগারের সমস্যা আদা কিছুটা নিরাময় দিতে পারে।

--বেশকিছু প্রকার ক্যান্সার, যেমন- প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার এবং ওভারিয়ান ক্যান্সারের ক্ষেত্রে আদার উপকারী তা দেখা গেছে। তবে এ নিয়ে আরো গবেষণা দরকার। 

--কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে আদার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বায়ো একটিভ পদার্থগুলি আমাদের মস্তিষ্কের ইনফ্লেমেটরি প্রতিক্রিয়াগুলি আটকাতে সাহায্য করে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
--আদার অ্যাক্টিভ উপাদান 'জিঞ্জেরল' ইনফেকশনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এছাড়া আদার রস বিভিন্ন প্রকারের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি আটকায়।

--গবেষণায় দেখা গেছেখাবার খাওয়ার এক ঘন্টা আগে 1.2 গ্রাম আদার পাউডার খাওয়ার ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং খুব দ্রুত আমাদের পাকস্থলী খালি করতে সাহায্য করে।

--একটি পুরনো গবেষণায় দেখা গেছিল আদা, লেবু এবং ব্রাউন সুগার এর মিশ্রণ মদ্যপান করার আগে খেলে মদ্যপান পরবর্তী হ্যাংওভার বা মাথা ধরা, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি সম্ভাবনা কমে যায়।

--যে যেসকল ডায়াবেটিস রোগীদের হাই ব্লাড প্রেসার আছে, লিকার চায়ের সাথে সামান্য আদা খাওয়ার ফলে ব্লাড প্রেসারে সামান্য উপকারিতা দেখা যায় গেছে।



সাধারণ ক্ষেত্রে আদা স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী এবং নিরাপদ কিন্তু বেশি পরিমাণে খেলে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, যেমন--

--গর্ভাবস্থা--
গর্ভাবস্থাকালীন আদা খাওয়া নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক দেখা যায়। সাধারণত 1 থেকে 3 শতাংশ পরিমাণ আদা এই সময় খাওয়া নিরাপদ কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে দিনে 1500 মিলিগ্রামের বেশি খাওয়া উচিত নয়। বমি বমি ভাব এর জন্য বেশি পরিমাণ আদা খেলে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। তবে বেশির ভাগ গবেষণায় সকালে বমি বমি ভাব এর জন্য অল্প পরিমাণ আদা খাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

--সাধারণত ডেলিভারির কিছু আগে থেকে আদা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয় কারণ এর ফলে রক্তপাতের বৃদ্ধি হতে পারে।

--বেশি পরিমাণ আদা সেবনের ফলে ডায়রিয়া হতে পারে কারণ এটি ইন্টেসটাইন এর মধ্যে দিয়ে খাদ্য এবং মল এর চলাচল এর গতি বৃদ্ধি করে ফলে ইন্টেসটাইন বিশ্রাম পায় না।

--রক্তপাত--
আদায় এন্টি প্লেটলেট প্রপার্টি থাকার জন্য বেশি পরিমাণ খাবার ফলে রক্তপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

--বেশি পরিমাণে আদা খেলে বুক জ্বালা বা অম্বল হতে পারে 

--যারা ব্লাড প্রেসার এর জন্য ঔষধ সেবন করছে তাদের আদা খাওয়া বেশি পরিমাণে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয় কারণ, এর ফলে হার্টের সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে।
--যেহেতু এটি ব্লাড সুগার লেভেল কম করতে সাহায্য করে তাই ডায়াবেটিস এর ওষুধের সাথে এটি খেলে ব্লাড সুগার লেভেল অতিরিক্ত কমে গিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

--এছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওরাল এলার্জি সিনড্রোম এর কারণে আদা খেলে মুখে চুলকানি বা জ্বালা হতে এবং খাদ্যের স্বাদ হারানো ইত্যাদি দেখা গেছে।

*** আমার এই পোস্টটি বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে গঠিত। আপনার যদি কোন শারীরিক সমস্যা থাকে তবে নিয়মিত আদা খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই নিজের চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে এটি সেবন করবেন। এই পোষ্টের বিভিন্ন সূত্র লিঙ্কগুলি দিলাম ---

১. https://www.webmd.com/vitamins/ai/ingredientmono-961/ginger
২. https://www.medicalnewstoday.com/articles/265990
৩. https://timesofindia.indiatimes.com/life-style/food-news/7-side-effects-of-ginger-you-must-be-aware-of/photostory/71594784.cms?picid=71594894
৪.https://www.stylecraze.com/articles/dangerous-side-effects-of-ginger/

Saturday, 22 December 2018

গলা খুসখুস করলে কি করতে পারি ?




‘খক খক, খুক খুক’ ক্লাসে বা অফিসে বসে কাশছেন আপনি অনবরত। আপনার কাশির শব্দে তাকিয়ে আছে আপনার দিকে সবাই। কি বিব্রতকর পরিস্থিতিতেই না পড়েছেন আপনি! শীত ও বসন্তের এই সময়টাতে অধিকাংশ মানুষই খুসখুসে কাশির যন্ত্রণায় ভোগেন। কারণে অকারণে শুকনো কফের থেকে কাশি ওঠে কিছুক্ষণ পর পর।


 খুসখুসে কাশির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ঘরোয়া কিছু উপায় আছে । ওষুধ না খেয়ে প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করেই কমিয়ে ফেলা সম্ভব খুসখুসে কাশি।

-গরম বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে কাশি অনেকটাই তরল হয়ে আসবে এবং আরাম মিলবে। হালকা গরম লবণ পানি দিয়ে গার্গল করলেও উপকার হবে।

- ঠান্ডা খাবার ও পানীয় পরিহার করুন।

-প্রাচীনকাল থেকেই গলা খুশখুসে ভাব দূর করতে ব্যবহার করা হয় আদা চা। ২ কাপ জলে আদা কুচি দিয়ে ফুটিয়ে সামান্য মধু মিশিয়ে পান করলে খুশখুসে ভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বেশ সহজেই। কারণ আদা মধুর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান গলার গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া কমায় এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

-প্রচুর জল পান করুন। প্রতিবার হালকা গরম জল খাওয়ার চেষ্টা করুন। দিনে অন্তত ১২ গ্লাস হালকা গরম জল পান করলে খুসখুসে কাশি কিছুটা কমে যায়।

-রাতে বিরক্তিকর কাশি থেকে বাঁচতে একটু উঁচু বালিশ ব্যবহার করুন, শোবার আগে একটু গার্গল করুন।

-খুসখুসে কাশির উৎপাত দেখা দিলে ধূমপান ছেড়ে দিন। ধূমপান করলে কাশি বাড়ে। তাই কাশি কমাতে ধূমপান ছাড়ুন এবং ধূমপায়ীদেরকে এড়িয়ে চলুন।

-কলা একটি নন-অ্যাসিডিক খাবার যা গলা খুশখুসে ভাব কমাতে বিশেষ ভাবে কার্যকরী। এছাড়াও কলা একটি লো গ্লাইসেমিক খাবার যা ঠাণ্ডা-সর্দি ভাব কমায়।

-কুসুম কুসুম গরম পানি পান করা ভালো। হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গড়গড়া করা উচিত।

-প্রয়োজনমতো গরম কাপড় পরা। তীব্র শীতের সময় কান-ঢাকা টুপি পরা এবং গলায় মাফলার ব্যবহার করা ভালো।

-সমপরিমাণ লেবুর রস এ মধুর মিশ্রন গলার ভেতরের ইনফ্লেমেশন কমায় এবং ঠাণ্ডা লেগে গলার ভেতর সরু হয়ে আসার ফলে যে সমস্যা তৈরি হয় তা দূর করতে সহায়তা করে।

-ঘরে মশার ওষুধ কিংবা এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে করবেন না। খুসখুসে কাশি বেড়ে যেতে পারে এগুলোর কারণে।

-নাকের ভিতরে হালকা বাম ব্যবহার করতে পারেন। এটি নাকের পথকে পরিষ্কার করে কাশি কমাতে সহায়তা করবে।

--বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই, বিশেষ করে সঙ্গে জ্বর না থাকলে। চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন বা মনটিলুকাস্ট জাতীয় ওষুধ খাওয়া যায়। এগুলো গলা বা শ্বাসনালিতে কাশি উৎপাদনকারী রাসায়নিকের পরিমাণ কমাবে, শ্বাসনালিকে প্রসারিত করবে। ফলে জমে থাকা কফ বেরিয়ে আসতে পারবে। প্রচলিত কফ সিরাপ কাশি আরও শুষ্ক করে দিতে পারে।

-প্রতিদিন চারটি তুলসি পাতা নিয়ে, তার সাথে মধু মিশিয়ে চিবিয়ে খেয়ে নিন। চায়ের সাথে তুলসি পাতা মিশিয়েও খাওয়া যায়। তুলসী পাতা দ্রুত খুসখুসে কাশি নিরাময়ে সহায়ক।


-প্রতিদিন হালকা গরম জলে স্নান করুন। এতে শুকনা কফ ও খুসখুসে কাশির উপদ্রব কমে যাবে।

-অতিরিক্ত ঘাম যেনো না হয় সেটা খেয়াল করা। বেশি ঘেমে গেলে ভেজা কাপড় দিয়ে ঘাম মুছে ফেলতে হবে।

-শুষ্ক কাশিতে প্রচুর পানি পান করতে হয়। এবং অবশ্যই সেই পানি হালকা গরম হতে হবে। সারাদিনই অল্প অল্প করে গরম পানি পান করলে, খুসখুসেজাতীয় কাশি দূর হয়ে যাবে। দিনে অন্তত ১২ গ্লাস হালকা গরম পানি পান করুন। কাশি থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে।

-ধুলাবালি, ধূমপান এড়িয়ে চলা। এর জন্য মাস্ক ব্যবহার করা।

-ঠাণ্ডা লেগে গলায় ব্যথা হওয়া অনেক স্বাভাবিক ঘটনা। এই সমস্যা দূর করতে নেশ সহায়তা করে ডিমের সাদা অংশ। কারণ ডিমের সাদা অংশ গলার ভেতরের গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া কমায় এবং ইনফ্লেমেশন দূর করে।

-ঘরের দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ না রেখে মুক্ত ও নির্মল বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা।

-গাজরকে বলা হয় সুপার ফুড। বিশেষ করে শীতকালীন এই সকল সাধারণ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার সব চাইতে ভালো সবজি হচ্ছে এই গাজর। গাজরের ভিটামিন ও মিনারেলস দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যার ফলে সর্দি-ঠাণ্ডা ও কাশি থেকে মুক্তির জন্য আমাদের দেহই কাজ করে থাকে। তবে সর্দি-ঠাণ্ডা ও কাশির সময় কাঁচা না খেয়ে সেদ্ধ করা গাজর খাওয়া উচিত।

-হাত ধোয়ার অভ্যাস করা। বিশেষ করে চোখ বা নাক মোছার পরপর হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।

-প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এক চামচ মধু খেয়ে নিন। মধু খুসখুসে কাশি কমাতে সাহায্য করে।


Tuesday, 6 November 2018

কাঁচা পেঁপে খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা-

উপকার--


--- কাঁচা সবুজ পেঁপেতে নানা রকম প্রাকৃতিক এনজাইম থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি এনজাইম হচ্ছে সাইমোপ্যাপিন ও প্যাপিন। এই দুটি এনজাইম প্রোটিন চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট ভাঙতে সাহায্য করে।

---কাঁচা পেঁপে আমাদের দেহের সঠিক রক্ত সরবরাহে কাজ করে। আমাদের দেহে জমা থাকা সোডিয়াম দূর  করতে সহায়তা করে যা হৃদপিণ্ডের রোগের জন্য দায়ী। নিয়মিত পেঁপে খেলে উচ্চ রক্ত চাপের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এতে করে হৃদপিণ্ড জনিত যে কোনো সমস্যার সমাধান হয়।

---পেঁপেতে থাকা আঁশ ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি বা অম্লতা, পাইলস ও ডায়রিয়া দূর করতে পারে। মানুষের শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে পেঁপে দারুণ কার্যকর।

---ডায়াবেটিস বর্তমানে কমবেশি সবাইকে বেশ ভোগান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আর কেউ যদি এই ডায়াবেটিসে ভোগেন, তাহলে আপনি আজ থেকেই কাঁচা পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস শুরু করুন। খেতে পারেন কাঁচা পেঁপের জুসও। কেননা, কাঁচা পেঁপে বা এর জুস রক্তে চিনির পরিমাণ কমায়। আর এটি শরীরে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়ায়।

--‘নিউট্রিশন’ নামের ব্রিটিশ জার্নাল বা সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা পেঁপেতে অনেক বেশি ক্যারটিনয়েডস থাকে, যা গাজর বা টমেটোর চেয়ে বেশি। মানুষের শরীরে জন্য কাঁচা পেঁপেতে থাকা ক্যারটিনয়েড বেশি উপযোগী।

---নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খেলে ত্বকের সমস্যা দূর হয়। বিশেষ করে ব্রণ এবং ত্বকের ওপর নানা দাগ দূর করতে পারে কাঁচা পেঁপে। মৃত কোষ সমস্যা দূর করতে পারে পেঁপে। ব্রণের সমস্যা প্রায় সবারই থাকে। এসব ব্রণের কারণে মুখে আনেক ধরনের দাগ তৈরি হয়। এই বাজে দাগগুলো নিরাময় করতে পারে সুমিষ্ট এই ফলটি। মুখের অন্যান্য যেকোনো দাগ যেমন মেছতা, ফুস্কুরির দাগও খুব সহজেই দূর করে দিতে পারে।মুখের বিভিন্ন দাগ দূর করার পাশাপাশি পেঁপে ফলটি মুখের উজ্জ্বলতাও ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

---সালাদ খান না এমন পরিবার খুব কমই পাওয়া যাবে।যাদের পেটে গোলমাল দেখা দেয়, তারা পেঁপে খেতে পারেন। অন্যান্য ফলের তুলনায় পেঁপেতে ক্যারোটিন অনেক বেশি থাকে। কিন্তু ক্যালরির পরিমাণ বেশ কম থাকায় যারা মেদ সমস্যায় ভুগছেন তারা পেঁপে খেতে পারেন অনায়াসে। এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও সি আছে।

--- প্রত্যেহ সকালে কাঁচা পেঁপের আঠা ৫/৭ ফোঁটা ৫/৬ টি বাতাসার সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। ২/৩ দিন খাওয়ার পর রক্ত আমাশয় কমতে থাকবে।

--যে কোনো প্রকারের ক্রিমি হলে, পেঁপের আঠা ১৫ ফোঁটা ও মধু ১চা চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। এরপর আধা ঘন্টা পরে উষ্ণ পানি আধ কাপ খেয়ে তারপরে ১ চামচ বাখারি (শসা-ক্ষীরার মতো এর স্বাদ) চুনের পানি খেতে হয়। এভাবে ২ দিন খেলে ক্রিমির উপদ্রব কমে যাবে।

---আমাশয় ও পেটে যন্ত্রনা থাকলে কাঁচা পেঁপের আঠা ৩০ ফোঁটা ও ১ চামচ চুনের পানি মিশিয়ে তাতে একটু দুধ দিয়ে খেতে হবে। একবার খেলেই পেটের যন্ত্রনা কমে যাবে এবং আমাশয় কমে যাবে।


---৩০ ফোঁটা পেঁপের আঠাতে এক চামচ চিনি মিশিয়ে এক কাপ পানিতে ভালো করে নেড়ে মিশ্রণটি সারাদিনে ৩বার খেতে হবে। ৪/৫ দিনের পর থেকে যকৃতের বৃদ্ধিটা কমতে থাকবে, তবে ৫/৬ দিন খাওয়ার পর সপ্তাহে ২ দিন খাওয়াই ভালো। এভাবে ১ মাস খেলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।


---প্রত্যেকদিন সকালে ২/৩ ফোঁটা পেঁপের আঠা পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা ক্ষুধাও বেড়ে যাবে এবং হজমও ঠিকভাবে হবে।


---কয়েক টুকরো পাকা পেঁপের শাঁষ, আর সামান্য লবন এবং একটু গোলমরিচের গুড়ো একসংগে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা পেট ফাঁপার উপশম হয।


---দেড় চামচ পেঁপে পাতার রস এক কাপ জলে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা জ্বরের বেগ, বমি, মাথার যন্ত্রনা, শরীরে দাহ কমে যাবে। জ্বর কমে গেলে আর খাওয়ার প্রয়োজন নেই।

---যাদের মাসিক ঋতু বন্ধ হওয়ার সময় হয়নি অথচ বন্ধ হয়ে গিয়েছে অথবা যেটুকু হয় তা না হওয়ারই মত, সেক্ষেত্রে ৫/৬ টি পাকা পেঁপের বিচি গুড়া করে রোজ সকালে ও বিকালে দু’বার জলসহ খেতে হবে। এর ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই মাসিক স্রাব ঠিক হয়ে যাবে, তবে অন্য কোন কারনে এটা বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

---সে যে কোনো প্রকারের হোক না কেন, কাঁচা পেঁপের/গাছের আঠা ঐ দাদে লাগিয়ে দিতে হবে, একদিন লাগিয়ে পরের দিন লাগাতে হবে না, এরপরের দিন আবার লাগাতে হবে, এইভাবে ৩/৪ দিন লাগালে দাদ মিলিয়ে যাবে।


---যে একজিমা শুকনা অথবা রস গড়ায় না, সেখানে ১ দিন অথবা ২ দিন অন্তর পেঁপের আঠা লাগালে ওটার চামড়া উঠতে উঠতে পাতলা হয়ে যায়।

----- ১ চামচ পেঁপের আঠা, তার সঙ্গে ৭/৮ চামচ জলে মিশিয়ে ফেটিয়ে নিতে হয়। তারপর ওই জলে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর মাথা ধুয়ে ফেলতে হয়। এইভাবে একদিন অন্তর আর একদিন বা ২ দিন লাগালে উকুন মরে যায়।


--প্রতিদিন দুপুর ও রাতের খাবারের পর এক টুকরো কাঁচা পেঁপে ভালো করে চিবিয়ে খেলে এবং তারপর এক গ্লাস পানি খেলে সকালে পেট পরিষ্কার হয়। গ্যাস্ট্রিক ও বদহজমের কষ্ট দূর হয়।


--- প্রতিদিন পাকা পেপের সাথে মধু ও টকদই মিশিয়ে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

----শরীর ঠিক রাখতে নিয়মিত কাঁচা পেঁপের জুস খেতে পারেন। কাঁচা পেঁপের সঙ্গে শসা মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এতে একটু লেবু চিপে দিয়ে খেতে পারেন।


অপকার ---

---গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে খাওয়া সমস্যা তৈরি করতে পারে। ব্রিটিশ ও ভারতের বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, কাঁচা পেঁপের মধ্যে লেটেক্স থাকে। লেটেক্সের মধ্যে উপস্থিত উপাদান পেপেইন জরায়ুর রক্তপাত ঘটিয়ে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, কাঁচা পেঁপে খেলে এসিড হতে পারে। এর ফলে বদ হজম, বমি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। তাই এ সময় পাকা পেঁপে খান।

---পুষ্টিকর বলে কোনকিছুই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। পেঁপে অতিরিক্ত খেলে খাদ্যনালীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। দিনে এক কাপের বেশি পেঁপে খাওয়া উচিত নয়।

---পেঁপের বীজের নির্যাস পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমাতে সক্ষম। বীর্জে শুক্রাণুর সংখ্যা কমাতে এবং শুক্রাণুর নড়াচড়ার ক্ষমতা কমার পেছনেও দায়ী হতে পারে পেঁপে।


---অ্যালার্জিক কারণে যাদের প্রায়শই শ্বাস কষ্ট হয়ে থাকে, তাদের ভুলেও পেঁপে খাওয়া চলবে না। কারণ এতে উপস্থিত প্য়াপিন নামে একটি উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র শ্বাস কষ্টের আশঙ্কা বৃদ্ধি করে। প্রসঙ্গত, অ্যাস্থেমা রোগেও যারা ভুগছেন, তাদেরও এই ফলটি খাওয়া চলবে না।
কাঁচাপেঁপের বোটা থেকে বের হওয়া সাদা তরল চামড়ায় অ্যালার্জির সৃষ্টি করতে পারে।

---পেঁপে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমায়। তাই যারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খান তাদের জন্য পেঁপে বিপজ্জনক হতে পারে, এর ফলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়ে মাথা ঘোড়া, শরীর দুর্বলতা ইত্যাদি হতে পারে।

---কোনও কিছুই বেশি পরিমাণে শরীরে প্রবেশ ভাল নয়, তা সে পুষ্টিকর উপাদানই হোক না কেন! এক্ষেত্রেও কিন্তু একই ঘটনা ঘটে। পেঁপেতে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি রয়েছে। এই পরিমাণ ভিটামিন প্রায় দিনই যদি শরীরে প্রবেশ করতে শুরু করে, তাহলে দেহে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পায়। আর এমনটা হলে কিডনিতে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

---পেঁপে পাতায় থাকা ‘পাপাইন’ নামক উপাদান গর্ভের সন্তানের জন্য বিষাক্ত হতে পারে। সন্তান বুকের দুধ খাওয়ানোর বয়সে মায়ের পেঁপে খাওয়া ক্ষতিকর কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে সাবধানের মার নেই, তাই গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর্যন্ত পেঁপে এড়িতে চলা উচিত।





Sunday, 12 August 2018

আপনার শরীরের জন্য ভিটামিন-ই কেন দরকার --

শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ভিটামিন হলো ভিটামিন-ই। এটি শারীরিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থ থাকতে ভূমিকা রাখে।

ভিটামিন - ই'র উপকারিতা--

-- কোষ নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচতে শরীরে চাই অ্যান্টঅক্সিডেন্ট উপাদান, যা ভিটামিন-ই থেকে পাওয়া যায়। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষের জন্য ক্ষতিকারক মৌলগুলির সঙ্গে লড়াই করে। দূষণ এবং ধূপমান থেকে শরীরে মুক্তমৌল তৈরি হয়। ভিটামিন ই- তে এমন এক ধরণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা কোষ নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। সাধারণত দূষণ এবং ধূমপান থেকে শরীরে যে ক্ষতিকারক মুক্তমৌল তৈরি হয় তার বিরুদ্ধে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুদ্ধ করে। এতে আমরা সুস্থ থাকতে পারি। 

-- বাজারে ভিটামিন-ই যুক্ত তেল পাওয়া যায়। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নানা উপকারিতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হল কাটাছেড়ার ক্ষত ও ব্রণ সারানো।

-- কোষ পুণর্গঠন প্রক্রিয়ার জন্য ভিটামিন-ই উপকারী হওয়ায় এটি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সক্ষম।

-- চুলের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন-ই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। চুপ পড়া, অল্প বয়সে চুল সাদা বা ধুসর হওয়া থেকে বাঁচতে চাই ভিটামিন-ই।

-- স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন-ই’তে ভরপুর খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ‘ইমিউন সেল’ বা রোগ প্রতিরোধকারী কোষ তৈরি সহায়ক, যা শরীরে তৈরি করে ব্যাকটেরিয়া-নাষক অ্যান্টিবডি।

--- গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন-ই গ্রহণ করলে হূদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, চোখের ছানি, মাংসপেশির ব্যথা, ঠাণ্ডা লাগা ও আন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়।

---  হার্ট অ্যাটাক কমাতে ভিটামিন-ই মধ্যবয়সী পুরুষ এবং মহিলা যারা ভিটামিন-ই গ্রহণ করে থাকেন, যেসব লোক গ্রহণ করেন না, তাদের চেয়ে হার্ট এ্যাটাক কম হয়। তথ্যটি জানা গেছে হার্ভার্ড স্কুলের পাবলিক হেলথ বিভাগের দ’টি পৃথক গবেষণা থেকে। দি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে প্রায় ৪০ হাজার পুরুষ যারা কমপক্ষে দুই বছর দৈনিক ন্যূনতম ১০০ I.U ভিটামিন-ই গ্রহণ করেছেন তাদের হার্ট অ্যাটাক কম হয়েছে শতকরা ৩৭ ভাগ। দ্বিতীয় গবেষণাটি করা হয় মহিলাদের নিয়ে। ৮৭ হাজার মহিলাকে নিয়ে আট বছরের এক উদ্যোগ নেয়া হয়। সেখানে দেখা গেছে, দুই বছরের বেশি সময় দৈনিক ১০০ আইইউ ভিটামিন-ই গ্রহণে মহিলাদের হার্ট এ্যাটাক শতকরা ৪১ ভাগ কমেছে।

--- মুখে কোনও ক্ষতচিহ্ন থাকলে তার উপশমে ভিটামিন ই অব্যর্থ! অ্যান্টি অক্সিড্যান্টে ভরপুর ভিটামিন ই ত্বকের নিজে থেকে সেরে ওঠার ক্ষমতাকে আরও জোরদার করে। মুখে ব্রণর ক্ষতচিহ্ন থাকলে একটা ভিটামিন ই ক্যাপসুল আধখানা করে কেটে ভিতরের তেল সরাসরি দাগের উপর লাগান। ভিটামিন ই ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে দ্রুত ক্ষতচিহ্ন সারিয়ে তোলে।

----বলিরেখা সারাতে ভিটামিন ই অত্যন্ত কার্যকরী। ভিটামিন ই-র নিয়মিত ব্যবহার ত্বকের বয়স বাড়তে দেয় না। ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু সারিয়ে ত্বক কোমল, সুন্দর করে তোলে ভিটামিন ই।

---মুখে দাগছোপ বা ত্বকের রং সব জায়গায় সমান না হলেও একমাত্র ওষুধ ভিটামিন ই। ত্বকের কোনও অংশে মেলানিন বেশি জমে গেলে সেই অংশের রং অন্যান্য অংশের চেয়ে কালো দেখায়। ত্বকের কালো অংশে ভিটামিন ই লাগালে তা ধীরে ধীরে হাইপারপিগমেন্টেশন কমিয়ে ত্বকের রং স্বাভাবিক করে তোলে।

---হাতের ত্বক শুকনো হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। সাধারণ ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজ়ার দিয়ে তা কমানো যায় না। হাতের চামড়া কুঁচকেও যায় অনেকের। এমন ক্ষেত্রে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কেটে সেই তেল হাতের ত্বকে সরাসরি ক্রিমের মতো মেখে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে চোখে পড়ার মতো তরুণ দেখাবে হাতের ত্বক।

---- ফাটা ঠোঁটের সমস্যায় বছরভর কষ্ট পান? প্রতিদিনের লিপবামের বদলে ব্যবহার করুন ভিটামিন ই তেল। ঠোঁটের রং কালো হয়ে গেলেও ভিটামিন ই তেলে ফল পাবেন।

----সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির হাত থেকে ত্বককে বাঁচাতেও আপনার ভরসা ভিটামিন ই। মুখে সানস্ক্রিন লাগানোর আগে ভিটামিন ই তেল মেখে নিন। বিকল্প হিসেবে ভিটামিন ই যুক্ত সানস্ক্রিনও ব্যবহার করতে পারেন।

-- শরীরের কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন-ই গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়। এসব হচ্ছে-
-অন্ত্রের অসুখ, লিভার বা যকৃতের অসুখ, অগ্ন্যাশয়ের অসুখ, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাকস্থলী অপসারণ।

যে শিশু টিনের দুধ খায় তাদের ভিটামিন-ই এর ঘাটতি হতে পারে। মূলত পলি স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ভিটামিন-ই এর প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়।

-- গবেষণায় জানা গেছে যে, ব্যায়াম পরবর্তী পেশী বেদনা লাঘবে ভিটামিন ‘ই’ বেশ কার্যকর। এক্ষেত্রে ভিটামিন ‘ই’ এর ফ্রী র‌্যাডিক্যাল রোধী বা এ্যান্টি অক্সিডেন্ট
ভূমিকাই কাজ করে। এমনিতে ফ্রী র‌্যাডিক্যাল  পেশীর  ছোট-খাটো কাটাছেঁড়া  মেরামত করে।  কিন্তু ফ্রী র‌্যাডিক্যালের
সংখ্যা বেড়ে গেলে তা পেশীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াঁয়। ভিটামিন ‘ই’ সেবনে ফ্রী র‌্যাডিক্যালের সংখ্যা কমে যায়
এবং পেশীর ব্যাথা নিরাময় হয়।


এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের র্হাভার্ড মেডিক্যাল স্কুল কর্তৃক প্রকাশিত এক হেলথ রিপোর্টে বলা হয় যে, ভিটামিন  ‘ই’
এর ক্ষমতার মধ্যে আরও দুটো বৈশিষ্ট্য অর্ন্তভুক্ত করা যায় যেগুলো হৃদরোগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট উপকারী ভূমিকা পালন
করে। এ দুটো বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রদাহ নিবারণ ও মসৃণ মাংস পেশীর কোষ প্রবৃদ্ধিতে সাহায্য করা। মাংস পেশীর কোষ উৎপাদন  ক্ষমতার  সংগে  প্রদাহ  নিবারণ  ক্ষমতা  এ  দুটো  গুণ  রক্তনালীর  সংকীর্ণ  হওয়াকে  প্রতিরোধ  করে।  এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্রিয়া ছাড়াও এই দুই গুণাবলীর কারণে ভিটামিন ‘ই’ হৃদরোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরও
উল্লেখ্য যে, ভিটামিন ‘ই’ এর সাহায্য ছাড়া দেহে ভিটামিন ‘এ’র শোষণ ও মজুদ হওয়া কঠিন।
ভিটামিন ‘ই’ এর ক্যান্সাররোধী গুণাবলীর কথাও জানা গেছে।

-ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাবার খান:

বাদাম, খাদ্যশস্য, ভুট্টার ভ্রুণ এবং গাঢ় সবুজ শাকসবজি ভিটামিন-ই এর চমৎকার উৎস। আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এসব খাবার রাখুন।

১) সূর্যমুখীর বীজ : সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে সর্বোচ্চ পরিমাণে ভিটামিন ই। প্রতি ১০০ গ্রাম সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে ৩৬.৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। এই বীজ থেকে যে তেল তৈরি করা হয় তা সাধারণত সালাদ, স্যুপ বা গার্নিশে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া অন্যান্য রান্নাতেও সূর্যমুখীর তেল ব্যবহার করা যায়। এতে কোনো কোলেস্টেরল নেই, রক্তচাপ ও হৃদরোগীরা অনায়াসে তা খেতে পারেন।

 ২) লাল মরিচের গুঁড়া : ঝালের কারণে আমরা অনেকেই মরিচ কম খেয়ে থাকি। অবাক হলেও কথা সত্য। জেনে অবাক হতে পারেন, সর্বোচ্চ ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবারের তালিকায় আছে লাল মরিচের গুঁড়া! প্রতি ১০০ গ্রাম লাল মরিচের গুঁড়ায় রয়েছে ২৯.৮৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। আমাদের রোজকার খাবারে আমরা মরিচের গুঁড়া ব্যবহার করে থাকি। তাই আমাদের শরীরে ভিটামিন ই-এর অভাব সচরাচর ঘটে না।

৩) কাঠ বাদাম : আমন্ড বা কাঠবাদাম ভিটামিন ই-এর জন্য বেশি জনপ্রিয়। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঠবাদামে রয়েছে ২৬.২২ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। দাম বেশি বলে কাঠবাদাম খাবার হিসেবে খুব বেশি প্রচলিত নয়। সাধারণত ক্ষীর, পায়েস, মিষ্টি, সন্দেশ, হালুয়াসহ অন্যান্য খাবার তৈরিতে অনুষঙ্গিক উপকরণ হিসেবে কাঠবাদাম ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কাঠবাদামের দুধ ও মাখনও ভিটামিন ই-এর ভালো উত্‍স।

৪) পেস্তা বাদাম : কাঠবাদামের পরেই রয়েছে পাইন নাট বা পেস্তা বাদাম। প্রতি ১০০ গ্রাম পেস্তা বাদামে রয়েছে ৯.৩৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। কাঠবাদামের মতোই পেস্তা বাদামও আমাদের দেশে বিভিন্ন খাবার তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

৫) চীনা বাদাম : চীনা বাদাম খেতে পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুব কমই আছেন! বাদাম ভাজা বেশ মুখরোচক একটি খাবার। প্রতি ১০০ গ্রাম চীনা বাদামে রয়েছে ৬.৯৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। চীনাবাদাম নানা খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। চীনাবাদামের মাখনও বেশ উপকারী।

৬) ভেষজ: ভেষজের মধ্য বেসিল ও অরিগানোতে রয়েছে সর্বোচ্চ ভিটামিন ই। প্রতি ১০০ গ্রাম বেসিল ও অরিগানোতে রয়েছে ৭.৪৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। পাস্তা, পিজা, সালাদ ও স্যান্ডউইচ তৈরির উপকরণ হিসেবে বেসিল এবং অরিগানো ব্যবহার করা হয়।

৭) শুকনো এপ্রিকট : এপ্রিকটকে বলা হয় খাদ্যআঁশ ও নানা ভিটামিনের উত্‍কৃষ্ট উত্‍স। প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনো এপ্রিকটে রয়েছে ৪.৩৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।

৮) জলপাইয়ের আচার : ভিটামিন ই-এর একটি উত্‍কৃষ্ট উত্‍স হিসেবে গণ্য করা হয় কাঁচা জলপাইকে। তবে কাঁচা জলপাইয়ের আচার হলো ভিটামিন ই-এর একটি ভালো উত্‍স। প্রতি ১০০ গ্রাম জলপাইয়ের আচারে রয়েছে ৩.৮১ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।

৯) পালং শাক : রান্না করা পালং শাক আয়রন, ক্যালসিয়াম ও খনিজ পদার্থের আধার হিসেবে পরিগণিত হয়। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ই-ও। প্রতি ১০০ গ্রাম রান্না করা পালং শাকে রয়েছে ৩.৫৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।

 ১০) কচুর মূল : আয়রন ও ক্যালসিয়ামের সর্বোত্‍কৃষ্ট উত্‍স হলো কচুর মূল। এটি আমাদের দেশে অতি সহজলভ্য একটি খাবার। আলুর বিকল্প হিসেবেও কচুর মূল খাওয়া যায়। সর্বোচ্চ ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাদ্য তালিকার দশ নম্বরে রয়েছে কচুর মূল। প্রতি ১০০ গ্রাম কচুর মূলে রয়েছে ২.৯৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।


জলপাইয়ের আচার: ভিটামিন ‘ই’ এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে গণ্য করা হয় কাঁচা জলপাইকে। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা জলপাইয়ের আচারে রয়েছে ৩.৮১ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।

খাবার রান্না করলে এবং সংরক্ষণ করে রাখলে ভিটামিন-ই কিছুটা নষ্ট হয়। শুধু ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে সেটি সুন্দর খাবারের বিকল্প হতে পারে না এবং সেটি শরীরে শক্তিও উৎপন্ন করতে পারবে না। অন্যান্য খাদ্যের উপস্থিতি ছাড়া ভিটামিনগুলো নিজেরা কাজ করতে পারে না। শরীরে ভিটামিন-ই এর শোষণের জন্য কিছুটা চর্বির প্রয়োজন হয়।
ভিটামিন-ই পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনে, যেমন- ডি-কিংবা ডিএল আলফা টকোফেরিল অ্যাসিটেট, ডি-কিংবা ডিএল-আলফা টকোফেরল এবং ডি-কিংবা এল-আলফা টকোফেরিল এসিড সাক্সিনেট।

আপনি যদি প্রেসক্রিপশন ছাড়া ভিটামিন-ই গ্রহণ করেন, তাহলে লেবেলের লেখাগুলো ভালো করে পড়ে নেবেন এবং কোনো ধরনের সতর্কতার উল্লেখ থাকলে সেটি মেনে চলবেন। কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন-ই গ্রহণে সতর্ক হতে হবে-

অ্যালার্জি : ভিটামিন-ই গ্রহণের পর কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় কিংবা অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসককে জানাতে হবে।

গর্ভাবস্থা : এটি গুরুত্বপূর্ণ, যখন আপনি গর্ভবতী হচ্ছেন তখন পর্যাপ্ত ভিটামিন গ্রহণ করছেন। তবে আপনাকে দেখতে হবে গর্ভাবস্থার পুরো সময়টা আপনি সঠিক মাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করছেন কি না, কেননা ভ্রুণের বিকাশ এবং বৃদ্ধি নির্ভর করে মায়ের সঠিক পুষ্টি গ্রহণের ওপর। গর্ভাবস্থায় বেশি মাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করলে ক্ষতি হতে পারে, তাই বেশি মাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করবেন না।

বুকের দুধ : শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য স্তনদানরত মহিলার সঠিকমাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে থাকেন তা হলে মাঝে মধ্যে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। এ ক্ষেত্রে শিশুকে অন্য উপায়ে ভিটামিন দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে আপনি যদি বুকের দুধ খাওয়ানোকালে অতিরিক্ত মাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করেন তাহলে আপনার নিজের জন্য এবং শিশুর জন্য সেটি ক্ষতিকর হবে।

শিশু : দৈনন্দিন সুপারিশকৃত মাত্রা গ্রহণের ফলে শিশুর অসুবিধার কথা জানা যায়নি। শিশু বুকের দুধ খেলে তাকে সঠিক মাত্রায় ভিটামিন দেয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। গবেষণায় দেখা গেছে নির্দিষ্ট সময়ের আগে জন্মগ্রহণকারী শিশুর শরীরে ভিটামিন-ই এর মাত্রা কম থাকে। আপনার চিকিৎসক এ ব্যাপারে ভিটামিন-ই এর মাত্রা নির্ধারণ করে দেবেন।

প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ : দৈনন্দিন সুপারিশকৃত মাত্রা গ্রহণের ফলে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধার কথা জানা যায়নি।

অন্য ওষুধ গ্রহণ : আপনি যদি ভিটামিন-ই গ্রহণের সময় অন্য কোনো ওষুধ খেতে থাকেন তা হলে অবশ্যই চিকিৎসককে জানাবেন। কারণ অনেক ক্ষেত্রে দুটি ওষুধের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করতে পারেন কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে বলতে পারেন।
অন্যান্য চিকিৎসাগত সমস্যা : অন্য কোনো চিকিৎসাগত সমস্যা উপস্থিত থাকলে ভিটামিন-ই গ্রহণের ফলে অবস্থা খারাপ হতে পারে। আপনার অন্য কোনো চিকিৎসাগত সমস্যা আছে কি না সেটি চিকিৎসককে অবশ্যই জানাবেন, বিশেষ করে আপনার যদি রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা থাকে।

দৈনিক ৪০০ ইউনিটের বেশি এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য ভিটামিন-ই গ্রহণ করলে নিুলিখিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটে-

চোখে ঝাপসা দেখা,  ডায়রিয়া, মাথাঘোরা, মাথাব্যথা, বমিবমি ভাব, পেট কামড়ানো, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা।
এক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে পরিমিত পরিমাণে ভিটামিন-ই গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

Thursday, 12 April 2018

শসা খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা!



শসাতে জল আছে শতকরা ৯৫ভাগ। ফলে এটি শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে এবং ভেতরের তাপমাত্রা কে নিয়ন্ত্রণ করে দেহ শীতল রাখতে সহায়তা করে। শসায় ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম। প্রতি ১০০ গ্রাম শসায় আছে মাত্র ১৫ ক্যালরি। এতে কোনো সম্পৃক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই। সুতরাং বুঝতেই পারছেন যে ডায়েট করার ক্ষেত্রে শসা অসধারন বন্ধু হতে পারে আপনার।

Image result for cucumber

--আপনি এমন কোথাও আছেন, যেখানে হাতের কাছেজল নেই, কিন্তু শসা আছে। বড়সড় একটা শসা চিবিয়ে খেয়ে নিন। পিপাসা মিটে যাবে। আপনি হয়ে উঠবেন চনমনে।ফাইবার ও ফ্লুইডসমৃদ্ধ শসা শরীরে ফাইবার এবং জলের পরিমাণ বাড়ায়। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফাইবার থাকার কারণে শসা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে।

--কখনো কখনো আপনি শরীরের ভেতর-বাইরে প্রচণ্ড উত্তাপ অনুভব করেন। দেহে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এ অবস্থায় একটি শসা খেয়ে নিন।এ ছাড়া সূর্যের তাপে ত্বকে জ্বালা অনুভব করলে শসা কেটে ত্বকে ঘষে নিন। নিশ্চিত ফল পাবেন।

--শসায় রয়েছে স্টেরল নামের এক ধরনের উপাদান, যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, শসার খোসায়ও স্টেরল থাকে।

--শসার মধ্যে যে জল থাকে তা আমাদের দেহের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে অনেকটা অদৃশ্য ঝাটার মতো কাজ করে। নিয়মিত শসা খাওয়ায় কিডনিতে সৃষ্ট পাথরও গলে যায়।

--শসায় উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকন আছে, যা ত্বকের পরিচর্যায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। এ জন্য ত্বকের পরিচর্যায় গোসলের সময় শসা ব্যবহার করা হয়।

--প্রতিদিন আমাদের দেহে যেসব ভিটামিনের দরকার হয়, তার বেশির ভাগই শসার মধ্যে বিদ্যমান। ভিটামিন এ, বি ও সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শক্তি বাড়ায়। সবুজ শাক ও গাজরের সঙ্গে শসা পিষে রস করে খেলে এই তিন ধরনের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হবে।

--এরেপসিন নামক অ্যানজাইম থাকার কারণে শসা হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধান করে থাকে।

--সৌন্দর্যচর্চার অংশ হিসেবে অনেকে শসা গোল করে কেটে চোখের পাতায় বসিয়ে রাখেন।এতে চোখের পাতায় জমে থাকা ময়লা যেমন অপসারিত হয়, তেমনি চোখের জ্যোতি বাড়াতেও কাজ করে।চোখের প্রদাহপ্রতিরোধক উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকায় ছানি পড়া ঠেকাতেও এটি কাজ করে।

--শসা বা শসার রস ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও বেশ উপকারী।

--শসায় সিকোইসোলারিসিরেসিনোল, ল্যারিসিরেসিনোল ও পিনোরেসিনোল—এ তিনটি আয়ুর্বেদিক উপাদান আছে। জরায়ু, স্তন ও মূত্রগ্রন্থিসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে এই তিন উপাদানের জোরালো সম্পর্ক রয়েছে।

---শসার রস আলসার, গ্যাস্ট্রাইটিস, অ্যাসিডিটির ক্ষেত্রেও উপকারী।

--দুর্গন্ধযুক্ত সংক্রমণে আক্রান্ত মাড়ির চিকিৎসায় শসা দারুণ কাজ করে। গোল করে কাটা এক স্লাইস শসা জিহ্বার ওপরে রেখে সেটি টাকরার সঙ্গে চাপ দিয়ে আধা মিনিট রাখুন। শসার সাইটোকেমিক্যাল এর মধ্যে বিশেষ বিক্রিয়া ঘটিয়ে আপনার মুখের জীবাণু ধ্বংস করবে। সজীব হয়ে উঠবে আপনার নিঃশ্বাস।

--মিনারেলসমৃদ্ধ শসা নখ ভালো রাখতে, দাঁত ও মাড়ির সমস্যায় সাহায্য করে।

--শসায় প্রচুর পরিমাণে সিলিকা আছে। গাজরের রসের সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে খেলে দেহের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নেমে আসে। এতে গেঁটেবাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

---ডাক্তারের পরামর্শনুযায়ী শসার রস খেলে আর্থ্রাইটিস, অ্যাগজিমা, হার্ট ও ফুসফুসের সমস্যায় উপকার হতে পারে।

--ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের মাথা ধরে। শরীর ম্যাজম্যাজ করে। শসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সুগার আছে। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক স্লাইস শসা খেয়ে নিলে ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর এ সমস্যা থাকবে না।

--গাজরের রসের সাথে শসার রস মিশিয়ে খেতে পারেন, ইউরিক অ্যাসিড থেকে ব্যথার সমস্যা হলে অনেক কাজে দেবে।ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ঠিক রাখে শসা। এতে কিডনি থাকে সুস্থ ও সতেজ।




Wednesday, 11 April 2018

খালি পেটে থাকা অবস্থায় যেসব খাবার খাওয়া ও কাজ করা উচিত নয়



খাবার শুধু খেলেই হয় না। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দিষ্ট সময়ের বিষয়টি আমলে রাখা জরুরী। আর এটাই হলো স্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞদের অভিমত। বাংলায় প্রচলিত একটি প্রবাদ-'খালি পেটে জল, ভরা পেটে ফল।' গুরুজনদের একথাটি আসলেই ফেলনা নয়। এ বিষয়ে কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনি সুস্থ্য থাকবেন আমৃত্যু, সন্দেহ নেই।পেটে ছুঁচোদের ডন-বৈঠক চললে মনে হয় সামনে যা পাই, তা-ই খেয়ে ফেলি! যেমন ধরুন, অনেকেরই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ভীষণ খিদে পায়। তখন কোনো কিছু বাছবিচার না করেই আমরা যা আছে, তা খেয়েই কাজে যাই বা সকালবেলা তাড়াহুড়া করে বের হওয়ার সময় যা পেয়েছেন তাই মুখে দিয়ে ছুটছেন কাজে। খালি পেটে সেসব খাবার নাও সইতে পারে। খালি পেট বলতে আসলে কোন সময়টাকে বোঝায়? আমাদের পেটে একটা খাবার কতক্ষণই বা থাকে? খাবারের ধরন আর পরিপাকের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে অনেক সময় খাবার পুরোপুরি হজম হতে ছয় থেকে আট ঘণ্টা লাগলেও খাবার গ্রহণের দুই ঘণ্টা পরই পাকস্থলী খালি হয়ে যায় বলে বিবেচনা করা হয়। আর খালি পেটে কিছু কিছু কাজ করা একেবারেই উচিত নয়। তাই স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে কয়েকটি খাবারের নাম এখানে দেওয়া হল, যেগুলো খালি পেটে অবশ্যই এড়ানো উচিত।

কলা 




কলার আরেক নাম-'সুপার ফুড'। তাৎক্ষণিক শক্তি জোগান দেয়ার জন্য কলার জুড়ি মেলা ভার। কলার অনেক পুষ্টিগুণও রয়েছে। খুব সহজেই সুস্বাদু এই ফল হজম হয়। তবে, কলা খালি পেটে খেলে এতে বিদ্যমান পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম খালি পেটে কলা খেলে এসব উপাদান রক্তে অন্য উপাদানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট করে। বিশেষ করে শরীরে ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা হৃৎপিণ্ড ও রক্তের ধমনির জন্য ক্ষতিকর।

ঝাল-মসলা শত্রু



বেশির ভাগ বাঙালিই একটু ঝাল ঝাল তরকারি খেতে ভালোবাসেন।সক্কালবেলা ঘুম থেকে উঠেই একগাদা মশলাদার খাবার খেয়ে নিলেন। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা যদি থেকে থাকে, তাহলে কিন্তু ফল খুবই ক্ষতিকর হতে পারে। তবে পেট খালি থাকলে এমন ভালোবাসা বিসর্জন দেওয়াই নিরাপদ।সকালবেলা ঝাল মাংস দিয়ে পরোটা কিংবা খিচুড়ির সঙ্গে আচার খাওয়ার কথা ভাবতেই জিভে জল চলে আসে। ঝাল তরকারিতে অ্যাসিডিক বিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, যা খালি পেটে অসহনীয় জ্বালাপোড়া তৈরি করে। পেটের ভেতরকার পেশিতে সংকোচন হওয়ার ফলে পেটব্যথাও হতে পারে। তাছাড়া সকালবেলা মশলাদার খাবার খাওয়া মানে গোটা দিনের জন্য অস্বস্তি আর অ্যাসিড প্রায় নিশ্চিত। আর এমনিতে মশলা যুক্ত খাবার হজম হতেও সময় লাগে।

চা-কফি-সোডাকে ‘না’ বলুন


সকালে ঘুম থেকে উঠেই চায়ের পেয়ালায় চুমুক না দিলে অনেকের দিন শুরু হয় না। সুস্থ থাকতে চাইলে এই অভ্যাস আজই পাল্টান। চা-কফির মধ্যে রয়েছে ক্যাফেইন। খালি পেটে এই ক্যাফেইন বুকের মধ্যে জ্বালাপোড়া সৃষ্টির পাশাপাশি হজমেও ব্যাঘাত ঘটায়। যকৃত থেকে যকৃত থেকে বের হওয়া ‘বাইল’ এবং পাচক রস নিঃসরণ কমিয়ে দেয় এই পানীয়। ফলে হজম প্রণালির জন্য অন্যান্য খাবার হজম করা কঠিন হয়ে যায়। এছাড়া পাকস্থলিতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে হতে পারে গ্যাস। তাই চা-কফি খাওয়ার আগে অন্তত কিছু খেয়ে নিন, অন্তত এক গ্লাস জল হলেও খান। সকালে সব সময় নাশতার পর চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। খালি পেটে চা-কফি শরীরে সেরাটোনিনের কমতি ঘটায়, ফলে সারা দিন মন-মেজাজ খারাপ থাকতে পারে।
অভ্যাসটি ছাড়তে পারলে ভালো, তবে ছাড়া সম্ভব না হলে কফিতে দুধ বা ক্রিম মিশিয়ে নিন। দুধের ফ্যাট নেতিবাচক প্রভাবগুলি কমিয়ে দেয়। কফির ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক কফিকে বেশি প্রাধান্য দিন।এমনকি ক্যাফেইনবিহীন কফিও খালি পেটে এসিড তৈরি করে যা বুকে ব্যথাসহ পরিপাকজনিক বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টির কারণ হয়। খালি পেটে কফি খেয়ে সকালের নাস্তা না করলে সেরোটোনিনের ঘাটতি দেখা দেয়। এতে করে পুরো দিনটা মনমরা হয়ে থাকতে হয়।

খুব গরম লাগছে, তাই ঘুম থেকে উঠেই বসে গেলেন এক গ্লাস কোল্ডড্রিঙ্কস নিয়ে—মোটেই ভালো নয়। কোল্ডড্রিঙ্কসে থাকা কার্বন-ডাই-অক্সাইড কিন্তু আপনার পেটের মিউকাস মেমব্রেনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং পাকস্থলীতে রক্ত সঞ্চালনও কমিয়ে দেয়। এর ফলে খাবার হজম হতে দেরী হয় ও হজমের নানা সমস্যা হয়।
সোডা-কোল্ডড্রিংকে যে চিনি বা আর্টিফিশিয়াল সুইটনার থাকে, খালি পেটে খেলে সেগুলি শরীরের পক্ষে যথেষ্টই ক্ষতিকারক হতে পারে। কারণ, এই আর্টিফিশিয়াল সুইটনারের মধ্যে বিভিন্ন কার্বোনেটেড অ্যাসিডস থাকে, যেগুলি পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে মিশে গিয়ে পেট গোলানো অথবা বমি, বমি ভাব এবং বুক-জ্বালাও শুরু হতে পারে।

টমেটো 


অনেকে টমেটো খেতে ভালোবাসেন। কিন্তু খালি পেটে একদম টমেটো খাবেন না। পুষ্টিগুণে ভরপুর টমেটোর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পেকটিন ও ট্যানিক অ্যাসিড। খালি পেটে টমেটো খেলে পেকটিন ও ট্যানিক অ্যাসিডের সঙ্গে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের বিক্রিয়া ঘটে থাকে। এতে পাকস্থলীতে এক অদ্রবণীয় জেলের সৃষ্টি হয়, যেখান থেকে পরবর্তী সময়ে পাকস্থলীতে পাথর হয়। এ ছাড়া খালি পেটে টমেটো খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।


লেবুজাতীয় ফল

Image result for lemon
খালি পেটে টকজাতীয় কিংবা ‘সাইট্রাস’ (কমলা) ধরনের ফল পরিহার করাই ভালো। টকজাতীয় ফল, যেমন আমলকী, করমচা, তেঁতুলে প্রচুর অ্যাসিড থাকে। এতে পেট ও বুক জ্বালাপোড়া করে এবং গ্যাস্ট্রিকের সৃষ্টি হয়। খালি পেটে ‘সাইট্রাস’ ফল আপনার শৈষ্মিক ঝিল্লিকে (মিউকাস মেমব্রেন) ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে মারাত্মকভাবে, এ ছাড়া বুক জ্বালাপোড়া ও গ্যাস্ট্রিকের সৃষ্টি হয়। ফলে অস্বস্তি লাগতে পারে।
এছাড়া ফলের অতিরিক্ত আঁশ ও ফ্রুকটোজ হজম পদ্ধতি ধীর করে দেয়। ফলে হজমে গণ্ডগোল বাঁধতে পারে সারাদিনই। লেবুজাতীয় ফল যেমন কমলার জুসে এসিড ও শক্ত ফাইবার থাকে। খালি পেটের জন্যে এগুলি ক্ষতিকর। এসব ফলের রস খালি পেটে খেলে গ্যাসজনিত সমস্যার ঝুঁকি থাকে।
খালি পেটে ফলের রস খেতে হলে ১:১ বা ২:১ অনুপাতে রসের সাথে পানি মিশিয়ে নিলে ভালো হয়। তবে কেবলমাত্র লেবুজাতীয় ফলই না, খালি পেটে ফল খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

দুগ্ধজাত খাবার পরিহার করুন

Image result for dairy products
খালি পেটে আপনি এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন, কিন্তু দুগ্ধজাত খাবার না খাওয়াই ভালো। গাজান প্রক্রিয়ায় বানানো দুগ্ধজাত খাবার, যেমন দই; এ ধরনের খাবার খালি পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরি করে, যা দুগ্ধজাত খাবারের মধ্যে ল্যাকটিক অ্যাসিডের গুণাগুণ নষ্ট করে যা দইতে থাকা ল্যাক্টিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে ও আপনার শরীরের ওভার অল যে স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়াল সিস্টেম, তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। । এতে অ্যাসিডিটির সৃষ্টি হয়। তাই দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার আগে অন্য কিছু খেয়ে নিন। দই খাবার পর যত খুশি খান, আপত্তি নেই।

মিষ্টি

Image result for sweets
মিষ্টি খেতে তো বাঙালী মাত্রেই ভালবাসে। আপনিও যে ভালবাসেন তা জানি। কিন্তু সকালে খালি পেটে মিষ্টি? কক্ষনো না। মিষ্টি আপনার শরীরে ইনসুলিনের মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে আপনার অগ্ন্যাশয়ের ওপর চাপ পড়ে। এর ফলে আপনার ডায়াবেটিসও হয়ে যেতে পারে।
সকালে খালি পেটে চিনি খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে যকৃত ও অগ্ন্যাশয়ের ক্ষতি করে। এমনটি খালি পেটে পেস্ট্রি, ডোনাট বা এই ধরনের খাবার খাওয়া থেকেও বিরত থাকা উচিত। কারণ এসব খাবারে প্রক্রিয়াজাত চিনি ছাড়াও ব্যবহার করা হয় ইস্ট। এগুলো পাকস্থলির আস্তরে জ্বালাপোড়া তৈরি করে। পাশাপাশি হতে পারে পেট-ফাঁপাভাব।

শসা ও অন্যান্য সবুজ সবজি

Image result for vegetables
প্রচলিত ধারণা হলো, সবুজ শাকসবজি সব সময়ই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন অবস্থায় ভালো? এগুলো সবই খাওয়া শরীরের পক্ষে ভালো, কিন্তু ভরা পেটে। ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে শসা খেয়ে নিলেন এটা কিন্তু মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ এইসবে প্রচুর পরিমাণ অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে যা খালি পেটে খেলে অম্বল, তলপেটে ব্যথা ইত্যাদির কারণ হয়। তাই খালি পেটে এসব খাওয়ার অভ্যেস থাকলে আজই ছাড়ুন।
সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর অ্যামিনো অ্যাসিড। এই অ্যাসিড শরীরের জন্য যেমন ভালো, তেমনি খালি পেটে বিষম গ্যাস্ট্রিকের সৃষ্টি করতে পারে। শাকসবজির ‘ফাইবার’ ঠিকভাবে হজম না হলে তলপেটে ব্যথাও হতে পারে।


মদপান
Image result for alcohol
মদপান এমনিতেই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। খালি পেটে খাওয়া মানে বিষপান। এতে কিডনি, লিভার ও হৃৎপিণ্ড ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অ্যালকোহল পানের আগে খাবার না খেলে তা আপনার শরীরের অ্যালকোহল শোষণের ক্ষমতাকে দ্বিগুণ করে দেয়। পাশাপাশি শরীরে অ্যালকোহলের প্রভাব কমার সময়কালটাও বেড়ে যায়। ফলাফলস্বরূপ হ্যাংওভার দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং লিভার, কিডনী ও হৃৎপিণ্ডের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে অ্যালকোহল না খেয়ে থাকার অবস্থা না থাকলে ঠাণ্ডা নন-কার্বোনেটেড পানীয় পানের দিকে গুরুত্ব দিন। এসকল পানীয়কে শরীর তুলনামূলকভাবে ধীরে ধীরে শোষণ করে। সবচেয়ে ভালো হয় অ্যালকোহল খাওয়ার আগে অন্তত হালকা কিছু একটা হলেও খেয়ে নিলে।


ব্যথার ওষুধ

Image result for painkillers
খালি পেটে কখনোই এসপিরিন, প্যারাসিটামল বা এ জাতীয় কোনো ব্যথার ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। এতে করে তাদের কার্যকারীতা কমে যাবার পাশাপাশি ভয়াবহরকমের স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে। এ থেকে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা হয় সেটি হলো জঘন্যরকমের গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা।
দুধ এসকল ক্ষেত্রে বেশ ভালো কাজ করে। প্যারাসিটামল বা এসপিরিন জাতীয় ওষুধগুলির ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে দেয় দুধ। তবে দুধ না থাকলে ওষুধগুলি খাওয়ার আগে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিলেও হয়।

চুইংগাম

Image result for chuingam
চুইংগাম চাবানোর সময় যে এসিডটি নিঃসরিত হয় তা পাকস্থলীর আবরণ নষ্ট করে দেয়। দশ মিনিটের বেশি চুইংগাম চাবালে তা অনেকসময় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণ হয়। এছাড়াও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে যারা বেশি চুইংগাম চাবায় তারা ফলমূলের চেয়ে জাঙ্ক ফুডের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়।
যেসকল চুইংগামক মিষ্টি করতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হয় সেগুলি চিনি, সাইক্লামেট বা এসপারটেম ব্যবহার করে মিষ্টি করা চুইংগামগুলির চেয়ে কম ক্ষতি করে। দশ মিনিটের বেশি চুইংগাম চাবাবেন না। এমনকি পেট ভরা থাকলেও না!

ঘুমানো
Image result for sleeping
ক্ষুধা এবং শরীরের গ্লুকোজের ঘাটতি আমাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। মজার ব্যাপার হলো, রাতে কম ঘুম হলেও পরেরদিন আমাদের বেশি ক্ষুধা লাগে।
খালি পেটে ঘুমানো যেমন খারাপ তেমনি ঘুমের ঠিক আগে গলা পর্যন্ত খেয়ে ঘুমাতে যাওয়াটাও মোটেও ভালো না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো দুধ বা দুগ্ধজাতীয় কিছু একটা খাওয়া। কারণ এসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম থাকে। এই উপাদানগুলি ভালো ঘুমের জন্যে সহায়ক।


মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক ব্যায়াম

Image result for hard exercise

অনেকেই মনে করেন যে খালিপেটে ব্যায়াম করলে বেশি ক্যালোরি ক্ষয় হয়। সত্যিটা হলো, এই বাড়তি ক্যালোরি শরীরের চর্বি কমাতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। তবে এতে করে মাসলের পরিমাণ কমে। শরীরে পর্যাপ্ত এনার্জি না থাকায় ব্যায়ামের তীব্রতাও কমে যায়।
এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো হাঁটা বা দৌড়ানো। আপনার পরিপাকজনিত সমস্যা থাকলে যেকোনো ব্যায়ামের পূর্বে কিছু একটা খেয়ে নেওয়া ভালো কারণ শারীরিক ব্যায়ামের সময় পেটে গ্যাস সৃষ্টিকারী তরল বের হয়। খালি পেটের জন্যে সেটি ক্ষতিকর।


ঝগড়া
Image result for argument

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ক্ষুধা আমাদেরকে বিক্ষুব্ধ, অস্থির এবং অধৈর্য্য করে তোলে। এটি হয় কারণ নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যেও শক্তির প্রয়োজন হয়। আর খাওয়াদাওয়া না করলে এই শক্তিটা থাকে না।
কোনো আলোচনার আগে খাওয়াদাওয়ার সময় না থাকলে উষ্ণ কিছু একটা খেয়ে নিন আর যার সাথে আলোচনায় জড়াচ্ছেন তাকেও কিছু একটা খাওয়ান। এতে করে আলোচনাটি আরো বন্ধুত্বপূর্ণ হবে।



যে সমস্ত খাবার খালি পেটে খাবেন


বাদাম

Image result for badam
সকালে উঠে বাদাম ভেজানো খাবার অভ্যেস আছে নাকি? যদি থাকে, তাহলে অভ্যেসটা ছাড়বেন না। বাদাম কিন্তু আপনার হজমের সমস্যাকে দূর করে ও পেটে পি.এইচ.-এর মাত্রাও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

মধু

Image result for honey
সকালবেলা খালি পেটে একচামচ মধু কিন্তু আপনার সারাদিনের এনার্জি বুস্টার হয়ে উঠতে পারে! কীভাবে? মধু আসলে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ও ‘ফিল গুড’ হরমোন সেরাটোনিনের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। ফলে এক চামচ মধুই সকালে উঠে খেয়ে দেখুন। দেখবেন গোটা দিনটা আপনার ওই ‘ফিল গুড’ এফেক্টেই কেটে গেল!

তরমুজ
Image result for tormuj
তরমুজ আমাদের শরীরে প্রচুর জলীয় উপাদান বা ফ্লুয়িড সরবরাহ করতে পারে। তাছাড়া তরমুজে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপেন থাকে, যা আপনার চোখ ও হার্টের জন্য ভালো হতে পারে। তাই গরমের দিনে খালি পেটে তরমুজ খান। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় জলও পাবেন আর সারাদিন তরতাজাও থাকবেন!


ডিম

Image result for egg
সকালে ডিম খাওয়াও কিন্তু আপনার রোজকার ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রা কমাতে পারে। তাই ব্রেকফাস্টে ডিম কিন্তু আপনার জন্য অটোমেটিক চয়েস হতেই পারে।

ওটস

Image result for oats
আমরা বাঙালীরা তো মোটামুটি এখন সাহেবি ব্রেকফাস্টেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। তাই ব্রেকফাস্টে ওটসও কিন্তু আপনার জন্য দারুণ একটা অপশন হতে পারে। আপনার পেটের মধ্যে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরি হলে তা আপনার পাকস্থলীর প্রাচীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ওটসে কিছু দ্রবণীয় ফাইবার থাকে যা আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কম করতেও সাহায্য করে।
তাহলে জেনে নিলেন সকালে উঠে খালি পেটে কি কি খাওয়া যায় আর কি কি খাওয়া যায় না! এবার থেকে সেই অনুযায়ী আপনার ফাস্টকে ব্রেক করুন। দেখবেন আপনার শরীরও সারাদিন সুস্থ থাকছে, আর আপনিও।