Sunday, 18 April 2021

চীনের ধ্বংস হয়ে যাওয়া অন্ধকারের শহর

27 বছর আগের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বা পরিতক্ত হওয়া এই শহরটিকে নিয়ে প্রচুর অসাধারণ কাহিনী রয়েছে যাতে এই শহরের বাস্তব গুলি আমাদের কল্পনাকেও হার মানিয়ে দিতে পারে। শহরটি প্রায় 213 মিটার/126 মিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত যাতে প্রায় 33 হাজার মানুষের বসতি ছিল, যা এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে জনঘনত্ব পূর্ণ স্থান বানিয়েছিল। এই শহরের কষ্টকর, ময়লা এবং থাকার পক্ষে অযোগ্য অবস্থার জন্য কলুন শহরটিকে অন্ধকারের শহর বলা হতো যেখানে কোন আইন চলতো না।



এই শহরটি 1810 স্থল সালে হংকংয়ে একটি দুর্গ শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় যেটি হল চীন এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের তৎকালীন জটিল সম্পর্কের ফলাফল। 1898 সাল থেকে ক্লুন শহর ব্রিটিশাধীন হংকং এলাকায় ঘেরা একটি ছোট চাইনিজ ভূমি হিসাবে থেকে গিয়েছিল।
স্বাভাবিকভাবে এই স্থানটি ধীরে ধীরে বিকশিত হতে শুরু করেছিল এবং ধীরে ধীরে আরও মানুষ এখানে বসবাস করতে শুরু করেছিল। এই স্থানটি আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল তার কারণ হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চীন এবং গ্রেট ব্রিটেন কারো কাছেই এই শহরটির উপর প্রভাব বিস্তার করার মত শক্তি বা ইচ্ছা কোনটি ছিল না; তাই চাইনিজ শরণার্থী যারা হংকংয়ে বসবাস করতে সমর্থ ছিলনা তারা এখানে বসবাস করতে শুরু করল।




কলুন শহরে পূর্বে বিদ্যমান বিল্ডিংগুলোর সাথে সাথে অনিয়ন্ত্রিতভাবে আরো নির্মাণ গড়ে উঠেছিল। ফলে একসময় দেখা গেছে প্রায় 15 তলা উঁচু বিল্ডিংগুলির মাঝামাঝি দূরত্ব 2 মিটারের বেশি ছিল না। যার ফলে রাস্তা গুলিতে সূর্যের আলো প্রবেশ করতোনা এবং ঝুলন্ত বিভিন্ন তারের বান্ডিলের তলা দিয়ে মানুষকে ঝুকে ঝুকে চলতে হতো। 1990 সালে এই শহরে 500 টি বিল্ডিং পাওয়া গিয়েছিল যাতে মাত্র দুটি এলিভেটর ছিল এবং বিল্ডিং গুলির উপরের তলা গুলির মধ্যে একপ্রকার ব্রিজের মত যোগাযোগ রক্ষা করার ব্যবস্থা ছিল ফলে বসবাসকারীদের পাশের বিল্ডিং গুলোর মধ্যে যাওয়ার জন্য নিচের তলায় নামতে হতো না।



এই শহরটি কোন পরিকল্পনা ও নিয়ম ছাড়া তৈরি করা হয়েছিল এবং পর্যাপ্ত জানালা এবং কোন প্রকার ভেন্টিলেশন সিস্টেম পরিকল্পনা করা হয়নি। কোন যুক্তি ছাড়া এ বিস্ময়কর স্থাপত্যটি এখনো নির্মাতা এবং স্থাপত্যবিদ্দের মনে কৌতূহল জাগায়। এখানকার অ্যাপার্টমেন্ট গুলির আয়তন 4 বর্গমিটার থেকে 16 বর্গ মিটার পর্যন্ত আয়তনের ছিল এবং একই সাথে বাসস্থান এবং কর্মস্থান হিসেবে ব্যবহার করা হতো।




Sunday, 11 April 2021

রহস্যময় গোপন দস্তাবেজ যখন সরকারের সংগ্রহ থেকে হারিয়ে যায় ---

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে কিভাবে কিছু কিছু বিশেষ ধরনের সরকারি ফাইল বা দস্তাবেজ হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং তা কখনো আর খুঁজে পাওয়া যায় না।  এই ধরনের ঘটনা অনেকবার ঘটেছে, এর একটি নিখুঁত উদাহরণ হল রসঅয়েলের ঘটনা সংক্রান্ত যা 1947 সালের জুলাই মাসে ঘটেছিল। এমনকি ইউ এস এয়ার ফোর্স এখনো স্বীকার করে যে রসওয়েল আর্মি এয়ার ফিল্ডের থেকে বেরোনো ফাইলগুলি যেগুলো সংগ্রহ করে রাখা দরকার ছিল সেগুলো আর কখনো পাওয়া যায়নি। 



ঠিক এরকমটাই ঘটেছিল 1980 সালের 'রেন্দেলসম ফরেস্ট ইউএফও ল্যান্ডিং' সংক্রান্ত ফাইলের ক্ষেত্রে; এই ঘটনা সংক্রান্ত বহু ফাইলের অস্তিত্বের উল্লেখ থাকলেও সেগুলো কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।  এরকমই বিভিন্ন বিতর্কিত হারিয়ে যাওয়া ফাইলের ঘটনার একটি ঘটেছিলো  1970 সালে। এর সাথে আমেরিকান সরকারের ক্ষমতাশালী কিছু ব্যক্তিত্ব জড়িয়ে পড়ে এবং যেই ফাইলটি একসময় সকলের চোখের সামনে ছিল সেটি খুব দ্রুত অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনাটি যে এডগার হুভার কে কেন্দ্র করে সে বেশ কয়েক দশক ধরে এফ বি আই এর হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। 1972 সাল পর্যন্ত সে পালিয়ে বেরিয়েছিল এবং এরপর তার মৃত্যু ঘটে এবং এফবিআই ও পাল্টে যায়। 



77 বছর বয়সের হুবারের মৃত্যুর ঘটনা যখন পাওয়া যায়, তার কাছের বন্ধু এবং অ্যাসোসিয়েট ডাইরেক্টর টলসন এবং সেক্রেটারি গ্যন্ডী খুব দ্রুত উবারের গোপন ফাইল গুলি নিয়ে নেয়। হ্যাঁ, এগুলি কোন সাধারন ফাইল না যা হুবার এবং তার স্পেশাল এজেন্টরা সংগ্রহ করে রেখেছিল, এগুলি কোন সাধারন সংগ্রহের অংশ নয়-- এগুলি এফ বি আই এর হেডকোয়ার্টারে এমন গোপনীয়তার সাথে রাখা ছিল যা বেশিরভাগ কর্মকর্তাদের হাতের বাইরে ছিল। হুভারের প্ল্যান ছিল তার মৃত্যু ঘটলে, এই স্পর্শ কাতর ফাইলগুলি হয় ধ্বংস করে দেওয়া হবে অথবা এফবিআইয়ের কোন বিশ্বস্ত কর্মকর্তার হাতে দেওয়া হবে।  

অবাক করা বিষয় হলো এই নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিতদের মধ্যে একজন ছিলেন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এম নিক্সন। এফ বি আই এর তখনকার ডাইরেক্টর লুইস প্যাট্রিক গ্রে খুব দ্রুত এই গোপন ফাইল গুলি কব্জা করে এবং সেগুলিকে হোয়াইট হাউসে তার বসের কাছে পাঠিয়ে দিতে উদ্যত হন। কিন্তু গ্যন্ডী এবং টলসন খুব দক্ষতার সহকারে এই দস্তাবেজ গুলো গ্রে এর হাত থেকে দূরে রাখেন এবং বলতে গেলে সকলের থেকেই সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেন কিন্তু সেটা পুরোপুরি সফল হয়নি। 



টলসন এবং গ্যন্ডী গোপনে দস্তাবেজগুলি হুভারের ঘর থেকে নিয়ে এসে ভূগর্ভস্থ একস্থানে লুকিয়ে রাখে। ঠিক সেই সময় একটি প্রসেস শুরু করা হয় যার উদ্দেশ্য হলো গোপনীয়তায় ভরা ক্ষতিকারক অথবা গুরুত্বপূর্ণ এই দস্তাবেজ গুলির সবকটিকে ধ্বংস করে দেওয়া যদিও বহু জিনিসপত্র অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। অবাক করা বিষয় হল, এই দস্তাবেজ ধ্বংস করার জন্য জেমস জেসাস অংলেন্টন সহায়ক হিসেবে এসেছিলেন, যিনি বছরের পর বছর জুড়ে সি আই এ তে 'চিফ অফ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স' পদাধিকারী ছিলেন তিনি হুবারের বাড়িতে এসেছিলেন; সম্ভবত তার ভয় ছিল এই দস্তাবেজ গুলির মধ্যে তার বিরুদ্ধে কোন তথ্য থাকতে পারে। কানাঘুষো তে শোনা যায়, হুবারের ফাইলগুলি নষ্ট করার প্রক্রিয়া চলাকালীন একসময় অংলেনটন বেশকিছু বিশালাকৃতির ফাইলের বাক্স নিয়ে কোন এক অজ্ঞাত স্থানে উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তিনি এই ফাইলগুলি কোথাও সুরক্ষিত করে রেখেছেন অথবা নষ্ট করে দিয়েছেন তা হয়তো আমরা কোনদিনও জানতে পারবো না। 



এর মধ্যে একটি কানাঘুষো শোনা যায় যে অংলেনটন মার্লিন মনরোর গোপনীয় ফাইলের হদিশ পেয়েছিলেন। অবশ্যই মার্লিন সংক্রান্ত ফাইলগুলি এফবিআই প্রকাশ করে একটি অসাধারণ কাজ করেছিল, কিন্তু এফবিআইয়ের ওয়েবসাইটে এই হলিউড কিংবদন্তি সম্পর্কে যে ফাইল গুলি পাওয়া যায় তা হুবারের সংগ্রহের মধ্যে থেকে খুবই সাধারণ কতগুলি; কিন্তু গোপন মারলিনের ফাইলগুলি 1972 সালে হুবারের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে এবং এটি আরেকটি রহস্য যা অমীমাংসিত হয়ে রয়েছে।



প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বহু সময় ধরে হুবারের এই গোপনীয় ফাইল গুলি সম্পর্কে ভীতসন্ত্রস্ত ছিলেন। কারণ, গ্যন্ডী এবং টলসন আদতে ফাইলগুলি ধ্বংস করেছে অথবা কোথাও লুকিয়ে রেখেছে তা সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত সন্দিহান ছিলেন এবং এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপদজনক ও স্পর্শ কাতর কিছু তথ্য থাকতে পারতো, যাই হোক না কেন এই ফাইল গুলিতে যা কিছুই থাকুক না কেন সেগুলি কি ধ্বংস করা হয়েছিল, নাকি এখনো সেগুলো কোনো গোপন জায়গায় পুঁতে রাখা হয়েছে, হয়তো কোন একদিন প্রকাশ্যে আসবে সেদিন কি আমেরিকা সম্পর্কে আমাদের অবাক করা কিছু ধারনার সৃষ্টি হবে? দেখা যাক....


Saturday, 3 April 2021

মানুষ কি ভবিষ্যতে কোন বিষাক্ত প্রাণী তে বিবর্ধিত হবে?

একটি নতুন গবেষণায় তথ্য পাওয়া গেছে যে, মানুষ বিবর্তনের মাধ্যমে একটি বিষাক্ত প্রজাতিতে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। যদিও এর সম্ভাবনা খুবই কম; এই গবেষণা দেখা গেছে স্তন্যপায়ী এবং সরীসৃপদের সালিভারি গ্ল্যান্ডে বিষ তৈরি করার উপাদান আছে এবং এই ভাবেই একশটির ওপরে বিষহিন প্রজাতি বিষাক্ত প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। 




মজার ব্যাপার হলো স্তন্যপায়ীরা তাদের বিষ অন্য ভাবে ব্যবহার করে।
যেমন রক্তচোষা বাঁদরেরা তাদের বিষাক্ত লালা ব্যবহার করে ক্ষতস্থানের রক্ত তঞ্চন বা ব্লাড ক্লট হওয়া রোধ করে সেখান থেকে ক্রমাগত রক্ত পান করার জন্য।
বিষাক্ত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীরা তাদের বিষ তাদের থেকে বিশাল আকৃতির প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচতে এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের শিকারকে অসার বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত করতে ব্যবহার করে, যাতে শিকারকে তারা পরে ফিরে এসে খেতে পারে। 

আবার প্লাটিপাস জাতীয় প্রাণীদের স্যালাইভা বা লালারসে বিষ থাকে না, তাদের পায়ের পেছনদিকে বিষাক্ত স্পার থেকে নির্গত হয় যা আত্মরক্ষার কাজে আসে। 



প্রাইমেট অর্থাৎ বানর ও মানুষ জাতীয় উন্নত প্রজাতির মধ্যে একমাত্র 'স্লো লরিস' হল একটি বিষাক্ত প্রজাতি যাদের বিষ এতটা শক্তিশালী যা মাংসে পচন ঘটাতে পারে কিন্তু তারা অন্য কোন প্রাণীর উপর এগুলি প্রয়োগ করে না। কেবলমাত্র নিজেদের উপরই প্রয়োগ করে। 
তাহলে মানুষ কি এই স্লো লোরিস এর মত বিষাক্ত হবে নাকি তার থেকেও বেশি অর্থাৎ সাপ বা মাকড়সার মতো?

জাপানের 'ওকিনাওয়া ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির' এভলিউশনারি জেনেটিক্স এর ডক্টরাল স্টুডেন্ট এবং এই গবেষণার সহ-সম্পাদক অগ্নিশ বড়ুয়ার মতে, মূলত আমাদের শরীরে এর জন্য প্রয়োজনীয় সবরকম উপাদানই উপস্থিত আছে। এখন এটা কেবল বিবর্তনের উপর নির্ভর করে, যে সে আমাদের কখন ও কোথায় নিয়ে যাবে।




এই গবেষণার অপর সহ-সম্পাদক 'অস্ট্রেলিয়ান ইউনিভার্সিটির' এভলিউশনারি বায়োলজিস্ট আলেকজান্ডার মিখায়েভ এবং বড়ুয়া দুজনে মিলে কেবলমাত্র বিষ নয় বরং এই সম্পর্কিত জিন গুলি নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন। তারা এক ধরনের 'ব্রাউন পিট' প্রজাতির সর্প যাকে 'তাইওয়ান হাবু' বলা হয় তাকে নিয়ে পরীক্ষায় দেখেছেন, এমনিওট (যে সকল প্রজাতির প্রাণীরা তাদের ডিম ভিতরে বহন করে অথবা বাইরে প্রসব করে) জাতীয় প্রজাতির মধ্যে অনেকগুলি জিনের মিল আছে এবং সেই সকল জিনের মধ্যে ফোল্ডিং প্রোটিন আছে।

মানুষের লালারসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, বিশেষ করে 'কালীক্রেইন' যেই প্রোটিনগুলি অন্য প্রোটিনগুলির পচন ঘটায়। এই প্রোটিন গুলিকে লালারসে পাওয়া যায় এবং এগুলি বিভিন্ন বিষের মধ্যে বর্তমান থাকে। 'অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ডের' বায়োকেমিস্ট এবং ভেনোম বা বিষ সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ফ্রাই এই গবেষণার অংশ না হলেও তিনি দাবি করেছেন, সকল প্রাণিকুল জুড়ে যে কোন বিষের মধ্যে এইভাবে এই কালীক্রেইন এর উপস্থিতি কোন আকস্মিক ঘটনা হতে পারেনা। এটি যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি অত্যন্ত সক্রিয় উৎসেচক এবং এটি কিছু একটা ঘটাতে চলেছে।




তবে গবেষকদের মতে আপাতত আমাদের বিষাক্ত প্রাণীতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম, যদি না এমন কিছু ঘটে যা আমাদের ভবিষ্যতে বিষাক্ত প্রাণীতে বিবর্তিত হতে বাধ্য করে। লন্ডনের 'ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম'এর বিষ বা ভেনম সংক্রান্তঃ গবেষক রোনাল্ড জেনার এই গবেষণার অংশ না হলেও তিনি 'লাইভ সাইন্স' কে একটি ইন্টারভিউতে এই সংক্রান্ত একটি পুনরুক্তি করেন যে, কোন প্রাণী আত্মরক্ষার্থে অথবা শিকার করার প্রয়োজনে বিষাক্ত প্রাণীতে বিবর্তিত হয়।

এই গবেষণাটি 'প্রসিডিংস অফ দা ন্যাশনাল একাডেমী অফ সাইন্সেস' জার্নালে প্রকাশিত হয় এখানে আপনারা বিস্তারে এ সম্পর্কিত তথ্য পড়তে পারেন।

Monday, 29 March 2021

হিমালয়ের ভিনগ্রহী গতিবিধি কি বেড়েই চলেছে?

এর আগেও আমারা একটি লেখনীতে হিমালয়ের পার্বত্য এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত 'কংকা পাস' নিয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরেছিলাম। আজকে আরো কিছু প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী পাওয়া কিছু বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরছি; এই এলাকার কাছাকাছি যারা ভ্রমণ করার সুযোগ বা যারা ভ্রমণ করেছেন - তাদের সাথে কথা বলার সুযোগ পেলে সেই অভিজ্ঞতা কমেন্টে লেখার অনুরোধ রইল।



'কংকা পাস' বা 'কংকা-লা' হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলের একটি অত্যন্ত দুর্গম স্থান, এটি জম্বু কাশ্মীরের লাদাখ অঞ্চল থেকে শুরু করে চীনের 'চেং চেন্ম' অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এবং বরফে ঢাকা উঁচু উঁচু শৃঙ্গ দিয়ে ঘেরা স্থান, এছাড়া বিভিন্ন দুর্গম গুহা থেকে শুরু করে ভ্যালি এবং হিমশীতল আবহাওয়া - যা আমাদের সাধারন মানুষদের জন্য অবশ্যই নয়। 
স্থানটিকে এক প্রকার পরিতক্ত দুর্গম স্থান বলা যেতে পারে যেখানে প্রাণী বলতে মাঝে মাঝে পশুপালক, যাযাবর, কিছু হিন্দু পুণ্যার্থী বা সাধু সন্ন্যাসী, অ্যাডভেঞ্চার প্রেমী মানুষ ও মিলিটারির লোকদের দেখা যায়। কিছু আউটপোস্ট এর অবস্থান ও একটি জটিল ও বিতর্কিত ইন্ডিয়া ও চায়নার বর্ডার স্থানটির উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে যেটি নিয়ে বিবাদের কথা আমরা এখনো প্রায়শই শুনতে পাই; যাই হোক এই পাথুরে দুর্গম এলাকাটি দেখতে কিছুটা ভিনগ্রহী মনে হলেও হতে পারে এবং এর পিছনে আরও একটি কারণ হলো ইউ এফ ও এবং রহস্যময় ভিনগ্রহী গতিবিধি সংক্রান্ত পৃথিবীর বিখ্যাত হটস্পট গুলির মধ্যে এটি একটি স্থান নিয়ে নিয়েছে।




বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন মানুষ যারা এই স্থানে গিয়েছেন তাদের মুখে বিভিন্ন রকমের রহস্যময় কাহিনী শোনা গিয়েছে। এগুলির মধ্যে প্রচুর মিল পাওয়া গিয়েছে যেমন- আকাশে রহস্যময় আলোর গতিবিধি যা বিভিন্ন কায়দায় ঘুরে বেড়ায় আবার হঠাৎ করে কোন এক প্রান্তে অদৃশ্য হয়ে যায়; এছাড়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রের গোলযোগ, সময়ের গোলমাল, অনেকেই অভিযোগ জানিয়েছেন হঠাৎ করে তারা বহু মাইল দূরে কোন এক স্থানে জেগে উঠেছেন এবং শেষবার তারা কোথায় ছিলেন তা ভুলে গেছেন, এর সাথে ইউএফওর গতিবিধি তো খুবই সাধারণ বিষয়। এই সকল রিপোর্টের অধিকাংশ মিলিটারি এবং মিলিটারির বিভিন্ন অধিকারীকের থেকে পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া এখানে একটি কাহিনী শোনা যায় যা হলো মাটির তলায় অবস্থিত বিশালাকৃতির বিভিন্ন টানেল এবং পৃথিবীতে বসবাসরত ভিনগ্রহীদের ইউ এফ ও এর একটি বিশাল আকৃতির বেস।

2003 সালে বর্ডারের কাছাকাছি কর্মরত ভারতীয় সেনাবাহিনীর বেশ কিছু ট্রুপ চীনের দিকের আকাশে বেশ কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন রকম আলোর গতিবিধি দেখতে পায় এবং সেগুলো এতই রহস্যময় ছিল যে তারা তাদের কমান্ডকে রিপোর্ট করে কিন্তু পরবর্তীকালে এ সম্পর্কে তাদের সুপেরিয়র অথবা চাইনিজ মিলিটারি কারোর থেকেই একটিও শব্দ শোনা যায়নি। 




এর থেকেও একটি রহস্যময় ঘটনা 2004 সালে ঘটেছিল যখন হিমাচল প্রদেশের 'লাহুল- স্পিতি' অঞ্চলে আমেদাবাদের ইসরোর স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের ডক্টর অনিল কুলকার্নির নেতৃত্বে 1 জিওলজিস্ট দল কর্মরত ছিল। 'সমুদ্র তাপু ভ্যালি' এই এলাকায় অন্যতম নির্জন ও দুর্গম অঞ্চল ছিল এই স্থানে এক্সপিডিশন করার সময় এই টিমটি আনুমানিক 4 ফুট লম্বা অদ্ভুত রকমের মানুষ আকৃতির রোবটিক কিছু একটাকে 50 মিটার দূরে পাথুরে অঞ্চল দিয়ে হেটে যেতে দেখে। বৈজ্ঞানিকরা এই রোবটটিকে প্রায় 40 মিনিট ধরে লক্ষ্য করেছিল এবং এর ছবি ও নিয়েছিল এবং তারা এই বস্তুটির কাছাকাছি যাওয়ার আগেই হঠাৎ করে বস্তুটি আকাশে উড়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। এই বিষয়টি সাক্ষী ছিলেন 14 জন মানুষ যার মধ্যে 6 জন বৈজ্ঞানিক ছিলেন। তাদের কাছে এর স্বাভাবিক কোনো বর্ণনা ছিলনা, এছাড়া তাদের এই রিপোর্টটির কোন সদুত্তর পরবর্তীকালে পাওয়া যায়নি - সম্ভবত এটি ফাইল এর ভিতর চাপা পড়ে গেছে।




 মজার ব্যাপার হলো আরো অনেকেই এই অঞ্চলে ঠিক একই রকম ছোট রোবটিক বস্তুর অস্তিত্ব বর্ণনা করেছে যারা হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়, কখনও মাটির উপর একটি গর্তের উদয় হয় যাতে তারা ঢুকে যায় এবং সেটি অদৃশ্য হয়ে যায় যেন আগে কখনো সেখানে এরকম কিছু ছিল না।

আরো একটি হাইপ্রোফাইল রহস্যময় ঘটনা উন্মোচিত হয় 2012 সালে এই সময় 1 আগস্ট থেকে 15 অক্টোবর পর্যন্ত এই অঞ্চলে কর্মরত ইন্ডিয়ান আর্মির ইউনিট গুলি এবং ইন্দো টিবেটান বর্ডার পুলিশ ফোর্স লাদাখ অঞ্চলে প্রায় 100 টির উপর ঘটনা রিপোর্ট করেন, যেগুলি হল রহস্যময় বিভিন্ন উজ্জ্বল বস্তুর গতিবিধি সংক্রান্ত। এই স্থানটি জম্মু-কাশ্মীর, পাকিস্তান অকুপাইড কাশ্মীর এবং চীনের অকুপাইড আকসাই চীনের মাঝামাঝি প্রায় 86,000 স্কোয়ার কিলোমিটার বিশিষ্ট একটি বিস্তৃত এবং হেভিলি মিলিটারাইজড অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। বর্ণনা পাওয়া গেছে এই হলুদ উজ্জল বস্তুগুলি চাইনিজ প্রান্ত থেকে উদয় হয়, আকাশে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার আগে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে। আর্মি আধিকারিকরা যারা এর প্রত্যক্ষদর্শী ছিল তারা নিশ্চয়তার সঙ্গে বর্ণনা করেন যে, এগুলি কোন মনুষ্য পরিচালিত বিমান,ড্রোন অথবা পৃথিবীর কাছাকাছি ঘুরে বেড়ানো স্যাটেলাইট নয়। 

সেই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে কাছাকাছি একটি পর্বত শৃঙ্গতে একটি 'ground based' ভ্রাম্যমান রাডার ইউনিট এবং একটি 'স্পেক্ট্রাম এনালাইজার' স্থাপন করা হয়। কিন্তু এই বস্তুগুলি একই সময় চোখে দেখা গেলেও রাডার বা স্পেক্ট্রাম এনালাইসিসে ধরা দেয়নি। এমনকি এই বস্তুর উদ্দেশ্যে একটি এয়ারক্রাফটও ছাড়া হয় কিন্তু সেটি বস্তুর কাছাকাছি যাওয়ার আগেই বস্তুটি হঠাৎ করে সোজা উপরে উঠে যায় এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে বেরিয়ে যাবে। 




'ইন্ডিয়ান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরি'র  জ্যোতির্বিদের একটি দল ও এই বস্তুগুলো তিন দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে এগুলি কোন গ্রহ, উল্কা অথবা স্যাটেলাইট এর অংশ নয়। এই রহস্যময় বস্তুগুলি শয়ে শয়ে মিলিটারি অধিকারিক, বৈজ্ঞানিক এবং বিভিন্ন মানুষ দেখে গিয়েছেন কিন্তু কখনোই এদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এর উপর দেখা গেছে গুগল আর্থ কংকা পাশের উপর বিভিন্ন অদ্ভুত বিষয় তুলে ধরেছে। যেমন- হঠাৎ করে মাটির ভিতর থেকে রহস্যময় গহর উন্মুক্ত হওয়া এবং তার থেকে যন্ত্রের বহির্গমন এবং রহস্যময় বিভিন্ন স্থাপনা, আনরেজিস্টার্ড মিলিটারি ফেসিলিটি, জটিল আকৃতির বিভিন্ন বিল্ডিং। দেখা গেছে এই সমস্ত ছবিগুলি গুগল আর্থে খুঁজে পাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ব্লার্ড বা অস্পষ্ট হয়ে যায়। এটা স্পষ্ট নয় যে এর সাথে এই অঞ্চলের ভিনগ্রহী গতি প্রকৃতির সাথে কি সম্পর্ক থাকতে পারে; কিন্তু অবশ্যই  এটি স্থানটির রহস্যময়তা আরো একধাপ বাড়িয়ে দেয়। এই স্থানটিতে কি চলছে এই গুলির কি কোনো বৈজ্ঞানিক কাহিনী আছে? দেশের সরকারগুলি কি কিছু গোপন করছে? এখানে কি ভিনগ্রহী দের কোনো বেস আছে? আপনার কি মনে হয় এই দুর্গম স্থানে এই রহস্যের কারণ কি হতে পারে?

Sunday, 31 January 2021

ভাইরাল ইউ এফ ও ভিডিও কি পাকিস্তানের আকাশে ভিনগ্রহীদের আনাগোনা প্রমাণ?

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ইউএফওর ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে এবং এটি পাকিস্তানের একটি বিমান থেকে তোলা হয়েছিল, এ নিয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরছি --

গত 23 জনুয়ারি পাকিস্তান ইন্টার্নেশনাল এয়ারলাইনস এর করাচি থেকে লাহোরগামি একটি বিমান 'পি কে 304'; পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এবং পাকিস্তান ইন্টার্নেশনাল এয়ারলাইনস মুখপাত্র আব্দুল্লাহ খানের মতে, পাঞ্জাব প্রদেশের রহিম ইয়ার খান অঞ্চলের কাছাকাছি 35,0000 অল্টিটিউডে  দুপুর চারটে থেকে চারটে তিরিশের কাছাকাছি সময়ে বিমানের পাইলটরা প্রথম একটি চকচকে বস্তু উড়ে যেতে দেখে যা তাদের মধ্যে একজন ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন এবং 41 সেকেন্ডের এই ভিডিওটি সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়ে যায়।



পাইলট এবং কেবিন কর্মীদের মতে সূর্যের উপস্থিতি সত্ত্বেও এই ইউ এফ ওটি অত্যন্ত উজ্জ্বল ছিল।

যদিও পি আই এ এর মুখপাত্রের মতে এই বস্তুটি কি ছিল তা এত তাড়াতাড়ি বলা ঠিক হবে না।

ক্যাপ্টেন ফায়সল কুরেশির বর্ণনা অনুযায়ী বস্তুটি যেন একটি মেটালের রিং এর মত কিছুতে ঘেরা ছিল এবং যার মাঝখান থেকে প্রচন্ড আলো নির্গত হচ্ছিল।

অনেকেই দাবি করেছেন, সম্ভবত এটি কোন ওয়েদার বেলুন বা আবহাওয়ার সংক্রান্ত গবেষণায় ব্যবহৃত বেলুন হতে পারে



কিন্তু পাকিস্তান আবহাওয়া দপ্তরের মুখপাত্র খালিদ মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী তাদের কাছে 2 ধরনের বেলুন আছে প্রথমটি 6 থেকে 7000 ফিট উচ্চতা পর্যন্ত উঠতে পারে এবং অন্যান্য গুলি 70000 ফিট উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে পারে এই বেলুনগুলো এক ধরনের 'radiosonde' বহন করে যা হলো ব্যাটারি পরিচালিত দূরত্ব মাপন যন্ত্র এবং আবহাওয়া দপ্তর এর সূত্র অনুযায়ী, এই দপ্তর অনেক আগেই এটি ব্যবহার বন্ধ করেছে বলে জানা গেছে ;এমনকি 'ডপলার করাচির' জাবেদ মেনন যিনি প্রাইভেট ওয়েদার স্টেশন পরিচালনা করেন তিনিও একই দাবি করেন, এর সাথে এটিও বলেন যে এই radiosonde গুলি রাবারের তৈরি হয় এবং ভিডিওতে যেরকম উজ্জ্বল বস্তু দেখা গেছে সেটা দেখে মনে হয় সেটি অ্যালুমিনিয়াম বা অন্যান্য কোন প্রকার ধাতু অথবা কাচের তৈরি।



এছাড়া কোনো কমার্সিয়ালি ড্রোন এখনো এই উচ্চতায় উড্ডয়নে সক্ষম নয় .

এদিকে পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির স্পেস সাইন্টিস্ট জাভেদ স্বামী দাবি করেছেন, এই রহস্যময় চকচকে বস্তুটি আসলে ইউ এফ ও না, একটি লেন্টিকুলার মেঘ হতে পারে তিনি বর্ণনা করেছেন যে কমার্শিয়াল পাইলটরা এই ধরনের মেঘ দেখে থাকে এগুলোকে অনেক সময় এ রকম দেখতে হয়।