Showing posts with label cooking(রান্না). Show all posts
Showing posts with label cooking(রান্না). Show all posts

Saturday, 15 September 2018

মহাকাশে যুদ্ধের হাওয়া - গোপন মিশনে রহস্যময় মহাকাশযান এক্স-৩৭বি!

কল অফ ডিউটি ঘোস্ট বা ইনফাইনাইট ওয়ার - বিশ্ব জুড়ে খ্যাতি পাওয়া এই গেম গুলির গুরুত্ব পূর্ণ মিশনের মধ্যে দেখানো হয়েছিল মহাকাশে যুদ্ধ, মহাকাশকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সেনাবাহিনী যা পৃথিবীর উপর এক বিপর্যয় নিয়ে আসে। সত্যি কি সেই দিন আস্তে চলেছে ? এই ভিডিও গেম গুলি কি কেবল কল্পনা থেকে যাবে না কি হয়ে উঠবে বাস্তব দূরদৃষ্টি সম্পন্ন লেখকদের আরো একটি রচনা? বর্তমানের অনেক ভিডিও গেম (যেমন - এসাসিনস ক্রিড, ব্যাটেলফিল্ড ) বাস্তব পৃথিবী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরী হচ্ছে যা পরে জনপ্রিয় হচ্ছে। যাক সে কথা পরে হবে,
আজ যে বিষয় নিয়ে বলছি তার একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হচ্ছে মার্কিন বিমান বাহিনীর মানববিহীন এক্স-৩৭বি স্পেসপ্লেন।


আকারে ছোট হলেও, অনেকটা যেন নাসার পুরনো দিনের মহাকাশযান!

লম্বায় ৩০ ফুট বা ৯.১ মিটার (মানে, একটা আড়াই তলা বাড়িকে মাটির সঙ্গে সমান্তরাল রাখলে তা যতটা জায়গা জুড়ে থাকে)। আর তার একটা ডানা থেকে অন্য ডানাটার দূরত্ব ১৫ ফুট।ওজন ৪ হাজার ৯শ' ৮৯ কেজি।

পাঠানো হয়, কিছু দিন মহাকাশে কাটিয়ে সে ফিরে আসে। তার পর আবার তাকে পাঠানো হয় মহাকাশে। কিন্তু কেন পাঠানো হয়? কেনই-বা তাকে বার বার চুপিচুপি পাঠানো হয় মহাকাশে?
মহাকাশ যাত্রায় কি ধরণের পে লোড বা মালামাল বহন করে বা পৃথিবীর কক্ষে দীর্ঘ অবস্থানকালে এটি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায় তা বরাবরই গোপন রাখে আমেরিকা।
প্রথমবারের মতো অবতরণ করে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে। অবতরণের সময় এর সৃষ্ট 'সনিক বুম' নামে পরিচিত প্রচণ্ড শব্দে অনেকেই চমকে ওঠেন।
প্রতিবারই ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যাণ্ডেনবার্গ বিমান ঘাঁটিতে এটি অবতরণ করেছে।
মার্কিন বিমান বাহিনী যেসব গোপন মিশন পরিচালনা করে এ মহাকাশ যানটি তারই অংশ ছিল। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগণ জানিয়েছে- এ মহাকাশযানটি ঝুঁকি কমানোর কাজ করছিল।

এ প্রকল্পের জন্য কত ডলার খরচ করা হয়েছে, সে বিষয়টিও গোপন রাখা হয়েছে। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো এ বিশেষ মহাকাশযানটি উড্ডয়ন করা হয়েছিল।

মার্কিন বিমান বাহিনীর মানববিহীন এক্স-৩৭বি স্পেসপ্লেনটি দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেস-এক্স উৎক্ষেপণ করবে। এর আগেও স্পেস-এক্স মহাকাশে পণ্যবাহী রকেট উৎক্ষেপণ করেছিল। পাশাপাশি ফ্যালকন রকেট পুনরুদ্ধারের চেষ্টায়ও প্রতিষ্ঠানটি সফলতার পরিচয় দেয়।

বিমান বাহিনীর সেক্রেটারি হেথার উইলসন সিনেট আর্মড সার্ভিস কমিটির শুনানিতে এ ঘোষণা দেন।

বিমান বাহিনীর দুইটি এক্স-৩৭বি স্পেসপ্লেন আছে। তবে কোনটি উৎক্ষেপণ করা হবে তা  জানানো হয় না।

এক্স-৩৭বি মহাকাশ যানটি অরবিটাল টেস্ট ভিকেল (ওটিভি) হিসেবেও পরিচিত। মার্কিন বিমানবাহিনী এক্স-৩৭বি উৎক্ষেপণের জন্য কেন স্পেস-এক্সকে বেছে নিয়েছে তা জানা যায়নি। স্পেস-এক্স এ পর্যন্ত চারটি রকেট উৎক্ষেপণ করেছে।

এটি পৃথিবী নামক গ্রহটির চারপাশে অন্তত হাজারবার ঘুরপাক খেয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের উপর দিয়ে উড়েছে বেশ ক’বার।

ক্রুবিহীন এই বিমানে কোন ককপিট-জানালা নেই। সবচেয়ে বড় পার্থক্যটি হলো, যেখানে কোন মহাকাশযান সর্বোচ্চ ১৭ দিন অবস্থান করতে পারে কক্ষপথে, সেখানে  প্রথম মিশনের আওতায় (ওটিভি-১) ২২৫ দিন মহাশূন্যে অবস্থান করেছিল এক্স-৩৭বি। তখন এটি কলোরাডোয় অবস্থিত বিমান বাহিনীর একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল।
এক্স-৩৭বি মূলত ছোট মনুষ্যবিহীন সেপসপ্লেন তৈরির জন্য নাসা’র একটি প্রজেক্টের ফলাফল। নাসা এই প্রজেক্ট ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্স প্রজেক্টস অ্যাজেন্সি’র (ডারপা) হাতে হস্তান্তর করে। কিন্তু বাজেট সমস্যার কারণে প্রজেক্টটি আমেরিকান বিমান বাহিনীর র‌্যাপিড ক্যাপাবিলিটিজ অফিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে প্রজেক্টের তত্ত্বাবধানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীই নিয়োজিত আছে। বিশ্বখ্যাত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং-এর ফ্যান্টম ওয়ার্কস বিভাগ এক্স-৩৭বি মডেলের দুইটি বিমান তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনী বলছে না, এক্স-৩৭বি মহাকাশে মূলত কী ধরনের অভিযানে নিয়োজিত। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনী প্রযুক্তিগত অর্জন হিসেবে মহাকাশ সমপর্কিত বিভিন্ন যান সমপর্কে কথা বলতে দ্বিধা বোধ করে না। কিন্তু এই মিশনের বেলায় তারা একেবারেই চুপ! ফলে গুজবের ডালপালা গজাচ্ছে।

সামরিক বাহাদুরিতে শুধু স্থল, জল আর আকাশপথেই থেমে নেই যুক্তরাষ্ট্র। 

সম্প্রতি পাওয়া তথ্যে তারা গড়তে যাচ্ছে 'মহাকাশ বাহিনী'। সেনাবাহিনীর ষষ্ঠ শাখা হিসেবে মহাকাশেও মোতায়েন থাকবে দেশটির সেনা। আগামী দুই বছরের মধ্যে এই বাহিনী মোতায়েন করা হবে। বাহিনী গঠনের জন্য এরই মধ্যে ভোট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস আর্মড সার্ভিস কমিটির সদস্যরা। খবর ইনডিপেন্ডেন্টের। যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর ষষ্ঠ শাখা হিসেবে মহাকাশ সেনা পৃথিবীর আবহমণ্ডলের বাইরে অর্থাৎ মহাশূন্যে সামরিক তৎপরতায় নিয়োজিত থাকবে। প্রয়োজনে যুদ্ধও করবে এ বাহিনী। পেন্টাগন ও মার্কিন প্রতিরক্ষাদপ্তরকে ইতিমধ্যেই এই ‘স্পেস ফোর্স’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। এই সেনাবাহিনী হবে মার্কিন নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, মেরিন, সেনাবাহিনী এবং উপকূলরক্ষীর সমকক্ষ, কিন্তু আলাদা। এটি হবে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর ষষ্ঠ শাখা। ১৯৪৭, মার্কিন বিমানবাহিনীর একাত্তর বছর পর মার্কিন সেনাবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে কোনও নতুন শাখা।বিমানবাহিনীর বৈপ্লবিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এ বাহিনী তৈরি হচ্ছে। আগামী দু'বছরের কম সময়ের মধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য মহাকাশ বাহিনী গঠনের বিষয়টি এখনও পুরোপুরি অনুমোদন পায়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে এ বাহিনী অনুমোদন লাভ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কমান্ডের ছাতার তলে চলে আসবে বিমানবাহিনীর আওতাধীন সব মহাকাশ মিশন। মহাকাশ কমান্ডের একজন নতুন প্রধানও থাকবেন। আর এর মাধ্যমে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফে যোগ হবে ১৮তম সদস্য।

ট্রাম্পের টুইট: ‘মহাকাশবাহিনী গঠনের কাজ এগিয়ে চলেছে সব দিক থেকে!’

‘আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখার সময় চলে এসেছে, প্রস্তুত হতে হবে পরবর্তী রণাঙ্গনের জন্য, যেখানে আমাদের জনগণ, আমাদের দেশের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মের হুমকিকে বাধা দেওয়া এবং পরাস্ত করার জন্য ডাকা হবে আমেরিকার সেরা ও সাহসীদের।’ বলেছেন পেন্স। ‘মহাকাশে মার্কিন গর্বের উত্তরাধিকারকে পুনর্প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। মহাকাশ, তাঁর কথায়, একটি রণাঙ্গন, ঠিক যেমন আকাশ, মাটি, জল।’

আশঙ্কা বাস্তব হলে কোলেটারাল ড্যামেজ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি হবে অবর্ণনীয়। মহাকাশে অস্থিরতা মানে বিপন্ন হবে এই বসুন্ধরার অস্তিত্ব।

নিজস্ব উগ্র জাতীয়তাবাদী মেজাজে তবু ট্রাম্প বলেছেন: ‘মহাকাশে আমেরিকার নিছক উপস্থিতিই যথেষ্ট নয়, মহাকাশে থাকা উচিত মার্কিন আধিপত্য।’

‘গত প্রজন্মে মহাকাশের পরিবেশের মৌলিক পরিবর্তন হয়েছে: একসময় যা ছিল শান্তিপূর্ণ, যেখানে ছিল না কোনও প্রতিযোগিতা, এখন তা ভিড়েঠাসা, তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা।’ পেন্সের দাবি, চীন ও রাশিয়া মহাকাশকে তাদের লড়াইয়ের খাসতালুকে পরিণত করেছে, চোখ রাঙাচ্ছে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চ্যালেঞ্জের মুখে কুঁকড়ে যাবে না।’

জুনে ট্রাম্প প্রকাশ্যে  স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতির সঙ্গে মহাকাশে সেনা গঠনের রয়েছে সরাসরি যোগ।

আটের দশকের গোড়ায় রেগান বলেছিলেন ‘স্টার ওয়ার্স’, বা মহাকাশ যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা। যদিও সেই প্রস্তাব ছিল শুধুই একটি পরিকল্পনা, যা কখনও তেমনভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু বর্তমানে  মহাকাশবাহিনী গঠনের জন্য রয়েছে অর্থ সংস্থানের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা। তবে রেগান থেকে ট্রাম্প— এই সময়ে আমেরিকা মহাকাশে স্থাপন করেছে সামরিক উপগ্রহ। একই পথে হেঁটেছে রাশিয়া, চীন। এই মুহূর্তে মহাকাশে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ৮৫৯টি উপগ্রহ। এর মধ্যে ১৫৯টি ‘সামরিক’ উপগ্রহ, যেগুলি সরাসরি অপারেট করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যেখানে চীন, রাশিয়ার রয়েছে যথাক্রমে ৭৫ ও ৩৬টি সামরিক উপগ্রহ।

মার্চে প্রথম, সান দিয়েগোতে মার্কিন সেনাবাহিনীর উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘মহাকাশ নিয়ে আমাদের কৌশল হলো: আকাশ, মাটি, জলের মতো মহাকাশও হবে আমাদের কাছে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র। তাই সেখানে যুদ্ধ করার জন্য মহাকাশবাহিনী নামে আমাদেরও থাকবে একটি আলাদা বাহিনী।’ পরে মে মাসে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে দাঁড়িয়ে একই সওয়াল করেন।

যদিও, ট্রাম্পের প্রস্তাব তাঁর মন্ত্রীসভা এবং পেন্টাগনের কাছ থেকেই বিরোধিতার মুখে পড়ে। শুরুতে বিরোধিতা করলেও ম্যাটিসই এখন বলছেন, এটি একটি ভালো পরিকল্পনা। মহাকাশ ‘একটা যুদ্ধের ময়দানে পরিণত হচ্ছে, আর আমাদের ওই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।’

তাছাড়া, এই ধারণার সমর্থক রয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের ভিতরে-বাইরে, যাঁরা বলছেন, মহাকাশ এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে নেই সামরিকবাহিনীর কোনও পৃথক শাখা।

‘মহাকাশ হলো এমন একটি জায়গা’ যেখানে পরিকাঠামোয় রয়েছে ‘শয়ে শয়ে কোটি ডলার।’ বলেছেন মার্ক অ্যালব্রেকট, যিনি ১৯৮৯-৯২ পর্যন্ত ছিলেন ন্যাশনাল স্পেস কাউন্সিলের সচিব। ‘আর্থিক লেনদেন থেকে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জি পি এস), যা আমাদের গাড়ির পথ নির্দেশ করে— হয় নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে মহাকাশ থেকে, নতুবা মহাকাশ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে।’ মহাকাশে সামরিক কার্যকলাপ, তাঁর মতে, সেকারণেই ‘মার্কিন নৌবাহিনী— যারা সমস্যা তৈরি বা যুদ্ধ এড়ানোর জন্য প্রশান্ত মহাসাগর, অতলান্তিক এবং ভূমধ্যসাগরে ঘুরে বেড়ায়— তাদের থেকে শুধু বস্তুগতভাবেই পৃথক নয়— যে সমস্ত জিনিস আজ আমরা উপভোগ করছি, তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও এটা আমাদের প্রয়োজন।’

মার্কিন সামরিকবাহিনী মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল মহাকাশের উপর। যোগাযোগ, পর্যবেক্ষণ এবং ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রকে চিহ্নিত করার জন্য এখন পেন্টাগনের কাছে মহাকাশই ভরসা। চীন ইতিমধ্যেই উপগ্রহকে ব্যবহার করে ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে আঘাত হানতে সক্ষম এমন একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আবিষ্কার করে ফেলেছে। যা নিয়ে ওয়াশিংটন খুবই উদ্বিগ্ন। ২০০৭, চীন এমনকি স্রেফ পরীক্ষা করার জন্য নিজেরই একটি আবহাওয়া-উপগ্রহকে গুলি করে নামিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যার প্রতিবাদ করেছে। অবশ্য পরের বছরই এস এম-৩ ক্ষেপণাস্ত্রকে ব্যবহার করে একটি উপগ্রহকে উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এটা কি আদৌ নতুন কোনও প্রস্তাব? মোটেই না। মহাকাশে সামরিকীকরণের এই ধারণা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন না।

সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক পর থেকেই, যখন মার্কিন সরকার জার্মানি থেকে নিয়ে এসেছিল প্রাক্তন নাৎসি রকেট বিজ্ঞানীদের। ‘মার্কিন মহাকাশ ও সমরাস্ত্র কর্মসূচিকে সাহায্য করতে তাঁদের কারিগরি কৃৎকৌশল’ ব্যবহারের জন্যই নিয়ে আসা হয়েছিল তাঁদের। লিখেছেন নিউইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জ্যাক মান্নো, তাঁর ‘আর্মিং দ্য হিভেনস: দ্য হিডেন মিলিটারি অ্যাজেন্ডা ফর স্পেস, ১৯৪৫-১৯৯৫’ গ্রন্থে। প্রায় ১,০০০ বিজ্ঞানীকে সেদিন নিয়ে আসা হয়েছিল, ‘যাঁদের অনেকেই পরে মার্কিন সামরিকবাহিনী, নাসা এবং অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন।’ যাঁর মধ্যে ছিলেন ‘ওয়ের্নহার ভ্যন ব্রাউন ও তাঁর সহকর্মীরা’, যাঁরা ‘শুরু করেছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য রকেট তৈরির কাজ।’

রহস্যজনক এক্স-৩৭বি মহাকাশ-বিমানের মতো মহাকাশে সামরিক প্রযুক্তি দেখভালের জন্য রয়েছেন ৩৬,০০০ কর্মী।  তাছাড়া, এখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে এক ধরনের মহাকাশবাহিনী: এয়ার ফোর্স স্পেস কমান্ড। এবং মার্কিন বিমানবাহিনী তার মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রতি বছর খরচ করে ৮৫০ কোটি ডলার। এটাই যথেষ্ট নয়। আলাদা মহাকাশবাহিনী না থাকার কারণে পেন্টাগন প্রতি বছর খরচ করতে পারছে না ১২,৫০০ কোটি ডলার।

১৯৫৭, স্পুটনিক-১। বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ওড়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। একবছর বাদেই, বহির্জগতের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য গঠিত হয় রাষ্ট্রসঙ্ঘের কমিটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, গণসাধারণতন্ত্রী চীন ছিল তার অংশ। ১৯৬৬, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হওয়ার পরের বছর ১৯৬৭-তে কার্যকর হয় আউটার স্পেস ট্রিটি। তিনটি দেশই সই করে সেই চুক্তিতে। অনুমোদন করে ১২৩টি দেশ।

চুক্তির মূল কথা ছিল: অনুসন্ধান, আবিষ্কারের জন্য সমস্ত দেশের কাছে মুক্ত থাকবে মহাকাশ। এই মহাকাশের কোনও কিছুকেই কোনও একটি দেশের ভূখণ্ড বলে দাবি করা যাবে না। মহাকাশের কার্যকলাপ হওয়া উচিত মানবতার কল্যাণের স্বার্থে। পারমাণবিক অস্ত্রসহ অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র নিষিদ্ধ থাকবে মহাকাশে। কোনও দেশই তা মজুত করতে পারবে না। নিজেদের মহাকাশ যানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী থাকবে সংশ্লিষ্ট সেই দেশ।

সাম্প্রতিক সময়ে, গত পঁচিশ বছর ধরে এই ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’র সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে। শুধু পারমাণবিক অস্ত্র, গণবিধ্বংসী অস্ত্রই নয়, মহাকাশে থাকবে না কোনোরকম সমরাস্ত্র। মহাকাশ হবে সমরাস্ত্র-মুক্ত। বহির্জগতে সমস্ত সমরাস্ত্র নিষিদ্ধ করার জন্য এই সময়ে চীন, রাশিয়া রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চে বারংবার খসড়া প্রস্তাব পেশ করে এসেছে। আর প্রতিবারই তা খারিজ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শেষে, গতবছর অক্টোবরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের সংশ্লিষ্ট কমিটি ‘বহির্জগতে অস্ত্র প্রতিযোগিতা প্রতিরোধে বাস্তব পদক্ষেপ’ চেয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। বিরোধিতা করে মাত্র পাঁচটি দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ব্রিটেন, ইজরায়েল, ফ্রান্স এবং ইউক্রেন। ভোট দেয় প্রস্তাবের বিরুদ্ধে। সমর্থন করে ১২১টি দেশ।

১৯৯৯ সালে এক্স-৩৭বি কর্মসূচি শুরু হয়,  মার্কিন এ গোপন মিশন নিয়ে বিশেষজ্ঞরা অনেক কথা বলছেন তবে এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চীনের মহাকাশ গবেষণাগারের ওপর গোয়েন্দাগরি করা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্স-৩৭কে নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা এবং গোয়েন্দা উপগ্রহ স্থাপনের কাজে লাগানো সম্ভব। এ সব কৃত্রিম উপগ্রহ অস্ত্র সজ্জিতও হতে পারে। অবশ্য পেন্টাগন দাবি করছে, অস্ত্রসহ কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপনের কোনো পরিকল্পনায় এক্স-৩৭ ওটিভি জড়িত নয়।

এদিকে মহাকাশ বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ মহাকাশ বিমানটি আমেরিকার সামরিক কর্মসূচীরই অংশ এবং মহাকাশ যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ। যুদ্ধকালীন সময়ে এ বিমানটি হয়ে উঠতে পারে মার্কিন সামরিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এ বিমান থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে সব ক্ষেপণাস্ত্র ও অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র। বিমানটি লেসার অস্ত্র সজ্জিত করে প্রয়োজনের সময় শত্রুর উপগ্রহগুলো অকেজো করে দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। এটি শত্রুর আন্তমহাদেশীয় ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস বা অকেজো করে দেয়ার কাজেও ব্যবহার করা হতে পারে।

কারও ধারণা, কাকপক্ষী টের পাওয়ার আগেই এটা মহাকাশ থেকে আচমকা বোমা ফেলে দিতে পারে আমেরিকার কোনও শত্রু দেশ বা কোনও উপদ্রুত অঞ্চলের ওপর।
কারও অনুমান, ‘এক্স-৩৭বি’ আমেরিকার শত্রু দেশের উপগ্রহকে বধ করার হাতিয়ার। যা ‘শত্রু’ উপগ্রহকে পুরোপুরি ধ্বংস বা তার যথেষ্ট ক্ষতি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার গোত্র ‘কিলার স্যাটেলাইট’ বা ঘাতক উপগ্রহ। 
আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ইতিমধ্যেই কৃত্রিম উপগ্রহকে ব্যবহার করেছে, করে চলেছে প্রতিরক্ষায়, প্রতি আক্রমণের কাজে। সন্দেহ নেই, শত্রু দেশের উপগ্রহগুলিকে মহাকাশে বধ করার ফন্দিও আঁটা হয়েছে কখনও সখনও।

২০১৫ সালে সেই আশঙ্কাটা জোরালো হয়েছিল একটি রুশ উপগ্রহের সন্দেহজনক গতিবিধিতে। অনেকেরই ধারণা হয়েছিল, মহাকাশে শত্রু দেশের পাঠানো উপগ্রহগুলিকে বিকল করে বা ধ্বংস করে দিতেই ওই উপগ্রহটি পাঠিয়েছে রাশিয়া।

‘এক্স-৩৭বি’ চলে সৌরশক্তিতে। তার সৌর প্যানেল সূর্যের আলো, বিকিরণ শুষে নিয়ে যে জ্বালানি বানায়, সেটাই ‘এক্স-৩৭বি’-কে দৌড় করায় কক্ষপথে।

প্রশ্ন উঠতে পারে, যদি এক্স-৩৭বি শুধুই একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হয়ে থাকে, তাহলে পেন্টাগন কেন এ সমপর্কে তথ্য প্রকাশ করছে না। এ সমপর্কে উইডেন বললেন, আমি মনে করি না যে, আমেরিকান সরকার অসৎ কিছু গোপন করার লক্ষ্যে এক্স-৩৭বি নিয়ে গোপনীয়তা অবলম্বন করছে। বরং এর কারণ হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক জড়তা।

বোয়িং বর্তমানে কেনেডি সেপস সেন্টারে অরবিটার প্রসেসিং সেন্টার রূপান্তরের কাজ করছে। বোয়িং এক্স-৩৭বি’র তুলনায় বড় এক্স-৩৭সি বানানোর প্রস্তাব করেছে। এক্স-৩৭সি ৬ জন মহাকাশযাত্রীকে নিয়ে কক্ষপথে যেতে ও ফিরতে পারবে। তবে এই প্রজেক্ট নির্ভর করবে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সমপর্কের উপর। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রের পর রাশিয়াই মহাকাশে যাত্রী পাঠানোর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সক্ষম দেশ।

Sunday, 12 August 2018

আপনার শরীরের জন্য ভিটামিন-ই কেন দরকার --

শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ভিটামিন হলো ভিটামিন-ই। এটি শারীরিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থ থাকতে ভূমিকা রাখে।

ভিটামিন - ই'র উপকারিতা--

-- কোষ নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচতে শরীরে চাই অ্যান্টঅক্সিডেন্ট উপাদান, যা ভিটামিন-ই থেকে পাওয়া যায়। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষের জন্য ক্ষতিকারক মৌলগুলির সঙ্গে লড়াই করে। দূষণ এবং ধূপমান থেকে শরীরে মুক্তমৌল তৈরি হয়। ভিটামিন ই- তে এমন এক ধরণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা কোষ নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। সাধারণত দূষণ এবং ধূমপান থেকে শরীরে যে ক্ষতিকারক মুক্তমৌল তৈরি হয় তার বিরুদ্ধে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুদ্ধ করে। এতে আমরা সুস্থ থাকতে পারি। 

-- বাজারে ভিটামিন-ই যুক্ত তেল পাওয়া যায়। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নানা উপকারিতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হল কাটাছেড়ার ক্ষত ও ব্রণ সারানো।

-- কোষ পুণর্গঠন প্রক্রিয়ার জন্য ভিটামিন-ই উপকারী হওয়ায় এটি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সক্ষম।

-- চুলের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন-ই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। চুপ পড়া, অল্প বয়সে চুল সাদা বা ধুসর হওয়া থেকে বাঁচতে চাই ভিটামিন-ই।

-- স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন-ই’তে ভরপুর খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ‘ইমিউন সেল’ বা রোগ প্রতিরোধকারী কোষ তৈরি সহায়ক, যা শরীরে তৈরি করে ব্যাকটেরিয়া-নাষক অ্যান্টিবডি।

--- গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন-ই গ্রহণ করলে হূদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, চোখের ছানি, মাংসপেশির ব্যথা, ঠাণ্ডা লাগা ও আন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়।

---  হার্ট অ্যাটাক কমাতে ভিটামিন-ই মধ্যবয়সী পুরুষ এবং মহিলা যারা ভিটামিন-ই গ্রহণ করে থাকেন, যেসব লোক গ্রহণ করেন না, তাদের চেয়ে হার্ট এ্যাটাক কম হয়। তথ্যটি জানা গেছে হার্ভার্ড স্কুলের পাবলিক হেলথ বিভাগের দ’টি পৃথক গবেষণা থেকে। দি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে প্রায় ৪০ হাজার পুরুষ যারা কমপক্ষে দুই বছর দৈনিক ন্যূনতম ১০০ I.U ভিটামিন-ই গ্রহণ করেছেন তাদের হার্ট অ্যাটাক কম হয়েছে শতকরা ৩৭ ভাগ। দ্বিতীয় গবেষণাটি করা হয় মহিলাদের নিয়ে। ৮৭ হাজার মহিলাকে নিয়ে আট বছরের এক উদ্যোগ নেয়া হয়। সেখানে দেখা গেছে, দুই বছরের বেশি সময় দৈনিক ১০০ আইইউ ভিটামিন-ই গ্রহণে মহিলাদের হার্ট এ্যাটাক শতকরা ৪১ ভাগ কমেছে।

--- মুখে কোনও ক্ষতচিহ্ন থাকলে তার উপশমে ভিটামিন ই অব্যর্থ! অ্যান্টি অক্সিড্যান্টে ভরপুর ভিটামিন ই ত্বকের নিজে থেকে সেরে ওঠার ক্ষমতাকে আরও জোরদার করে। মুখে ব্রণর ক্ষতচিহ্ন থাকলে একটা ভিটামিন ই ক্যাপসুল আধখানা করে কেটে ভিতরের তেল সরাসরি দাগের উপর লাগান। ভিটামিন ই ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে দ্রুত ক্ষতচিহ্ন সারিয়ে তোলে।

----বলিরেখা সারাতে ভিটামিন ই অত্যন্ত কার্যকরী। ভিটামিন ই-র নিয়মিত ব্যবহার ত্বকের বয়স বাড়তে দেয় না। ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু সারিয়ে ত্বক কোমল, সুন্দর করে তোলে ভিটামিন ই।

---মুখে দাগছোপ বা ত্বকের রং সব জায়গায় সমান না হলেও একমাত্র ওষুধ ভিটামিন ই। ত্বকের কোনও অংশে মেলানিন বেশি জমে গেলে সেই অংশের রং অন্যান্য অংশের চেয়ে কালো দেখায়। ত্বকের কালো অংশে ভিটামিন ই লাগালে তা ধীরে ধীরে হাইপারপিগমেন্টেশন কমিয়ে ত্বকের রং স্বাভাবিক করে তোলে।

---হাতের ত্বক শুকনো হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। সাধারণ ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজ়ার দিয়ে তা কমানো যায় না। হাতের চামড়া কুঁচকেও যায় অনেকের। এমন ক্ষেত্রে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কেটে সেই তেল হাতের ত্বকে সরাসরি ক্রিমের মতো মেখে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে চোখে পড়ার মতো তরুণ দেখাবে হাতের ত্বক।

---- ফাটা ঠোঁটের সমস্যায় বছরভর কষ্ট পান? প্রতিদিনের লিপবামের বদলে ব্যবহার করুন ভিটামিন ই তেল। ঠোঁটের রং কালো হয়ে গেলেও ভিটামিন ই তেলে ফল পাবেন।

----সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির হাত থেকে ত্বককে বাঁচাতেও আপনার ভরসা ভিটামিন ই। মুখে সানস্ক্রিন লাগানোর আগে ভিটামিন ই তেল মেখে নিন। বিকল্প হিসেবে ভিটামিন ই যুক্ত সানস্ক্রিনও ব্যবহার করতে পারেন।

-- শরীরের কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন-ই গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়। এসব হচ্ছে-
-অন্ত্রের অসুখ, লিভার বা যকৃতের অসুখ, অগ্ন্যাশয়ের অসুখ, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাকস্থলী অপসারণ।

যে শিশু টিনের দুধ খায় তাদের ভিটামিন-ই এর ঘাটতি হতে পারে। মূলত পলি স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ভিটামিন-ই এর প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়।

-- গবেষণায় জানা গেছে যে, ব্যায়াম পরবর্তী পেশী বেদনা লাঘবে ভিটামিন ‘ই’ বেশ কার্যকর। এক্ষেত্রে ভিটামিন ‘ই’ এর ফ্রী র‌্যাডিক্যাল রোধী বা এ্যান্টি অক্সিডেন্ট
ভূমিকাই কাজ করে। এমনিতে ফ্রী র‌্যাডিক্যাল  পেশীর  ছোট-খাটো কাটাছেঁড়া  মেরামত করে।  কিন্তু ফ্রী র‌্যাডিক্যালের
সংখ্যা বেড়ে গেলে তা পেশীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াঁয়। ভিটামিন ‘ই’ সেবনে ফ্রী র‌্যাডিক্যালের সংখ্যা কমে যায়
এবং পেশীর ব্যাথা নিরাময় হয়।


এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের র্হাভার্ড মেডিক্যাল স্কুল কর্তৃক প্রকাশিত এক হেলথ রিপোর্টে বলা হয় যে, ভিটামিন  ‘ই’
এর ক্ষমতার মধ্যে আরও দুটো বৈশিষ্ট্য অর্ন্তভুক্ত করা যায় যেগুলো হৃদরোগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট উপকারী ভূমিকা পালন
করে। এ দুটো বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রদাহ নিবারণ ও মসৃণ মাংস পেশীর কোষ প্রবৃদ্ধিতে সাহায্য করা। মাংস পেশীর কোষ উৎপাদন  ক্ষমতার  সংগে  প্রদাহ  নিবারণ  ক্ষমতা  এ  দুটো  গুণ  রক্তনালীর  সংকীর্ণ  হওয়াকে  প্রতিরোধ  করে।  এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্রিয়া ছাড়াও এই দুই গুণাবলীর কারণে ভিটামিন ‘ই’ হৃদরোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরও
উল্লেখ্য যে, ভিটামিন ‘ই’ এর সাহায্য ছাড়া দেহে ভিটামিন ‘এ’র শোষণ ও মজুদ হওয়া কঠিন।
ভিটামিন ‘ই’ এর ক্যান্সাররোধী গুণাবলীর কথাও জানা গেছে।

-ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাবার খান:

বাদাম, খাদ্যশস্য, ভুট্টার ভ্রুণ এবং গাঢ় সবুজ শাকসবজি ভিটামিন-ই এর চমৎকার উৎস। আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এসব খাবার রাখুন।

১) সূর্যমুখীর বীজ : সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে সর্বোচ্চ পরিমাণে ভিটামিন ই। প্রতি ১০০ গ্রাম সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে ৩৬.৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। এই বীজ থেকে যে তেল তৈরি করা হয় তা সাধারণত সালাদ, স্যুপ বা গার্নিশে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া অন্যান্য রান্নাতেও সূর্যমুখীর তেল ব্যবহার করা যায়। এতে কোনো কোলেস্টেরল নেই, রক্তচাপ ও হৃদরোগীরা অনায়াসে তা খেতে পারেন।

 ২) লাল মরিচের গুঁড়া : ঝালের কারণে আমরা অনেকেই মরিচ কম খেয়ে থাকি। অবাক হলেও কথা সত্য। জেনে অবাক হতে পারেন, সর্বোচ্চ ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবারের তালিকায় আছে লাল মরিচের গুঁড়া! প্রতি ১০০ গ্রাম লাল মরিচের গুঁড়ায় রয়েছে ২৯.৮৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। আমাদের রোজকার খাবারে আমরা মরিচের গুঁড়া ব্যবহার করে থাকি। তাই আমাদের শরীরে ভিটামিন ই-এর অভাব সচরাচর ঘটে না।

৩) কাঠ বাদাম : আমন্ড বা কাঠবাদাম ভিটামিন ই-এর জন্য বেশি জনপ্রিয়। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঠবাদামে রয়েছে ২৬.২২ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। দাম বেশি বলে কাঠবাদাম খাবার হিসেবে খুব বেশি প্রচলিত নয়। সাধারণত ক্ষীর, পায়েস, মিষ্টি, সন্দেশ, হালুয়াসহ অন্যান্য খাবার তৈরিতে অনুষঙ্গিক উপকরণ হিসেবে কাঠবাদাম ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কাঠবাদামের দুধ ও মাখনও ভিটামিন ই-এর ভালো উত্‍স।

৪) পেস্তা বাদাম : কাঠবাদামের পরেই রয়েছে পাইন নাট বা পেস্তা বাদাম। প্রতি ১০০ গ্রাম পেস্তা বাদামে রয়েছে ৯.৩৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। কাঠবাদামের মতোই পেস্তা বাদামও আমাদের দেশে বিভিন্ন খাবার তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

৫) চীনা বাদাম : চীনা বাদাম খেতে পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুব কমই আছেন! বাদাম ভাজা বেশ মুখরোচক একটি খাবার। প্রতি ১০০ গ্রাম চীনা বাদামে রয়েছে ৬.৯৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। চীনাবাদাম নানা খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। চীনাবাদামের মাখনও বেশ উপকারী।

৬) ভেষজ: ভেষজের মধ্য বেসিল ও অরিগানোতে রয়েছে সর্বোচ্চ ভিটামিন ই। প্রতি ১০০ গ্রাম বেসিল ও অরিগানোতে রয়েছে ৭.৪৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। পাস্তা, পিজা, সালাদ ও স্যান্ডউইচ তৈরির উপকরণ হিসেবে বেসিল এবং অরিগানো ব্যবহার করা হয়।

৭) শুকনো এপ্রিকট : এপ্রিকটকে বলা হয় খাদ্যআঁশ ও নানা ভিটামিনের উত্‍কৃষ্ট উত্‍স। প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনো এপ্রিকটে রয়েছে ৪.৩৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।

৮) জলপাইয়ের আচার : ভিটামিন ই-এর একটি উত্‍কৃষ্ট উত্‍স হিসেবে গণ্য করা হয় কাঁচা জলপাইকে। তবে কাঁচা জলপাইয়ের আচার হলো ভিটামিন ই-এর একটি ভালো উত্‍স। প্রতি ১০০ গ্রাম জলপাইয়ের আচারে রয়েছে ৩.৮১ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।

৯) পালং শাক : রান্না করা পালং শাক আয়রন, ক্যালসিয়াম ও খনিজ পদার্থের আধার হিসেবে পরিগণিত হয়। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ই-ও। প্রতি ১০০ গ্রাম রান্না করা পালং শাকে রয়েছে ৩.৫৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।

 ১০) কচুর মূল : আয়রন ও ক্যালসিয়ামের সর্বোত্‍কৃষ্ট উত্‍স হলো কচুর মূল। এটি আমাদের দেশে অতি সহজলভ্য একটি খাবার। আলুর বিকল্প হিসেবেও কচুর মূল খাওয়া যায়। সর্বোচ্চ ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাদ্য তালিকার দশ নম্বরে রয়েছে কচুর মূল। প্রতি ১০০ গ্রাম কচুর মূলে রয়েছে ২.৯৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।


জলপাইয়ের আচার: ভিটামিন ‘ই’ এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে গণ্য করা হয় কাঁচা জলপাইকে। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা জলপাইয়ের আচারে রয়েছে ৩.৮১ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।

খাবার রান্না করলে এবং সংরক্ষণ করে রাখলে ভিটামিন-ই কিছুটা নষ্ট হয়। শুধু ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে সেটি সুন্দর খাবারের বিকল্প হতে পারে না এবং সেটি শরীরে শক্তিও উৎপন্ন করতে পারবে না। অন্যান্য খাদ্যের উপস্থিতি ছাড়া ভিটামিনগুলো নিজেরা কাজ করতে পারে না। শরীরে ভিটামিন-ই এর শোষণের জন্য কিছুটা চর্বির প্রয়োজন হয়।
ভিটামিন-ই পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনে, যেমন- ডি-কিংবা ডিএল আলফা টকোফেরিল অ্যাসিটেট, ডি-কিংবা ডিএল-আলফা টকোফেরল এবং ডি-কিংবা এল-আলফা টকোফেরিল এসিড সাক্সিনেট।

আপনি যদি প্রেসক্রিপশন ছাড়া ভিটামিন-ই গ্রহণ করেন, তাহলে লেবেলের লেখাগুলো ভালো করে পড়ে নেবেন এবং কোনো ধরনের সতর্কতার উল্লেখ থাকলে সেটি মেনে চলবেন। কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন-ই গ্রহণে সতর্ক হতে হবে-

অ্যালার্জি : ভিটামিন-ই গ্রহণের পর কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় কিংবা অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসককে জানাতে হবে।

গর্ভাবস্থা : এটি গুরুত্বপূর্ণ, যখন আপনি গর্ভবতী হচ্ছেন তখন পর্যাপ্ত ভিটামিন গ্রহণ করছেন। তবে আপনাকে দেখতে হবে গর্ভাবস্থার পুরো সময়টা আপনি সঠিক মাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করছেন কি না, কেননা ভ্রুণের বিকাশ এবং বৃদ্ধি নির্ভর করে মায়ের সঠিক পুষ্টি গ্রহণের ওপর। গর্ভাবস্থায় বেশি মাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করলে ক্ষতি হতে পারে, তাই বেশি মাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করবেন না।

বুকের দুধ : শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য স্তনদানরত মহিলার সঠিকমাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে থাকেন তা হলে মাঝে মধ্যে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। এ ক্ষেত্রে শিশুকে অন্য উপায়ে ভিটামিন দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে আপনি যদি বুকের দুধ খাওয়ানোকালে অতিরিক্ত মাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করেন তাহলে আপনার নিজের জন্য এবং শিশুর জন্য সেটি ক্ষতিকর হবে।

শিশু : দৈনন্দিন সুপারিশকৃত মাত্রা গ্রহণের ফলে শিশুর অসুবিধার কথা জানা যায়নি। শিশু বুকের দুধ খেলে তাকে সঠিক মাত্রায় ভিটামিন দেয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। গবেষণায় দেখা গেছে নির্দিষ্ট সময়ের আগে জন্মগ্রহণকারী শিশুর শরীরে ভিটামিন-ই এর মাত্রা কম থাকে। আপনার চিকিৎসক এ ব্যাপারে ভিটামিন-ই এর মাত্রা নির্ধারণ করে দেবেন।

প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ : দৈনন্দিন সুপারিশকৃত মাত্রা গ্রহণের ফলে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধার কথা জানা যায়নি।

অন্য ওষুধ গ্রহণ : আপনি যদি ভিটামিন-ই গ্রহণের সময় অন্য কোনো ওষুধ খেতে থাকেন তা হলে অবশ্যই চিকিৎসককে জানাবেন। কারণ অনেক ক্ষেত্রে দুটি ওষুধের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করতে পারেন কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে বলতে পারেন।
অন্যান্য চিকিৎসাগত সমস্যা : অন্য কোনো চিকিৎসাগত সমস্যা উপস্থিত থাকলে ভিটামিন-ই গ্রহণের ফলে অবস্থা খারাপ হতে পারে। আপনার অন্য কোনো চিকিৎসাগত সমস্যা আছে কি না সেটি চিকিৎসককে অবশ্যই জানাবেন, বিশেষ করে আপনার যদি রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা থাকে।

দৈনিক ৪০০ ইউনিটের বেশি এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য ভিটামিন-ই গ্রহণ করলে নিুলিখিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটে-

চোখে ঝাপসা দেখা,  ডায়রিয়া, মাথাঘোরা, মাথাব্যথা, বমিবমি ভাব, পেট কামড়ানো, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা।
এক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে পরিমিত পরিমাণে ভিটামিন-ই গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

Wednesday, 4 April 2018

তুলতুলে রুটি বানানোর রেসিপি ও ১ সপ্তাহ সংরক্ষণ করার পদ্ধতি-

অনেকেই ভাবতে পারেন এই রুটি বানানো একটা ব্যাপার হলো ? কিন্তু যারা কখনোই রান্না পারে না কিংবা মা এর কাছ থেকে শেখা হয়নি তাদের জন্য বিশাল এক ব্যাপার। বিশেষ করে রুটি গোল করতে। কিন্তু বানাতে বানাতে একটা সময় গোল হয়। কিন্তু তারপরেও একটা সমস্যা রয়ে যায়। রুটি অনেক শক্ত হয়ে যায়। এমন শক্ত যে তরকারির ঝোলে ডুবিয়েও নরম করা যায় না। আজ আপনাদের জন্য থাকছে সিদ্ধ আটার রুটি কিংবা চালের রুটি কিভাবে নরম বা মোলায়েম করা যায়। যাতে রুটি ভাজার অনেক্ষন পর পর্যন্ত নরম থাকে। তাহলে দেখে নিন টিপসটি।
সিদ্ধ রুটি নরম বানানোর জন্য যখন আমরা জল বলক তুলি / জল ফুটিয়ে নিন, ওই সময় জলে এক চা চামচ তেল দিয়ে দিলে রুটি অনেক নরম হয় এবং ভাজার সময় রুটি ফুলে উঠে, খুব বেশি দেয়া যাবে না তাহলে বেশি নরম হয়ে যায়। এভাবে বানিয়ে দেখতে পারেন। লাল আটা কিংবা প্লেইন আটা দিয়ে ঠিক একই রকম করে বানাতে পারবেন। আমি চালের রুটি বানানোর সময় ঠিক একই ভাবে বানাই। অনেক নরম হয়।

উপকরন - ময়দা/ আটা – পরিমান মত, পানি – পরিমান মত, লবন – পরিমান মত, তেল – পরিমান মত
প্রনালী -
জল ফুটিয়ে তাতে লবন ও তেল দিয়ে দিন। এবার ময়দা দিয়ে সেদ্ধ করে ময়ান করে রুটি বেলে নিন। তারপর রুটিগুলিকে গরম তাওয়াতে এপাশ ঐপাস ছেকে নিন। এবার সবগুলি রুটিকে অল্প সময়ে পাতলা কাপড়ের উপর ছড়িয়ে ফ্যানের বাতাসে ঠান্ডা করে বড় বাটিতে রেখে ভাল করে বাটির ঢাকনা লাগিয়ে দিন ও নরমাল ফ্রিজে রেখে দিন। এবার যখন রুটি ভাজবেন তখন ফ্রিজ থেকে বের করে ভেজে গরম গরম পরিবেশন করুন।
যদি ২ কেজি ময়দার রুটি বানানো হয় তাহলে তাতে পৌনে এক কাপের মত তেল দিলে হবে। এছাড়াও প্রতিদিন রুটি বানানোর সময় একটু তেল দিলে ময়ানটা ভাল হয়। মনে রাখবেন ময়ান ভাল হলে রুটি বানাতেও সুবিধা আর রুটিও সুন্দর নরম হয়।
রুটি নরম ফুলকো বানানোর উপায়গুলি-
-আটা ফিল্টার করে বা আটা চেলে ব্যবহার করা উচিত, এজন্য আটা মাখার আগে চালুনিতে চেলে নিন l
-জলে অল্প দুধ দিয়ে কুসুম কুসুম গরম করে সেটা দিয়ে আটা মাখুন l
-ছানার জল আটা মাখার সময় ব্যাবহার করতে পারেন l
-কুসুম কুসুম গরম / মৃদু গরম / ঈষদুষ্ণ জলে এক চিমটি চিনি, অল্প তেল দিয়ে আটা মাখুন l
-আটা মাখার সময় বাটার মিল্ক ব্যাবহার করতে পারেন l
{ একটি পাত্রে টকদই ও জল নিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন । একে বাটার মিল্ক বলে }
- আটা একটু মেখে রেখে দিন সম্পূর্ণভাবে মাখবেন না l ১০ মিনিট পর সেটা ভাল ভাবে মেখে নিন l মাখাটা খুব নরম হবে। রুটি ও নরম হবে l
- আটা মেখে ৪- ৫ ঘণ্টা ভিজে কাপড় দিয়ে ঢেকে ঢেকে রেখে দিন গরম কোনো স্থানে। সারারাত রাখতে পারলে ভাল হয় l
-আটা মেখে আটার ডো টা কে একটা পাত্রে রেখে জলে ভিজিয়ে রাখুন l যেন ডো টা জলে ডুবে যায় l এক ঘণ্টা পর, জলটা ফেলে আটা ভাল ভাবে মেখে নিন l মাখাটা খুব নরম হবে। রুটি ও নরম হবে l
-আটার মিশ্রণটি সমান অংশে ভাগ করে নিন। এরপর একটি অংশ নিয়ে হাতের তালুতে নিয়ে ভালো করে গোল করে নিন(একটু সময় ধরে গোল করতে হবে) l
-এই গোল বলটি এবার হাতের আলতো চাপে একটু চ্যাপ্টা করে টিক্কির /লেচির আকার দিয়ে দিন।
- লেচির ভেতর অল্প তেল বা আটা দিয়ে মুখটা ভালো করে মুড়ে আবার হাতের তালুতে নিয়ে ভালো করে লেচিটা গোল করে নিন l রুটি ভালো ফুলে উঠবে l
-গনগনে আঁচে / আগুনে রুটি সেকে নিলে রুটি ভালো ভালো ফুলে উঠবে আবার নরম ও হবে।
-রুটি তুলে সঙ্গে সঙ্গে হটপটে রাখার আগে ঘি বা মাখন বা মার্জারিন ব্রাশ করতে পারেন। রুটি নরম থাকবে l
-রুটি তৈরির পর রুটি কুসুম কুসুম গরম জলে ভিজিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তুলে থালায় মেলে দিন l শুকিয়ে গেলে তুলে হটপটে দিন l রুটি নরম থাকবে l আবার সেই রুটি খাওয়ার পর অম্বল হবে না l
-- হটপটে বা নিজের পছন্দ মতন পাত্রে যাতে আপনি রুটি তুলে রাখবেন সেটাতে আপনি কাপড়/রুমাল/ টিস্যু পেপার /খবরের কাগজ / অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল বিছিয়ে দিন l
রুটি তুলে সেই কাপড়/রুমাল/ টিস্যু পেপার / খবরের কাগজ / অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে রেখে ভালো করে মুড়ে দেবেন রুটি নরম থাকবে l আর গরম রুটির ভাপে রুটি ভিজবে না l
-তেল ছাড়া শুকনো একটি প্যান/তাওয়া গরম করে এতে, শুকনো আটা দিয়ে একটু ভেজে নিন l সেই ভাজা আটা ছিটিয়ে রুটি বেলতে হবে l রুটি ভালো ফুলে উঠবে l
-আটা তাড়াহুড়ো করে মাখবেন না l মাখাটা একটু সময় নিয়ে মাখুন l সময় নিয়ে আটা মাখলে রুটি নরম হবে ও রুটি ভালো ফুলে উঠবে l
-আটা মাখার সময় একটু আলু সেদ্ধ দিয়ে আটা মাখলে রুটি নরম হবে l
-বেশী জল দিয়ে চটকে, থেসে থেসে আটা মাখুন l আটা ঠিক জল শুসে নেবে l যতো বেশী জল শুসবে, ততো আটা মাখা নরম হবে l রুটি ও নরম আর ফুলকো হবে l
-রুটি বেলার সময় বেশী আটা ছিটিয়ে রুটি বেলবেন না l যতোটা পারা যায় কম আটা ছিটিয়ে রুটি বেলবেন l রুটি ও নরম আর ফুলকো হবে l
-একসঙ্গে একটা রুটি তাওয়ায় বা ফ্রাইপ্যানে দিয়ে একটু ফোলা ফোলা হলে উঠিয়ে সঙ্গে সঙ্গে আগুনে সেকে নিলে ভালো হয়। দুটো বা তিনটে রুটি একসঙ্গে তাওয়ায় দেবেন না l
—————————————————————-
রুটি তৈরির আটা নরম করে মাখবেন l
** আবার লুচি, পরোটার জন্য ময়দা/আটা স্বাদ মতো নুন, গরম তেল দিয়ে ভাল করে ময়ান দিয়ে টানটান করে মাখতে হবে l
ডো -
সব উপকরণ মিলিয়ে যে ময়দা/আটা মাখা হয় সেই ময়দা /আটার মাখা তাল, খামির কে, যেটা থেকে লেচি কেটে, বেলে রুটি/লুচি তৈরি করা হয়। ইংরেজিতে তাকে ডো (Dough) বলা হয় l
ময়ান -
ময়দা, আটা, স্বাদ মতো নুন, গরম তেল দিয়ে ভাল করে জল ছাড়া যখন শুকনো শুকনো মাখা হয় তাকে ময়ান দেওয়া বলা হয় l
বাটার মিল্ক -
একটি পাত্রে টকদই ও জল নিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন । একে বাটার মিল্ক বলে l
ছানার জল কি -
দুধ ফেটে ছানা হয়ে গেলে যে জল পরে থাকবে সেটা ছানার জল l একটি পাতলা সুতির কাপড়ে /ছাঁকনিতে জলটা ঢেলে ছেঁকে নিন।

ভুল পদ্ধতিতে ভাত রান্নাতে ব্যাধি---

ব্রিটিশ পত্রিকা​ দ্য টেলিগ্রাফের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক লোরা ডনিলি গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন করেছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষকদের দাবি, ভুল পদ্ধতিতে রান্না করা ভাত খাওয়া হলে নিজের অজান্তেই শরীরে প্রবেশ করছে বিষ। শরীরে বাসা বাঁধছে ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মতো ব্যাধি।


আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টের কুইন্স ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকদের তাঁদের গবেষণায় এমনটাই দাবি করেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, জমিতে চাষবাদের সময় কীটনাশক ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। রান্নার পদ্ধতি ঠিক না হলে মারাত্মক বিষ শরীরে ঢুকছে। পাত্রে পানি দিয়ে চাল ভিজিয়ে রাখার পরই তা রান্না করতে হবে। ওই চাল পাত্রে দেওয়ার আগে পানি ভালোভাবে ছাড়িয়ে নিতে হবে। আর তা না হলে রান্না করা ভাতের মধ্য দিয়ে আর্সেনিক শরীরে ঢুকে যাবে, যাকে গবেষকেরা বলছেন বিষ।

গবেষকদের দাবি, এই বিষ রোধ করা একেবারেই সম্ভব নয়। তবে এর প্রভাব কমানো যাবে। তাই রান্না করার আগে সারা রাত চাল ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকেরা। সারা রাত চাল ভিজিয়ে রাখলে রাসায়নিক, টক্সিন এবং আর্সেনিকের মাত্রা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে।
আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টের কুইন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যান্ডি মেহরাগ বিবিসির অনুষ্ঠান ‘ট্রাস্ট মি, আই এম এ ডক্টর’ অনুষ্ঠানে ভাত রান্না করার তিনটি পরীক্ষিত পদ্ধতির কথা বলেছেন। প্রথমত, পাত্রে চালের দ্বিগুণ পরিমাণ পানি দিয়ে ভাত রান্না করতে হবে। এভাবে রান্নার সময় পানি ‘বাষ্প আকারে উড়ে যাবে’।
দ্বিতীয়ত, পাত্রে এক অংশ চাল হলে এর পাঁচ গুণ (অংশ) পানি দিয়ে ভাত রান্না করতে হবে। পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে (বাড়তি) চাল ধুলে আর্সেনিকের মাত্রা প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়।
আর তৃতীয় পদ্ধতিতে, চাল রাতে জগে বা পাত্রে ভিজিয়ে রেখে পরদিন ধুয়ে ফেললে বিষের মাত্রা শতকরা ৮০ শতাংশ হ্রাস হবে।

রান্না পদ্ধতিঃ
*পরিমাণ মতো শুকনো চাল একটি জগ বা পাত্রে রাখতে হবে;
*সারা রাত ধরে ওই চাল জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে
*এরপর জল পরিষ্কার না দেখা পর্যন্ত ওই চাল ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে;
*চাল থেকে ভালোভাবে জল ছাড়াতে হবে (পানি নিংড়ে নিতে হবে) ;
*এরপরই পাত্রে চাল রেখে সামান্য লবণ দিতে হবে, চাল যে পরিমাণ দেওয়া হবে তার পাঁচ গুন জল পাত্রে দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে
*পাত্রে ঢাকনা ছাড়া সম্ভব সর্বনিম্ন তাপে ১০-১৫ মিনিট চুলায় ভাত রান্না করতে হবে
*রান্না করা ভাত নরম কাঁটাচামচ ব্যবহার করে অন্য পাত্রে তুলতে হবে।

চাল ধুয়ে সেই জল ফেলবেন না, চাল ধোয়া জলের উপকার জেনে নিন !!


চাল ধোয়া জলের উপকার- ত্বক থেকে স্বাস্থ্য — সব কিছুরই খেয়াল রাখবে চাল ধোয়া জল। চাল ধোয়া জল কাচের বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে রোজ তা ব্যবহার করুন।
চাল ধুয়ে সেই জল ফেলবেন না, চাল ধোয়া জলের উপকার কিন্তু অনেক । এতে অনেক লাভও হবে। কী সেই লাভ? জেনে নিন তা।


--ভাল করে শ্যাম্পু করুন। এর পর কন্ডিশনারের মতো চুলে চাল ধোয়া জল লাগান। কয়েক মিনিট তা রেখে ধুয়ে ফেলুন। চালের প্রোটিন চুল ভাল করবে।

--- ত্বকে সংক্রমণ থাকলে দিনে অন্তত দু’বার ১৫ মিনিট করে এই জলে স্নান করুন।

--- এই জলে আট রকমের অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। যা মানুষের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। তাই চাল ধোয়া জল খেতেও পারেন।

--- ব্রণ-র সমস্যা থাকলে চাল ধোয়া জল খুবই উপকারী। তুলোয় করে এই জল দিয়ে ব্রণ-র উপরে লাগিয়ে রাখুন। ব্রণ তাড়াতাড়ি সেরে যাবে।

---ডায়রিয়ারও পথ্য চাল ধোয়া জল। এক গ্লাস জলে সামান্য নুন মিশিয়ে তা খেয়ে নিন।

---- বাইরে থেকে ফিরে ফ্রিজে রাখা ঠাণ্ডা চাল ধোয়া জলে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। তাতে ত্বক তরতাজা হবে।

Tuesday, 3 April 2018

ভাত ঝরঝরে এবং ধবধবে সাদা করতে কি করা যেতে পারে?

ভাত রান্না করার রেসিপি তো খুব একটা কেউ জানতে চায় না l কিন্তু এই সোজা জিনিসটা রান্নায় তখনই ঝামেলা পাকে যখন ভাত আঠালো হয়ে যায় l তাই আমার প্রশ্ন হলো, ভাত ঝরঝরে এবং ধবধবে সাদা করতে কি করা যেতে পারে?


ব্যক্তিগত ভাবে আমি একটু আঠালো ভাত বেশ পছন্দ করি যাই হোক, অনেক কেই দেখেছি যে একেবারে ঝরঝরে ভাত পছন্দ করেন | এখন দেখি ভাত কেন আঠালো হয়, কারণটি জানলে ব্যবস্থা করা সোজা হবে | প্রথমত - চালের মধ্যে স্টার্চ (শ্বেতসার) বেশি থাকলে তা ভাতকে আঠালো বেশি করে | যদি বাসমতি চাল দিয়ে ভাত করেন তবে দেখবেন এই ভাত কম আঠালো হচ্ছে - কারণ বাসমতি চালে স্টার্চ সবচেয়ে কম থাকে | কিন্তু দৈনন্দিন আমরা যে চাল ব্যবহার করি, সেখানে স্টার্চ বাসমতি চাল থেকে অনেক বেশি থাকে | প্রথমত, চালটি জল দিয়ে ধুয়ে নিন | একবার ধোয়ার পর আবার চালের পাত্রে জল ভরুন, এবার হাত দিয়ে চাল ভালো ভাবে মেখে নিন এবং আরো দুইবার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন | লক্ষ্য করবেন যে হাত দিয়ে চাল ধোয়ার পর জল একটু বেশি ঘোলা হয়েছে | যখন ধোয়ার সময় পানি সম্পূর্ণ পরিস্কার থাকবে, তখন বুঝবেন যে আর ধোয়াতে লাগবে না | জাপানীজরা তাদের ভাত আঠালো করার জন্য হাত দিয়ে মাখে কিন্তু সেই জল না ফেলে বরং সেটি দিয়েই ভাত রান্না করে | চালের উপরের যে স্টার্চ রান্নার সময় সবচেয়ে বেশি বের হয় সেটি আমরা ধুয়ে ফেলে দিলাম | এখন ১:২.৫ চাল ও পানির অনুপাতে ভাত চড়িয়ে দিন | মানে প্রতি কাপ চালের জন্য আড়াই কাপ জল অথবা চালের পরিমানের থেকে ৩-৪ গুন্ বেশি জল দিতে হবে এভাবে করলে যে মাড় উঠবে সেটি ফেলার দরকার নেই - যদিও মাড় ফেললে ভাত খুব ঝরঝরে হয় কিন্তু মাড়ের সাথে ভাতের অনেক পুষ্টিগুন চলে যায় | ভাত ধবধবে সাদা করার আগে দেখতে হবে কি চাল ব্যবহার করা হচ্ছে | আমন চাল থেকে তুলনামূলক ভাবে আতপ চাল সাদা বেশি হয় | এছাড়া ভাত চড়ানোর সময় কয়েক ফোঁটা লেবুর রস সবাই দিতে বলছে - আমি চেষ্টা করে দেখেছি - প্রতি কাপ চালের জন্য কয়েক ফোঁটা লাগে, তাই যদি আপনি ৪ জনের জন্য রান্না করে থাকেন তবে আধা চামচ লেবুর রস প্রতি ৪ জন এই হিসেবে দিতে পারেন | ভাত হয়ে গেলে চুলো বন্ধ করে হাড়ির ঢাকনা খুলে ভাপগুলি বের হয়ে দিন | ১০ মিনিট পর একটি কাঁটাচামচ দিয়ে ভাতের উপর 'আঁচর' কাটতে থাকেন - দেখবেন জমে থাকা ভাত গুলি লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছে এবং মনে হবে শুধু ঝরঝরেই নয়, অনেক বেড়েও গেছে | কাঁটা চামচ দিয়ে রান্না ভাতের উপর আঁচর কাটাকে রান্নার ভাষায় বলে 'Fluffing the rice' | এবার এই ভাতটি একটি বড় প্লেটে নিয়ে পরিবেশন করুন।


Sunday, 1 April 2018

ভাত রান্না

ভাত রান্না করার রেসিপি তো খুব একটা কেউ জানতে চায় না l কিন্তু এই সোজা জিনিসটা রান্নায় তখনই ঝামেলা পাকে যখন ভাত আঠালো হয়ে যায় l তাই আমার প্রশ্ন হলো, ভাত ঝরঝরে এবং ধবধবে সাদা করতে কি করা যেতে পারে?
ব্যক্তিগত ভাবে আমি একটু আঠালো ভাত বেশ পছন্দ করি যাই হোক, অনেক কেই দেখেছি যে একেবারে ঝরঝরে ভাত পছন্দ করেন | এখন দেখি ভাত কেন আঠালো হয়, কারণটি জানলে ব্যবস্থা করা সোজা হবে | প্রথমত - চালের মধ্যে স্টার্চ (শ্বেতসার) বেশি থাকলে তা ভাতকে আঠালো বেশি করে | যদি বাসমতি চাল দিয়ে ভাত করেন তবে দেখবেন এই ভাত কম আঠালো হচ্ছে - কারণ বাসমতি চালে স্টার্চ সবচেয়ে কম থাকে | কিন্তু দৈনন্দিন আমরা যে চাল ব্যবহার করি, সেখানে স্টার্চ বাসমতি চাল থেকে অনেক বেশি থাকে | প্রথমত, চালটি জল দিয়ে ধুয়ে নিন | একবার ধোয়ার পর আবার চালের পাত্রে জল ভরুন, এবার হাত দিয়ে চাল ভালো ভাবে মেখে নিন এবং আরো দুইবার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন | লক্ষ্য করবেন যে হাত দিয়ে চাল ধোয়ার পর জল একটু বেশি ঘোলা হয়েছে | যখন ধোয়ার সময় পানি সম্পূর্ণ পরিস্কার থাকবে, তখন বুঝবেন যে আর ধোয়াতে লাগবে না | জাপানীজরা তাদের ভাত আঠালো করার জন্য হাত দিয়ে মাখে কিন্তু সেই জল না ফেলে বরং সেটি দিয়েই ভাত রান্না করে | চালের উপরের যে স্টার্চ রান্নার সময় সবচেয়ে বেশি বের হয় সেটি আমরা ধুয়ে ফেলে দিলাম | এখন ১:২.৫ চাল ও পানির অনুপাতে ভাত চড়িয়ে দিন | মানে প্রতি কাপ চালের জন্য আড়াই কাপ জল অথবা চালের পরিমানের থেকে ৩-৪ গুন্ বেশি জল দিতে হবে এভাবে করলে যে মাড় উঠবে সেটি ফেলার দরকার নেই - যদিও মাড় ফেললে ভাত খুব ঝরঝরে হয় কিন্তু মাড়ের সাথে ভাতের অনেক পুষ্টিগুন চলে যায় | ভাত ধবধবে সাদা করার আগে দেখতে হবে কি চাল ব্যবহার করা হচ্ছে | আমন চাল থেকে তুলনামূলক ভাবে আতপ চাল সাদা বেশি হয় | এছাড়া ভাত চড়ানোর সময় কয়েক ফোঁটা লেবুর রস সবাই দিতে বলছে - আমি চেষ্টা করে দেখেছি - প্রতি কাপ চালের জন্য কয়েক ফোঁটা লাগে, তাই যদি আপনি ৪ জনের জন্য রান্না করে থাকেন তবে আধা চামচ লেবুর রস প্রতি ৪ জন এই হিসেবে দিতে পারেন | ভাত হয়ে গেলে চুলো বন্ধ করে হাড়ির ঢাকনা খুলে ভাপগুলি বের হয়ে দিন | ১০ মিনিট পর একটি কাঁটাচামচ দিয়ে ভাতের উপর 'আঁচর' কাটতে থাকেন - দেখবেন জমে থাকা ভাত গুলি লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছে এবং মনে হবে শুধু ঝরঝরেই নয়, অনেক বেড়েও গেছে | কাঁটা চামচ দিয়ে রান্না ভাতের উপর আঁচর কাটাকে রান্নার ভাষায় বলে 'Fluffing the rice' | এবার এই ভাতটি একটি বড় প্লেটে নিয়ে পরিবেশন করুন।

Monday, 5 March 2018

চকোলেট পরটা--


বাচ্চাদের যা বায়না হয়েছে, এটা খাবে না সেটা খাবে না। সেই কারণে মায়েদের মাথায় হাত পরেছে। এমন করে ছোট্ট সোনাটা প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে কোথা থেকে, এই নিয়ে মায়েদের ভাবনার আর শেষ নেই। তাই এমন একটি পদ বানানো আপনাদের শেখাবো। আর একবার যদি এটি বানতে শিখে যান তাহলেই কেল্লাফতে!
চকোলেট দিয়ে বানানো পরটা খেতে যেমন টেস্ট, তেমিন পুষ্টিতে ঠাসা। তাই চিন্তা দূর করে এক্ষনি করে ফেলুন। এই পদটি বানাতে প্রয়োজন পড়বে চকোলেটের। এক্ষেত্রে জেনে রাখুন, অনেক বাবা-মা মনে করেন বাচ্চার শরীরের ক্ষতি করে চকোলেট। এই ধরণা কিন্তু একেবারেই ভুল। একথা ঠিক যে চকোলেট খাওয়ার পর ভালো করে মুখ না ধুলে দাঁতে পোকা হতে পারে। এছাড়া চকোলেটের কারণে তেমন কোনও শারীরিক অসুবিধা হয় না বললেই চলে।
পরিবেশন করবেন- ৪ টে পরটা, উপকরণ গোছাতে - ১০ মিনিট, বানাতে সময় লাগবে- ১৫ মিনিট উপকরণ: ১. চকোলেট পেস্ট- ১ কাপ মতন ২. আটা- ৩ কাপ পরিমান৩. তেল- পরিমাণ মতো ৪. নুন- পরিমাণ মতো বানানোর পদ্ধতি: ১. একটা বাটিতে পরিমাণ মতো আটা নিয়ে তার সঙ্গে নুন এবং জল মেশান। ২. ভালো করে আটাটা মেখে নিন। ৩. এবার আটা মাখাটা বেলুন চাকি দিয়ে সমান করে নিন। তারপর চকোলেট পেস্টটা একেবারে মাঝখানে ছড়িয়ে দিন। ৪. আটা মাখাটা এবার সবদিক থেকে মুড়িয়ে বড় বলের মতো বানিয়ে ফেলুন। ৫. এবার আটার সেই বড় বল থেকে ছোট ছোট বল বানিয়ে পরটার মাপে বেলে ফেলুন। ৬. এবার একটা চাটু নিয়ে তা গরম করুন। তারপর পরিমাণ মতো তেল দিয়ে পরটাটা বানিয়ে ফেলুন। ৭. খেয়াল করবেন পরটার দুদিকটাই যেন ভালো করে ভাজা হয়। ৮. যখন দেখবেন পরটার রং লালচে বাদামি হয়ে গেছে তখন চাটু থেকে তুলে নিন। আপনার চকোলেট পরটা তৈরি। এবার সেগুলি পরিবেশন করুন।