Saturday, 20 April 2019

প্রাচীন ন্যানোটেকনোলজির নিদর্শন লাইকারগাস কাপ--

বর্তমান সময় ন্যানোটেকনোলোজি হলো সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে একটি। কিন্তু যদি বলা হয়-যে প্রযুক্তিকে বিশ্ব বর্তমানে অত্যাধুনিক বলছে; তা আসলে ১ হাজার ৬শ’ বছর আগেই ব্যবহার করা হয়েছে তাহলে?

1950-এর দশকে, ব্রিটিশ মিউজিয়ামটি লাইকারগাস কাপ নামে পরিচিত একটি প্রাচীন পাত্রের সন্ধান পায় , রাজা লাইকার্গাসের  চিত্র থাকার কারণে  এটির এরূপ নামকরণ করা হয়। কারুশিল্প চমৎকার ও  চিত্তাকর্ষকভাবে কাটা এবং নকশাকৃত। রোমান জাহাজের এই শ্রেণীটি খাঁচা কাপ হিসাবে পরিচিত, এবং তারা বেশিরভাগই চতুর্থ শতাব্দীতে  তৈরি হয়েছিল। এই অবিশাস্য রোমান প্রযুক্তি  ও কারুকার্যের নিদর্শন,  মাত্র পঞ্চাশ টি কাপ পৃথিবীতে অবশিষ্ট আছে  ।

স্পষ্টতই  কাপগুলি তৈরী করা খুব কঠিন এবং এতে কোন সন্দেহ নেই, তবে এই বিশেষ নমুনাটি পৃথক ছিল কারণ এটি একটি অদ্ভুত অপটিক্যাল ঘটনা প্রদর্শন করেছিল যা কয়েক দশক ধরে বিশেষজ্ঞদের হতবাক করেছে। স্বাভাবিক আলোতে, গ্লাসটি সবুজ রঙের দেখায়, কিন্তু পেছনের দিক থেকে আলোকিত করা হলে এটি লাল হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে, বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত ছিলেন না যে কাপটি কাঁচের  তৈরি ছিল, নাকি রত্ন পাথর দিয়ে তৈরী ছিল। 1990 সাল নাগাদ গবেষকরা বুঝতে পেরেছিলেন যে রঙ পরিবর্তন কীভাবে আনা হয়েছিল।

মনে করা হয়  যে গ্লাসটিতে সোনা ও রৌপ্য কণাগুলির  খুব সুক্ষভাবে প্রায়  50 মনোমিটার ডায়ামিটার অথবা একটি লবনদানার  এক হাজার মিটারেরও কম পরিমাণে  ব্যাসের আকৃতি করে বসানো হয়েছে ।পরিমাণগুলি এত সুক্ষ ছিল  যে গবেষকরা প্রথমে ধারণা করেন যে  গ্লাস নির্মাতারা ভুল করে সোনা ও রুপার গুঁড়ো মিশিয়ে ফেলেছিলো , এমনকি এটিও জানাতে পারেনি যে এই কণাগুলির জন্যই এরকম ক্রিয়া সংঘটিত হয় ।কিন্তু এরপর একইরকম  অন্যান্য গ্লাসগুলি  আবিষ্কারের ফলে বোঝা যায়  এই মিশ্রণগুলি পরিকল্পিতভাবে বানানো হয়।  প্রাচীন রোমান শিল্পীরা কোনোভাবে  বুঝতে পেরেছিলো  যে যখন আলোক কণা কাঁচে ঘেরা ক্ষুদ্রতম সোনা ও রুপার কণার উপর আঘাত করে, তখন এটি গ্লাসের রঙ পরিবর্তন করে। আধুনিক বিজ্ঞানে এই এফেক্ট এর  জন্য একটি নাম আছে-ডাইক্রোইজম এবং  যে গ্লাসটি এটি  প্রদর্শন করে তা ডাইক্রোইক গ্লাস নামে পরিচিত।

কিন্তু গল্প যে এখানে শেষ নয়! শুধু  সোনা ও  রূপা যোগ এই আশ্চর্য অপটিক্যাল বৈশিষ্ট্য উত্পাদন করা যাবে না। এর  জন্য স্বর্ণ এবং রূপালী কণাগুলিকে  'minute submicroscopic crystals' বা  'colloids' গঠন করতে হবে।  এই কোলয়েডগুলি তৈরী  করে  'light scattering phenomena' যার ফলস্বরূপ  'dichroic effects' - এর সৃষ্টি হয়।

প্রাচীন ইতিহাসে ন্যানো প্রযুক্তির আরো উদাহরণ রয়েছে। 800 খ্রিস্টাব্দে মায়া সভ্যতার লোকেরা 'Maya Blue'  নামের একটি ক্ষয় প্রতিরোধক  আকাশি নীল  রজক পদার্থ উৎপাদিত করে।
 চিত্তাকর্ষক শক্তি, ফাটল প্রতিরোধী এবং ব্যতিক্রমী তীক্ষ্ণ ও ধারালো  প্রান্তের জন্য পরিচিত দামাস্কাস ইস্পাতের তলোয়ার, যাতে ন্যানোস্কাল তারের এবং নলের মতো কাঠামো রয়েছে। এই তরোয়ালগুলি তৃতীয় ও 17 শতকের মাঝামাঝি মধ্য প্রাচ্যে উত্পাদিত হয়েছিল।

এটা কি হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন জ্ঞান গুলির একটি  উদাহরণ যে দাবি গুলি অনেক গবেষকরা করে আসছেন এবং তাদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে? লাইকার্গাস কাপ ও অন্যান্য নিদর্শনগুলো সেইদিকেই কৌতূহল সৃষ্টি করে যাচ্ছে। এই কারিগররা ঠিকমত জানত যে তারা কী করছে ... প্রশ্ন হলো, তারা কীভাবে তা জানত?


Sunday, 7 April 2019

রহস্যময় বাগদাদ ব্যাটারি--

পাত্রটি ১৯৩৬ সালে বাগদাদের নিকটবর্তী খুজুত রাবু নামক গ্রাম থেকে মাটি খুড়ার সময় আবিষ্কার করা হয়।
এরপর  ১৯৩৮ সালের কথা। ঘটনাস্থল ইরাকের রাজধানী বাগদাদ।ইরাক জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ ডব্লিউ কনিং জাদুঘর পরিদর্শনে বের হলেন। বাগদাদে মাটি খুঁড়ে বের করা বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সাথে ঐতিহাসিক যোগসূত্রিতা বের করা তার দায়িত্ব।হঠাৎ তার চোখ পড়ল পার্সিয়ান যুগের একটি হলুদ রঙের পাত্রের উপর।ভাল করে ৬ ইঞ্চি উচু পাত্রটি লক্ষ্য করতেই ভদ্রলোক বেশ অবাক হল। মানুষের মুষ্টির সমান সেই কাদামাটির পাত্র নিয়ে তখন তেমন আগ্রহ দেখাননি কনিগ।

তখন ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে আরেকদল অনুসন্ধানকারী বাইবেলে উল্লেখিত বিভিন্ন পবিত্র নিদর্শন খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে। কনিগের আবিষ্কৃত পাত্র তাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তারা অনেক গবেষণার পরেও কোনো নিদর্শনের সাথে মিল খুঁজে পাননি। তাদের মধ্যে অনেকেই পাত্রটি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। সেটি ফিরিয়ে দেয়া হয় কনিগের কাছে।
 প্রায় ১৩৮ বছর আগে ইতালীয় বিজ্ঞানী কাউন্ট ভোল্টা বিদ্যুৎ নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে ব্যাটারি আবিষ্কার করেছিলেন। সেখানে তিনি অ্যাসিড দ্রবণের মধ্যে তামার পাত ডুবিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। জগত জুড়ে আলোড়ন ফেলা এই আবিষ্কার কনিগের অজানা ছিল না। তিনি দুইয়ে আর দুইয়ে চার মিলিয়ে ফেললেন।
 কনিগ পাত্রটি নিয়ে কিছু অনুসন্ধান করে জানতে পারলেন,পাত্রটির ভিতর ৫ ইঞ্চি উচু ও দেড় ইঞ্চি বেড়ের কপার সিলিন্ডার এবং এর মাঝে একটি লোহার দন্ড বিদ্যমান।সিলিন্ডারটির নীচের অংশ কপার ডিস্ক দিয়ে ঢাকা অবস্থায় বিটুমিন দিয়ে সিল করা। সিলিন্ডারটির কিনারা ৬০-৪০ লেড-টিন সংকর ধাতু দিয়ে  ঝালাই করা ছিল যা একটি আধুনিক ঝালাই এর সাথে তুলনীয়।উপরের অংশটিও বিটুমিন দিয়ে ঢাকা ছিল এবং ভিতরের রডটিতে এসিডিক এজেন্টে  ক্ষয়ের ষ্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়। পাত্রের ভেতরের দিকে বেশ কিছু অংশ ক্ষয় হয়ে গিয়েছে এবং এই ক্ষয়ের কারণ হতে পারে কোনো অ্যাসিডের মাধ্যমে।

কপার এবং আয়রনের যুগল অবস্থা এবং এসিডিটির চিহ্ন দেখে কনিং মোটামুটি নিশ্চিত হলেন এই পাত্রটি বিদুৎ উৎপাদনে ব্যবহার হতে পারে ।
 এরপরে কনিগের মনে কোনো দ্বিধা ছিল না । তিনি নিশ্চিত ছিলেন তার আবিষ্কৃত পাত্রটিই পৃথিবীর প্রথম ব্যাটারি। তিনি দ্রুত এই সংবাদ প্রচার করে দিলেন। এই নিয়ে আরো গবেষনা শেষে ১৯৪০ সালে তিনি লেখালেখি শুরু করেন এবং তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষনা দেন যে এই পাত্রটি প্রাচীন যুগের ব্যাটারি।যা বর্তমানে বাগদাদের ব্যাটারি নামে পরিচিত।

সেই বাগদাদ ব্যাটারি খ্যাত কাদামাটির পাত্রটি শুধু কনিগকেই না, বিস্মিত করেছিল পুরো পৃথিবীকে। সবাই ভীষণ কৌতূহলে এগিয়ে আসলেন এই ব্যাটারির গবেষণায়।

এভাবেই আবিষ্কৃত হয়েছিলে বিজ্ঞানের অন্যতম ধাঁধা, বাগদাদ ব্যাটারি। এর পক্ষে-বিপক্ষে হাজারো যুক্তি-তর্ক, ব্যাখ্যা, আলোচনার পরেও যার রহস্যের সঠিক সমাধান করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

প্রাচীন যুগের মানুষরা এই পাত্রটিকে ব্যাটারি রুপে ব্যবহার করেছিল তার প্রমাণ কি? আর করলেই বা সমস্যা কি? অনেকের মনে হয়ত এ প্রশ্ন উঠতে পারে।
১৯৪০ সালে কনিগ তার এই অনুসন্ধান নিয়ে বিস্তারিত লিখে একটি জার্নালে প্রকাশ করলেন। সেই বিস্ময়কর পাত্রটি আকারে প্রায় ৫ ইঞ্চি লম্বা। পাত্রের সাথে একটি লোহার দণ্ড এবং পিচের তৈরি ছিপি পাওয়া যায়। পাত্রের ভেতরে লোহার দণ্ডটি তামার নল দিয়ে আবৃত। ধারণা করা হয়, তামার নলের ভেতর অম্লীয় দ্রবণ ব্যবহার করে ব্যাটারিটি সচল করা হতো।

১৯৪০ সালেই জেনারেল ইলেকট্রিক এর ইন্জিনিয়ার "উইলার্ড এফ, এম, গ্রে" "কোনিগ " এর লেখা পড়েন।তিনি জার্মান রকেট বিজ্ঞানী উইলি লে এর সহযোগীতায় বাগদাদ ব্যাটারির হুবুহু একটি মডেল তৈরী করেন।কপার সালফেট দ্রবণ ব্যবহার করে তিনি হাফ ভোল্ট বিদুৎ উৎপাদনে সক্ষম হন। উইলার্ড গ্রে বাগদাদ ব্যাটারির একটি রেপ্লিকা নির্মাণ করেন। এরপর তিনি তাতে আঙুরের রসের দ্রবণ ব্যবহার করেন। এই পরীক্ষায় গ্রে সফলতা পেলেন। ব্যাটারি সচল হয়ে গেল। বিদ্যুতের বিভব ছিল প্রায় ২ ভোল্ট। এর ফলে অনেকেই বাগদাদ ব্যাটারির সত্যতা মেনে নেন।একই মডেলে ১৯৭০ সালেও ০.৮৭v বিদুৎ উৎপাদন করা হয়। প্রাচীন এ ব্যাটারী আবিষ্কারের ফলে প্রমাণিত হয় ১৮০০ সালের আগেই পৃথিবীতে ব্যাটারি আবিষ্কৃত হয়েছিল। যা ব্যাটারি আবিষ্কারের ইতিহাসকে কমপক্ষে আরও ১৮০০ বছর পিছনে ফেলে দিবে।তাহলে প্রাচীন যুগে কি আমাদের জানার বাইরে এমন কোনো সভ্যতা ছিল যা জ্ঞান বিজ্ঞানে অনেক অগ্রসর ছিল? আমাদের ইতিহাসবিদরা যা জানেন এবং যা আমাদের শিখিয়েছেন তবে কি তা ভুল?


এই ব্যাটারি আবিষ্কারের সময় পুরো পৃথিবী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মেতে উঠেছিল। ফলে বাগদাদ ব্যাটারির কথা বেশ কয়েক বছরের জন্য বিজ্ঞানীরা ভুলে যান।

আবিষ্কারের প্রায় ৬০ বছর পর বিজ্ঞানীরা বাগদাদ ব্যাটারি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। অন্যদিকে ইতিহাসবিদরাও এগিয়ে আসেন। কারণ এর সত্যতার প্রমাণ পেলে পার্থিয়ানদের সম্পর্কে অনেক অজানা ইতিহাস বের হয়ে আসবে।

কিন্তু গবেষণার শুরুতেই শুরু হয় বিতর্ক। উইলহেম কনিগ কি পাত্রটি খনন করে পেয়েছেন নাকি জাদুঘরের অন্যান্য সংগ্রহের মাঝে খুঁজে পেয়েছেন তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। কনিগের ধারণা অনুযায়ী পাত্রটি প্রায় ২৫০ খ্রিস্টপূর্বের দিকে তৈরি করা হয়েছিল। তবে অধিকাংশ বিজ্ঞানী এই ধারণা নাকচ করে দেন। কারণ পাত্রের গড়ন সাসানিদ শাসনামলের পাত্রগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সেই অনুযায়ী পাত্রটি ৬০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে তৈরি করা হয়।

খুজুত রাবুর স্থানীয়দের ইরাকিরা ‘পার্থিয়ান’ নামে ডাকেন। কিন্তু পার্থিয়ানরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিক থেকে উন্নত ছিল না। তাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল যুদ্ধবিগ্রহ। তাই এই ঘটনা ইতিহাসবিদদের বিস্মিত করেছিল।

ওদিকে বিজ্ঞানীরা কিন্তু ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বকে পেছনে ফেলে ঠিকই কাজ করে যাচ্ছিলেন। কারণ মাটির পাত্রটি আসলেই ছিল বিস্ময়কর।

কিন্তু ব্যাটারির সাথে কোনো তার খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে কোন ধাতুর তার দ্বারা ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতো সেটা জানা সম্ভব হয়নি। প্রাচীন ইরাকে তামার নল, লোহার দণ্ড, কাদামাটির পাত্র নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই অনেক বিজ্ঞানী তখনও একে ব্যাটারি হিসেবে মানতে নারাজ ছিলেন।
 
 অনেকে  ধারণা করেন এই ব্যাটারির কিছু অংশ সময়ের আবর্তনে হারিয়ে গেছে। কারণ কেউ স্রেফ মনের ভুলে ঠিক ব্যাটারির মতো করে উপাদানগুলো একসাথে রেখে দিয়েছেন, সেটা মেনে নেয়া হাস্যকর।

বাগদাদ ব্যাটারির মাধ্যমে বিদ্যুৎ চলাচল করানো সম্ভব, এটা প্রমাণিত হওয়ার পর বিজ্ঞানীরা এর সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। সে সময়ে গ্রিকরা ব্যথানাশের জন্য বৈদ্যুতিক মাছ ব্যবহার করতো। সেই থেকে ধারণা করা হয়, সম্ভবত বাগদাদ ব্যাটারি ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু সেটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ বাগদাদ ব্যাটারি থেকে উৎপন্ন ২ ভোল্টের বিদ্যুত দেহে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাই এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়।

তবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব ছিল ইলেক্ট্রোপ্লেটিং। এর মাধ্যমে যেকোনো ধাতুর উপর সোনা, রূপাসহ বিভিন্ন ধাতুর প্রলেপ দেওয়া যায়। এর পেছনে সবচেয়ে বড় যুক্তি ছিল এটা বাণিজ্যিক। ধারণা অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ধাতুর উপর প্রলেপ দিয়ে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশে ছুটে যেতেন ইরাকের বণিকরা।

জার্মান বিজ্ঞানী আর্নে ইগাব্রেশট বাগদাদ ব্যাটারির রেপ্লিকার দ্বারা প্রথম ইলেক্ট্রোপ্লেটিং করতে সক্ষম হন। তিনি অনেকগুলো ব্যাটারি  যুক্ত করে একটি ধাতুর উপর ০.০০১ মি.মি. প্রলেপ তৈরি করতে সক্ষম হন। তিনি ধারণা করেন, বাগদাদের প্রাচীন ধাতবসামগ্রী এই ব্যাটারির সাহায্যে প্রলেপ দেওয়া হতো।

মজার ব্যাপার হলো, অন্যান্য বিজ্ঞানীরা এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ব্যর্থ হন। তাই তারা এই পরীক্ষার ফলাফল মেনে নেননি। রোমার-পেলিজিউস জাদুঘরের গবেষক ড. বেরিতা শেমিজ এই পরীক্ষাটি ভুয়া বলে দাবি করেন। কারণ এই পরীক্ষার কোনো লিখিত দলিল পাওয়া যায়নি।

বাগদাদ ব্যাটারির বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিজ্ঞানী শক্ত যুক্তি প্রদান করেছেন। তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, বাগদাদ ব্যাটারি স্রেফ একটি আসবাব ব্যতীত আর কিছুই নয়।

বিখ্যাত টিভি অনুষ্ঠান Arthur C. Clarke’s Mysterious World র একটি পর্বে বাগদাদ ব্যাটারির অযোগ্যতা নিয়ে বলা হয়, ব্যাটারি সচল হবার পর এর ভেতরে ঘন গ্যাস উৎপন্ন হয় যা ব্যাটারির কার্যক্ষমতা হ্রাস করে দেয়। এছাড়াও অনেকগুলো ব্যাটারি একসাথে জুড়ে দিয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হলেও এর বিভব মান কখনই ২ ভোল্ট এর চেয়ে বেশি পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ ধরনের  ব্যাটারি ব্যবহার করা লাভজনক নয়।

আর ইলেক্ট্রোপ্লেটিংয়ের তত্ত্ব সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে অনেক আগেই বিজ্ঞানীদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।


বৈজ্ঞানিকদের মোতে  শহর সেলুসিয়ার বিভিন্ন স্ক্রল সংরক্ষণের জন্য এসব পাত্র ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এই ধারণা বাতিল করে দেন অপরপক্ষের বিজ্ঞানীরা। কারণ সেলুসিয়ার পাত্রগুলো কাদামাটির তৈরি ছিল না।

তবে বাগদাদ ব্যাটারি যে ব্যাটারি হতে পারে না, সে ধারণা কেউই উড়িয়ে দিচ্ছেন না। এখনো বাগদাদ ব্যাটারি বিজ্ঞানীদের নিকট এক অমীমাংসিত রহস্য। ড্যানিয়েল স্মিথের এর বিখ্যাত সংকলন ‘100 Things They Don’t Want You to Know’তে বাগদাদ ব্যাটারি নিয়ে স্বতন্ত্র ফিচার প্রকাশিত হয়। এছাড়াও ডিসকভারি চ্যানেল এর 'মিথ বাস্টার ' অনুষ্ঠানে বাগদাদ ব্যাটারিকে নিয়ে বিশেষ ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

বাগদাদ ব্যাটারি নিয়ে বিতর্কে বিভক্ত বিজ্ঞানীরা। হয়তো এটি বিজ্ঞানী ভোল্টার ব্যাটারি আবিষ্কারের হাজার বছর আগে ব্যবহৃত ব্যাটারি। তাহলে কি কারণে প্রাচীন ব্যাটারির কথা হারিয়ে গেল সভ্যতার অন্তরালে? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মাথা ঘামাবেন গবেষকরা।


আর বিস্ময়কর পাত্রটি যদি ব্যাটারি না হয়, সেক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরো রহস্য সৃষ্টি করবে। তখন অনুসন্ধানপর্ব নতুন মোড় নিতে পারে।

এভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে হাজারো বিস্ময়কর ধাঁধা সমাধান হবার অপেক্ষায় আছে। সব রহস্যের সমাধান করা হলে হয়তো পৃথিবীর ইতিহাস নতুন করে লিখতে হবে। যেমন বাগদাদ ব্যাটারির কথাই ধরুন । এটি সত্য প্রমাণিত হলে প্রাচীনকালের জীবনযাপন সম্পর্কে আমাদের ধারণা সম্পূর্ণ বদলে ফেলতে হবে।

Sunday, 31 March 2019

কোডেক্স গিগাস বা শয়তানের ধর্মগ্রন্থ


জ্ঞানের আঁধার বই রহস্যের জট খুলে দেয়। সামনে নিয়ে আসে জানা অজানা তথ্য। তবে কোডেক্স গিগাস নামক বইটি কয়েক শতাব্দী ধরে বিশ্ববাসীকে রহস্যের মায়াজালে ডুবিয়ে রেখেছে । বইটি মধ্যযুগীয় বৃহত্তম পাণ্ডুলিপি হিসেবে পরিচিত।

ল্যাটিন শব্দ কোডেক্স গিগাজ। যার অর্থ: বিশাল আকারের বই। হ্যা, আকারের দিক থেকেও এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বই, অন্য কথায় একে “শয়তানের বাইবেল” বলা হয় এটি ৩৬.২ ইঞ্চি লম্বা, ১৯.৭ ইঞ্চি চওড়া এবং ৮.৬ ইঞ্চি পুরু। ১৩শ শতাব্দীর প্রথম অংশে হারম্যান রিকুলাস নামক চেকোশ্লাভাকিয়ার এক সন্ন্যাসী এই কোডেক্স গিগাস লিখেছেন।

১৬৫ পাউন্ড ওজনের শয়তানের বাইবেলের যা কমপক্ষে ১৬০টি গাধা বা খচ্চড়ের চামড়ার ওপর লিখিত। বইটিতে ৬০০ পৃষ্টা আছে। আর তিন ফুট লম্বা। কমপক্ষে ২ জন মানুষ লাগে এই বই কে স্থানান্তারিত করতে, জোর করে কেউ চেষ্টা করলে গুরুতর আহত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
বইটির শেষদিকের অনেকগুলো পৃষ্ঠার হদিস মেলেনি। ইতিহাসবিদদের মতে, ইচ্ছাকৃতভাবে পৃষ্ঠাগুলো ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

স্রষ্টার বিপক্ষতার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা পদ্ধতির বর্ননা দেয়া আছে বইটিতে কিভাবে কালাজ্বর, মৃগী রোগ ভালো হবে সে ব্যাপারে লেখা আছে আরো এর পাশাপাশি কিভাবে চোর ধরতে হবে ডাইনি কিভাবে চেনা যাবে সে সবও লেখা আছে।। ভয়ঙ্কর রোগের অভিশাপ ও মুক্তি, আত্মাকে বশীকরণ ও লালন-পালন, কালা জাদুর মন্ত্র সহ নানান বিষয়ে সমাধান দেওয়া আছে এতে।

ইতিহাসবিদরা ইতিমধ্যে পুরো পাণ্ডুলিপির লেখা উদ্ধার করে ফেলেছেন। তাদের মতে, কোডেক্স গিগাস একটি মধ্যযুগীয় জ্বলজ্যান্ত বিশ্বকোষ। পুরো বাইবেলটি লেখা হয়েছে ল্যাটিন ভাষায়। পাণ্ডুলিপির শুরুতে পবিত্র ওল্ড টেস্টামেন্ট সংযুক্ত আছে। ধর্মগ্রন্থ বাইবেল ছাড়াও ফ্লেভিয়াস জোসেফাস নামক এক পণ্ডিত রচিত The Jewish War and Jewish Antiquities গ্রন্থ, সেইন্ট ইসিডোর রচিত একটি বিশ্বকোষ (Encyclopedia), যাজক কোমাক রচিত The Chronicle of Bohemia গ্রন্থ এবং বাইবেলের নতুন টেস্টামেন্ট সংযোজিত রয়েছে।

কিছু ছোট রচনাও এতে রয়েছে। প্রথমটি অনুশোচনা বা প্রায়শ্চিত্তের উপর লেখা আর এটা রয়েছে স্বর্গচিত্রের ঠিক আগে। দ্বিতীয়টি জ্বিন ছাড়ানোর উপর, আর এর অবস্থান শয়তানের প্রতিকৃতির ঠিক পরে। ছোট রচনার সবশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে একটা বর্ষপঞ্জিকা, যাতে রয়েছে সাধু ও স্থানীয় বোহেমিয়ান ব্যক্তির তালিকা যাদেরকে ঐ সময় স্মরণ (স্মরণার্থে উৎসব পালন) করা হত। কিছু হারিয়ে যাওয়া বা পান্ডুলিপি থেকে সরিয়ে ফেলা কাজও রয়েছে। সম্ভবত: সেগুলো ছিল ৬ষ্ঠ শতকে লেখা সাধু বেনেডিক্টের আইন, সন্যাস জীবন-যাপনের জন্যে অত্যাবশ্যকীয় পথ নির্দেশিকা।

বইটির এমন নামকরণের পেছনে রয়েছে অদ্ভুত এক পৌরানিক কাহিনী। হারম্যান নামে বোহেমিয়ার (বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্র) বেনেডিক্ট পোডলাজাইসের আশ্রমে একজন সন্ন্যাসী ছিলেন। একদিন তিনি আশ্রমের নিয়ম ভঙ্গ করে বসেন। নিয়ম ভঙ্গের পাপ হিসেবে তাকে কঠিন শাস্তি দেয়া হয়। শাস্তি হল একটা বদ্ধ কুঠুরীতে তাকে আজীবন নিঃসঙ্গ অবস্থায় কাটাতে হবে। হারম্যান মেনে নেয় এই শাস্তি।

এক পর্যায়ে সে মঠাধক্ষ্য কে তার পাপের শাস্তি লাগবের জন্য প্রস্তাব দেয় সে এক রাতের মধ্যে তার অর্জিত জ্ঞান যা আছে মানুষের কল্যানে তা নিয়ে সে একটা বই লিখবে। যে বইতে সৃষ্টিকর্তা আর মঠের গুনগান থাকবে থাকবে মানুষের বিভিন্ন উপকার কিভাবে হয় সেব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য। মঠাধক্ষ্য হারম্যান এর আর্জি কবুল করে।

তিনি মাঝ রাত আবধি এসে দেখতে পান মাত্র অর্ধেক পাতা লিখতে পেরেছেন। হতাশায় হারম্যান ওই মাঝ রাতে নিজের রক্ত দিয়ে শয়তান কে একটা চিঠি লিখে বসেন। চিঠিতে তিনি শয়তানের কাছে এই বলে সাহায্য কামনা করেন যে, শয়তান যদি তাকে এই বই লিখে দেয় তবে তিনি তার আত্মা শয়তান কে সপে দেবেন। সাড়া দেয় শয়তান। স্ব-শরীরে হাজির হয় শয়তান। শুরু হয় কোডেক্স গিগাস লেখা।

উষার আগেই লেখা শেষ হয়ে যায় এই বিশাল বইটি। নিজেকে প্রমান দেবার জন্য নিজ হাতে শয়তান তার ছবি বইটির ২৯০ নং পৃষ্ঠায় এঁকে রেখে যায়। শয়তানের সাহায্যে লিখা বলেই একে শয়তানের বাইবেল বলা হয়।

কোডেক্স গিগাস নিয়ে প্রচুর গবেষনা চলছে। সুইডেন জাতীয় গ্রন্থাগারের গবেষকদের মতে, যদি লেখক পুরো সপ্তাহ জুড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে লিখে থাকেন, তাহলেও বইটি শেষ করতে তার লেগে যাবে প্রায় ত্রিশ বছর। তবে এটা নিশ্চিত করা হয়েছে এই কোডেক্স গিগাস এক জন মানুষের হাতে লেখা। যা আধুনিক হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্টরা বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমান করেছে। তবে এর লেখার ব্যাপ্তি কাল নিয়ে মতভেদ আছে, তবে বলা হয় খুব কম সময়ে এটি লেখা। সময় যত ই লাগুক এটা একজনের হাতে লিখিত এ নিয়ে কোন সন্দেহ নাই। সেই একজন কি হারম্যান না কি শয়তান নিজে সেটা এখনো কেউ জানে না।

পাণ্ডুলিপিতে ব্যবহার করা হয়েছে একই ধরনের কালি, যা তৈরি হয়েছে পোকামাকড়ের ঝুলকালি দিয়ে। আর রং হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন কীটের শরীরের নানান রং এর তরল। এতে প্রমানিত হয় যে, লেখকের কীট-পতঙ্গ সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা ছিল, আর তাই সে তাদের শরীর থেকে প্রয়োজনীয় রংগুলো সংগ্রহ করে নিতে পেরেছে।

বইর হিসাব অনুযায়ী এই বই ১২২৯ সালের শেষের কোন এক রাতে এটা লেখা শেষ হয়। কোডেক্স গিগাস যে মঠে লিখিত হয়েছিল সে মঠ “হুসাইত বিদ্রোহ” র যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যায় ১৫ শতকে। এর পর এই বই ১৪৭৭-১৫৯৩ পর্যন্ত ব্রোমভ মনাষ্টরিতে ছিল। বইটির প্রতি মোহ দেখে সম্মানস্বরুপ প্রাগের সন্ন্যাসীরা প্যারাগুয়ের রাজা রুডলফদ্বিতীয়কে বইটি কিছুদিনের জন্য উপহার দেয়। রাজাও  বইটি ফেরত দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধার নেন ১৬৯৪ সালে।


বইটি ১৪৭৭-১৫৯৩ পর্যন্ত ব্রোমভ মনাষ্টরিতে ছিল। বইটির প্রতি মোহ দেখে সম্মানস্বরুপ প্রাগের সন্ন্যাসীরা প্রাগ সম্রাট রুডলফ কে বইটি উপহার দেয়। তিনি প্রাগ শহরে নিয়ে আসেন বাইবেলখানা। কিন্তু তার সেই প্রতিশ্রুতির কথা বেমালুম ভুলে যান তিনি। ১৬১৮ সালের দিকে চেক প্রজাতন্ত্রে যুদ্ধ বেঁধে যায়। প্রায় ত্রিশ বছর ধরে চলা যুদ্ধে চেকরা অনেক কিছুই হারিয়েছে।

এই পুস্তকটি নিয়ে নানা কুসংস্কার চালু রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, যারা এটিকে নিজেদের অধিকারে এনেছে, তাদের উপর ভর করেছে অশুভ শক্তি। হয় তাদের মস্তিস্ক বিকার ঘটেছে অথবা তারা ধ্বংস হয়েছে যুদ্ধে, অপঘাতে অথবা মড়কে।সম্রাট রুডলফই তো জলজ্যান্ত প্রমান।

১৬৪৮ সালে প্রাগের সাথে ৩০ বছরের যুদ্ধ শেষে বিজয়ী সুইডিশ সৈন্যরা এই বই লুঠ করে ১৬৪৮ সাথে ষ্টকহোমে সুইডিশ রয়াল লাইব্রেরীতে নিয়ে যায়। ৭ ই মে ১৬৯৭ সালে সুইডেনের রাজ প্রাসাদের লাইব্রেরীতে এক মারাত্মক আগুন লাগে। এই বই রক্ষিত ছিল। আগুনে বইটির পুরা পুড়ে যাবার আগেই জানালা দিয়ে এটাকে উদ্ধার কর্মীরা নীচে ফেলে দিতে সমর্থ হয়। কিন্তু ক্ষতি ততক্ষনে অনেক হয়ে গেছে। কিছু পাতা পুড়ে গেছে। কিছু পাতা নীচে পড়ার সময় বতাসে উড়ে যায়। এই পৃষ্টাগুলো এখনো পাওয়া যায় নাই।  বর্তমানে এটি সুইডেনের জাতীয় গ্রন্থাগার স্টকহোমে সংরক্ষিত রয়েছে।

৩৫৯ বছর পর এই কোডেক্স গিগাস সুইডেন থেকে আবার প্যারাগুয়ে আনা হয় এক বছরের চুক্তিতে প্রদর্শনীর জন্য ২০০৭ সালে। পরে ২০০৮ সালে আবার সুইডেন কর্তৃপক্ষ আবার তাদের বই ফিরিয়ে নেয়.

Saturday, 16 March 2019

পায়ের গন্ধ দুর করার কয়েকটা সহজ উপায় --

পায়ে দুর্গন্ধ হওয়া খুবই বিরক্তিকর এবং বিব্রতকর একটা ব্যক্তিগত শারীরিক সমস্যা। ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে যে কারোরই এই বিব্রতকর শারীরিক সমস্যাটি হতে পারে।
অনেকে এটাকেই রোগ ভেবে ভুলও করে থাকেন। পা ঘামা কোনো রোগ নয় বরং এ থেকে নানা ধরনের রোগের উদ্ভব ঘটে থাকে। অনেকের শুষ্ক আবহাওয়ায় পা ঘামে আবার কারও কারও ক্ষেত্রে বছরজুড়ে। এ কারণেই পায়ে দুর্গন্ধ হয়।

শরীরের যেকোন অংশের চেয়ে এমনকি বগলের চেয়েও বেশি ঘর্ম গ্রন্থি থাকে পায়ের পাতায়। যখন পায়ের পাতার ঘর্মগ্রন্থি থেকে ঘাম নির্গত হয় তখন পুরো স্থানটি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন স্থলে পরিণত হয়। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে (যেমন-বয়ঃসন্ধি কালে অথবা প্রেগনেন্সির সময়), স্ট্রেসের মধ্যে থাকলে, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে, ব্যায়াম করলে বা গরমের কারণে পা ঘামতে পারে।

অনেকেই অস্বস্তিজনক পরিস্থিতিতে পড়েন পায়ের গন্ধের জন্য। পা-ঢাকা জুতো পরে কিছু বিশেষ জায়গায় যেতেই হয় অনেককে। আর সেখানেই বাধে সমস্যা। এই জুতোর গন্ধে অনেকেই কাছে ঘেঁসে না। অস্বস্তিকর এই পরিস্থিতি লজ্জারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মূলত যাঁদের পা ঘামে তাদেরই বেশি এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু এর থেকে আপনি মুক্তি পেতে পারেন সহজেই। কি করবেন পায়ের গন্ধ দূর করতে দেখে নিন তার কিছু কৌশল।


---পায়ে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হওয়ার মতো অংশগুলো বাদ দিন
ঘামের সাথে সাথে পায়ে থাকা ব্যাকটেরিয়াও দায়ী দূর্গন্ধ তৈরি করার জন্য। তাই পায়ের আঙ্গুলের নখ একেবারেই বড় করবেন না। কারণ এই সকল ব্যাকটেরিয়া নখ, নখের নীচের মোটা চামড়া এবং নখের আশেপাশেই বেশী জন্মে থাকে। নিয়মিতভাবে পায়ের নখ, নখের চারপাশের মোটা চামড়া কেটে ফেলুন। এরই সাথে পায়ের গোড়ালি নিয়মিত এক্সফলিয়েট করুন।

--জুতো পরার সময় অবশ্যই মোজা ব্যবহার করুন। কারণ পাতলা সুতির মোজা পায়ের সঙ্গে আটকে থাকে এবং তা পায়ের ঘাম শুষে নিতে সহায়ক। ফলে পায়ে জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে না। সিনথেটিকের বা উলের মোজাও ঘাম-রোধক। তবে এ ক্ষেত্রে মনে রাখবেন প্রতিদিন একই মোজা ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রতিদিন অন্তত একবার মোজা পরিবর্তন করতে হবে।

---বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জুতার ভেতর থেকে পায়ের ঘাম বেরোতে পারেনা। অনেকক্ষণ এমন অবস্থায় থাকার ফলে পা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। চামড়ার জুতায় গন্ধ ছড়ায় না। জুতা কেনার আগে এর শুকতলাটা দেখে নেবেন যেন তা ভালো হয়। জুতার এই অংশই ঘাম টেনে নেয়। মোজা কেনার ক্ষেত্রে দেখে নিন যেন সুতির তৈরি হয়, প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য কয়েক জোড়া মোজা রাখুন। ১দিন ব্যবহারের পর ধুয়ে ফেলুন।যাদের পা ঘামে মাত্রাতিরিক্ত এবং গন্ধও ছড়ায় তারা পায়ের জন্য ফ্রেড লোশন লাগাতে পারেন। জুতা পরার ১ঘণ্টা আগে পায়ে মাখতে হবে। এরপর জুতা পরুন। পা সব সময় শুকনো রাখার চেষ্টা করুন।জুতা/মোজা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।চর্মরোগে অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করুন l

--সাধারণত পা ধোয়ার পরে আমরা কিন্তু পা ভালোমতো মোছার দিকে একেবারেই খেয়াল রাখি না। পোডোলজিস্টদের মতে পা ধোয়ার পরে পায়ের আঙ্গুলের মাঝেও ভালোমতো মুছে নিন তোয়ালে অথবা নরম কাপড় দিয়ে। কারণ, অনেক সময় পায়ে য সকল ফাংগাল ইনফেকশন হয়, তার জন্যে পায়ের এমন ভেজাভাবও অনেকাংশে দায়ী।


-- ঘাম ও দুর্গন্ধ দূর করার জন্য পায়ের পাতার নীচের দিকে আন্ডারআর্ম ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট স্প্রে ব্যবহার করুন। এরপর কিছুটা ফুট পাউডার পায়ের পাতার উপর ছিটিয়ে দিন। এটি অতিরিক্ত ঘাম শোষণ করে নিবে এবং দুর্গন্ধ দূর করতেও সাহায্য করবে।


--পায়ের বাজে ব্যাকটেরিয়া সমূলে বিনষ্ট করার জন্যে এবং পায়ের ঘাম কমানোর জন্যে চায়ে থাকা ট্যানিন খুবই উপকারী। আপনি চাইলে পায়ের যত্নে প্রতিদিন চা ব্যবহার করতে পারেন গোসলের সময়ে। 

যেভাবে ব্যবহার করবেন: এক লিটার গরম পানিতে তিন চা চামচ চা ভিজিয়ে দিন। এর সাথে দুই লিটার ঠান্ডা পানি যোগ করুন। এখন এই মিশ্রণে দুই পা ১৫-২০ মিনিটের জন্যে ভিজিয়ে রেখে দিন।


--- নুন জল পায়ে ফাঙ্গাসের আক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। নিয়মিত নুন জলের ব্যবহারে পা অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার সমস্যা একেবারেই কমে আসে।

রোজ বাড়িতে ফিরে সামান্য উষ্ণ গরম জলেতে নুন মিশিয়ে এতে পা ডুবিয়ে রাখুন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট। পা ঘামার সমস্যা দূর হবে, সেই সঙ্গে আপনার পা ছত্রাকের আক্রমণ থেকেও রেহাই পাবে।

--একই জুতা প্রতিদিন পরলে জুতায় লেগে থাকা ঘাম শুকনোর সময় পায় না। সেই জুতোই আবার পরলে জীবাণু বাসা বাঁধে পায়ে। তার থেকেই দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। তাই অন্তত দুই জোড়া জুতা রাখুন। একদিন এক জোড়া পরলে অন্যদিন অন্যজোড়া ‍জুতো পরুন।


--জুতার ধরণও অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। অনেক বেশি আঁটসাঁট জুতা যেমন- বুট জুতা সম্ভবত গন্ধের সৃষ্টি হয়। কারণ এই ধরণের জুতায় বায়ু চলাচল করতে পারেনা। যদি সম্ভব হয় তাহলে সামনের দিকে খোলা জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করুন। অ্যাথলেটিক জুতা ব্যবহার করতে পারেন যার পাশ দিয়ে জালের মত অংশ থাকে যা দিয়ে ভেন্টিলেশনের সুবিধা থাকে।


--পায়ের বাজে গন্ধ দূর করার জন্যে তো বটেই পায়ে জন্ম নেওয়া বাজে ব্যাকটেরিয়া দূর করতেও দারুণ সাহায্য করবে অ্যারোমাথেরাপি অয়েল। এক্ষেত্রে ল্যাভেন্ডার অয়েল সবচেয়ে বেশী কার্যকরি এবং উপযোগী হবে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন: ৪-৫ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল দিয়ে দুই পায়ের পাতা খুব ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। অথবা, ২-৩ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল ৩-৪ লিটার পানিতে মিশিয়ে দুই পা ১৫-২০ মিনিট পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখুন।


---বেকিং সোডার অ্যাসিডিক উপাদান পা পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে এবং পায়ে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা সৃষ্টি করে।

এতে করে পা অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া এবং পায়ে বিশ্রী দুর্গন্ধ হওয়ার সমস্যা আর থাকে না।

পা খুব ভাল করে পরিষ্কার করে, হাতে সামান্য বেকিং সোডা নিয়ে পায়ে ভালো করে ঘষে নিন। এর ফলে পায়ে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বন্ধ হবে। চাইলে বন্ধ জুতোর ভেতরেও ছিটিয়ে নিতে পারেন খানিকটা বেকিং সোডা, এতেও অনেক উপকার পাবেন।

--জুতা পরার আগে পায়ে পাউডার লাগিয়ে নিন। জুতার ভেতরেও পাউডার ছিটিয়ে দিতে পারেন। এতে পা কম ঘামাবে।

---অনেকেই ঘরেও জুতা অথবা স্যান্ডেল পরে থাকতে পছন্দ করেন। তবে ঘরে থাকাকালীন অবস্থায় কোন স্যান্ডেল অথবা জুতা না পরাটাই সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে করে পায়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বেশী হয়ে থাকে।

---এসব একেবারেই সহজ এবং সুবিধাজনক পদ্ধতি মেনে চললে পায়ের দুর্গন্ধ কমে যাবে অনেকটাই। এছাড়া বাইরে ব্যবহৃত জুতা এবং মোজা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং শুকাতে হবে। কিন্তু, পায়ের দুর্গন্ধ যদি অতিরিক্ত হয় এবং পায়ে চুলকানির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞর শরণাপন্ন হতে হবে।

--সপ্তাহে একদিন গরম পানিতে শ্যাম্পু মিশিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে রেখে পরিষ্কার করে নিন পা। অথবা হালকা গরমপানিতে সাবানের ফেনা করে পা ধুয়ে নিন। এতে ত্বকে থাকা জীবাণুর সংখ্যা কমবে।


Saturday, 2 March 2019

লাদাখের কংকা পাস এবং এলিয়েন / ভিনগ্রহী কার্যকলাপ --


আমরা ভিনগ্রহী প্রাণী এবং তাদের অবস্থানের সম্পর্কে সর্বদা উন্মুখ হয়ে থাকি। অতএব, কোন আশ্চর্যের বিষয় নয় যে এলিয়েন এবং ইউএফও সম্পর্কিত খবর খুব হিট ও ট্রেন্ডিং বিষয়  , এটি গল্প, কার্টুন বা সিনেমাও হতে পারে। কিন্তু আমি যদি বলি আপনি তাদের সাক্ষাৎ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন? হ্যাঁ, বিশ্বের বিভিন্ন স্থান রয়েছে যেখানে লোকেরা ইউএফওগুলিকে বায়ুতে উড়তে দেখেছে এবং অসংখ্য অস্বাভাবিক প্রাণীর মুখোমু খি হয়েছে। এ ধরনের একটি স্থান ভারতে অবস্থিত। হ্যাঁ, আপনি ঠিক  পড়েছেন।

হিমালয়, পাহাড় ও পর্বতে ভরা এক জগৎ, এটি ভারতের সবচেয়ে শান্ত এবং সুন্দর গন্তব্যগুলির মধ্যে  উল্লেখ্য। অনেক মানুষ তাদের ক্লান্ত জীবন থেকে এই পৃথিবীর ভেতরে এসে সুখের কয়েক সপ্তাহ উপভোগ করে প্রাণবন্ত করতে চায়। তারা অদ্ভুত এবং অতিপ্রাকৃত কিছু মুহুর্তের আবিষ্কার এবং ক্যাপচার করতে চায় যা তারা সমগ্র জীবনকালের জন্য স্মরণীয় হতে পারে। কিন্তু, এই  যাত্রায় যদি  খুব অভূতপূর্ব কিছু হতে পারে? হতে পারে কিংবা না ও হতে পারে!

এই মহান মহাবিশ্বের অগণিত সংখ্যক ছায়াপথ রয়েছে, এক আমাদের মিল্কি ওয়ে। একা এই গ্যালাক্সিটিতে 200 বিলিয়ন তারারও বেশি আছে। এর মধ্যে বুধ্ধিমান প্রাণী হিসাবে কি কেবল আমরাই  বেঁচে আছি?

কঙ্গকা হিমালয়এর নিচের প্রান্তের একটি পাস। এটা লাদাখে বিতর্কিত ভারত-চীন সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। মানচিত্রের কিছু অংশ এখনও আক্সাই চিন এলাকার চীনা নিয়ন্ত্রণাধীন বিতর্কিত এলাকা। উত্তর-পূর্ব অংশে চীনে আকসাই চিন নামে পরিচিত এবং দক্ষিণ পশ্চিম ভারতে  লাদাখ নামে পরিচিত। এই এলাকাটি যেখানে 1962 সালে ভারতীয় ও চীনা বাহিনী বড়োসড়ো যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। এলাকাটি বিশ্বের সর্বনিম্ন অ্যাক্সেসযুক্ত এলাকা এবং চুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের এই অংশটিকে কোনো দেশ এর বাহিনী প্রহরা দেয় না। অনেক পর্যটকের মতে, বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ও লাদাখের স্থানীয় লোকজন, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং চীনা সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণের লাইন বজায় রাখে। কিন্তু এই এলাকায় আরও গুরুতর কিছু ঘটছে।

কংকা পাসে যাওয়ার উপযোগী সময় --

কংকা পাসের চারপাশের অঞ্চলে শীতকালীন ঋতুতে ভারী তুষারপাত দেখা দেয় এবং অতএব বেশিরভাগ রাস্তা তুষার দ্বারা অবরুদ্ধ হওয়ার কারণে সহজে পৌঁছাতে অসুবিধা হয়। কংকা পাস দেখার সর্বোত্তম সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে, আবহাওয়া এবং জলবায়ু পরিস্থিতি অনুকূল থাকে।

কংকা পাসে কিভাবে পৌঁছাবেন

ফ্লাইটে দ্বারা: পাস থেকে নিকটতম বিমানবন্দর প্রায় ২00 কিলোমিটার দূরে লেহতে অবস্থিত। সরাসরি পাস পৌঁছানোর কোন উপযুক্ত রাস্তা নেই; অতএব, আপনি শ্যায়াকে একটি ক্যাব ভাড়া নিতে পারেন এবং তারপরে সেখান থেকে আপনার পাসের পথে ভ্রমণ করতে হবে। শ্যায়াক বিমানবন্দর থেকে 125 কিলোমিটার দূরে এবং পাস থেকে 70 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

 রেল দ্বারা: পাসের নিকটস্থ রেলওয়ে প্রায় 900 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অতএব, এটি পাস পৌঁছাতে পছন্দসই পদ্ধতি নয়।

রাস্তা দ্বারা: রাস্তা দ্বারা পাস অন্যান্য শহর ও শহরতলির সাথে সংযুক্ত না, আপনাকে হেটে হেটে সেখানে পৌঁছাতে হবে। রাস্তাঘাটের পথে যাওয়ার শেষ ধাপটি হল শ্যায়াক, যা পাস থেকে 70 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।


২017 সালের জানুয়ারিতে, সিআইএ তার ওয়েবসাইটে 930,000 ইউএফও নথি প্রকাশ করে। এর মধ্যে একটি 1968 সালে ভারত, নেপাল এবং ভুটানের ছয়টি ইউএফও দর্শনের বিস্তারিত বিবরণী থেকে একটি নথি অন্তর্ভুক্ত করেছে।

1968 সালের এপ্রিলের একটি প্রতিবেদন - সম্প্রতি সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) দ্বারা অনলাইনে পোস্ট করা 930,000  দস্তাবেজগুলির অংশ - লাদাখ, সিক্কিম , ভুটান এবং নেপালের অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর ছয়টি দর্শনের বিবরণ।

যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইউএফও ইস্যুটি হ্রাস পেয়েছে, 1950 এবং 1960 এর দশকে সিআইএ এবং মার্কিন বিমান বাহিনী ইউ.এফ ও  রিপোর্ট  খুব গুরুত্ত্ব  সহকারে গ্রহণ করেছিল , যাতে গোয়েন্দা সংস্থা অধ্যয়ন করার জন্য একটি বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা প্যানেল গঠন করে।

সিআইএ রিপোর্টটি মূলত বিদেশীদের সাথে ভাগাভাগি করার উদ্দেশ্যে নয়, তাতে বলা হয়  "দক্ষিণ লাদাখ, উত্তর-পূর্ব নেপাল, উত্তর সিকিম এবং পশ্চিমা ভুটানের উপর প্রদর্শিত উজ্জ্বল বস্তু দেখা গেছে " রয়েছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 4 ই মার্চ, 1968 তারিখে দুপুর ১টায়  ল্যাদাখের চ্যাং লা, ফুকচে এবং কোয়ুলের উপর পূর্ব ও পশ্চিম দিকে একটি বস্তুকে ট্র্যাক করা হয়েছিল। "একটি সাদা আলো এবং একই সঙ্গে দুটি খুব জোরে শব্দ ছিল। , একটি লাল আলোর পর সাদা ধোঁয়া দেখা যায় , "রিপোর্ট তার বিবরন দেয়া হয়।


কোন স্থায়ী বন্দোবস্ত না থাকা, একটি সম্পূর্ণরূপে দুর্গম অঞ্চল  এবং 'নো মেনস ল্যান্ড' এই  পাসকে অন্তর্ভুক্ত করে। কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাবে তার কঠিন ও প্রান্তিক ভূখণ্ডের কারণে গুজব চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্তের উভয় দিকের লোকজন এই অঞ্চলের আশেপাশে প্রচুর  UFO দেখেছে। শুধু এই নয়, তারাও বিশ্বাস করে যে একটি ভূগর্ভস্থ ইউএফও বেস পাসে রয়েছে যেখানে অনেক ইউএফও নিচে নেমে আসে, আকাশে উড়ে যায়  এবং মুহূর্তে অদৃশ্য হয়ে যায় । এই বিশ্বাসের পিছনে কারণ পৃথিবীর যে কোনও অঞ্চলের চেয়ে দ্বিগুণ earth crust এর গভীরতা। এই গভীরতা convergent প্লেট সীমানার সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। পৃথিবীর এক টেকটনিক প্লেট অন্যের নিচে ডুবে গেলে এই সীমানা গঠিত হয়। সুতরাং, একটি ভূগর্ভস্থ ইউএফও বেসকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।


অতীতে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা আমাদের নিজের চেয়ে ভিন্ন জীবনের অস্তিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে এক বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

--- ২004 সালে, ভূতত্ত্ববিদদের একটি দল হিমাচল প্রদেশের লাহৌল-স্পিটি অঞ্চলে আমেদাবাদ স্পেস এপ্লিকেশন সেন্টার এর ডক্টর অনিল কুলকারনির নেতৃত্ৰে একটি অভিযান চালাচ্ছিল, যেখানে তারা 4 ফুট লম্বা আকারের একটি রোবট এবং পাহাড়ের তলদেশে হেঁটে যেতে দেখেছিলো এবং ফটো তুলেছিল, যখন তারা কাছাকাছি  এগোনোর চেষ্টা করে তখন বস্তুটি পাহাড়ের খাজে গায়েব হয়ে যায়.


-- 2012 সালে, ভারতীয় সেনাবাহিনী পঙ্গং লেকের উপরে আকাশে ভাসমান  ১৬০ কিলোমিটার লম্বা  ফিতার আকারের বস্তু দেখেছিল। বস্তুটি সঠিকভাবে নির্ধারণ করার জন্য সেনাবাহিনী তাদের রাডার এবং বর্ণালী বিশ্লেষককে বস্তুর কাছাকাছি নিয়ে আসে। বস্তু পরিষ্কারভাবে নগ্ন চোখে দৃশ্যমান ছিল, তবে উপকরণগুলি কোনও সংকেত সনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছিল, যা মানবজাতির ধারণার বাইরের একটি ভিন্ন মাত্রার বর্ণালী এবং বস্তুর দিকে নির্দেশ করে। সেনাবাহিনী ভাসমান বস্তুর দিকে পাল্টা একটি ড্রোন পাঠানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু ড্রোনটি উচ্চতায় সীমা অতিক্রম করার ফলে  রহস্যজনক বস্তুটির কাছে যাওয়া যায়নি।

--কৈলাশ পাহাড়ে যাওয়ার পথে পশ্চিম দিকের পাস দিয়ে হেঁটে যাওয়া হিন্দু তীর্থযাত্রীদের একটি দল আকাশে কিছু অদ্ভুত আলো দেখেছিল। অঞ্চলটির চীনের দিক থেকে আসা স্থানীয় গাইডগুলি তাদের বলেছিল যে এই অঞ্চলে এটি খুব সাধারণ ঘটনা। কৌতূহলী তীর্থযাত্রীরা, যাদের উভয় দেশের মধ্যে যাওয়ার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তারা চীনা কর্তৃপক্ষের সাথে এলাকাটি চেক করার অনুমতি চায় কিন্তু চীন কতৃপক্ষ তা  প্রত্যাখ্যান করে। পরে  তারা ভারতীয় দিকে ফিরল এবং ভারতীয় কতৃপক্ষের অনুমতি চেয়েছিল কিন্তু তারাও অস্বীকার করেছিল।

---গুগল আর্থ চিত্রাবলী আগের তুলনায় আরো বেশি জল্পনা সৃষ্টি করেছে। এই ছবিগুলিতে  পার্শবর্তী ভবন গুলিকে মিলিটারি নির্মাণের মতো দেখায়।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইউনিট এবং ইন্দো-তিব্বতী বর্ডার পুলিশ ফোর্স (আইটিবিপি) জম্মু ও কাশ্মীরের লাদাখ অঞ্চলে অজ্ঞাত ফ্লাইং অবজেক্ট এর  (ইউএফওএস) রিপোর্ট জানিয়েছে। প্যাংগং সো  লেকের নিকটবর্তী ঠাকুং এলাকার  একটি আইটিবিপি ইউনিট বছরের 1 লা আগস্ট থেকে 15 অক্টোবর পর্যন্ত 100 টিরও বেশি আলোকিত বস্তু দেখার রিপোর্ট করেছিল। সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লি সদর দফতরে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) পাঠানো প্রতিবেদনে তারা দিন ও রাতে "অজ্ঞাত আলোকিত বস্তু" দেখায়। চীনা পার্শ্বের দিগন্ত থেকে হলুদ গোলকগুলি বের হয়ে আসে এবং ধীরে ধীরে অদৃশ্য হওয়ার তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা আগে আকাশকে অতিক্রম করে। আইটিবিপি কর্তৃক গৃহীত ফটোগ্রাফগুলি নিয়ে গবেষণা করে সেনাবাহিনী কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলি মানবজাতীয় বিমানবাহিনী (ইউএভিএস), ড্রোন বা এমনকি কম পৃথিবী-পরিবাহিত উপগ্রহ নয়।

ড্রোন sightings যাচাই এবং আলাদাভাবে লগ করা হয়। কেবল ২০১২ সালের জানুয়ারী ও আগস্টের মধ্যে সেনা বাহিনীর 99 টি পর্যবেক্ষণ দেখানো হয়েছে: পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চল, লাদাখ অঞ্চলে 62 টি এবং অরুণাচল প্রদেশের পূর্ব সেক্টরে 37 টি পর্যবেক্ষণ দেখা গেছে। এই ড্রোনগুলির মধ্যে তিনটি লাদাখের 365 কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বরাবর যায়  ভারত দাবি করেছে যে এটি আইটিবিপি দ্বারা পরিচালিত হয়।

এই বছরের সেপ্টেম্বরে লেকটির 150 কিলোমিটার দক্ষিণে হানলেতে  অবস্থিত ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল তিন দিনের জন্য  ঘটনাটি অধ্যয়ন করেছিল। দলটি উড়ন্ত বস্তু দেখেছিল, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছিলেন, কিন্তু  সেগুলি কি তারা তা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে, তারা বলেছিল যে বস্তুগুলি  উল্কা এবং গ্রহ নয়।

যদিও ইউএফও অভিযানের বিষয়ে খোলাখুলি কিছু বলা হয়নি, আশ্চর্যের বিষয় হলো দুই দেশেরই স্থানীয়দের মতে ভারতীয় ও চীনা সরকারগুলি এই অঞ্চল বিষয়ে খুব ভালভাবে সচেতন। সম্ভবত এটি জাতীয় নিরাপত্তা বা এমনকি বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তার স্বার্থে, যা আরও বেশি আবশ্যক, বা বহিরাগতদের সাথে যে কোনও গোপনীয় চুক্তি যা জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য যায় হোক আসা করি সময়ের সাথে তা বেরিয়ে আসবে এবং  যখন আসবে আমরা বিশ্বাস করি যে সমগ্র সভ্যতাকে রূপান্তর করে দিতে পারে।