Showing posts with label Facts. Show all posts
Showing posts with label Facts. Show all posts

Tuesday, 25 October 2022

ডার্টিবম্ব কি এবং রাশিয়া এটি নিয়ে কি অভিযোগ করছে ?

সম্প্রতি রাশিয়া একটি অভিযোগ জানিয়েছে যে ইউক্রেন খেরসন অঞ্চলের ওপর ডার্টি বম্ব ব্যবহার করতে পারে। আপনারা সকলেই আশা করি জানেন, ইউক্রেনের পূর্ব দিকের রুরূহানস্ক থেকে শুরু করে ক্রিমিয়া অব্দি অঞ্চল বর্তমানে রাশিয়ার অধীনে হয়ে গেছে। এই অঞ্চলের মধ্যে ডোনেস্ক, মারিওপোল এই অঞ্চলগুলিও পড়েছে। রাশিয়া দাবি করেছে, এই অঞ্চল গুলো তাদের অধীনে।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের এই ডার্টি বম্ব এর বিষয়টি নিয়ে ইউনাইটেড নেশন সিকিউরিটি কাউন্সিলকে সতর্ক করে রাশিয়ান ইউএন অ্যাম্বাসেডর ভেসেলি নেবেনজিয়া ইউ এন সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্টনিও গুত্রেসকে একটি চিঠিতে জানান, 'আমরা কিয়েভ এর দ্বারা ডার্টি বোম্ব ব্যবহার করাকে 'এক্ট অফ নিউক্লিয়ার টেরোরিজম' হিসাবে মনে করবো।'



রাশিয়ান অফিসিয়ালরা পশ্চিমা দেশগুলির ডিফেন্স মিনিস্টারদের ফোন করেছিল, এছাড়া ইউ এস, ফ্রান্স এবং তুর্কির ডিফেন্স মিনিস্টারের সাথেও কথা বলেছিল।
এর সাথে খেরশন অঞ্চলের বাসিন্দাদের রাশিয়ার পক্ষ থেকে সরে যেতে বলা হয় এবং ডার্টি বম্ব সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়। এদিকে ফ্রান্স ইউকে এবং ইউ এস একটি একত্রিত উত্তরে জানায়, তারা এই তথ্যটিকে খারিজ করে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেস্কি এই বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বলেন 'যত ধরনের ডার্টি খবর রাশিয়া ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।' রাশিয়া এ সম্পর্কে কোন প্রমাণ তুলে ধরেন নি।

এখন প্রশ্নটি হল ডার্টি বোম্ব আসলে কি জিনিস? এটা নিয়ে এত চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে কেন?
এটি একপ্রকার গতানুগতিক বিস্ফোরক তবে অন্যান্য বোবিস্ফোরকের থেকে পার্থক্য হল এর মধ্যে তেজস্ক্রিয় মেটেরিয়াল যেমন ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয় যা পারমাণবিক বোমায় ব্যবহৃত হয় এর ফলে এই বিস্ফোরকটি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে যায়, এই জন্য একে ডার্টি বোম্ব বলা হয়। কিন্তু এখানে বিষয় হলো নিউক্লিয়ার বোমে যে সকল প্রকার মেটেরিয়াল, রিফাইন করা মেটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়, এটি খুব লম্বা ও জটিল, সময় সাপেক্ষ বিষয় হয়। কিন্তু ডার্টি বম্বের ক্ষেত্রে এত রকমের রিফাইন রেডিওএকটিভ মেটিরিয়াল ব্যবহার করা হয় না বরঞ্চ, এর রেডিওএকটিভ উপাদানগুলি খুব সহজে যেমন - হসপিটালের রেডিওএকটিভ ওয়েস্ট থেকে এছাড়া নিউক্লিয়ার পাওয়ার স্টেশন ও রিসার্চ ল্যাবরেটরি থেকে জোগাড় করা রেডিও একটিভ পদার্থ গুলি এক্সস্ট্র্যাক্ট করা হয় ও তার থেকে সাধারণ বিস্ফোরকের মতই তৈরি করা হয়। তবে এই বোমার বিস্ফোরণের ফলে পরিবেশে চারিদিকে তেজস্ক্রিয় উপাদানগুলি ছড়িয়ে পড়ে যা বেঁচে থাকা যে কোন প্রাণীর পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক হয়। খুব বড় এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে যাতে সেই এলাকা খালি করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।
এই অস্ত্রটিকে 'ওয়পেন অফ মাস ডিস্ট্রাকশন' বলা হয় কারণ 'ফেডারেশন অফ আমেরিকান সাইন্টিস্ট' একটি ক্যালকুলেশন করে জানিয়েছিল যদি এই প্রকার একটি বিস্ফোরকে যাতে সাধারণত ৫ কেজি টি এন টি থাকে তার সাথে নয় গ্রাম কোবাল্ট মিশ্রিত থাকে এবং এটি ম্যানহাটনের মত শহরে বিস্ফোরণ ঘটানো হয় তবে কয়েক দশক ধরে সেই অঞ্চলে কোন প্রাণী বসবাস করতে পারবে না। কিন্তু এই ধরনের অস্ত্রগুলি একদমই সঠিকভাবে নির্ভরযোগ্য নয় তার কারণ হচ্ছে, এই বোমাটি যে অঞ্চলে বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে সেখানে বাতাস জোরে বইলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এই পাউডার আকৃতির রেডিও এক্টিভ মেটেরিয়াল গুলি ছড়িয়ে পরে যার ফলে এটি কেবলমাত্র লক্ষ্য বস্তু অর্থাৎ খেরসনের মত অঞ্চলের বিস্ফোরণ ঘটালে শুধুমাত্র এই অঞ্চলে নয় এর আশেপাশে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এটি ছড়িয়ে পড়বে এবং সমস্যা সৃষ্টি করবে।




প্রশ্ন হচ্ছে রাশিয়া এই দাবিটি কেন করছে? যেখানে ইউক্রেন ও অন্যান্য পাশ্চাত্য দেশগুলি এটি খারিজ করে দিয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে রাশিয়া আসলে নাটোর অ্যালায়েন্সকে ভাঙতে চাইছে, ইচ্ছা করে এই খবর ছড়িয়ে পাশ্চাত্য দেশগুলি ইউক্রেনকে যে সাহায্য করছিল তা বন্ধ করার চেষ্টা করছে; সে দেখাতে পারে ইউক্রেন এই সাহায্যের অপব্যবহার করছে; এছাড়া কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, রাশিয়া হয়তো নিজেই এই বিস্ফোরকটি ব্যবহার করবে এবং অপরাধটি ইউক্রেনের উপর চাপিয়ে দিতে পারে।
যদিও বহু মিলিটারি অ্যানালিস্ট এর মতে এই ধরনের ভাবনাচিন্তা ভুল কারণ, রাশিয়ার এতটাও বোকা না যে নিজের জনগণ ও সেনার উপর এই ধরনের বোমার ব্যবহার করবে।




এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এখনো অব্দি কি ডার্টি বোম্বের কোনো ব্যবহার পৃথিবীতে হয়েছে?
এখনো পর্যন্ত সাফল্যের সাথে এর ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি যদিও অনেকবার চেষ্টা করা হয়েছে।
যেমন - ১৯৯৬ সালে চেচেনয়া যুদ্ধ চলাকালীন চেচেন বিদ্রোহীরা মস্কোর ইজমাইলোভো পার্কে ডায়নামাইট এবং সিজিয়াম ১৩৭ এর সংমিশ্রনে তৈরি এই বিস্ফোরকটি পুঁতে রেখেছিল। এখানে সিজিয়ামটি ক্যান্সার চিকিৎসা করার যন্ত্রপাতি থেকে এক্সট্রাক্ট করা হয়েছিল; এরপর সিকিউরিটি সার্ভিস এই স্থানটি খুঁজে বের করে এবং ডিফিউজ করে দিয়েছিল।
এর ঠিক দুই বছর পর চেচেনয়া ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস জানতে পারে সেখানকার রেলওয়ে লাইনে একটি ডার্টি বোম্ব পুতে রাখা হয়েছে এবং তারা এটিকে নিষ্ক্রিয় করে।
চার বছর বাদে ২০০২ সালে এক ইউ এস নাগরিক যে আলকায়েদার সাথে যোগাযোগে ছিল, তাকে চিকাগো থেকে ডার্টি বোম্বের আক্রমণ করার পরিকল্পনা করার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীকালে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।




এর দু বছর বাদে এক ব্রিটিশ নাগরিক এবং আল-কায়েদার সদস্যকে একই রকম কারণের জন্য গ্রেপ্তার করা হয় এবং 30 বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এখনো অবধি নিউক্লিয়ার বোমা ব্যবহার করা দেখা গেলেও এই বিস্ফোরকটির ব্যবহার কোথাও সাফল্যের সাথে করা যায়নি। প্রশ্ন হল এখন যা পরিস্থিতি আমরা ভবিষ্যতে এর ব্যবহার দেখতে পারব? আপনাদের কি মনে হয়? যদি এটি ঘটে তাহলে তা পৃথিবীতে একটি বিশাল বড় আলোড়নের সৃষ্টি হবে।

Wednesday, 5 October 2022

ইন্ডিয়ান আর্মি এবং ইয়েতি রহস্য

১৯ এপ্রিল ২০১৯ ,সম্প্রতি কালে ইয়েতির পায়ের ছাপ পাবার ঘটনা গুলির মধ্যে যেটি সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় করে দিয়েছিল, প্রায় ছয় মিলিয়ন ফলোয়ার সমৃদ্ধ ভারতীয় সেনাবাহিনীর টুইটার একাউন্টে প্রকাশিত করা হয়েছিল। এই খানে তারা দাবি করেছিলেন যে ফটোগ্রাফ গুলি ইন্ডিয়ান আর্মি মাউন্টেনিয়ারিং এক্সপিডিশনের সময় তোলা হয়েছিল এবং এই পদচিহ্নগুলি বিশালাকৃতি প্রায় ৩২*১৫ ইঞ্চির ছিল।




পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট মাকালুর বেসে অবস্থিত মাকালু বেসক্যাম্প, যা পূর্ব নেপালের দিকে প্রায় ৪৮৭০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। হিমালয়ের এই অঞ্চলটি ১৯৫০ সাল পর্যন্ত বাইরের দুনিয়ার কাছে অজানা ছিল যতদিন না ব্রিটিশ অভিযাত্রী এরিক সিম্পটন প্রথম এখানে আরোহন করেন। তারপরেও কিছু হাতে গোনা ট্রেকারের দল ছাড়া এই অঞ্চলে তেমন কেউ যেত না সুতরাং স্থানটি ইয়েতিদের পক্ষে একটি আদর্শ স্থান হতে পারে।
প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি ১৯৫১ সালে এরিক সিম্পটন যখন একটি এভারেস্টের এক্সপিডিশন করছিলেন এবং সামিট অব্দি যাওয়ার রুটগুলি নিয়ে সার্ভে করছিলেন তখন তিনি প্রথম এখানে ইয়েতির পদচিহ্নের ফটো তোলেন।



মেনলাং বেসিনে প্রায় ১৯ হাজার ফিটে তারা এক দ্বিপদ প্রাণীর পদচিহ্ন দেখতে পান, যেগুলি ১৩*৮ ইঞ্চি আয়তনের ছিল এবং যেটি প্রায় এক মাইল দূরে গ্লেসিয়ারের দিকে চলে গিয়েছিল। সিম্পটনের সঙ্গী টম বারদিলন ফটো গুলির মধ্যে একটিতে নোট করেছিলেন, "আমি অত্যন্ত নিশ্চিত যে হিমালয় বসবাসরত পরিচিত কোন প্রাণী এত বিশালাকৃতির হতে পারে না"।



ঠিক সেরকমই হিমালয়ের পাওয়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছবিগুলোতে ডান দিকে বা বাদীকে অন্য কোন চিহ্ন না থাকায় এগুলিকে দ্বিপদ প্রাণীর মতোই মনে হচ্ছে; ঠিক যেন ইয়েতি বরফে আচ্ছাদিত প্রান্তরটি অতিক্রম করে যাচ্ছিল শীতকালীন খাদ্য সংগ্রহের জন্য। পদচিহ্নগুলো খুব বিশালাকৃতি হলেও বরফে এগুলি খুব গভীরে গিয়েছিল যা চিহ্নিত করে এটি খুব বিশাল আকৃতির কোন দ্বিপদ প্রাণীর যা পৃথিবীর অন্য কোন প্রান্তরে পরিচিত না। যখনই ইয়েতি প্রসঙ্গ আসে অনেকেরই আঙ্গুল হিমালয়ান বাদামি ভাল্লুকের দিকে অবশ্যই গিয়ে থাকে এবং এই সময়েও সেটির পুনরাবৃত্তি হয়েছিল কিন্তু আমাদেরকে এটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে ভালুকরা দ্বিপদ না। তারা সাধারণত এই তুষারাবৃত পর্বত প্রান্তরে চার পায়ের সাহায্যেই চলাচল করতে পারে। কেবলমাত্র আক্রমণ অথবা আত্মরক্ষা করার সময়ে নিজের দু পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। অপরদিকে রেকর্ড করা সবকটি পদচিহ্নই দ্বিপদ প্রাণীর ছিল। এমন কোন তুষার ভাল্লুক হবে যার পদচিহ্ন ৩২ ইঞ্চি লম্বা হবে?


সবচেয়ে বিশালাকৃতি বাদামি ভাল্লুক অথবা কৃষ্ণাঙ্গ ভাল্লুক হল কোডিয়াক ভাল্লুক যাদেরকে দক্ষিণ পশ্চিম আলাস্কায় দেখতে পাওয়া যায়। এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বিশালাকৃতি নথিভূক্ত কোডিয়াক ভাল্লুকের ওজন ৭৫১ কেজি ছিল এবং এর পায়ের দৈর্ঘ্য ৪৬ সেন্টিমিটার অর্থাৎ ১৮ ইঞ্চি ছিল; যেটি মাকালুতে পাওয়া ৩২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের অর্ধেক। আমাদের কাছে এটা মানা ছাড়া আর কোন উপায় নেই যে মনুষাকৃতির মাকালুতে পাওয়া এই পদচিহ্নগুলি মানুষের জানা কোন প্রাণীর না; যে ক্ষেত্রে একমাত্র একটি শব্দ মাথায় আসে কিংবদন্তি নিঃশব্দসঞ্চারী অদ্বিতীয় দ্বিপদ দানব 'ইয়েতি' যা হিমালয়ের অনাবৃষ্টিত দুর্গম গভীর স্থানে ঘুরে বেড়ায় এবং যার গল্প স্থানীয় লোককাহিনীতে এবং শেরপা সম্প্রদায়গুলির মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শেরপাদের কাছে এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক মতামত বা যুক্তি গুলি কোনরকম চিন্তার বিষয় না; এটি তাদের লোককাহিনীর একটি স্থায়ী অংশ এবং এই উঁচু পার্বত্য প্রান্তরে যেখানে ইয়াক পালন করে, আলু চাষ করে এবং এই তুষারবৃত পর্বতগুলি আরোহন করতে সাহায্য করে তাদের জীবিকা চলে- তার একটি রোজকার জীবনের অংশ। তারা হাতের তালুর মত এই অঞ্চলগুলিকে চেনে; এমনকি বলা যায় একমাত্র তারাই এই অঞ্চলের বিশেষজ্ঞ।


শেরপদের মধ্যে অসংখ্য ইয়েতি দেখার এবং তার পদচিহ্নের কাহিনী শোনা যায়- অনেকে আবার একপ্রকার শিস দেওয়ার বা তীক্ষ্ণ শব্দ শুনেছে তাদের যাত্রা দরুন - যা মনে করা হয় ইয়েতির শব্দ; এছাড়া অনেকে তাদের দেহের তীব্র গন্ধ পেয়েছে। সাধারণত তারা ইয়েতির বর্ণনা দেয়- একটি বড় মাথা যুক্ত বানর প্রজাতির প্রাণী হিসাবে, যার লম্বা হাত এবং মানুষের মতো মুখ, বোঁচা নাক এবং লাল ও কালো লোম দিয়ে দেহ আচ্ছাদিত। সাধারণত এটি দুই পায়ে হেঁটে হেঁটে চলে কিন্তু কখনো কখনো পার্বত্য ঢাল দিয়ে দ্রুত গতিতে চলার জন্য একে হাত ও পা দুটি ব্যবহার করতে দেখা গেছে।


শেরপাদের বিশ্বাস ইয়তিকে সহজে দেখতে পাওয়া যায় না তার প্রাথমিক একটি কারণ হচ্ছে এটি নিশাচর প্রাণী। এর একপ্রকার অতীপ্ৰাকৃত বা দৈবিক ক্ষমতা আছে এবং নিজের ইচ্ছায় এটি অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে এবং একে দেখতে পাওয়া অশনি সংকেত হিসেবে মনে করা হয়। কেউ কেউ দাবি করেন যদি ইয়েতি আপনাকে প্রথমে দেখে ফেলে তাহলে এটি একপ্রকার জাদু বা ম্যাজিক জাতীয় কিছু প্রয়োগ করে আপনায় নড়াচড়া করা থেকে বিরত করে দেয়, তারপর সে শিকারকে আক্রমণ বা খেয়ে ফেলতে পারে। যেকোনো শেরপার মুখ থেকেই শোনা যায় যে যদি আপনি ইয়েতিকে দেখতে পারেন তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিচের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যান। যদি ইয়েতি আপনাকে একটি খাড়া স্থানে নিচের দিকে ধাওয়া করে তাহলে হাওয়া তার লম্বা চুলগুলি চোখে ঢেকে কিছু সময়ের জন্য তার দৃষ্টির ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা আপনাকে পালাতে সাহায্য করবে। তবে সাধারণ ক্ষেত্রে এটি মানুষের পক্ষে ক্ষতিকারক হয় না। যদিও একে একা থাকতে দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যদি আপনি একে না ঘাটান সেও আপনার বিরক্ত করবে না, সাধারণত ইয়েতি ছোট ছোট প্রাণী যেমন ব্যাঙ থেকে শুরু করে ইদুরের মতো প্রাণী যাকে 'পিকা' বলে পরিচিত যেগুলি হিমালয়ে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, এগুলি খেয়েই বেঁচে থাকে যদিও 'ইয়াক' এর উপর আক্রমণ ও তাদের মেরে ফেলার ঘটনাও শোনা যায়। শেরপারা মনে করেন ইয়তিকে খুঁজতে কোন সংঘটিত অভিযান কখনো সাফল্য লাভ করবে না এই প্রাণীটি নিজের ইচ্ছা অনুসারে অদৃশ্য হতে পারে এবং কখনো কখনো আকস্মিকভাবে এর দেখা পাওয়া যায়।


ইন্ডিয়ান আর্মির দেওয়া ইয়েতি ফুটপ্রিন্টের আরেকটি চমকপ্রদ বিষয় হলো, ঠিক একই প্রকার পদচিহ্ন মেজর বিল টিলমান ১৯৩৭ সালে দেখতে পেয়েছিলেন যার উল্লেখ লেখক গ্রাহাম হল্যান্ডের 'Yeti: an abominable history' বইটিতে দেখা গেছে। গ্রাহাম হল্যান্ড ছিলেন ১৫ তম ব্রিটিশ অভিযাত্রী যিনি এভারেস্ট আরোহন করেছিলেন। হিমালয় আনুমানিক ৩০ টির কাছাকাছি অভিযান করেছিলেন তিনি। এই সময়কালীন তিনি শেরপাদের কাছ থেকে ইয়েতি সম্পর্কিত অনেক কাহিনী শুনেছিলেন; তিনি তার বইয়ের প্রচারের জন্য একটি আর্টিকেল লিখেছিলেন যার নাম ছিল 'top 10 yeti and abominable snowman sightings'. এখানে বেশকিছু কৌতূহল পূর্ণ তথ্য ছিল যার মধ্যে বিল টিলম্যানের বিবরণ গুলি--
টিলম্যান তার ডাইরিতে লিখেছিলেন, দুটি গ্লেসিয়ারের মাঝ বরাবর যাওয়ার সময় তিনি বরফের ওপর তুষারমানবের পদচিহ্ন দেখতে পান এগুলি ৮ ইঞ্চি ডায়ামিটার এবং ১৮ ইঞ্চি লম্বা ছিল এবং কনুই অথবা বুড়ো আঙ্গুলের চিহ্ন ছিল না। এগুলি ৩ অথবা ৪ দিনের পুরনো ছিল তাই পুরো বাইরের দিকটা হয়তো বরফের গলে যাওয়ার জন্য নিখুত ছিল না। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এগুলি সোজা লাইনে ছিল একটার পর একটা - যার ডান অথবা বাঁদিকে টাল খাওয়ার কোন চিহ্ন ছিল না। একটি চার পেয়ে প্রাণী সব সময় চলাচলের সময় একটির উপর আরেকটি পায়ের চিহ্ন রেখে যায় এবং তাদের চলাচলের পদচিহ্নগুলি এরকম হয় না। যাইহোক এই প্রাণীটি অথবা দানব টি খুব ভারী ছিল কারণ এই পদচিহ্নগুলো এক ফুটের কাছাকাছি গভীর ছিল। "আমরা এগুলিকে এক মাইলজুড়ে অনুসরণ করেছি যতক্ষণ না এটি কিছু পাথরের আড়ালে হারিয়ে গেছিল। এই পদচিহ্নগুলি একটি গ্লেসিয়ারের জলাশয় থেকে নেমে এসেছিল যেখান থেকে হয়তো প্রাণীটি জল খেয়েছিল এবং পরের দিন আমরা ঠিক একই রকম পায়ের চিহ্ন বরফের লেকের উত্তর দিকে পেয়েছিলাম।"


এটা খুব চাঞ্চল্যকর বিষয় যে প্রায় ৮৫ বছরের আগে মেজর টিলম্যানের পাওয়া ইয়েতির পদচিহ্নগুলি যেরকম সোজা ছিল একটার পর একটা যার ডান বা বাদিকে কোন ডেভিয়েশন ছিল না ঠিক একই প্রকারের পদচিহ্ন ইন্ডিয়ান আর্মি, মাকালুতে পেয়েছিল। পার্থক্য হল এই যে, মাকালুর পদচিহ্ন গুলি বিশালাকৃতি ছিল - ৩২*১৫ ইঞ্চির যেখানে মেজর টিলমানের গুলি ছিল - ১৮*৮ ইঞ্চির হয়তো মেজর টিলমানের দেখা পদচিহ্নগুলি ইয়েতির ছোট প্রজাতির এবং মাকালুর ইয়েতি গুলো সম্ভবত ইয়েতির অপর প্রজাতি যারা বিশালাকৃতি এবং ইয়াক খেয়ে থাকে।
গ্রাহাম হল্যান্ড তার আর্টিকেলে এর ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, যেগুলি তিনি অরুণাচল প্রদেশ থেকে লাদাখে হিমালয়ের রেঞ্জ ভ্রমণ কালে গ্রামবাসীদের থেকে শুনেছিলেন; সে অনুসারে তিন প্রকারের ইয়েতি হয়ে থাকে - প্রথমটি হল সবচেয়ে বিশালাকৃতির এবং ভয়ানক 'dzu-teh' যারা দু পায়ে দাঁড়ালে 8 ফুট লম্বা হয় এবং এটি এক থাবায় একটি ইয়াককে মেরে ফেলতে পারে।
এর থেকে ছোটটি হল 'chu-the' অথবা 'থেলমা' - একপ্রকার হালকা লাল রংয়ের বাচ্চাদের মত ছোট আকৃতির প্রাণী যে দু পায়ের ভর করে হাটে এবং হাতগুলি লম্বা হয়; এই প্রাণীকে সিকিম এবং নেপালের জঙ্গলে দেখতে পাওয়া যায়।
এছাড়া আর এক প্রকার হলো 'meh-teh' যারা অনেকটা মানুষের মতো দেখতে এবং এদের দেহে কমলা লাল রঙে লোম দেখতে পাওয়া যায়। এরা মানুষকে আক্রমণ করে এবং এদেরকে মনস্ট্রি গুলির দেয়ালে আঁকা চিত্রে দেখতে পাওয়া যায় বলা হয় এদের নামটি বিবর্তিত হয়ে 'yeh-teh' অথবা 'ইয়েতি' হয়েছে।



হল্যান্ডের শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী মাকালুতে পাওয়া পদচিহ্ন গুলি হয়তো এই ৮ ফুট লম্বা 'dzu-teh' এর হতে পারে যার বর্ণনা হল্যান্ডের কাহিনীতে শোনা যায়। হিমালয়ের বনমানুষ সম্পর্কে পশ্চিমে মানুষদের সবচেয়ে প্রথম বর্ণনাটি পাওয়া যায় হকটন হজশনের লেখা থেকে যেটি ১৮৩২ সালে সময়কালীন ছিল। হজসন নেপালের প্রথম ব্রিটিশ বাসিন্দা ছিল এবং প্রথম ইংরেজ - যাকে 'নিষিদ্ধ ভূমি'তে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি তার ডাইরিতে লিখেছিলেন, তার শিকারিরা একবার এক বনমানুষের আগমনে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে গিয়েছিল। হয়তো এটি ওরাং হতে পারে,
"কিন্তু তাদের বর্ণনায় আমার সন্দেহ আছে; সম্ভবত তারাই প্রাণীটিকে 'রাক্ষস' বা দৈত্য ভেবে গুলি করার পরিবর্তে পালিয়ে গিয়েছিল। তারা বলেছিল এটি লম্বা ও কালো চুলে ঢাকা ছিল এবং কোন লেজ ছিল না। নেপালি শিকারিরা ইয়েতিকে 'রাক্ষস' বলায় আমি এটা লক্ষ্য করেছিলাম যে, রাক্ষস কথাটির বর্ণনা দুটি ভারতীয় মহাকাব্য 'রামায়ণ' এবং 'মহাভারতে' পাওয়া যায়। তাদের সাধারণত এক প্রকার শয়তানিক, দুষ্ট, ভয়ঙ্কর দেখতে নিশাচর জাতীয় এবং নরখাদক হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল। যখন পুরো পৃথিবী ঘুমাতে যায় তখন তারা তাদের ডেরা থেকে বেরিয়ে আসে এবং জঙ্গলে শিকার শুরু করে; তাদের বিশালাকৃতি দেহ লাল লোমে ঢাকা এবং তারা অসম্ভব শক্তিশালী। মানুষের শক্তি তাদের কাছে কিছুই না, তারা গভীর দুর্গম জঙ্গলে বসবাস করত এবং হিমালয়ের ঢালগুলিতে তাদের শক্তি এবং ক্ষমতা অসম্ভব রকম ভাবে বেড়ে যেত; সন্ধ্যা এবং ভোরের সময় এই সময় গুলিতে তাদের যেকোন ভাবে হোক এড়িয়ে চলা উচিত তারা তাদের মায়াবী ক্ষমতার দ্বারা উধাও হয়ে যেত অথবা আকাশে উড়ে যেত এবং মানুষের মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করার জন্য অনেক রকম আকৃতি ধারণ করতে পারত।"

মহাভারতে মানুষ খেকো দানবদের নিয়ে অনেকগুলি গল্প ছিল কিন্তু এর মধ্যে একটি উল্লেখ্য একটি হল রাক্ষস ও রাজপুত্র ভীমের যুদ্ধের কাহিনী। ভীম ছিলেন তার সময়কালে পৃথিবীর সবচেয়ে বলশালী মানুষ। একদা ভীম এবং তার ভাইয়েরা অর্থাৎ পঞ্চপান্ডবেরা রাত্রিকালীন এক ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করছিলেন, যেখানে তার সাথে 'হিড়িম্বা' নামক এক রাক্ষসের লড়াই হয়; অন্যান্য ভাইয়েরা যখন ঘুমিয়ে পড়েছিল তখন তিনি তাদেরকে পাহারা দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় রাক্ষসটি মানুষের গন্ধ পায় এবং রক্ত পিপাসু হয়ে জঙ্গল ধেয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। হিরিম্বার অসাধারণ শক্তি এবং হিংস্রতা ছিল, সাথে তার লম্বা এবং তীক্ষ্ণ দাঁত ছিল। সে ক্ষুধার্ত এবং মানুষের মাংসের লোভে এগিয়ে আসছিল। তার লম্বা চেহারা এবং বিশালাকৃতি পেট ছিল এবং তার দেহের রোমগুলি লাল রঙের ছিল। তার কাঁধ গাছের উপরিভাগের মত চওড়া ছিল এবং তার কান তীরের মত তীক্ষ্ণ ছিল যাতে তাকে আরও ভয়ানক দেখাচ্ছিল। কাহিনীর এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে একসময় ভীম এই রাক্ষসের সাথে ভয়ানক এক হাতাহাতি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন। তারা দুজনেই ভূমিতে গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন এবং নিজেদের মধ্যে কুস্তি লড়ছিলেন সাথে গর্জন চলছিল। এই সময় ভীমের ছোট ভাই অর্জুন ঘুম থেকে জেগে উঠেছিল এবং ভীমকে এই রাক্ষসকে সময় নষ্ট না করে তাড়াতাড়ি নিধন করার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন; যেহেতু ভোরের সময় এর মায়াবী শক্তি বেড়ে যাবে। অবশেষে ভীম রাক্ষসের ওপর নিজের প্রাধান্য নিয়ে তার ভবলীলা সঙ্গ করে তার নিধন করেন। ভীম 'বকাসুর' নামে এক দানবের সাথে লড়েছিল যার বর্ণনা দেওয়া হয় - বিশাল দেহ এবং বিশাল শক্তি যার লাল চোখ ছিল, লাল রঙের দাড়ি এবং লাল রঙের চুল ছিল এবং তাকে ভয়ানক দেখতে ছিল এবং তার পায়ের হাড়ে যেন মাটি নিচের দিকে গর্ত হয়ে ঢুকে যাচ্ছিল। পরিষ্কারভাবে এই মানুষখেকো হিংস্র নিশাচর মহাভারতের প্রাণীরদের দেহ লাল রোমে ঢাকা ছিল। ঠিক ইয়েতির এক প্রজাতির মত যারা মানুষদের আক্রমণ করে, মহাভারতে এটাও বলা হয় যে রাক্ষসরা ঘন জঙ্গলে বসবাস করে, বিশেষ করে হিমালয়ের দুর্গম প্রান্তর গুলিতে। প্রাচীন এই কাহিনী গুলোর মাধ্যমে ইয়েতির সাথে ভারতীয় মহাকাব্যের রাক্ষসদের কিছুটা মিল পাওয়া যায়। যেখানে কিছু কিছু রাক্ষস ছোট আকৃতির, মানুষখেকো, লাল লোমে ঘেরা যারা হয়তো 'meh -teh' এর মত ছিল সেখানে অন্যান্যরা মানুষখেকো ছিল না এবং হয়তো তারা বিশালাকৃতি ইয়েতিদের মত ছিল অর্থাৎ 'dzu-teh' এর মত যাদের কালো রোমে দেহ ঢাকা ছিল এবং 'ইয়াক' এর মত প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকত।


দুর্ভাগ্যবশত যেহেতু এখনকার দিনের বেশিরভাগ বৈজ্ঞানিক ও বিশেষজ্ঞরা প্রাচীন কিংবদন্তিগুলিকে কল্পকাহিনী হিসাবে উল্লেখ করে থাকেন, তাই আমরা এক্ষেত্রে ইয়েতির মত প্রাণীদের দেখতে পাওয়ার কাহিনী ও প্রাচীন কাহিনী গুলোতে একই রকম দেখতে প্রাণীর মধ্যে মিল পেয়েও এর ব্যাখ্যা দিতে পারি না।
ইয়েতি সংক্রান্ত ঘটনাগুলি সম্ভবত হিমালয়ের অঞ্চলে হাজার হাজার বছর ধরে বিদ্যমান যার ফলে এগুলি শেরপাদের লোকোকাহিনীর অংশ হয়ে গিয়েছে। কেবলমাত্র বিংশ শতকের শুরুর দিকে যখন মাউন্টেনিয়ার এক্সপিডিশনগুলি শুরু হয়েছিল তখন, এটি আরো বিশালাক্কারের পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে থাকলো। অবশ্যই বর্তমানকালে ইয়েতিরা হয়তো আরো নির্জনে ও গোপনে থাকার নির্ণয় নিয়েছে - যেখানে একসময় তাদের খুব সহজেই দেখা যেত কিন্তু কেন এমনটা হয়েছে তা অনুমান করা একটু কঠিন। তারা কি মানুষদের ভয় পায়? ঠিক যেমনটা আমরা তাদের পাই? তারা কি আমাদের কে অসৎ, নির্দয় শিকারি হিসেবে মনে করে - যারা তাদেরকে ধ্বংস করে ও তাদের শান্তির জীবনকে শেষ করে দেবে? আমরা এসব কিছুই বলতে পারি না যতক্ষণ না তাদের সাথে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ বলেন ইয়েতিদের নিজস্ব ভাষা আছে এবং শিস এবং গর্জনের মতো সুরে তারা নিজেদের মধ্যে ভাব আদান-প্রদান করে। অনেকে মনে করে তারা পার্বত্য উপত্যকা অঞ্চল গুলির রক্ষা কর্তা। এক্ষেত্রে মিল পাওয়া যায় 'মহাভারতের' যেখানে তাদেরকে বলা হয়েছে 'হিমালয়ের রক্ষক' হিসাবে। কিন্তু পাহাড়কে তারা কাদের থেকে রক্ষা করছে এবং তারা কোন সম্পদকে রক্ষা করছে? এর আগে আমরা হিমালয়ের যে রহস্য গুলি আলোচনা করেছি, তারা কি এই ধরনের কোন আধ্যাত্মিক জগতের বা রহস্যময় কোন গোপন অঞ্চলে যাওয়ার স্থানকে রক্ষা করছে? প্রাচীনকালে কাহিনীতে এই ধরনের স্থানকে আমাদের গ্রহের ভারসাম্য রক্ষাকারী অঞ্চল হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে হয়তো তারা এই স্থানে ভুল করে মানুষের চলে আসাকে রক্ষা করার জন্য অথবা কোনো অন্য শক্তির আগমন ঠেকাতে আছে ? কোনো কিছুই অসম্ভব নয় .....






Monday, 2 August 2021

সূর্যের ধ্বংসের পর কি পৃথিবীতে প্রাণ থাকবে? নতুন গবেষণায় আশার আলো ---

বেশির ভাগ মানুষের ধারণা ছিল যখন আমাদের সূর্য ধ্বংস হবে তখন পৃথিবীতে তার ক্যাটাস্ত্রফিক প্রভাবে কোন কিছু টিকে থাকতে পারবে না কিন্তু নতুন গবেষণায় একটি আশার আলো পাওয়া গিয়েছে যাতে সূর্যের নিভে যাওয়ার পর পরই আমাদের গ্রহে আবার নতুন করে প্রাণের উৎপত্তি হতে পারে।

পৃথিবীর ম্যাগনেটিক শিল্ড বা চুম্বক বলয় সোলার উইন্ড বা সৌর ঝড়ের উত্তপ্ত চার্জড পার্টিকেল বা কণাগুলি থেকে পৃথিবী কে রক্ষা করে চলেছে।  এই পার্টিক্যাল গুলি ঘন্টায় প্রায় 1 মিলিয়ন মাইল বা 1.6 মিলিয়ন কিলোমিটার বেগে আমাদের গ্রহের দিকে ধেয়ে আসে যদিও 5 বিলিয়ন বছর পরে আমরা এখনকার মতো এতটা সৌভাগ্যবান থাকবো না, কারণ তখন এই সোলার উইন্ড সূর্যের মৃত্যুর প্রাক্কাল থেকে অতীব শক্তিশালী হয়ে উঠবে। 



সূর্যের ধ্বংসের শেষ ধাপে এটির হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে এবং এটি একটি লাল দানবে পরিণত হবে। এই সময় সৌর ঝড় এত শক্তিশালী হবে যে, এটি পৃথিবীর ম্যাগনেটিক শিল্ডকে ধ্বংস করে দেবে যার ফলে আমাদের বায়ুমণ্ডলের বেশিরভাগ অংশই মহাকাশে বিলীন হয়ে যাবে। 

যার অর্থ দাঁড়ায় আমাদের গ্রহে সূর্যের বিরুদ্ধে কোন প্রতিরক্ষা কবচ থাকবে না এবং জীবন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাবে।



এক বিলিয়ন বছরের কাছাকাছি সময় বাদে সূর্য একটি শ্বেত বামনে পরিণত হবে এবং তার কয়েক বিলিয়ন বছরে এটি সম্পূর্ণ মৃত হয়ে যাবে যা কোন রকমের আলো উৎপন্ন করতে পারবে না। এছাড়া সূর্যের আকর্ষণ ক্ষমতা এত দুর্বল হয়ে যাবে যে আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলি এখনকার অবস্থান থেকে প্রায় দ্বিগুণ দূরত্বে চলে যাবে।

গবেষকরা সোলার উইন্ড 'radiating' করা আমাদের সূর্যের থেকে 1 থেকে 7 গুণ বেশি ঘনত্ব সম্পন্ন বিভিন্ন নক্ষত্রের মডেল তৈরি করে উপলব্ধি করেছে যে, সূর্যের এই বিবর্তন চলাকালীন আমাদের ম্যাগনেটিক ফিল্ডকে অক্ষত থাকতে হলে বর্তমানের থেকে এটিকে অন্তত 1000 গুন বেশী শক্তিশালী হতে হবে।



দিমিত্রি ভেরাস যিনি ইউ. কে এর 'ওয়ারউইক ইউনিভার্সিটির' এস্ট্রোফিজিসিস্ট, দাবি করেছেন, এই গবেষণাটি প্রদর্শন করছে স্টেলার এভলিউশনের জায়েন্ট ব্রাঞ্চ ফেসগুলি অবিচ্ছিন্নভাবে চলাকালে একটি গ্রহের নিজস্ব প্রটেক্টিভ ম্যাগনেটোস্ফিয়ার মেন্টেন করার সমস্যা গুলিকে।



যদিও এটি শুনে যতটাই ধ্বংসাত্মক মনে হয় তবুও পৃথিবীর ভবিষ্যৎ জীবনের পক্ষে একটি আশার ছোট আলো পাওয়া যায়। যেহেতু শ্বেত বামনের থেকে কোন সৌর ঝড় বা সোলার উইন্ড নির্গত হতে পারে না, তাই একটি সম্ভাবনা থাকে যে আমাদের গ্রহ আবার বসবাসযোগ্য হতে পারে। তাই লাল দানবের থেকে আসা শক্তিশালী ঝড়ের বোমা বর্ষণের শেষ হওয়ার পর আবার নতুন করে প্রাণের বিবর্ধন শুরু হতে পারে। এটা সেই সকল গ্রহ যারা শ্বেত বামনকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে তাদের পক্ষেও প্রাণের সূচনার পক্ষে একটি ভালো খবর। এই গবেষণাটি " monthly notices of the the royal astronomical society"  নামক জার্নালে প্রকাশিত করা হয়েছে যেখানে আপনারা এটিকে সম্পূর্ণরূপে পড়তে পারেন।

Saturday, 8 May 2021

প্রাচীন মহাকাশযান রহস্য, সক্রেটিস কি মহাকাশে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন?

প্রাচীন গ্রীস বহু আগে বিজ্ঞান এবং গণিতের বিশেষ অগ্রগতির জন্য খ্যাতি লাভ করেছিল যা পরবর্তীকালে পাশ্চাত্যের সভ্যতাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। স্যামোসের আরিস্টারকাস কোপার্নিকাসের অনেক আগেই হেলিওসেন্ট্রিক কসমোলজি বা সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের প্রস্তাবনা দিয়েছিল এবং এছাড়াও রাইট ব্রাদার্সদের 1903 সালে উড়োজাহাজ আবিষ্কারের বহু আগেই বাষ্প চালিত উরন্ত যন্ত্র আবিষ্কারক হিসাবে তার সম্মান আছে।

এটা খুব অবাক করা বিষয় নয় যে বহু লোক দাবি করে, প্রাচীন গ্রিক এবং অন্যান্য সমকালীন অত্যাধুনিক সভ্যতা গুলি যেমন প্রাচীন চীন এবং ভারত - যারা হয়তো এখনকার মানুষের ধারণার বাইরেও উন্নত ছিল এমনকি প্রাচীন মহাকাশযান তারা বানাতে সক্ষম হয়েছিলেন।



সক্রেটিস পৃথিবীকে উপর থেকে দেখতে যে রঙিন বলের মতো মনে হয়, তার যা বর্ণনা দিয়েছেন সেটা অনেকটা কক্ষপথ থেকে বর্তমানের পৃথিবীতে দেখতে যে রকম লাগে তার সাথে মিল পাওয়া যায়।

অরবিটের এই কক্ষপথ মহাকাশচারী এবং মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের কাছে একটি বিখ্যাত প্যাসেজ যেখান থেকে ভূমির উপরে থেকে একটি পজেটিভ ভিউ পাওয়া যায়।



অন্যান্যরা যদিও মনে করেন আরো একটি লেয়ার আছে, কিন্তু কিছু গবেষকরা মনে করেন যে, এটি আসলে একটি প্রমাণ যে আসলে সক্রেটিস পৃথিবীপৃষ্ঠকে অরবিট থেকে দেখেছিলেন অথবা তার কাছে হয়তো অন্য কোন উন্নত সভ্যতার রেকর্ড ছিল যাদের কাছে প্রাচীন মহাকাশযান ছিল এবং ফলস্বরূপ তারা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দৃশ্যের নিখুঁত বর্ণনা দিতে সক্ষম হয়েছিল।

এমনকি এটাও হতে পারে হয়তো প্রাচীন গ্রিকদের কাছে আরও উন্নত প্রযুক্তি ছিল যা বর্তমান আর্কিওলজিস্ট ও ঐতিহাসিকদের ধারণার বাইরে।



প্রাচীন গ্রীকের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি --

যদিও গ্রিসের থেকে বিজ্ঞানের সূত্রপাত হয়নি তবে আধুনিক বিজ্ঞান যেভাবে পরিচালিত হয়ে চলেছে তার শিকড় প্রাচীন গ্রিসের চিন্তাধারা থেকে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, প্রাচীন মিশরীয় এবং মেসোপটেমিয়া সভ্যতা, তাদের উন্নত জ্যোতির্বিদ্যা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য পরিচিত।

প্রাচীন মিশরীয় এবং মেসোপটেমিয়ান পুরোহিতরা কেবলমাত্র জ্যোতির্বিদ্যায় আগ্রহী ছিলেন যেটি তাদের ক্যালেন্ডার পঞ্জিকা তৈরি করতে এবং জ্যোতির্বিদ্যার মাধ্যমে ঈশ্বরের ইচ্ছাকে জানতে সাহায্য করত। তেমনি  চিকিৎসকরা কেবলমাত্র এ্যানাটমী এবং ফিজিওলজিতে আগ্রহী ছিলেন যা তাদের চিকিৎসায় সাহায্য করত।

প্রাচীন সভ্যতা গুলির মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে আরেকটি পার্থক্য বলা যায়, প্রাকৃতিক ঘটনাগুলিকে ব্যাখ্যা করতে ঈশ্বরের কথা তুলে ধরা হতো; যদিও এতে কিছু ব্যতিক্রম ছিল কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সভ্যতা গুলি বিজ্ঞানকে দৈনন্দিন কার্যকলাপে ব্যবহার করত, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে বোঝার জন্য নয়। বিশ্বের গঠনগত ও অন্যান্য কার্যকলাপ বিষয়টি তখন পুরান শাস্ত্রের  অন্তর্গত রাখা হতো এই ভাবেই প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকরা চিন্তা ভাবনা করতেন। পরবর্তীকালে যেগুলি দর্শনবিদ্যায় প্রবেশ করে। 



প্রথম থেলস (৬২৪-৫৪৬ খ্রি পু:) এর সময় থেকে সক্রেটিস পূর্ব গ্রিক দার্শনিকরা বিজ্ঞানকে অন্যান্য কারনে ব্যবহার করা শুরু করলো। তাদের বৈজ্ঞানিক প্রয়োগ গুলো কেবলমাত্র ব্যবহারিক কারণ যেমন ক্যালেন্ডার তৈরি জন্য নয় বরং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে বোঝানোর কাজে লাগাতে শুরু করলেন। এছাড়াও বজ্রপাত, ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ হিসেবে ঈশ্বরকে জড়িত না করে এই দার্শনিকরা তাদের প্রকৃতির উপর অভিজ্ঞতা থেকে জড়বাদী ব্যাখ্যা খোজার চেষ্টা করলেন। যেমন - থেলস ব্যাখ্যা দিলেন, ভূমিকম্পের কারণ হলো - যার উপর স্থলভাগ ভেসে আছে সেই সমুদ্রের ঢেউ পৃথিবীর ডিস্ক গুলিতে ধাক্কা মারে ফলে ভূমিকম্প ঘটে থাকতে পারে।

 সক্রেটিস পূর্ব দার্শনিকদের বেশিরভাগ ধারণা এবং ব্যাখ্যা গুলি আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে সম্পূর্ণ ভুল ছিল কিন্তু যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার কারণ হলো তারাই প্রথম এই ভৌত জগৎকে অতিপ্রাকৃত বা দৈবিক ছেড়ে প্রাকৃতিক বা পদার্থবিদ্যাগত দিক দিয়ে ব্যাখ্যা করার বা বোঝার চেষ্টা করেছিলেন।



এই প্রচেষ্টা গুলি পরবর্তীকালে বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং-এ কিছু ফলপ্রসূ উন্নয়ন এনেছিল।

 পরবর্তী কালের গ্রিক এবং হেলেনিস্টিক বৈজ্ঞানিকরা প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কে এই ধরনের চিন্তাভাবনা করেই বাষ্প চালিত যন্ত্র, এনালগ রোবট আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং যুক্তি দিয়েছিলেন যে মানুষের বুদ্ধি মস্তিষ্ক থেকে আসে হৃদয় থেকে নয় - যেরকম প্রাচীন সভ্যতার মানুষেরা বিশ্বাস করত এবং এটাও বলেছিলেন যে পৃথিবী গোলাকার, চ্যাপ্টা নয় যেমনটা প্রাচীন জ্যোতির্বিদ এবং কিছু সক্রেটিস পূর্ব দার্শনিক যেমন থেলস এবং অনাক্সাগোরাস বলেছিল।

প্রথম যে গ্রিক দার্শনিক গোল আকৃতি পৃথিবীর স্বপক্ষে যুক্তি রেখেছিলেন তিনি হলেন পর্মানিডস (খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দি)।

 পিথাগরিয়ান স্কুল অফ ফিলোসফির প্রতিষ্ঠাতা পিথাগোরাসও  (570 থেকে 490 খ্রিস্টপূর্বাব্দ) গোলাকার পৃথিবীর সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন। সবচেয়ে বিখ্যাত পিথাগোরিয়ানদের মধ্যে একজন হলেন ফিলোলাস যিনি গোলাকার পৃথিবীতে বিশ্বাস করতেন। এছাড়া তিনি বলেছিলেন, পৃথিবী চলমান এবং এটি বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে মোটেই অবস্থিত নয়। ফিলোলাস সক্রেটিসের সমকালীন তাই সম্ভবত সক্রেটিসও তার চিন্তাধারার সাথে পরিচিত ছিল সক্রেটিসের বর্ণনা অনুযায়ী, পৃথিবী একটি রঙিন বলের মতো এবং ফিলোলাসের বর্ণনা অনুযায়ী এটি চলমান। 

 এছাড়া প্লাটো যিনি সক্রেটিসের সবচেয়ে বিখ্যাত ছাত্র ছিলেন তিনি বিশ্বাস করতেন, পৃথিবী গোলাকার ও ফিলোলাসের মহাকাশ সম্পর্কিত চিন্তাধারাগুলো কে বিশ্বাস করতেন। সক্রেটিস নিজে মহাকাশবিদ্যা সম্পর্কে প্রথমে তেমন কোনো চিন্তা ভাবনা করেননি এমনকি হয়তো সময়ও দিতেন না যদি প্লাটো এই বিষয়ে তার সাথে অসম্মতি না জানাতো।


সক্রেটিস এর সময়কালীন গোলাকৃতি পৃথিবী সম্পর্কিত ধারণা অনেকেই মেনে নিয়েছিলেন, শুধু তাই না বেশিরভাগ বিদ্বান মেধাবী গ্রীকরা দর্শন শাস্ত্রের চর্চায় আগ্রহ প্রকাশ ও যোগদান করতে শুরু করেছিল। তার মানে এই দাঁড়ায় যে তিনি এমন কিছু উল্টোপাল্টা বলেননি, যেটা প্রাচীন গ্রীকদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। এটা হয়তো প্রমাণ হতে পারে যে পৃথিবী পৃষ্ঠকে অরবিট থেকে দেখতে কেমন হয় তা সম্পর্কে গ্রিকদের প্রাথমিক ধারণা ছিল। কিন্তু তার মানে এই হয় না যে এই ধারণাটি কক্ষপথে পৌঁছাতে পারলেই হবে, এছাড়া আরেকটি সমস্যা হল প্রাচীন মানুষদের অরবিট থেকে পৃথিবীকে দেখার স্বপক্ষে কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই এবং অবশ্যই মহাকাশযান তৈরি করা সংক্রান্ত তো বটেই।

এছাড়া যদি কেউ উঁচু পর্বতের শীর্ষে যেতে পারে তবে পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে তার ধারণা হওয়া খুব একটি অসম্ভব কিছু নয়। আবার এটাও সম্ভব হতে পারে এই বিষয়গুলি কোন প্রাচীন মহাকাশযানের অস্তিত্ব থাকার প্রমাণ। অথবা কোনো উন্নত সভ্যতা যারা তাদের এই জ্ঞান দিয়েছিলো। আপনার কি মনে হয় ?



Sunday, 11 April 2021

রহস্যময় গোপন দস্তাবেজ যখন সরকারের সংগ্রহ থেকে হারিয়ে যায় ---

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে কিভাবে কিছু কিছু বিশেষ ধরনের সরকারি ফাইল বা দস্তাবেজ হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং তা কখনো আর খুঁজে পাওয়া যায় না।  এই ধরনের ঘটনা অনেকবার ঘটেছে, এর একটি নিখুঁত উদাহরণ হল রসঅয়েলের ঘটনা সংক্রান্ত যা 1947 সালের জুলাই মাসে ঘটেছিল। এমনকি ইউ এস এয়ার ফোর্স এখনো স্বীকার করে যে রসওয়েল আর্মি এয়ার ফিল্ডের থেকে বেরোনো ফাইলগুলি যেগুলো সংগ্রহ করে রাখা দরকার ছিল সেগুলো আর কখনো পাওয়া যায়নি। 



ঠিক এরকমটাই ঘটেছিল 1980 সালের 'রেন্দেলসম ফরেস্ট ইউএফও ল্যান্ডিং' সংক্রান্ত ফাইলের ক্ষেত্রে; এই ঘটনা সংক্রান্ত বহু ফাইলের অস্তিত্বের উল্লেখ থাকলেও সেগুলো কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।  এরকমই বিভিন্ন বিতর্কিত হারিয়ে যাওয়া ফাইলের ঘটনার একটি ঘটেছিলো  1970 সালে। এর সাথে আমেরিকান সরকারের ক্ষমতাশালী কিছু ব্যক্তিত্ব জড়িয়ে পড়ে এবং যেই ফাইলটি একসময় সকলের চোখের সামনে ছিল সেটি খুব দ্রুত অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনাটি যে এডগার হুভার কে কেন্দ্র করে সে বেশ কয়েক দশক ধরে এফ বি আই এর হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। 1972 সাল পর্যন্ত সে পালিয়ে বেরিয়েছিল এবং এরপর তার মৃত্যু ঘটে এবং এফবিআই ও পাল্টে যায়। 



77 বছর বয়সের হুবারের মৃত্যুর ঘটনা যখন পাওয়া যায়, তার কাছের বন্ধু এবং অ্যাসোসিয়েট ডাইরেক্টর টলসন এবং সেক্রেটারি গ্যন্ডী খুব দ্রুত উবারের গোপন ফাইল গুলি নিয়ে নেয়। হ্যাঁ, এগুলি কোন সাধারন ফাইল না যা হুবার এবং তার স্পেশাল এজেন্টরা সংগ্রহ করে রেখেছিল, এগুলি কোন সাধারন সংগ্রহের অংশ নয়-- এগুলি এফ বি আই এর হেডকোয়ার্টারে এমন গোপনীয়তার সাথে রাখা ছিল যা বেশিরভাগ কর্মকর্তাদের হাতের বাইরে ছিল। হুভারের প্ল্যান ছিল তার মৃত্যু ঘটলে, এই স্পর্শ কাতর ফাইলগুলি হয় ধ্বংস করে দেওয়া হবে অথবা এফবিআইয়ের কোন বিশ্বস্ত কর্মকর্তার হাতে দেওয়া হবে।  

অবাক করা বিষয় হলো এই নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিতদের মধ্যে একজন ছিলেন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এম নিক্সন। এফ বি আই এর তখনকার ডাইরেক্টর লুইস প্যাট্রিক গ্রে খুব দ্রুত এই গোপন ফাইল গুলি কব্জা করে এবং সেগুলিকে হোয়াইট হাউসে তার বসের কাছে পাঠিয়ে দিতে উদ্যত হন। কিন্তু গ্যন্ডী এবং টলসন খুব দক্ষতার সহকারে এই দস্তাবেজ গুলো গ্রে এর হাত থেকে দূরে রাখেন এবং বলতে গেলে সকলের থেকেই সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেন কিন্তু সেটা পুরোপুরি সফল হয়নি। 



টলসন এবং গ্যন্ডী গোপনে দস্তাবেজগুলি হুভারের ঘর থেকে নিয়ে এসে ভূগর্ভস্থ একস্থানে লুকিয়ে রাখে। ঠিক সেই সময় একটি প্রসেস শুরু করা হয় যার উদ্দেশ্য হলো গোপনীয়তায় ভরা ক্ষতিকারক অথবা গুরুত্বপূর্ণ এই দস্তাবেজ গুলির সবকটিকে ধ্বংস করে দেওয়া যদিও বহু জিনিসপত্র অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। অবাক করা বিষয় হল, এই দস্তাবেজ ধ্বংস করার জন্য জেমস জেসাস অংলেন্টন সহায়ক হিসেবে এসেছিলেন, যিনি বছরের পর বছর জুড়ে সি আই এ তে 'চিফ অফ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স' পদাধিকারী ছিলেন তিনি হুবারের বাড়িতে এসেছিলেন; সম্ভবত তার ভয় ছিল এই দস্তাবেজ গুলির মধ্যে তার বিরুদ্ধে কোন তথ্য থাকতে পারে। কানাঘুষো তে শোনা যায়, হুবারের ফাইলগুলি নষ্ট করার প্রক্রিয়া চলাকালীন একসময় অংলেনটন বেশকিছু বিশালাকৃতির ফাইলের বাক্স নিয়ে কোন এক অজ্ঞাত স্থানে উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তিনি এই ফাইলগুলি কোথাও সুরক্ষিত করে রেখেছেন অথবা নষ্ট করে দিয়েছেন তা হয়তো আমরা কোনদিনও জানতে পারবো না। 



এর মধ্যে একটি কানাঘুষো শোনা যায় যে অংলেনটন মার্লিন মনরোর গোপনীয় ফাইলের হদিশ পেয়েছিলেন। অবশ্যই মার্লিন সংক্রান্ত ফাইলগুলি এফবিআই প্রকাশ করে একটি অসাধারণ কাজ করেছিল, কিন্তু এফবিআইয়ের ওয়েবসাইটে এই হলিউড কিংবদন্তি সম্পর্কে যে ফাইল গুলি পাওয়া যায় তা হুবারের সংগ্রহের মধ্যে থেকে খুবই সাধারণ কতগুলি; কিন্তু গোপন মারলিনের ফাইলগুলি 1972 সালে হুবারের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে এবং এটি আরেকটি রহস্য যা অমীমাংসিত হয়ে রয়েছে।



প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বহু সময় ধরে হুবারের এই গোপনীয় ফাইল গুলি সম্পর্কে ভীতসন্ত্রস্ত ছিলেন। কারণ, গ্যন্ডী এবং টলসন আদতে ফাইলগুলি ধ্বংস করেছে অথবা কোথাও লুকিয়ে রেখেছে তা সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত সন্দিহান ছিলেন এবং এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপদজনক ও স্পর্শ কাতর কিছু তথ্য থাকতে পারতো, যাই হোক না কেন এই ফাইল গুলিতে যা কিছুই থাকুক না কেন সেগুলি কি ধ্বংস করা হয়েছিল, নাকি এখনো সেগুলো কোনো গোপন জায়গায় পুঁতে রাখা হয়েছে, হয়তো কোন একদিন প্রকাশ্যে আসবে সেদিন কি আমেরিকা সম্পর্কে আমাদের অবাক করা কিছু ধারনার সৃষ্টি হবে? দেখা যাক....


Saturday, 3 April 2021

মানুষ কি ভবিষ্যতে কোন বিষাক্ত প্রাণী তে বিবর্ধিত হবে?

একটি নতুন গবেষণায় তথ্য পাওয়া গেছে যে, মানুষ বিবর্তনের মাধ্যমে একটি বিষাক্ত প্রজাতিতে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। যদিও এর সম্ভাবনা খুবই কম; এই গবেষণা দেখা গেছে স্তন্যপায়ী এবং সরীসৃপদের সালিভারি গ্ল্যান্ডে বিষ তৈরি করার উপাদান আছে এবং এই ভাবেই একশটির ওপরে বিষহিন প্রজাতি বিষাক্ত প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। 




মজার ব্যাপার হলো স্তন্যপায়ীরা তাদের বিষ অন্য ভাবে ব্যবহার করে।
যেমন রক্তচোষা বাঁদরেরা তাদের বিষাক্ত লালা ব্যবহার করে ক্ষতস্থানের রক্ত তঞ্চন বা ব্লাড ক্লট হওয়া রোধ করে সেখান থেকে ক্রমাগত রক্ত পান করার জন্য।
বিষাক্ত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীরা তাদের বিষ তাদের থেকে বিশাল আকৃতির প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচতে এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের শিকারকে অসার বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত করতে ব্যবহার করে, যাতে শিকারকে তারা পরে ফিরে এসে খেতে পারে। 

আবার প্লাটিপাস জাতীয় প্রাণীদের স্যালাইভা বা লালারসে বিষ থাকে না, তাদের পায়ের পেছনদিকে বিষাক্ত স্পার থেকে নির্গত হয় যা আত্মরক্ষার কাজে আসে। 



প্রাইমেট অর্থাৎ বানর ও মানুষ জাতীয় উন্নত প্রজাতির মধ্যে একমাত্র 'স্লো লরিস' হল একটি বিষাক্ত প্রজাতি যাদের বিষ এতটা শক্তিশালী যা মাংসে পচন ঘটাতে পারে কিন্তু তারা অন্য কোন প্রাণীর উপর এগুলি প্রয়োগ করে না। কেবলমাত্র নিজেদের উপরই প্রয়োগ করে। 
তাহলে মানুষ কি এই স্লো লোরিস এর মত বিষাক্ত হবে নাকি তার থেকেও বেশি অর্থাৎ সাপ বা মাকড়সার মতো?

জাপানের 'ওকিনাওয়া ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির' এভলিউশনারি জেনেটিক্স এর ডক্টরাল স্টুডেন্ট এবং এই গবেষণার সহ-সম্পাদক অগ্নিশ বড়ুয়ার মতে, মূলত আমাদের শরীরে এর জন্য প্রয়োজনীয় সবরকম উপাদানই উপস্থিত আছে। এখন এটা কেবল বিবর্তনের উপর নির্ভর করে, যে সে আমাদের কখন ও কোথায় নিয়ে যাবে।




এই গবেষণার অপর সহ-সম্পাদক 'অস্ট্রেলিয়ান ইউনিভার্সিটির' এভলিউশনারি বায়োলজিস্ট আলেকজান্ডার মিখায়েভ এবং বড়ুয়া দুজনে মিলে কেবলমাত্র বিষ নয় বরং এই সম্পর্কিত জিন গুলি নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন। তারা এক ধরনের 'ব্রাউন পিট' প্রজাতির সর্প যাকে 'তাইওয়ান হাবু' বলা হয় তাকে নিয়ে পরীক্ষায় দেখেছেন, এমনিওট (যে সকল প্রজাতির প্রাণীরা তাদের ডিম ভিতরে বহন করে অথবা বাইরে প্রসব করে) জাতীয় প্রজাতির মধ্যে অনেকগুলি জিনের মিল আছে এবং সেই সকল জিনের মধ্যে ফোল্ডিং প্রোটিন আছে।

মানুষের লালারসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, বিশেষ করে 'কালীক্রেইন' যেই প্রোটিনগুলি অন্য প্রোটিনগুলির পচন ঘটায়। এই প্রোটিন গুলিকে লালারসে পাওয়া যায় এবং এগুলি বিভিন্ন বিষের মধ্যে বর্তমান থাকে। 'অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ডের' বায়োকেমিস্ট এবং ভেনোম বা বিষ সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ফ্রাই এই গবেষণার অংশ না হলেও তিনি দাবি করেছেন, সকল প্রাণিকুল জুড়ে যে কোন বিষের মধ্যে এইভাবে এই কালীক্রেইন এর উপস্থিতি কোন আকস্মিক ঘটনা হতে পারেনা। এটি যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি অত্যন্ত সক্রিয় উৎসেচক এবং এটি কিছু একটা ঘটাতে চলেছে।




তবে গবেষকদের মতে আপাতত আমাদের বিষাক্ত প্রাণীতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম, যদি না এমন কিছু ঘটে যা আমাদের ভবিষ্যতে বিষাক্ত প্রাণীতে বিবর্তিত হতে বাধ্য করে। লন্ডনের 'ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম'এর বিষ বা ভেনম সংক্রান্তঃ গবেষক রোনাল্ড জেনার এই গবেষণার অংশ না হলেও তিনি 'লাইভ সাইন্স' কে একটি ইন্টারভিউতে এই সংক্রান্ত একটি পুনরুক্তি করেন যে, কোন প্রাণী আত্মরক্ষার্থে অথবা শিকার করার প্রয়োজনে বিষাক্ত প্রাণীতে বিবর্তিত হয়।

এই গবেষণাটি 'প্রসিডিংস অফ দা ন্যাশনাল একাডেমী অফ সাইন্সেস' জার্নালে প্রকাশিত হয় এখানে আপনারা বিস্তারে এ সম্পর্কিত তথ্য পড়তে পারেন।

Monday, 29 March 2021

হিমালয়ের ভিনগ্রহী গতিবিধি কি বেড়েই চলেছে?

এর আগেও আমারা একটি লেখনীতে হিমালয়ের পার্বত্য এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত 'কংকা পাস' নিয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরেছিলাম। আজকে আরো কিছু প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী পাওয়া কিছু বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরছি; এই এলাকার কাছাকাছি যারা ভ্রমণ করার সুযোগ বা যারা ভ্রমণ করেছেন - তাদের সাথে কথা বলার সুযোগ পেলে সেই অভিজ্ঞতা কমেন্টে লেখার অনুরোধ রইল।



'কংকা পাস' বা 'কংকা-লা' হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলের একটি অত্যন্ত দুর্গম স্থান, এটি জম্বু কাশ্মীরের লাদাখ অঞ্চল থেকে শুরু করে চীনের 'চেং চেন্ম' অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এবং বরফে ঢাকা উঁচু উঁচু শৃঙ্গ দিয়ে ঘেরা স্থান, এছাড়া বিভিন্ন দুর্গম গুহা থেকে শুরু করে ভ্যালি এবং হিমশীতল আবহাওয়া - যা আমাদের সাধারন মানুষদের জন্য অবশ্যই নয়। 
স্থানটিকে এক প্রকার পরিতক্ত দুর্গম স্থান বলা যেতে পারে যেখানে প্রাণী বলতে মাঝে মাঝে পশুপালক, যাযাবর, কিছু হিন্দু পুণ্যার্থী বা সাধু সন্ন্যাসী, অ্যাডভেঞ্চার প্রেমী মানুষ ও মিলিটারির লোকদের দেখা যায়। কিছু আউটপোস্ট এর অবস্থান ও একটি জটিল ও বিতর্কিত ইন্ডিয়া ও চায়নার বর্ডার স্থানটির উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে যেটি নিয়ে বিবাদের কথা আমরা এখনো প্রায়শই শুনতে পাই; যাই হোক এই পাথুরে দুর্গম এলাকাটি দেখতে কিছুটা ভিনগ্রহী মনে হলেও হতে পারে এবং এর পিছনে আরও একটি কারণ হলো ইউ এফ ও এবং রহস্যময় ভিনগ্রহী গতিবিধি সংক্রান্ত পৃথিবীর বিখ্যাত হটস্পট গুলির মধ্যে এটি একটি স্থান নিয়ে নিয়েছে।




বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন মানুষ যারা এই স্থানে গিয়েছেন তাদের মুখে বিভিন্ন রকমের রহস্যময় কাহিনী শোনা গিয়েছে। এগুলির মধ্যে প্রচুর মিল পাওয়া গিয়েছে যেমন- আকাশে রহস্যময় আলোর গতিবিধি যা বিভিন্ন কায়দায় ঘুরে বেড়ায় আবার হঠাৎ করে কোন এক প্রান্তে অদৃশ্য হয়ে যায়; এছাড়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রের গোলযোগ, সময়ের গোলমাল, অনেকেই অভিযোগ জানিয়েছেন হঠাৎ করে তারা বহু মাইল দূরে কোন এক স্থানে জেগে উঠেছেন এবং শেষবার তারা কোথায় ছিলেন তা ভুলে গেছেন, এর সাথে ইউএফওর গতিবিধি তো খুবই সাধারণ বিষয়। এই সকল রিপোর্টের অধিকাংশ মিলিটারি এবং মিলিটারির বিভিন্ন অধিকারীকের থেকে পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া এখানে একটি কাহিনী শোনা যায় যা হলো মাটির তলায় অবস্থিত বিশালাকৃতির বিভিন্ন টানেল এবং পৃথিবীতে বসবাসরত ভিনগ্রহীদের ইউ এফ ও এর একটি বিশাল আকৃতির বেস।

2003 সালে বর্ডারের কাছাকাছি কর্মরত ভারতীয় সেনাবাহিনীর বেশ কিছু ট্রুপ চীনের দিকের আকাশে বেশ কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন রকম আলোর গতিবিধি দেখতে পায় এবং সেগুলো এতই রহস্যময় ছিল যে তারা তাদের কমান্ডকে রিপোর্ট করে কিন্তু পরবর্তীকালে এ সম্পর্কে তাদের সুপেরিয়র অথবা চাইনিজ মিলিটারি কারোর থেকেই একটিও শব্দ শোনা যায়নি। 




এর থেকেও একটি রহস্যময় ঘটনা 2004 সালে ঘটেছিল যখন হিমাচল প্রদেশের 'লাহুল- স্পিতি' অঞ্চলে আমেদাবাদের ইসরোর স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের ডক্টর অনিল কুলকার্নির নেতৃত্বে 1 জিওলজিস্ট দল কর্মরত ছিল। 'সমুদ্র তাপু ভ্যালি' এই এলাকায় অন্যতম নির্জন ও দুর্গম অঞ্চল ছিল এই স্থানে এক্সপিডিশন করার সময় এই টিমটি আনুমানিক 4 ফুট লম্বা অদ্ভুত রকমের মানুষ আকৃতির রোবটিক কিছু একটাকে 50 মিটার দূরে পাথুরে অঞ্চল দিয়ে হেটে যেতে দেখে। বৈজ্ঞানিকরা এই রোবটটিকে প্রায় 40 মিনিট ধরে লক্ষ্য করেছিল এবং এর ছবি ও নিয়েছিল এবং তারা এই বস্তুটির কাছাকাছি যাওয়ার আগেই হঠাৎ করে বস্তুটি আকাশে উড়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। এই বিষয়টি সাক্ষী ছিলেন 14 জন মানুষ যার মধ্যে 6 জন বৈজ্ঞানিক ছিলেন। তাদের কাছে এর স্বাভাবিক কোনো বর্ণনা ছিলনা, এছাড়া তাদের এই রিপোর্টটির কোন সদুত্তর পরবর্তীকালে পাওয়া যায়নি - সম্ভবত এটি ফাইল এর ভিতর চাপা পড়ে গেছে।




 মজার ব্যাপার হলো আরো অনেকেই এই অঞ্চলে ঠিক একই রকম ছোট রোবটিক বস্তুর অস্তিত্ব বর্ণনা করেছে যারা হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়, কখনও মাটির উপর একটি গর্তের উদয় হয় যাতে তারা ঢুকে যায় এবং সেটি অদৃশ্য হয়ে যায় যেন আগে কখনো সেখানে এরকম কিছু ছিল না।

আরো একটি হাইপ্রোফাইল রহস্যময় ঘটনা উন্মোচিত হয় 2012 সালে এই সময় 1 আগস্ট থেকে 15 অক্টোবর পর্যন্ত এই অঞ্চলে কর্মরত ইন্ডিয়ান আর্মির ইউনিট গুলি এবং ইন্দো টিবেটান বর্ডার পুলিশ ফোর্স লাদাখ অঞ্চলে প্রায় 100 টির উপর ঘটনা রিপোর্ট করেন, যেগুলি হল রহস্যময় বিভিন্ন উজ্জ্বল বস্তুর গতিবিধি সংক্রান্ত। এই স্থানটি জম্মু-কাশ্মীর, পাকিস্তান অকুপাইড কাশ্মীর এবং চীনের অকুপাইড আকসাই চীনের মাঝামাঝি প্রায় 86,000 স্কোয়ার কিলোমিটার বিশিষ্ট একটি বিস্তৃত এবং হেভিলি মিলিটারাইজড অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। বর্ণনা পাওয়া গেছে এই হলুদ উজ্জল বস্তুগুলি চাইনিজ প্রান্ত থেকে উদয় হয়, আকাশে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার আগে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে। আর্মি আধিকারিকরা যারা এর প্রত্যক্ষদর্শী ছিল তারা নিশ্চয়তার সঙ্গে বর্ণনা করেন যে, এগুলি কোন মনুষ্য পরিচালিত বিমান,ড্রোন অথবা পৃথিবীর কাছাকাছি ঘুরে বেড়ানো স্যাটেলাইট নয়। 

সেই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে কাছাকাছি একটি পর্বত শৃঙ্গতে একটি 'ground based' ভ্রাম্যমান রাডার ইউনিট এবং একটি 'স্পেক্ট্রাম এনালাইজার' স্থাপন করা হয়। কিন্তু এই বস্তুগুলি একই সময় চোখে দেখা গেলেও রাডার বা স্পেক্ট্রাম এনালাইসিসে ধরা দেয়নি। এমনকি এই বস্তুর উদ্দেশ্যে একটি এয়ারক্রাফটও ছাড়া হয় কিন্তু সেটি বস্তুর কাছাকাছি যাওয়ার আগেই বস্তুটি হঠাৎ করে সোজা উপরে উঠে যায় এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে বেরিয়ে যাবে। 




'ইন্ডিয়ান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরি'র  জ্যোতির্বিদের একটি দল ও এই বস্তুগুলো তিন দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে এগুলি কোন গ্রহ, উল্কা অথবা স্যাটেলাইট এর অংশ নয়। এই রহস্যময় বস্তুগুলি শয়ে শয়ে মিলিটারি অধিকারিক, বৈজ্ঞানিক এবং বিভিন্ন মানুষ দেখে গিয়েছেন কিন্তু কখনোই এদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এর উপর দেখা গেছে গুগল আর্থ কংকা পাশের উপর বিভিন্ন অদ্ভুত বিষয় তুলে ধরেছে। যেমন- হঠাৎ করে মাটির ভিতর থেকে রহস্যময় গহর উন্মুক্ত হওয়া এবং তার থেকে যন্ত্রের বহির্গমন এবং রহস্যময় বিভিন্ন স্থাপনা, আনরেজিস্টার্ড মিলিটারি ফেসিলিটি, জটিল আকৃতির বিভিন্ন বিল্ডিং। দেখা গেছে এই সমস্ত ছবিগুলি গুগল আর্থে খুঁজে পাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ব্লার্ড বা অস্পষ্ট হয়ে যায়। এটা স্পষ্ট নয় যে এর সাথে এই অঞ্চলের ভিনগ্রহী গতি প্রকৃতির সাথে কি সম্পর্ক থাকতে পারে; কিন্তু অবশ্যই  এটি স্থানটির রহস্যময়তা আরো একধাপ বাড়িয়ে দেয়। এই স্থানটিতে কি চলছে এই গুলির কি কোনো বৈজ্ঞানিক কাহিনী আছে? দেশের সরকারগুলি কি কিছু গোপন করছে? এখানে কি ভিনগ্রহী দের কোনো বেস আছে? আপনার কি মনে হয় এই দুর্গম স্থানে এই রহস্যের কারণ কি হতে পারে?

Sunday, 27 December 2020

সিল অফ সলোমন পৃথিবী রহস্যময় শক্তিশালী আংটি --

পশ্চিম আজারবাইজানের 'তাখত ই সুলেমায়ার' তিন কিলোমিটার পশ্চিমে দানবদের কারাগার অবস্থিত। প্রাচীন প্রবাদ অনুযায়ী,  এই স্থানটি রাজা সুলেমান বা প্রফেট সুলেইমা রাক্ষসদের বন্দী রাখতে ব্যবহার করতেন।

তিনি একটি ভয়ানক দৈত্যকে বন্দি করে রেখেছিলেন; যখন সে সোলেমানের বিশেষ রিং চুরি করার চেষ্টা করেছিল। এই বিশেষ রিংটি তাকে ঈশ্বর দিয়েছিলেন যা তাকে এমন সকল জাদুকরী ক্ষমতার অধিকারী করে তুলেছিল যা সাধারণ মানুষের ধারণার বাইরে ছিল। এই রিংটি 'সিল অফ সলমন' নামে পরিচিত যার সাহায্যে তিনি জ্বীনদের পরিচালিত করতেন। 2017 সালের প্রথম দিকে তুরকিশ অধিকারীদের প্রাপ্ত রিংটিকে বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমে সেই সোলেমানের রিং বলে মনে করেছিল কিন্তু পরে দেখা যায় এটি কেবল মাত্র সেই  রিংটির 500 বছরের পুরনো অনুকরণ মাত্র।



যাই হোক না কেন এটা অস্বীকার করা যায় না যে ইতিহাসের গোলকধাঁধায় ঘুরে বেড়ানো এই রিংটি কেবলমাত্র সাধারণ মানুষদের নয়, বিভিন্ন দেশের সরকারদেরও কৌতূহলের কেন্দ্র। কারণ এই বস্তুটির ওপর আধিপত্য পাওয়া মানে স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক উভয় প্রকার শক্তিগুলির ক্ষমতাপ্রাপ্ত হওয়া। 

প্রাচ্য থেকে শুরু করে পাশ্চাত্য উভয়ের ইতিহাস জুড়েই রিং বা আংটি ক্ষমতার প্রতীক হিসাবে একটি বিশেষ নিদর্শন রেখে গেছে;  বিশেষ করে কলাবিদ্যা থেকে শুরু করে সাহিত্য এবং চলচিত্র , আইন, জাতি এবং জাদুবিদ্যায়। 

তবে অন্তত ইসলামিক এবং ইহুদি মতবাদে 'সীল অফ সলোমান' এখনো অব্দি জানা সবচেয়ে শক্তিশালী বস্তু। 




সুলেমান অত্যন্ত শ্রদ্বেয় ছিলেন ও তার ক্ষমতার কারণে তার সাথে যুক্ত বহু ধ্বংসাবশেষ ও বস্তুকে হাজার বছর পর এখনো অনুসসরণ করা হয় যার মধ্যে একটি হলো তার জাদুকরী আংটি। 
'সিল অফ সলোমনের' গল্পগুলির উৎস খুঁজে পাওয়া কঠিন কিন্তু অনেক ইতিহাসবিদরা মনে করেন মধ্যযুগের আরবের লেখকরা এটিকে নিয়ে যে শ্রুতিকাহিনী বর্ণনা করেছেন, সেগুলি থেকে এর হেক্সাগ্রাম ডিসাইন পাওয়া যায় যার থেকে একটি পেন্টাগ্রাম পাওয়া যায়। 
যেহেতু হেক্সাগ্রামের ব্যবহার ইহুদি গুপ্তলেখনীগুলোতে প্রায়শই ব্যবহার করা হতো তাই বেশিরভাগ বিষেশজ্ঞদের মতে, এই চিহ্নটি আরবিক সাহিত্য থেকে কাবালিস্টিক সাহিত্যে প্রবেশ করেছে। 

দানবদের উপর সলোমনের ক্ষমতাপ্রাপ্তির কাহিনী "দ্য ম্যাজিক্যাল ট্রিটিস অফ সলোমন" এবং "কে অফ সলোমন" নামক দুটি শক্তিশালী প্রাচীন জাদুবিদ্যার বইতে পাওয়া যায়। 

তাখত ই সুলেমায়ার



ম্যাজিক্যাল ট্রিটিস অফ সলোমন গ্রন্থটিতে পাওয়া যায়, সলমনের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক একটি জিনের দ্বারা নির্যাতিত হয় এবং সে তার অর্ধেক বেতন এবং খাবার নিয়ে নেয়, এমনকি ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল চুষে তার আয়ুও শুষে নেয়। এটা জানতে পেরে সলোমন কি করবে বুঝতে না পেরে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে থাকেন এবং তখন  আর্কেঞ্জেল মাইকেল তাকে এই রিংটি দেন।  

এই রিংটিতে পেন্টাগ্রামের আকৃতির ঈশ্বরের চিহ্ন ছিল যা সলমনকে দানবদের উপর অধিপত্য দিয়েছিলো। 
যুদিও খৃষ্টান মতে, তিনি সেই দানবটিকে জব্দ করেছিলেন, যে তার প্রধান তত্বাধায়ককে নির্যাতন করছিলো এবং তিনি দানবদের প্রধানকে তলব করেছিলেন। তার রিংটি ব্যবহার করে তিনি এরপর সেই দানব প্রধানকে আদেশ করে এক এক করে বহু সংখক দানবদের তার সামনে এনে জড়ো করেছিলেন। এরপর রাজা সলোমন এক এক করে তাদের সকলকে জিজ্ঞসাবাদ করেছিলেন, তাদের নাম, ঠিকানা, উৎস এবং কোন শব্দগুলিতে তাদের উপর আধিপত্য পাওয়া যায় তা জেনেছিলেন। 



মনে করা হয় এই অমূল্য জাদুকরী রিংটি সুলেমানের দেহের মতোই কবর দেয়া হয় এবং কিংবদন্তি অনুযায়ী, যে এই আংটিটি খুঁজে পাবে সে এই দুনিয়াতে রাজত্ব করবে। 

বিভিন্ন চলচিত্রে, গল্পের বই বা টেলিভিশন শোগুলোতে প্রায়শই যেমন দেখা যায়, বিভিন্ন মানুষ এবং সংস্থা, ভ্যাটিকান থেকে শুরু করে ১৯৪০ সালের জার্মান সরকারও এইজাতীয় শক্তিশালী বস্তুর প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ প্রকাশ করেছিল বলে জানা গেছে।এমনকি জার্মান সরকারের সকল প্রকার কিংবদন্তির প্রতি এক বিশেষ আগ্রহ ছিল। 

২০১৬ সালের মার্চ মাসে প্রাগ এর 'ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ দ চেক রিপাবলিকে' ১৩০০০ টি গুপ্তবিদ্যা ও ডাকিনিবিদ্যার বইয়ের সংগ্রহ পাওয়া গিয়েছে যা এস এস চিফ 'হেনরিক হিমলারের' ছিল। 

১৮০০ সাল থেকে ইউরোপে মডার্ন লিবারেশন স্টান্ডপয়েন্ট বেড়ে উঠছিলো এবং ইতিহাসবিদ নিকোলাস গুডরিক ক্লার্কের দাবি, জার্মানির গুপ্তবিদ্যার প্রতি আগ্রহ এরই রিএকশনের অংশ ছিল। 

তাদের মধ্যপ্রাচ্যের গুপ্তবিদ্যা ও রহস্যগুলির প্রতি আগ্রহের কারণ ছিল আধুনিক পৃথিবী মিথ্যা ও স্যাটানিক আদর্শের উপর দাঁড়িয়ে আছে এটা প্রমান করা।


 

কামরান ফকিরের 'দ রাইস অফ দ এন্টিক্রিস্ট' অনুযায়ী, ১৯৪০ সালে মিডল ইস্ট বা মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় জার্মান গতিবিধির বেশিরভাগ উদ্দেশ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের ও আফ্রিকার সেইসব প্রাচীন বস্তু সংগ্রহ করা যা অতিপ্রাকৃত শক্তি সমৃদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়, তারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের গালফ এর উত্তর প্রান্তে প্রভাব বিস্তার করার বিরুদ্ধে আরব ন্যাশনালিস্টদের কাছে আপিল করেন, কারণ ছিল -একটি প্রাচীন সুমেরিয়ান 'স্টারগেট' দখল করা যা ১৯২০ সাল সময়কালীন ইরাকে আবিষ্কৃত হয়।  

বলা হয় এই সামগ্রীগুলো যে কোনো দুটি স্থানের মধ্যে কৃত্তিম ওয়ার্মহোল তৈরী করতে সক্ষম ছিল। 
যার মাধ্যমে কেউ মহাকাশের যে কোনো স্থানে সহজে যেতে সক্ষম হবে এমনকি বিভিন্ন রিয়ালিটি ও ডাইমেনশনেও যেতে পারবে। 




এছাড়া অনেকেই জানেন জার্মানরা তন্ত্র ও গুপ্তবিদ্যা সম্পর্কিত লাইব্রেরি তৈরির জন্য বিশেষ প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন এমনকি ভ্যাটিকানের থেকেও এর জন্য মদত নেয়া হয়। হেনরিক হিমলার বিশ্বাস করতেন পুরাতন গুপ্তবিদ্যার শক্তি জার্মানকে পৃথিবীতে রাজত্ব করতে সাহায্য করবে। 

মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন গুপ্তবিদ্যার প্রতি অন্যন্য যে রহস্যময় সংস্থাগুলি আগ্রহ রাখতেন তাদের মধ্যে উলেখ্য ছিল কাবালা এবং নাইট টেম্পলার। ১১১৮ এ জর্দানে ত্রুসেড চলাকালীন 'হিউজ দে পায়েন' নামক এক ফ্রেঞ্চ নাইট নাইট টেম্পলার গঠন করে। অর্ডারটি গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সম্প্রদায়ের সাথে তারা যোগাযোগ স্থাপন করতে থাকে যারমধ্যে ছিল আব্রাহামিক বিশ্বাসী যাদুকরেরা। সবচেয়ে বিখ্যাত যে বস্তুটির সাথে তাদের নাম জড়িয়ে ছিল তা হলো 'দ আর্ক্ অফ কোভেন্যান্ট'। হিব্রু বাইবেল এবং ইসলামিক স্কলারদের মতে আর্কটি হলো এমন একটি সিন্দুক যাতে ফলকের উপর ১০টি স্বর্গীয় কমান্ডমেন্ট খোদাই করা আছে। স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে কেন এই শক্তিশালী বস্তু যা হয়তো ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী বস্তুগুলির মধ্যে একটি তা নাইট টেম্পারদের টার্গেট হবে। মনে করা হয় এক সময়ের জন্য প্রফেট সুলেমান এর দায়িত্বে ছিলেন।  আর্কটির মতোই তার রিংটিও নিজের ক্ষমতার জন্য বিভিন্ন জল্পনা ও আগ্রহের কেন্দ্র হয়, কিন্তু এই ক্ষমতা বুঝতে গেলে জাদুকরী ক্ষমতার দরকার।  

মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যে কোনো রকমের অনুশীলন করা অবৈধ মনে করা হয় কারণ, এর অনুশীলনকারীকে জ্ঞানত বা অজ্ঞানত জিনের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়। যদিও সলোমনের ক্ষমতা কোনো জিনের থেকে নয় বরং ঈশ্বরের থেকে প্রাপ্ত ছিল যা পরবর্তী কালে তার সংগ্রহের শক্তিশালী বস্তুগুলিতে দেখা যায়। 

 কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, 'ম্যাজিকাল ট্রিটিস অফ সলোমন' এবং 'কে অফ সলোমন' বইগুলি সঠিকভাবে বুঝতে পারলে এর পাঠকও সুলেমান বা সলোমনের মতো জিনের উপর ক্ষমতালাভ করতে পারবে। কিন্তু এর পাঠকরাও কি সলোমনের মতো সমান ফলাফল পাবে? ধর্মগতভাবে অবশ্যই নয় কারণ তারা ঈশ্বরের প্রফেট নয়। তবুও তারা কি কিছুটা হলেও অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার প্রভাব পাবে ? এ বিষয়ে ভ্যাটিকান সহমত পোষণ করে। তাদের গোপন সংগ্রহে একটি বই হলো গ্রান্ড গড়িময়রে যা কে অফ সলোমন অবলম্বনে লেখা হয়েছিল, এটি দ রেড ড্রাগন বলেও পরিচিত।এই বইটি বিব্লিক্যাল হিব্রু ও আরামিক ভাষায় প্রথম ১৭৫০ সালে প্যালেস্টাইনে পাওয়া যায়।  

বলা হয় এটির স্বয়ং শয়তানকে ডেকে পাঠানো অথবা প্রতিরোধ করা, কাজ করানোর ক্ষমতা আছে। 
মনে করা হয়, এই বইটি পোপ হনোরিয়াস iii  ১২০০ সালে একটি শয়তান জিনের দ্বারা আবদ্ধ হয়ে 
লিখেছিলেন এবং এই জিনটি পোপকে ব্যবহার করে পৃথিবীজুড়ে স্যাটানিক শক্তি ও প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছিলো। তাই অন্য কথায় এই বইগুলি ও অন্যান্য গুপ্ত সামগ্রীগুলি স্যাটানিক ও ধ্বংসাত্মক দিকে ব্যবহার করা যায়। সবশেষে বলা যায় এগুলি শক্তির বিভিন্ন রূপকের মতো যেখানে ব্যবহারকারী মনে করে সে শক্তিকে ব্যবহার করছে কিন্তু বাস্তবে এই শক্তির দ্বারা ব্যবহারকারী ব্যবহৃত হয়।