Showing posts with label Tips(টিপস). Show all posts
Showing posts with label Tips(টিপস). Show all posts

Friday, 1 May 2020

সাবান না হ্যান্ড স্যানিটাইজার?


গণমাধ্যম গুলিকে তাদের প্রচার এর জন্য ধন্যবাদ দেওয়া উচিত; কারণ, এখন অধিকাংশ মানুষ হাতের পরিষ্কার এর ব্যাপারে আগের থেকে অনেক সচেতন সচেতন হয়েছে। যেটা জীবাণু ছড়ানোর বিরুদ্ধে অনেকটা উপযোগী হয়েছে এবং মানুষ এখন তাদের হাত খুব ঘনঘন হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করছে।

কিন্তু এতো সচেতনতা ছড়িয়ে যাওয়া সত্ত্বেও সাবান এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর পার্থক্য নিয়ে কিছু ভুল তথ্য এখনো থেকে গেছে। এছাড়াও কিভাবে কখন তাদের ব্যবহার করবে এইসব নিয়েও অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে আছে।

যখনই আপনি নিজের হাতকে জীবাণুমুক্ত করার কথা ভাবছেন, কাছে থাকা হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর বোতলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার, 'সাবান ও জল' দিয়ে হাত ধোয়ার তুলনায় কতটা কার্যকরী?

যদি হাত সাবান দিয়ে ধোয়া ও স্যানিটাইজার ব্যবহারের কার্যকরিতা নিয়ে তুলনা করি তাহলে আমাদের আগে বুঝতে হবে যে মাইক্রোঅরগানিজমগুলির অস্তিত্ব এবং টিকে থাকার জন্য তাদের নিজস্ব 'multi-faceted' কন্ডিশন আছে। তাই এক্ষেত্রে বলা যায় একটা সাইজ সবার জন্য ফিট হয় না।
প্যাথোজেন যত ছোট হয় ততো তারা আমাদের হাতের এপিডার্মিস এবং stratum corneum এর ফাটলের মধ্যে খুব সহজে আটকে থাকে।

হ্যান্ড স্যানিটাইজার অনেক পোর্টেবল, যা মানুষ যেকোনো জায়গায় পকেট এ করে নিয়ে যেতে পারে। এর ফলে তারা বারবার হাতকে সহজেই ডিসিনফেক্ট করতে পারে। যে সকল স্থানে জল এবং সাবান সহজে উপলব্ধ হয় না সেখানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার কে ব্যবহার করা যেতে পারে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর অ্যালকোহল চামড়ায় বিরাজমান প্যাথোজেন গুলির প্রোটিন এবং splitting cell গুলিকে ভেঙে দেয় এবং সেল মেটাবলিজম প্রক্রিয়া ব্যাহত করে দেয়, আপনার হাতের আউটার লেয়ার অফ অয়েল কে সরিয়ে দিয়ে জীবাণু গুলোকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। ।

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন(CDC) এর মতে, এলকোহল যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার আপনার হাতে জীবাণু এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে কিন্তু সব রকম ব্যাকটেরিয়া নয়। স্যানিটাইজার কখনো সাবান জলের পরিপূরক হতে পারে না তারা কেবলমাত্র জীবাণুমুক্ত করার জন্য জল ও সাবানের অনুপস্থিতিতে একটি ব্যাকআপ হতে পারে।
এটি মাইক্রোব, ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া কে কাজ করার পক্ষে অনুপযোগী করে দেয় কিন্তু সকল ক্ষেত্রে নয়। যেমন - 'norovirus' যা কয় প্রকার আমাশা সৃষ্টি করতে সক্ষম একটি ভাইরাস। এছাড়া কয়েকপ্রকার ব্যাকটেরিয়া এর বিরুদ্ধে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, 'c difficile' যা ডায়রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। 
ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়ার ফিজিশিয়ান অ্যাথানাসিওস মেলিশিয়টিস এর মতে, কিছু কিছু হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতে ব্যবহার করার পর উচ্ছিষ্ট সৃষ্টি করে যা ব্যবহারকারীদের সামান্য অস্বস্তিদায়ক হতে পারে। কিছু গবেষকদের মতে ঘনঘন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার হাতের ভালো  এবং খারাপ ব্যাকটেরিয়া গুলির রেসিস্টেন্স ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। যা আমাদের ইমিউন সিস্টেমের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে।

আপনার হাতে যদি ময়লা থাকে বা গ্রিজ থাকে বা অন্য কিছু লেগে থাকে বা তৈলাক্ত হয় সেগুলো তখন কম কার্যকরী হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে সাবান বেশি উপযোগী। সাবান কেবল ধ্বংস করে না প্যাথোজেনের বিভিন্ন অবশিষ্ট অংশগুলির সাথে যুক্ত হয় এবং জলের সাথে তাদের অপসারণ করতে সাহায্য করে। তাই এটি সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরিপূরক হতে পারে না। 

তবে আপনি যদি হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনে থাকেন তাহলে  সেটি যেন অন্তত 60 শতাংশ অ্যালকোহল যুক্ত হয় এবং এর সাথে সি ডি সি রিকমেন্ডেশন মেনে চলবেন, তবেই সেটি সবচেয়ে কার্যকরী হবে --

১.হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর লেবেলে দেখে নিন কতটা পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে এবং হাতের তালুতে ঢেলে নিন। 
২.হাত একসাথে ঘষতে থাকুন
৩.20 সেকেন্ড ধরে হাতের সব জায়গায়, আঙ্গুল গুলিতে, নখের উপর  ঘষতে থাকুন যতক্ষণ না হাত শুকিয়ে যায়।

কোন ক্ষেত্রে সাবানে হাত ধোয়া উচিত --

-- সব সময় খাবার তৈরি করার বা খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করা উচিত।
-- বাথরুম থেকে বেরোনোর পর 
---কোন পশুকে ছুলে 
--নোংরা জঞ্জাল পরিষ্কার করলে 
--কেটে যাওয়া স্থান এর চিকিৎসা করলে বা ধরলে, 
--কাশলে, হাঁচি মারলে অথবা কোন অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি থেকে কাজ করলে 
--যখন হাতের ময়লা দৃশ্যমান হয়ে পড়ে অথবা যখন আপনি নোংরা বা সম্ভাব্য জীবাণুযুক্ত স্থান থেকে আসেন।
বেশিরভাগ মানুষ তাদের হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করতে চান না এছাড়াও উপযুক্ত সময় ধরে হাত ঘষা বা হাতের পেছনদিকে ঘষে পরিষ্কার করা এগুলি থেকে বিরত থাকেন। ২০ সেকেন্ড সম্ভব না হলে ,কমপক্ষে 10 সেকেন্ড ধরে হাত ঘষা উচিত।

কিভাবে সাবান জলে হাত ধোয়া উচিত --

১.প্রথমে পরিষ্কার জলে হাতটা ভিজিয়ে নিন এবং সাবান লাগান।
২.দুই হাত ঘষতে থাকুন এবং হাতের পেছনও যেন ঘষা হয়। এছাড়া আঙ্গুলের মাঝখানে এবং নখের তলায় ঘষে নিন। 
৩.এইভাবে অন্তত কুড়ি সেকেন্ড অব্দি ঘষতে থাকুন। 
৪.ভালো করে জলে হাত ধুয়ে নিন। 
৫.হাওয়ায় অথবা তোয়ালে দিয়ে হাত পরিষ্কার করে দিন। 

এছাড়া সকল রেস্ট রুম টয়লেটে লিকুইড সাবানের ব্যবস্থা থাকা উচিত বার সাবানের তুলনায় লিকুইড সাবান খুব সহজে ব্যবহার করা যায় এবং সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা কম হয় এবং সব জায়গায় টাচ ফ্রি সোপ ডিসপেন্সার এর ব্যবস্থা করা উচিত যাতে সংক্রমণের সম্ভাবনা কম থাকে।

Tuesday, 31 March 2020

গরমে ঘামের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে কয়েকটি টিপস-

গরমকাল আসছে সাথে ঘামের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

যদিও ঘাম খুবই স্বাভাবিক এক প্রক্রিয়া যা গরম কালে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। শরীর থেকে বেরোনো ঘাম কিন্তু সব সময় দুর্গন্ধ পূর্ণ হয়না, আসলে কিছু ব্যাকটেরিয়া আপনার শরীরের কিছু অংশে বংশবিস্তার করে এবং দ্রুত তাদের সংখ্যা বাড়াতে থাকে এরপর আপনার চামড়ার উপরের কেরাটিন নামক প্রোটিন ভাঙ্গার সময় এই দুর্গন্ধের উৎপত্তি হয়। সাধারণত বগলে সবচেয়ে বেশি এর প্রভাব দেখা যায় এছাড়াও যৌনাঙ্গের আশেপাশে, থাই এর উপরের অংশ পায়ের তলা এই সকল স্থানেও ব্যাকটেরিয়ার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।

আপনার কখনো কি মনে হয় যে আপনার গায়ের গন্ধ ততটা ভালো নয়?তাহলে পুরোপুরি গরম আসার আগে এখনই কিছু নিয়ম মেনে চলা শুরু করে দিতে পারেন--

 ১. রোজ দিনে অন্তত একবার করে স্নান করুন এর ফলে চামড়ায় থাকা ব্যাকটেরিয়া গুলি এবং জমে থাকা ঘাম ধুয়ে যাবে যদি আবহাওয়া গরম হয় তাহলে একবারের বেশি স্নান করুন।
২. অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করুন।

৩. ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করুন; ডিওড্রেন্ট গুলিতে অ্যালকোহল থাকে যা ব্যাকটেরিয়া নিধন করতে সাহায্য করে এবং  চামড়াকে এসিডিক করে দেয় ফলে যা ব্যাকটেরিয়াদের বাঁচার জন্য অনুপযোগী হয়ে যায়। এছাড়া দুর্গন্ধ দূর করে এটি দিনে দুবার ব্যবহার করতে পারেন।

৩. Anti-perspirant বা রোল অন ব্যবহার করতে পারেন, এগুলিতে অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড থাকে এবং অনেক সময় কিছু পরিমাণে ডিওড্রেন্ট থাকে এরা ঘাম বেরোনো ব্লক করে দেয় এরফলে কম ঘাম বেরোয়। তবে স্নান করার পর বা বেরোনোর সময় এগুলি দিলে কতটা কার্যকরী দাড়ায় না কারণ ঘামে এগুলো ধুয়ে যায় তাই আপনি রাত্তিরে শোয়ার আগে ব্যবহার করতে পারেন যাতে যখন আপনি ঘুমিয়ে থাকবেন তখন ঘাম হবে না এবং এগুলি আপনার চামড়ার ওপর নিজেদের কাজ  করার সুযোগ পাবে, এরপর দরকার হলে দিনে আরও একবার অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট বা সাধারণ ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। তবে আপনাকে সতর্ক করে দিই কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট এর সাথে ব্রেস্ট ক্যান্সার বা প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে এবং যেহেতু শরীর থেকে ঘাম বেরোনো কমে যায় ফলে তাপমাত্রা জনিত কিছু সমস্যা দেখা যেতে পারে।
৪.যতটা পারুন শুকনো থাকার চেষ্টা করুন কারণ ব্যাকটেরিয়া শুকনো জায়গায় সহজে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না।

৫. যদি আপনি লক্ষ্য করেন যে ব্যায়াম করার জন্য আপনার সবচেয়ে বেশি ঘাম এবং দুর্গন্ধ হচ্ছে তাহলে অবশ্যই আপনার ব্যায়াম করার জন্য যে কাপড়গুলি পড়েন সেগুলিকে নিয়মিত পরিষ্কার করুন কারণ হতে পারে এই কাপড়গুলি ব্যাকটেরিয়া তে ভরে গেছে ।
৬. নিজের খাদ্যাভাসের পরিবর্তন করুন তেল-ঝাল-মসলা জাতীয় খাবার কম খান এবং পিয়াজ রসুন এগুলি বেশি খেলে অনেক সময় ঘামের মাধ্যমে এদের গন্ধ বেরিয়ে আসে।
৭.আপনার যদি অতিরিক্ত ঘাম অথবা হাইপারহাইড্রোসিস এর সমস্যা থাকে তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং তার কথামত ট্রিটমেন্ট করেন।
৮. নিয়মিতভাবে বগলের চুল সেভ করতে হবে কারণ দেখা গেছে এই সকল অঞ্চলে চুল থাকলে সহজে ঘাম উবে যেতে পারে না যা ব্যাকটেরিয়া কে প্রোটিন ব্রেকডাউন করতে আরো সময় দেয় তাই নিয়মিত বগলের তলায় চুল পরিষ্কার পরিষ্কার করবেন অর্থাৎ সেভ করবেন।
৯. দিনে অন্তত একবার গরম জলে পা দুটি পরিষ্কার করবেন আঙ্গুলের মাঝখান গুলো পরিষ্কার করতে ভুলবেন না ।

১০. পায়ে দুর্গন্ধের সমস্যা থাকলে অবশ্যই ফাইবার এবং ফুলের তৈরি মৌজা পড়ার চেষ্টা করবেন এবং প্রতিদিন পরিষ্কার মোজা পরার চেষ্টা করবেন।
১১. প্লাস্টিক লাইনিং করা জুতো বেশি সময় ধরে পড়বেন না চেষ্টা করবেন চামড়া লাইনিং এর জুতো পড়তে কারণ চামড়ার জুতো থেকে সহজে ঘাম উবে যেতে পারে । চেষ্টা করবেন একটা জুতো যাতে দুদিন না পড়তে হয় কারণ একটা রাত্তিরে জুতো পুরোপুরি শুকাতে পারে না।
১২. খরখরে ঝামাপাথর বা পিউমিক স্টোন দিয়ে পা ধোয়ার সময় ঘষে দেবেন কারণ ব্যাকটেরিয়া চামড়ার মৃতকোষ গুলির ওপর নির্ভর করে বৃদ্ধি পায় ফলে এই মৃত চামড়া স্তর ঘষে তুলে দিলে পা পরিষ্কার থাকবে ।
১৩. কাজের মাঝে সময় পেলে জুতো খুলে খালি পায়ে থাকার চেষ্টা করবেন বা দিনে কিছু সময় খালি পায়ে থাকার চেষ্টা করবেন ।
১৪.সুতি বা সিল্কের জামা কাপড় পড়ার চেষ্টা করবেন । 
১৫. নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে জল খান, দরকার হলে সঙ্গে সবসময় বোতল রাখুন । পর্যাপ্ত পরিমাণে জল গায়ের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে।
১৬. স্নান করতে যাওয়ার আগে বগলের তলায় কিছুক্ষণ লেবুর রস  এবং বেকিং সোডা মিশিয়ে লাগিয়ে রাখতে পারেন এর ফলে লেবুর এসিডিটি আপনার চামড়ার পিএইচ বাড়িয়ে দেয় যার ফলে সেখানে ব্যাকটেরিয়ার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কমে যায় ।

কিছু কিছু মেডিক্যাল সমস্যা অতিরিক্ত ঘামের কারণ হতে পারে যেমন থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের, লিভারের, কিডনির অথবা ডায়াবেটিসের সমস্যা।
যদি নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো দেখতে পারেন তাহলে একবার ডাক্তার কে দেখিয়ে নেওয়া উচিত-

  • রাত্তিরে আপনি ঘামতে শুরু করেন।
  • কোন কারন ছাড়াই আপনি স্বাভাবিক যেরকম ঘামতে তার থেকে অনেক বেশি ঘামতে শুরু করেছেন।
  • আপনার গা দিয়ে ঠান্ডা ঘাম নির্গত হচ্ছে।
  • অতিরিক্ত ঘাম আপনার নিত্যদিনের কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

Sunday, 4 August 2019

বর্ষায় চুলের যত্নের টিপস

প্রবল গরমের পর যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে, তখন আশ মিটিয়ে ভিজতে ইচ্ছে করে। সমস্যা হল, সেই বৃষ্টিস্নানের মধ্যে যত আরামই থাক, তা কিন্তু আপনার চুলের পক্ষে মোটেই সুখকর নয়! গ্রীষ্মের তুলনায় বর্ষাকালে চুল পড়া বেড়ে যায়। চুলের যত্ন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অনেকে। এটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ, এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলের দরকার হয় বাড়তি যত্ন। তবে উদ্বেগের কিছু নেই। চুল পড়া রোধে তাই এই সময় ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অনুসরন করতে পারেন।



সাবধানতা---

---বর্ষার সময় চুল শুকনো রাখাটা জরুরি।এই সময় ভেজা চুল আচড়ানো মোটেও ঠিক নয়।

---বৃষ্টির জল থেকে চুল বাঁচিয়ে রাখুন। কারণ বৃষ্টির জলে প্রচুর অ্যাসিড উপাদান থাকে, নোংরাও থাকে প্রচুর। তাই একান্ত ঝামেলায় না পড়লে বৃষ্টির জল চুলে না লাগতে দেওয়াই উচিত। বড়ো ছাতা বা হুড দেওয়া রেনকোট ব্যবহার করুন। যদি কোনওভাবেই বৃষ্টির জল এড়াতে না পারেন, তা হলে বাড়ি ফিরে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে নেবেন।


---সফ্ট , ডিপ ক্লেনজ়িং শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধীরে ধীরে মাসাজ করবেন, যাতে বৃষ্টির জলের কোনও নোংরা চুলে থেকে না যায়। এই মরশুমে চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক, তাই ভালো শ্যাম্পু দিয়ে সপ্তাহে দু’বার চুল ধুয়ে ফেলুন। তাতে চুল পুষ্টি পাবে, ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও হতে পারবে না।

----চুলে তেল লাগালে শুষ্কতা দূর হয়, ডিপ কন্ডিশনিংয়ের সুফলও মেলে। তবে অতিরিক্ত তেল লাগাবেন না, পরিমাণমতো তেল চুলে লাগিয়ে সারা রাত রেখে পরের দিন শ্যাম্পু করে নেবেন।


---মরশুমের এই সময়টায় চুল বেশি বাঁধলে ভিতরে আর্দ্রতা জমে থাকে, চুল ন্যাতানো দেখায়। চুল মুখে পড়লে একটা টপ নট বা একটা আলগা বিনুনিই যথেষ্ট। একটানা অনেকক্ষণ চুল বেঁধে রাখবেন না।


---মোটা চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ান, তাতে জট ছাড়ানো সহজ হবে। কন্ডিশনার লাগানোর পরেও চিরুনি দিয়ে চুলের জট ছাড়িয়ে নিন, তাতে গোটা চুলে সমানভাবে কন্ডিশনার ছড়িয়ে যেতে পারবে।


---চুলের দৈর্ঘের মাঝামাঝি অংশ থেকে শেষভাগ পর্যন্ত কন্ডিশনার লাগান, তবে অতিরিক্ত কন্ডিশনার লাগানোর দরকার নেই। ঠান্ডা জল দিয়েই চুল ধোবেন।


---এই সময়টাই চুল কেটে ফেলার পক্ষে সবচেয়ে ভালো। তাতে বাড়তি ঝামেলা মিটবে, চুলের শেপও সুন্দর থাকবে।


ঘরোয়া উপাদান --

---সারারাত মেথি বীজ জলে ভিজিয়ে রাখার পর সকালে বেটে নিন। এরপর তার সঙ্গে টক দই মেশান। মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় ভালো করে ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর ঠাণ্ডা জল দিয়ে চুলটা ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল পড়া বন্ধ হবে। কারণ মেথিতে থাকা লেসিথিন এবং নিকোটিনিক অ্যাসিড চুলে পুষ্টি দান করে।

---এই সময় চুলে খুব জট পড়ে। রুক্ষ চুলের সমস্যায় যারা ভুগেন, তাদের জন্য এই প্যাক খুব কার্যকর। দুটো ডিম ভেঙে তাতে তিন চামচ মধু যোগ করে ফেটিয়ে নিন। এই প্যাকটিও স্নানের আগে চুলে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন খুব ভালো করে। শ্যাম্পুর পর ক্ষারবিহীন বা খুব অল্প ক্ষারযুক্ত কোনও কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন চুল।

---চুল পড়া রোধে খাঁটি অ্যালোভেরা ব্যবহার করুন। অ্যালোভেরার জেল চুলের গোড়ায় দিন। মাথার ত্বকের পিএইচ-এর মাত্রায় ভারসাম্য আনে এটি। মাথায় ম্যাসাজের পর কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর হালকা উষ্ণ পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

---দুই চামচ টক দই ও তিন চামচ মধু মিশিয়ে একটা হেয়ার প্যাক বানিয়ে নিন। স্নানের আগে এই মিশ্রণ মেখে নিন চুলে। তারপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

---একটি পাকা কলা চটকিয়ে তার সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু,এক টেবিল চামচ কাঁচা দুধ,এক টেবিল চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট চুলে লাগিয়ে রাখুন। পরে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহ দুই দিন এটা করলে উপকার পাবেন।

---স্নানের সময় এক মগ পানিতে মিশিয়ে নিন আধ কাপের চেয়ে একটু বেশি পরিমাণ মধু। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহারের পরিবর্তে এই মিশ্রণ ঢেলে দিন চুলে। আঙুল চালিয়ে হালকা ম্যাসাজ করুন। পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন চুল।

---পেঁয়াজের রস চুল পড়া রোধ করতে দারুন কার্যকরী। চুল পড়া রোধে চুলের গোড়ায় ভালভাবে পেঁয়াজের রস বা বাটা লাগান। আধ ঘণ্টা পর চুল ধুয়ে ফেলুন। এতেও উপকার পাওয়া যাবে।


---ক্রমশ বাড়তে থাকা খুশকি এ সময়ের বড় ঝক্কি। চুলের এসব হটাতে নিম পাতা বড় ওষুধ। জলে নিমপাতা ফুটিয়ে নিন। পানি রং গাঢ় সবুজ হওয়ার পর তা ঠাণ্ডা করুন। এবার এই তরলকে চুলে তেলের মতো ব্যবহার করুন। প্রতি সপ্তাহে একবার এই নিমের জল ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

---এই সময় চুলে নিয়মিত তেল লাগাতে হবে।তেল চুলের গোঁড়ায় ভালোভাবে ম্যাসাজ করে লাগান এবং একটি শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন বা একটি গরম তোয়ালে পেঁচিয়ে নিন মাথায়। এতে  আপনার চুল প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্র হবে এবং চুলের শুষ্কতা দূর হবে।


---চুলের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে নিজেই হেয়ার মাস্ক তৈরি করুন। ২-৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল নিন। আধা টেবিল চামচ লেবুর রস এবং আধা টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল নিন। এবার সব উপাদান ভালোমতো মেশাতে থাকুন। এতে পাতলা জেলের মতো তৈরি হবে। এই মিশ্রণ চুলের গোড়ায় প্রয়োগ করুন। আধা ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পুর ব্যবহারে ধুয়ে ফেলুন।

Saturday, 16 March 2019

পায়ের গন্ধ দুর করার কয়েকটা সহজ উপায় --

পায়ে দুর্গন্ধ হওয়া খুবই বিরক্তিকর এবং বিব্রতকর একটা ব্যক্তিগত শারীরিক সমস্যা। ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে যে কারোরই এই বিব্রতকর শারীরিক সমস্যাটি হতে পারে।
অনেকে এটাকেই রোগ ভেবে ভুলও করে থাকেন। পা ঘামা কোনো রোগ নয় বরং এ থেকে নানা ধরনের রোগের উদ্ভব ঘটে থাকে। অনেকের শুষ্ক আবহাওয়ায় পা ঘামে আবার কারও কারও ক্ষেত্রে বছরজুড়ে। এ কারণেই পায়ে দুর্গন্ধ হয়।

শরীরের যেকোন অংশের চেয়ে এমনকি বগলের চেয়েও বেশি ঘর্ম গ্রন্থি থাকে পায়ের পাতায়। যখন পায়ের পাতার ঘর্মগ্রন্থি থেকে ঘাম নির্গত হয় তখন পুরো স্থানটি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন স্থলে পরিণত হয়। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে (যেমন-বয়ঃসন্ধি কালে অথবা প্রেগনেন্সির সময়), স্ট্রেসের মধ্যে থাকলে, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে, ব্যায়াম করলে বা গরমের কারণে পা ঘামতে পারে।

অনেকেই অস্বস্তিজনক পরিস্থিতিতে পড়েন পায়ের গন্ধের জন্য। পা-ঢাকা জুতো পরে কিছু বিশেষ জায়গায় যেতেই হয় অনেককে। আর সেখানেই বাধে সমস্যা। এই জুতোর গন্ধে অনেকেই কাছে ঘেঁসে না। অস্বস্তিকর এই পরিস্থিতি লজ্জারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মূলত যাঁদের পা ঘামে তাদেরই বেশি এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু এর থেকে আপনি মুক্তি পেতে পারেন সহজেই। কি করবেন পায়ের গন্ধ দূর করতে দেখে নিন তার কিছু কৌশল।


---পায়ে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হওয়ার মতো অংশগুলো বাদ দিন
ঘামের সাথে সাথে পায়ে থাকা ব্যাকটেরিয়াও দায়ী দূর্গন্ধ তৈরি করার জন্য। তাই পায়ের আঙ্গুলের নখ একেবারেই বড় করবেন না। কারণ এই সকল ব্যাকটেরিয়া নখ, নখের নীচের মোটা চামড়া এবং নখের আশেপাশেই বেশী জন্মে থাকে। নিয়মিতভাবে পায়ের নখ, নখের চারপাশের মোটা চামড়া কেটে ফেলুন। এরই সাথে পায়ের গোড়ালি নিয়মিত এক্সফলিয়েট করুন।

--জুতো পরার সময় অবশ্যই মোজা ব্যবহার করুন। কারণ পাতলা সুতির মোজা পায়ের সঙ্গে আটকে থাকে এবং তা পায়ের ঘাম শুষে নিতে সহায়ক। ফলে পায়ে জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে না। সিনথেটিকের বা উলের মোজাও ঘাম-রোধক। তবে এ ক্ষেত্রে মনে রাখবেন প্রতিদিন একই মোজা ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রতিদিন অন্তত একবার মোজা পরিবর্তন করতে হবে।

---বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জুতার ভেতর থেকে পায়ের ঘাম বেরোতে পারেনা। অনেকক্ষণ এমন অবস্থায় থাকার ফলে পা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। চামড়ার জুতায় গন্ধ ছড়ায় না। জুতা কেনার আগে এর শুকতলাটা দেখে নেবেন যেন তা ভালো হয়। জুতার এই অংশই ঘাম টেনে নেয়। মোজা কেনার ক্ষেত্রে দেখে নিন যেন সুতির তৈরি হয়, প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য কয়েক জোড়া মোজা রাখুন। ১দিন ব্যবহারের পর ধুয়ে ফেলুন।যাদের পা ঘামে মাত্রাতিরিক্ত এবং গন্ধও ছড়ায় তারা পায়ের জন্য ফ্রেড লোশন লাগাতে পারেন। জুতা পরার ১ঘণ্টা আগে পায়ে মাখতে হবে। এরপর জুতা পরুন। পা সব সময় শুকনো রাখার চেষ্টা করুন।জুতা/মোজা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।চর্মরোগে অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করুন l

--সাধারণত পা ধোয়ার পরে আমরা কিন্তু পা ভালোমতো মোছার দিকে একেবারেই খেয়াল রাখি না। পোডোলজিস্টদের মতে পা ধোয়ার পরে পায়ের আঙ্গুলের মাঝেও ভালোমতো মুছে নিন তোয়ালে অথবা নরম কাপড় দিয়ে। কারণ, অনেক সময় পায়ে য সকল ফাংগাল ইনফেকশন হয়, তার জন্যে পায়ের এমন ভেজাভাবও অনেকাংশে দায়ী।


-- ঘাম ও দুর্গন্ধ দূর করার জন্য পায়ের পাতার নীচের দিকে আন্ডারআর্ম ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট স্প্রে ব্যবহার করুন। এরপর কিছুটা ফুট পাউডার পায়ের পাতার উপর ছিটিয়ে দিন। এটি অতিরিক্ত ঘাম শোষণ করে নিবে এবং দুর্গন্ধ দূর করতেও সাহায্য করবে।


--পায়ের বাজে ব্যাকটেরিয়া সমূলে বিনষ্ট করার জন্যে এবং পায়ের ঘাম কমানোর জন্যে চায়ে থাকা ট্যানিন খুবই উপকারী। আপনি চাইলে পায়ের যত্নে প্রতিদিন চা ব্যবহার করতে পারেন গোসলের সময়ে। 

যেভাবে ব্যবহার করবেন: এক লিটার গরম পানিতে তিন চা চামচ চা ভিজিয়ে দিন। এর সাথে দুই লিটার ঠান্ডা পানি যোগ করুন। এখন এই মিশ্রণে দুই পা ১৫-২০ মিনিটের জন্যে ভিজিয়ে রেখে দিন।


--- নুন জল পায়ে ফাঙ্গাসের আক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। নিয়মিত নুন জলের ব্যবহারে পা অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার সমস্যা একেবারেই কমে আসে।

রোজ বাড়িতে ফিরে সামান্য উষ্ণ গরম জলেতে নুন মিশিয়ে এতে পা ডুবিয়ে রাখুন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট। পা ঘামার সমস্যা দূর হবে, সেই সঙ্গে আপনার পা ছত্রাকের আক্রমণ থেকেও রেহাই পাবে।

--একই জুতা প্রতিদিন পরলে জুতায় লেগে থাকা ঘাম শুকনোর সময় পায় না। সেই জুতোই আবার পরলে জীবাণু বাসা বাঁধে পায়ে। তার থেকেই দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। তাই অন্তত দুই জোড়া জুতা রাখুন। একদিন এক জোড়া পরলে অন্যদিন অন্যজোড়া ‍জুতো পরুন।


--জুতার ধরণও অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। অনেক বেশি আঁটসাঁট জুতা যেমন- বুট জুতা সম্ভবত গন্ধের সৃষ্টি হয়। কারণ এই ধরণের জুতায় বায়ু চলাচল করতে পারেনা। যদি সম্ভব হয় তাহলে সামনের দিকে খোলা জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করুন। অ্যাথলেটিক জুতা ব্যবহার করতে পারেন যার পাশ দিয়ে জালের মত অংশ থাকে যা দিয়ে ভেন্টিলেশনের সুবিধা থাকে।


--পায়ের বাজে গন্ধ দূর করার জন্যে তো বটেই পায়ে জন্ম নেওয়া বাজে ব্যাকটেরিয়া দূর করতেও দারুণ সাহায্য করবে অ্যারোমাথেরাপি অয়েল। এক্ষেত্রে ল্যাভেন্ডার অয়েল সবচেয়ে বেশী কার্যকরি এবং উপযোগী হবে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন: ৪-৫ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল দিয়ে দুই পায়ের পাতা খুব ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। অথবা, ২-৩ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল ৩-৪ লিটার পানিতে মিশিয়ে দুই পা ১৫-২০ মিনিট পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখুন।


---বেকিং সোডার অ্যাসিডিক উপাদান পা পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে এবং পায়ে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা সৃষ্টি করে।

এতে করে পা অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া এবং পায়ে বিশ্রী দুর্গন্ধ হওয়ার সমস্যা আর থাকে না।

পা খুব ভাল করে পরিষ্কার করে, হাতে সামান্য বেকিং সোডা নিয়ে পায়ে ভালো করে ঘষে নিন। এর ফলে পায়ে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বন্ধ হবে। চাইলে বন্ধ জুতোর ভেতরেও ছিটিয়ে নিতে পারেন খানিকটা বেকিং সোডা, এতেও অনেক উপকার পাবেন।

--জুতা পরার আগে পায়ে পাউডার লাগিয়ে নিন। জুতার ভেতরেও পাউডার ছিটিয়ে দিতে পারেন। এতে পা কম ঘামাবে।

---অনেকেই ঘরেও জুতা অথবা স্যান্ডেল পরে থাকতে পছন্দ করেন। তবে ঘরে থাকাকালীন অবস্থায় কোন স্যান্ডেল অথবা জুতা না পরাটাই সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে করে পায়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বেশী হয়ে থাকে।

---এসব একেবারেই সহজ এবং সুবিধাজনক পদ্ধতি মেনে চললে পায়ের দুর্গন্ধ কমে যাবে অনেকটাই। এছাড়া বাইরে ব্যবহৃত জুতা এবং মোজা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং শুকাতে হবে। কিন্তু, পায়ের দুর্গন্ধ যদি অতিরিক্ত হয় এবং পায়ে চুলকানির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞর শরণাপন্ন হতে হবে।

--সপ্তাহে একদিন গরম পানিতে শ্যাম্পু মিশিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে রেখে পরিষ্কার করে নিন পা। অথবা হালকা গরমপানিতে সাবানের ফেনা করে পা ধুয়ে নিন। এতে ত্বকে থাকা জীবাণুর সংখ্যা কমবে।


Saturday, 22 December 2018

গলা খুসখুস করলে কি করতে পারি ?




‘খক খক, খুক খুক’ ক্লাসে বা অফিসে বসে কাশছেন আপনি অনবরত। আপনার কাশির শব্দে তাকিয়ে আছে আপনার দিকে সবাই। কি বিব্রতকর পরিস্থিতিতেই না পড়েছেন আপনি! শীত ও বসন্তের এই সময়টাতে অধিকাংশ মানুষই খুসখুসে কাশির যন্ত্রণায় ভোগেন। কারণে অকারণে শুকনো কফের থেকে কাশি ওঠে কিছুক্ষণ পর পর।


 খুসখুসে কাশির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ঘরোয়া কিছু উপায় আছে । ওষুধ না খেয়ে প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করেই কমিয়ে ফেলা সম্ভব খুসখুসে কাশি।

-গরম বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে কাশি অনেকটাই তরল হয়ে আসবে এবং আরাম মিলবে। হালকা গরম লবণ পানি দিয়ে গার্গল করলেও উপকার হবে।

- ঠান্ডা খাবার ও পানীয় পরিহার করুন।

-প্রাচীনকাল থেকেই গলা খুশখুসে ভাব দূর করতে ব্যবহার করা হয় আদা চা। ২ কাপ জলে আদা কুচি দিয়ে ফুটিয়ে সামান্য মধু মিশিয়ে পান করলে খুশখুসে ভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বেশ সহজেই। কারণ আদা মধুর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান গলার গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া কমায় এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

-প্রচুর জল পান করুন। প্রতিবার হালকা গরম জল খাওয়ার চেষ্টা করুন। দিনে অন্তত ১২ গ্লাস হালকা গরম জল পান করলে খুসখুসে কাশি কিছুটা কমে যায়।

-রাতে বিরক্তিকর কাশি থেকে বাঁচতে একটু উঁচু বালিশ ব্যবহার করুন, শোবার আগে একটু গার্গল করুন।

-খুসখুসে কাশির উৎপাত দেখা দিলে ধূমপান ছেড়ে দিন। ধূমপান করলে কাশি বাড়ে। তাই কাশি কমাতে ধূমপান ছাড়ুন এবং ধূমপায়ীদেরকে এড়িয়ে চলুন।

-কলা একটি নন-অ্যাসিডিক খাবার যা গলা খুশখুসে ভাব কমাতে বিশেষ ভাবে কার্যকরী। এছাড়াও কলা একটি লো গ্লাইসেমিক খাবার যা ঠাণ্ডা-সর্দি ভাব কমায়।

-কুসুম কুসুম গরম পানি পান করা ভালো। হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গড়গড়া করা উচিত।

-প্রয়োজনমতো গরম কাপড় পরা। তীব্র শীতের সময় কান-ঢাকা টুপি পরা এবং গলায় মাফলার ব্যবহার করা ভালো।

-সমপরিমাণ লেবুর রস এ মধুর মিশ্রন গলার ভেতরের ইনফ্লেমেশন কমায় এবং ঠাণ্ডা লেগে গলার ভেতর সরু হয়ে আসার ফলে যে সমস্যা তৈরি হয় তা দূর করতে সহায়তা করে।

-ঘরে মশার ওষুধ কিংবা এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে করবেন না। খুসখুসে কাশি বেড়ে যেতে পারে এগুলোর কারণে।

-নাকের ভিতরে হালকা বাম ব্যবহার করতে পারেন। এটি নাকের পথকে পরিষ্কার করে কাশি কমাতে সহায়তা করবে।

--বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই, বিশেষ করে সঙ্গে জ্বর না থাকলে। চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন বা মনটিলুকাস্ট জাতীয় ওষুধ খাওয়া যায়। এগুলো গলা বা শ্বাসনালিতে কাশি উৎপাদনকারী রাসায়নিকের পরিমাণ কমাবে, শ্বাসনালিকে প্রসারিত করবে। ফলে জমে থাকা কফ বেরিয়ে আসতে পারবে। প্রচলিত কফ সিরাপ কাশি আরও শুষ্ক করে দিতে পারে।

-প্রতিদিন চারটি তুলসি পাতা নিয়ে, তার সাথে মধু মিশিয়ে চিবিয়ে খেয়ে নিন। চায়ের সাথে তুলসি পাতা মিশিয়েও খাওয়া যায়। তুলসী পাতা দ্রুত খুসখুসে কাশি নিরাময়ে সহায়ক।


-প্রতিদিন হালকা গরম জলে স্নান করুন। এতে শুকনা কফ ও খুসখুসে কাশির উপদ্রব কমে যাবে।

-অতিরিক্ত ঘাম যেনো না হয় সেটা খেয়াল করা। বেশি ঘেমে গেলে ভেজা কাপড় দিয়ে ঘাম মুছে ফেলতে হবে।

-শুষ্ক কাশিতে প্রচুর পানি পান করতে হয়। এবং অবশ্যই সেই পানি হালকা গরম হতে হবে। সারাদিনই অল্প অল্প করে গরম পানি পান করলে, খুসখুসেজাতীয় কাশি দূর হয়ে যাবে। দিনে অন্তত ১২ গ্লাস হালকা গরম পানি পান করুন। কাশি থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে।

-ধুলাবালি, ধূমপান এড়িয়ে চলা। এর জন্য মাস্ক ব্যবহার করা।

-ঠাণ্ডা লেগে গলায় ব্যথা হওয়া অনেক স্বাভাবিক ঘটনা। এই সমস্যা দূর করতে নেশ সহায়তা করে ডিমের সাদা অংশ। কারণ ডিমের সাদা অংশ গলার ভেতরের গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া কমায় এবং ইনফ্লেমেশন দূর করে।

-ঘরের দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ না রেখে মুক্ত ও নির্মল বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা।

-গাজরকে বলা হয় সুপার ফুড। বিশেষ করে শীতকালীন এই সকল সাধারণ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার সব চাইতে ভালো সবজি হচ্ছে এই গাজর। গাজরের ভিটামিন ও মিনারেলস দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যার ফলে সর্দি-ঠাণ্ডা ও কাশি থেকে মুক্তির জন্য আমাদের দেহই কাজ করে থাকে। তবে সর্দি-ঠাণ্ডা ও কাশির সময় কাঁচা না খেয়ে সেদ্ধ করা গাজর খাওয়া উচিত।

-হাত ধোয়ার অভ্যাস করা। বিশেষ করে চোখ বা নাক মোছার পরপর হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।

-প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এক চামচ মধু খেয়ে নিন। মধু খুসখুসে কাশি কমাতে সাহায্য করে।


Tuesday, 6 November 2018

কাঁচা পেঁপে খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা-

উপকার--


--- কাঁচা সবুজ পেঁপেতে নানা রকম প্রাকৃতিক এনজাইম থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি এনজাইম হচ্ছে সাইমোপ্যাপিন ও প্যাপিন। এই দুটি এনজাইম প্রোটিন চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট ভাঙতে সাহায্য করে।

---কাঁচা পেঁপে আমাদের দেহের সঠিক রক্ত সরবরাহে কাজ করে। আমাদের দেহে জমা থাকা সোডিয়াম দূর  করতে সহায়তা করে যা হৃদপিণ্ডের রোগের জন্য দায়ী। নিয়মিত পেঁপে খেলে উচ্চ রক্ত চাপের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এতে করে হৃদপিণ্ড জনিত যে কোনো সমস্যার সমাধান হয়।

---পেঁপেতে থাকা আঁশ ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি বা অম্লতা, পাইলস ও ডায়রিয়া দূর করতে পারে। মানুষের শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে পেঁপে দারুণ কার্যকর।

---ডায়াবেটিস বর্তমানে কমবেশি সবাইকে বেশ ভোগান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আর কেউ যদি এই ডায়াবেটিসে ভোগেন, তাহলে আপনি আজ থেকেই কাঁচা পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস শুরু করুন। খেতে পারেন কাঁচা পেঁপের জুসও। কেননা, কাঁচা পেঁপে বা এর জুস রক্তে চিনির পরিমাণ কমায়। আর এটি শরীরে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়ায়।

--‘নিউট্রিশন’ নামের ব্রিটিশ জার্নাল বা সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা পেঁপেতে অনেক বেশি ক্যারটিনয়েডস থাকে, যা গাজর বা টমেটোর চেয়ে বেশি। মানুষের শরীরে জন্য কাঁচা পেঁপেতে থাকা ক্যারটিনয়েড বেশি উপযোগী।

---নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খেলে ত্বকের সমস্যা দূর হয়। বিশেষ করে ব্রণ এবং ত্বকের ওপর নানা দাগ দূর করতে পারে কাঁচা পেঁপে। মৃত কোষ সমস্যা দূর করতে পারে পেঁপে। ব্রণের সমস্যা প্রায় সবারই থাকে। এসব ব্রণের কারণে মুখে আনেক ধরনের দাগ তৈরি হয়। এই বাজে দাগগুলো নিরাময় করতে পারে সুমিষ্ট এই ফলটি। মুখের অন্যান্য যেকোনো দাগ যেমন মেছতা, ফুস্কুরির দাগও খুব সহজেই দূর করে দিতে পারে।মুখের বিভিন্ন দাগ দূর করার পাশাপাশি পেঁপে ফলটি মুখের উজ্জ্বলতাও ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

---সালাদ খান না এমন পরিবার খুব কমই পাওয়া যাবে।যাদের পেটে গোলমাল দেখা দেয়, তারা পেঁপে খেতে পারেন। অন্যান্য ফলের তুলনায় পেঁপেতে ক্যারোটিন অনেক বেশি থাকে। কিন্তু ক্যালরির পরিমাণ বেশ কম থাকায় যারা মেদ সমস্যায় ভুগছেন তারা পেঁপে খেতে পারেন অনায়াসে। এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও সি আছে।

--- প্রত্যেহ সকালে কাঁচা পেঁপের আঠা ৫/৭ ফোঁটা ৫/৬ টি বাতাসার সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। ২/৩ দিন খাওয়ার পর রক্ত আমাশয় কমতে থাকবে।

--যে কোনো প্রকারের ক্রিমি হলে, পেঁপের আঠা ১৫ ফোঁটা ও মধু ১চা চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। এরপর আধা ঘন্টা পরে উষ্ণ পানি আধ কাপ খেয়ে তারপরে ১ চামচ বাখারি (শসা-ক্ষীরার মতো এর স্বাদ) চুনের পানি খেতে হয়। এভাবে ২ দিন খেলে ক্রিমির উপদ্রব কমে যাবে।

---আমাশয় ও পেটে যন্ত্রনা থাকলে কাঁচা পেঁপের আঠা ৩০ ফোঁটা ও ১ চামচ চুনের পানি মিশিয়ে তাতে একটু দুধ দিয়ে খেতে হবে। একবার খেলেই পেটের যন্ত্রনা কমে যাবে এবং আমাশয় কমে যাবে।


---৩০ ফোঁটা পেঁপের আঠাতে এক চামচ চিনি মিশিয়ে এক কাপ পানিতে ভালো করে নেড়ে মিশ্রণটি সারাদিনে ৩বার খেতে হবে। ৪/৫ দিনের পর থেকে যকৃতের বৃদ্ধিটা কমতে থাকবে, তবে ৫/৬ দিন খাওয়ার পর সপ্তাহে ২ দিন খাওয়াই ভালো। এভাবে ১ মাস খেলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।


---প্রত্যেকদিন সকালে ২/৩ ফোঁটা পেঁপের আঠা পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা ক্ষুধাও বেড়ে যাবে এবং হজমও ঠিকভাবে হবে।


---কয়েক টুকরো পাকা পেঁপের শাঁষ, আর সামান্য লবন এবং একটু গোলমরিচের গুড়ো একসংগে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা পেট ফাঁপার উপশম হয।


---দেড় চামচ পেঁপে পাতার রস এক কাপ জলে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা জ্বরের বেগ, বমি, মাথার যন্ত্রনা, শরীরে দাহ কমে যাবে। জ্বর কমে গেলে আর খাওয়ার প্রয়োজন নেই।

---যাদের মাসিক ঋতু বন্ধ হওয়ার সময় হয়নি অথচ বন্ধ হয়ে গিয়েছে অথবা যেটুকু হয় তা না হওয়ারই মত, সেক্ষেত্রে ৫/৬ টি পাকা পেঁপের বিচি গুড়া করে রোজ সকালে ও বিকালে দু’বার জলসহ খেতে হবে। এর ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই মাসিক স্রাব ঠিক হয়ে যাবে, তবে অন্য কোন কারনে এটা বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

---সে যে কোনো প্রকারের হোক না কেন, কাঁচা পেঁপের/গাছের আঠা ঐ দাদে লাগিয়ে দিতে হবে, একদিন লাগিয়ে পরের দিন লাগাতে হবে না, এরপরের দিন আবার লাগাতে হবে, এইভাবে ৩/৪ দিন লাগালে দাদ মিলিয়ে যাবে।


---যে একজিমা শুকনা অথবা রস গড়ায় না, সেখানে ১ দিন অথবা ২ দিন অন্তর পেঁপের আঠা লাগালে ওটার চামড়া উঠতে উঠতে পাতলা হয়ে যায়।

----- ১ চামচ পেঁপের আঠা, তার সঙ্গে ৭/৮ চামচ জলে মিশিয়ে ফেটিয়ে নিতে হয়। তারপর ওই জলে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর মাথা ধুয়ে ফেলতে হয়। এইভাবে একদিন অন্তর আর একদিন বা ২ দিন লাগালে উকুন মরে যায়।


--প্রতিদিন দুপুর ও রাতের খাবারের পর এক টুকরো কাঁচা পেঁপে ভালো করে চিবিয়ে খেলে এবং তারপর এক গ্লাস পানি খেলে সকালে পেট পরিষ্কার হয়। গ্যাস্ট্রিক ও বদহজমের কষ্ট দূর হয়।


--- প্রতিদিন পাকা পেপের সাথে মধু ও টকদই মিশিয়ে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

----শরীর ঠিক রাখতে নিয়মিত কাঁচা পেঁপের জুস খেতে পারেন। কাঁচা পেঁপের সঙ্গে শসা মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এতে একটু লেবু চিপে দিয়ে খেতে পারেন।


অপকার ---

---গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে খাওয়া সমস্যা তৈরি করতে পারে। ব্রিটিশ ও ভারতের বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, কাঁচা পেঁপের মধ্যে লেটেক্স থাকে। লেটেক্সের মধ্যে উপস্থিত উপাদান পেপেইন জরায়ুর রক্তপাত ঘটিয়ে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, কাঁচা পেঁপে খেলে এসিড হতে পারে। এর ফলে বদ হজম, বমি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। তাই এ সময় পাকা পেঁপে খান।

---পুষ্টিকর বলে কোনকিছুই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। পেঁপে অতিরিক্ত খেলে খাদ্যনালীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। দিনে এক কাপের বেশি পেঁপে খাওয়া উচিত নয়।

---পেঁপের বীজের নির্যাস পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমাতে সক্ষম। বীর্জে শুক্রাণুর সংখ্যা কমাতে এবং শুক্রাণুর নড়াচড়ার ক্ষমতা কমার পেছনেও দায়ী হতে পারে পেঁপে।


---অ্যালার্জিক কারণে যাদের প্রায়শই শ্বাস কষ্ট হয়ে থাকে, তাদের ভুলেও পেঁপে খাওয়া চলবে না। কারণ এতে উপস্থিত প্য়াপিন নামে একটি উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র শ্বাস কষ্টের আশঙ্কা বৃদ্ধি করে। প্রসঙ্গত, অ্যাস্থেমা রোগেও যারা ভুগছেন, তাদেরও এই ফলটি খাওয়া চলবে না।
কাঁচাপেঁপের বোটা থেকে বের হওয়া সাদা তরল চামড়ায় অ্যালার্জির সৃষ্টি করতে পারে।

---পেঁপে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমায়। তাই যারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খান তাদের জন্য পেঁপে বিপজ্জনক হতে পারে, এর ফলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়ে মাথা ঘোড়া, শরীর দুর্বলতা ইত্যাদি হতে পারে।

---কোনও কিছুই বেশি পরিমাণে শরীরে প্রবেশ ভাল নয়, তা সে পুষ্টিকর উপাদানই হোক না কেন! এক্ষেত্রেও কিন্তু একই ঘটনা ঘটে। পেঁপেতে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি রয়েছে। এই পরিমাণ ভিটামিন প্রায় দিনই যদি শরীরে প্রবেশ করতে শুরু করে, তাহলে দেহে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পায়। আর এমনটা হলে কিডনিতে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

---পেঁপে পাতায় থাকা ‘পাপাইন’ নামক উপাদান গর্ভের সন্তানের জন্য বিষাক্ত হতে পারে। সন্তান বুকের দুধ খাওয়ানোর বয়সে মায়ের পেঁপে খাওয়া ক্ষতিকর কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে সাবধানের মার নেই, তাই গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর্যন্ত পেঁপে এড়িতে চলা উচিত।





Sunday, 12 August 2018

আপনার শরীরের জন্য ভিটামিন-ই কেন দরকার --

শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ভিটামিন হলো ভিটামিন-ই। এটি শারীরিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থ থাকতে ভূমিকা রাখে।

ভিটামিন - ই'র উপকারিতা--

-- কোষ নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচতে শরীরে চাই অ্যান্টঅক্সিডেন্ট উপাদান, যা ভিটামিন-ই থেকে পাওয়া যায়। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষের জন্য ক্ষতিকারক মৌলগুলির সঙ্গে লড়াই করে। দূষণ এবং ধূপমান থেকে শরীরে মুক্তমৌল তৈরি হয়। ভিটামিন ই- তে এমন এক ধরণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা কোষ নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। সাধারণত দূষণ এবং ধূমপান থেকে শরীরে যে ক্ষতিকারক মুক্তমৌল তৈরি হয় তার বিরুদ্ধে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুদ্ধ করে। এতে আমরা সুস্থ থাকতে পারি। 

-- বাজারে ভিটামিন-ই যুক্ত তেল পাওয়া যায়। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নানা উপকারিতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হল কাটাছেড়ার ক্ষত ও ব্রণ সারানো।

-- কোষ পুণর্গঠন প্রক্রিয়ার জন্য ভিটামিন-ই উপকারী হওয়ায় এটি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সক্ষম।

-- চুলের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন-ই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। চুপ পড়া, অল্প বয়সে চুল সাদা বা ধুসর হওয়া থেকে বাঁচতে চাই ভিটামিন-ই।

-- স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন-ই’তে ভরপুর খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ‘ইমিউন সেল’ বা রোগ প্রতিরোধকারী কোষ তৈরি সহায়ক, যা শরীরে তৈরি করে ব্যাকটেরিয়া-নাষক অ্যান্টিবডি।

--- গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন-ই গ্রহণ করলে হূদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, চোখের ছানি, মাংসপেশির ব্যথা, ঠাণ্ডা লাগা ও আন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়।

---  হার্ট অ্যাটাক কমাতে ভিটামিন-ই মধ্যবয়সী পুরুষ এবং মহিলা যারা ভিটামিন-ই গ্রহণ করে থাকেন, যেসব লোক গ্রহণ করেন না, তাদের চেয়ে হার্ট এ্যাটাক কম হয়। তথ্যটি জানা গেছে হার্ভার্ড স্কুলের পাবলিক হেলথ বিভাগের দ’টি পৃথক গবেষণা থেকে। দি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে প্রায় ৪০ হাজার পুরুষ যারা কমপক্ষে দুই বছর দৈনিক ন্যূনতম ১০০ I.U ভিটামিন-ই গ্রহণ করেছেন তাদের হার্ট অ্যাটাক কম হয়েছে শতকরা ৩৭ ভাগ। দ্বিতীয় গবেষণাটি করা হয় মহিলাদের নিয়ে। ৮৭ হাজার মহিলাকে নিয়ে আট বছরের এক উদ্যোগ নেয়া হয়। সেখানে দেখা গেছে, দুই বছরের বেশি সময় দৈনিক ১০০ আইইউ ভিটামিন-ই গ্রহণে মহিলাদের হার্ট এ্যাটাক শতকরা ৪১ ভাগ কমেছে।

--- মুখে কোনও ক্ষতচিহ্ন থাকলে তার উপশমে ভিটামিন ই অব্যর্থ! অ্যান্টি অক্সিড্যান্টে ভরপুর ভিটামিন ই ত্বকের নিজে থেকে সেরে ওঠার ক্ষমতাকে আরও জোরদার করে। মুখে ব্রণর ক্ষতচিহ্ন থাকলে একটা ভিটামিন ই ক্যাপসুল আধখানা করে কেটে ভিতরের তেল সরাসরি দাগের উপর লাগান। ভিটামিন ই ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে দ্রুত ক্ষতচিহ্ন সারিয়ে তোলে।

----বলিরেখা সারাতে ভিটামিন ই অত্যন্ত কার্যকরী। ভিটামিন ই-র নিয়মিত ব্যবহার ত্বকের বয়স বাড়তে দেয় না। ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু সারিয়ে ত্বক কোমল, সুন্দর করে তোলে ভিটামিন ই।

---মুখে দাগছোপ বা ত্বকের রং সব জায়গায় সমান না হলেও একমাত্র ওষুধ ভিটামিন ই। ত্বকের কোনও অংশে মেলানিন বেশি জমে গেলে সেই অংশের রং অন্যান্য অংশের চেয়ে কালো দেখায়। ত্বকের কালো অংশে ভিটামিন ই লাগালে তা ধীরে ধীরে হাইপারপিগমেন্টেশন কমিয়ে ত্বকের রং স্বাভাবিক করে তোলে।

---হাতের ত্বক শুকনো হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। সাধারণ ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজ়ার দিয়ে তা কমানো যায় না। হাতের চামড়া কুঁচকেও যায় অনেকের। এমন ক্ষেত্রে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কেটে সেই তেল হাতের ত্বকে সরাসরি ক্রিমের মতো মেখে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে চোখে পড়ার মতো তরুণ দেখাবে হাতের ত্বক।

---- ফাটা ঠোঁটের সমস্যায় বছরভর কষ্ট পান? প্রতিদিনের লিপবামের বদলে ব্যবহার করুন ভিটামিন ই তেল। ঠোঁটের রং কালো হয়ে গেলেও ভিটামিন ই তেলে ফল পাবেন।

----সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির হাত থেকে ত্বককে বাঁচাতেও আপনার ভরসা ভিটামিন ই। মুখে সানস্ক্রিন লাগানোর আগে ভিটামিন ই তেল মেখে নিন। বিকল্প হিসেবে ভিটামিন ই যুক্ত সানস্ক্রিনও ব্যবহার করতে পারেন।

-- শরীরের কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন-ই গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়। এসব হচ্ছে-
-অন্ত্রের অসুখ, লিভার বা যকৃতের অসুখ, অগ্ন্যাশয়ের অসুখ, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাকস্থলী অপসারণ।

যে শিশু টিনের দুধ খায় তাদের ভিটামিন-ই এর ঘাটতি হতে পারে। মূলত পলি স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ভিটামিন-ই এর প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়।

-- গবেষণায় জানা গেছে যে, ব্যায়াম পরবর্তী পেশী বেদনা লাঘবে ভিটামিন ‘ই’ বেশ কার্যকর। এক্ষেত্রে ভিটামিন ‘ই’ এর ফ্রী র‌্যাডিক্যাল রোধী বা এ্যান্টি অক্সিডেন্ট
ভূমিকাই কাজ করে। এমনিতে ফ্রী র‌্যাডিক্যাল  পেশীর  ছোট-খাটো কাটাছেঁড়া  মেরামত করে।  কিন্তু ফ্রী র‌্যাডিক্যালের
সংখ্যা বেড়ে গেলে তা পেশীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াঁয়। ভিটামিন ‘ই’ সেবনে ফ্রী র‌্যাডিক্যালের সংখ্যা কমে যায়
এবং পেশীর ব্যাথা নিরাময় হয়।


এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের র্হাভার্ড মেডিক্যাল স্কুল কর্তৃক প্রকাশিত এক হেলথ রিপোর্টে বলা হয় যে, ভিটামিন  ‘ই’
এর ক্ষমতার মধ্যে আরও দুটো বৈশিষ্ট্য অর্ন্তভুক্ত করা যায় যেগুলো হৃদরোগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট উপকারী ভূমিকা পালন
করে। এ দুটো বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রদাহ নিবারণ ও মসৃণ মাংস পেশীর কোষ প্রবৃদ্ধিতে সাহায্য করা। মাংস পেশীর কোষ উৎপাদন  ক্ষমতার  সংগে  প্রদাহ  নিবারণ  ক্ষমতা  এ  দুটো  গুণ  রক্তনালীর  সংকীর্ণ  হওয়াকে  প্রতিরোধ  করে।  এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্রিয়া ছাড়াও এই দুই গুণাবলীর কারণে ভিটামিন ‘ই’ হৃদরোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরও
উল্লেখ্য যে, ভিটামিন ‘ই’ এর সাহায্য ছাড়া দেহে ভিটামিন ‘এ’র শোষণ ও মজুদ হওয়া কঠিন।
ভিটামিন ‘ই’ এর ক্যান্সাররোধী গুণাবলীর কথাও জানা গেছে।

-ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাবার খান:

বাদাম, খাদ্যশস্য, ভুট্টার ভ্রুণ এবং গাঢ় সবুজ শাকসবজি ভিটামিন-ই এর চমৎকার উৎস। আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এসব খাবার রাখুন।

১) সূর্যমুখীর বীজ : সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে সর্বোচ্চ পরিমাণে ভিটামিন ই। প্রতি ১০০ গ্রাম সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে ৩৬.৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। এই বীজ থেকে যে তেল তৈরি করা হয় তা সাধারণত সালাদ, স্যুপ বা গার্নিশে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া অন্যান্য রান্নাতেও সূর্যমুখীর তেল ব্যবহার করা যায়। এতে কোনো কোলেস্টেরল নেই, রক্তচাপ ও হৃদরোগীরা অনায়াসে তা খেতে পারেন।

 ২) লাল মরিচের গুঁড়া : ঝালের কারণে আমরা অনেকেই মরিচ কম খেয়ে থাকি। অবাক হলেও কথা সত্য। জেনে অবাক হতে পারেন, সর্বোচ্চ ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবারের তালিকায় আছে লাল মরিচের গুঁড়া! প্রতি ১০০ গ্রাম লাল মরিচের গুঁড়ায় রয়েছে ২৯.৮৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। আমাদের রোজকার খাবারে আমরা মরিচের গুঁড়া ব্যবহার করে থাকি। তাই আমাদের শরীরে ভিটামিন ই-এর অভাব সচরাচর ঘটে না।

৩) কাঠ বাদাম : আমন্ড বা কাঠবাদাম ভিটামিন ই-এর জন্য বেশি জনপ্রিয়। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঠবাদামে রয়েছে ২৬.২২ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। দাম বেশি বলে কাঠবাদাম খাবার হিসেবে খুব বেশি প্রচলিত নয়। সাধারণত ক্ষীর, পায়েস, মিষ্টি, সন্দেশ, হালুয়াসহ অন্যান্য খাবার তৈরিতে অনুষঙ্গিক উপকরণ হিসেবে কাঠবাদাম ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কাঠবাদামের দুধ ও মাখনও ভিটামিন ই-এর ভালো উত্‍স।

৪) পেস্তা বাদাম : কাঠবাদামের পরেই রয়েছে পাইন নাট বা পেস্তা বাদাম। প্রতি ১০০ গ্রাম পেস্তা বাদামে রয়েছে ৯.৩৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। কাঠবাদামের মতোই পেস্তা বাদামও আমাদের দেশে বিভিন্ন খাবার তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

৫) চীনা বাদাম : চীনা বাদাম খেতে পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুব কমই আছেন! বাদাম ভাজা বেশ মুখরোচক একটি খাবার। প্রতি ১০০ গ্রাম চীনা বাদামে রয়েছে ৬.৯৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। চীনাবাদাম নানা খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। চীনাবাদামের মাখনও বেশ উপকারী।

৬) ভেষজ: ভেষজের মধ্য বেসিল ও অরিগানোতে রয়েছে সর্বোচ্চ ভিটামিন ই। প্রতি ১০০ গ্রাম বেসিল ও অরিগানোতে রয়েছে ৭.৪৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই। পাস্তা, পিজা, সালাদ ও স্যান্ডউইচ তৈরির উপকরণ হিসেবে বেসিল এবং অরিগানো ব্যবহার করা হয়।

৭) শুকনো এপ্রিকট : এপ্রিকটকে বলা হয় খাদ্যআঁশ ও নানা ভিটামিনের উত্‍কৃষ্ট উত্‍স। প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনো এপ্রিকটে রয়েছে ৪.৩৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।

৮) জলপাইয়ের আচার : ভিটামিন ই-এর একটি উত্‍কৃষ্ট উত্‍স হিসেবে গণ্য করা হয় কাঁচা জলপাইকে। তবে কাঁচা জলপাইয়ের আচার হলো ভিটামিন ই-এর একটি ভালো উত্‍স। প্রতি ১০০ গ্রাম জলপাইয়ের আচারে রয়েছে ৩.৮১ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।

৯) পালং শাক : রান্না করা পালং শাক আয়রন, ক্যালসিয়াম ও খনিজ পদার্থের আধার হিসেবে পরিগণিত হয়। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ই-ও। প্রতি ১০০ গ্রাম রান্না করা পালং শাকে রয়েছে ৩.৫৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।

 ১০) কচুর মূল : আয়রন ও ক্যালসিয়ামের সর্বোত্‍কৃষ্ট উত্‍স হলো কচুর মূল। এটি আমাদের দেশে অতি সহজলভ্য একটি খাবার। আলুর বিকল্প হিসেবেও কচুর মূল খাওয়া যায়। সর্বোচ্চ ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাদ্য তালিকার দশ নম্বরে রয়েছে কচুর মূল। প্রতি ১০০ গ্রাম কচুর মূলে রয়েছে ২.৯৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।


জলপাইয়ের আচার: ভিটামিন ‘ই’ এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে গণ্য করা হয় কাঁচা জলপাইকে। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা জলপাইয়ের আচারে রয়েছে ৩.৮১ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই।

খাবার রান্না করলে এবং সংরক্ষণ করে রাখলে ভিটামিন-ই কিছুটা নষ্ট হয়। শুধু ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে সেটি সুন্দর খাবারের বিকল্প হতে পারে না এবং সেটি শরীরে শক্তিও উৎপন্ন করতে পারবে না। অন্যান্য খাদ্যের উপস্থিতি ছাড়া ভিটামিনগুলো নিজেরা কাজ করতে পারে না। শরীরে ভিটামিন-ই এর শোষণের জন্য কিছুটা চর্বির প্রয়োজন হয়।
ভিটামিন-ই পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনে, যেমন- ডি-কিংবা ডিএল আলফা টকোফেরিল অ্যাসিটেট, ডি-কিংবা ডিএল-আলফা টকোফেরল এবং ডি-কিংবা এল-আলফা টকোফেরিল এসিড সাক্সিনেট।

আপনি যদি প্রেসক্রিপশন ছাড়া ভিটামিন-ই গ্রহণ করেন, তাহলে লেবেলের লেখাগুলো ভালো করে পড়ে নেবেন এবং কোনো ধরনের সতর্কতার উল্লেখ থাকলে সেটি মেনে চলবেন। কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন-ই গ্রহণে সতর্ক হতে হবে-

অ্যালার্জি : ভিটামিন-ই গ্রহণের পর কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় কিংবা অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসককে জানাতে হবে।

গর্ভাবস্থা : এটি গুরুত্বপূর্ণ, যখন আপনি গর্ভবতী হচ্ছেন তখন পর্যাপ্ত ভিটামিন গ্রহণ করছেন। তবে আপনাকে দেখতে হবে গর্ভাবস্থার পুরো সময়টা আপনি সঠিক মাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করছেন কি না, কেননা ভ্রুণের বিকাশ এবং বৃদ্ধি নির্ভর করে মায়ের সঠিক পুষ্টি গ্রহণের ওপর। গর্ভাবস্থায় বেশি মাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করলে ক্ষতি হতে পারে, তাই বেশি মাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করবেন না।

বুকের দুধ : শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য স্তনদানরত মহিলার সঠিকমাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে থাকেন তা হলে মাঝে মধ্যে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। এ ক্ষেত্রে শিশুকে অন্য উপায়ে ভিটামিন দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে আপনি যদি বুকের দুধ খাওয়ানোকালে অতিরিক্ত মাত্রায় ভিটামিন গ্রহণ করেন তাহলে আপনার নিজের জন্য এবং শিশুর জন্য সেটি ক্ষতিকর হবে।

শিশু : দৈনন্দিন সুপারিশকৃত মাত্রা গ্রহণের ফলে শিশুর অসুবিধার কথা জানা যায়নি। শিশু বুকের দুধ খেলে তাকে সঠিক মাত্রায় ভিটামিন দেয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। গবেষণায় দেখা গেছে নির্দিষ্ট সময়ের আগে জন্মগ্রহণকারী শিশুর শরীরে ভিটামিন-ই এর মাত্রা কম থাকে। আপনার চিকিৎসক এ ব্যাপারে ভিটামিন-ই এর মাত্রা নির্ধারণ করে দেবেন।

প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ : দৈনন্দিন সুপারিশকৃত মাত্রা গ্রহণের ফলে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধার কথা জানা যায়নি।

অন্য ওষুধ গ্রহণ : আপনি যদি ভিটামিন-ই গ্রহণের সময় অন্য কোনো ওষুধ খেতে থাকেন তা হলে অবশ্যই চিকিৎসককে জানাবেন। কারণ অনেক ক্ষেত্রে দুটি ওষুধের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করতে পারেন কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে বলতে পারেন।
অন্যান্য চিকিৎসাগত সমস্যা : অন্য কোনো চিকিৎসাগত সমস্যা উপস্থিত থাকলে ভিটামিন-ই গ্রহণের ফলে অবস্থা খারাপ হতে পারে। আপনার অন্য কোনো চিকিৎসাগত সমস্যা আছে কি না সেটি চিকিৎসককে অবশ্যই জানাবেন, বিশেষ করে আপনার যদি রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা থাকে।

দৈনিক ৪০০ ইউনিটের বেশি এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য ভিটামিন-ই গ্রহণ করলে নিুলিখিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটে-

চোখে ঝাপসা দেখা,  ডায়রিয়া, মাথাঘোরা, মাথাব্যথা, বমিবমি ভাব, পেট কামড়ানো, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা।
এক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে পরিমিত পরিমাণে ভিটামিন-ই গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।