Sunday, 25 July 2021

রহস্যময় কালভ্রমণকারী ও একটি দুর্ঘটনা যা পৃথিবীকে টাইম ট্রাভেলের প্রমান দিলো --

সময় এমন একটি বিষয় যা পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কে ঘিরে রেখেছে এটিকে শুনতে যতটা সহজ মনে হয় একে বোঝা তার থেকে বহু কঠিন বিষয়। মনে করা হয়, সময় এমন একটি বিষয় যা ক্রমশ এগিয়ে চলেছে - একে বদলানো বা পুনর্গঠন করা সম্ভব নয় কিন্তু মাঝে মাঝেই এমন কিছু ঘটনায় এমন কিছু ব্যক্তির আগমন ঘটে যা টাইম ট্রাভেল বা সময়ের মধ্যেকার যাত্রা সম্পর্কে রহস্যের সৃষ্টি করে। সাধারণত বিভিন্ন মানুষ যারা টাইম ট্রাভেল করেছেন বলে দাবি করেন তাদের কাছে তার স্বপক্ষে সেরকম কোনো প্রমাণ না থাকার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ এগুলিকে বিশ্বাস করেনি। আজ আপনাদের সামনে এমন একটি ঘটনার উল্লেখ করব যাতে এই টাইম ট্রাভেল সম্পর্কিত যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।



 1951 সালের জুন মাসের রাত প্রায় 11.3০ নাগাদ নিউইয়র্ক টাইমস স্কোয়ারে রাস্তার মাঝে হঠাৎ করে এক ব্যক্তির আগমন ঘটে। ব্যক্তিটি হঠাৎ করে রাস্তার মাঝখানে কি করে এলো তা কেউ বলতে পারে না, কেউই তাকে রাস্তা পার করতে দেখেনি। 

এই ব্যক্তিটি অনেক আগেকার পুরনো দিনের পোশাক পরিহিত ছিল।  ব্যক্তিটির হাবভাব দেখে পরিষ্কার মনে হচ্ছিল যে সেও সেই স্থানে নিজেকে পেয়ে খুবই হতবাক হয়ে গিয়েছে। সে টাইমস স্কোয়ারে চারদিকে ঝাঁ-চকচকে উচু উচু বিল্ডিং গুলি এবং মোটরগাড়ি গুলিকে খুব বিস্ময়ের সাথে দেখছিল এবং আশেপাশের মানুষেরাও এই ব্যক্তিটিকে ঠিক ততটাই বিস্ময় সহকারে দেখছিল। যখনই এই ব্যক্তিটি রাস্তার ধারে যাওয়ার চেষ্টা করল সামনে আসা একটি গাড়িতে ধাক্কা খেয়ে গুরুতরভাবে জখম হয়ে গিয়েছিল এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। 



তল্লাশি করার সময় তার কাছ থেকে বেশকিছু অদ্ভুত রকমের এবং অবাক করা জিনিসপত্র পাওয়া গিয়েছিল। যেমন একটি ফাইভ সেন্ট বিয়ারের টোকেন, একটি ঘোড়ার গাড়ি পরিষ্কার করার বিল যাতে ঠিকানা দেওয়া ছিল লাইভেরী আস্তাবল, লেক্সিংটন এ্যাভেনিউ।  1951 সালের কোন এড্রেস বুকে এই ঠিকানাটি খুঁজে পাওয়া যায়নি এছাড়া প্রায় 70 ডলারের কাছাকাছি পুরনো নোট এবং কয়েন তার কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছিল এছাড়া একটি বিজনেস কার্ড তার থেকে পাওয়া গিয়েছিল, যাতে নাম লেখা ছিল 'রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ' এবং তাতে অ্যাড্রেস ছিল - "ফিফথ এভিনিউ, নিউইয়র্ক" . তার সাথে একটি চিঠি পাওয়া গেল যেটি ফিফথ এভিনিউ নিউইয়র্ক থেকে ফিলাডেলফিয়া পাঠানোর কথা ছিল এবং সেই লেটারে 1876 সালের স্ট্যাম্প মারা ছিল। 



এই ব্যক্তির থেকে পাওয়া সব জিনিস গুলির থেকে একটি বিষয় লক্ষ্য করা গেছে সেগুলি পুরনো সময়ের হলেও একদম নতুনের মত অক্ষত ছিল। এই ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ক্যাপ্টেন হুবার্ডকে ক্যাপ্টেন হুবার্ড যখন ফিফথ এভিনিউতে তদন্তের জন্য পৌঁছান তিনি এই ঠিকানায় একটি অফিস পান।  যেখানকার লোক এই রুডল্ফ নামের কোন ব্যক্তিকে চিনতেন না। ক্যাপ্টেন হুবার্ড সেই সময়কার সমস্ত টেলিফোন ডাইরেক্টরি এবং অ্যাড্রেস বুক খুঁজে ফেলেন কিন্তু তিনি এই নামের কোন ব্যক্তির সন্ধান পাননি। এই ঘটনার বেশ কয়েকদিন চলে যাওয়ার পর কোন পুলিশ স্টেশনে রুডল্ফ নামের কোন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট দাখিল করা হয়নি তাই কোন রকম সূত্র না পাওয়া গেলেও ক্যাপ্টেন হুবার্ড তার তদন্ত জারি রাখেন এবং একদিন 1939 সালের একটি এড্রেস বুকে "রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ জুনিয়ার" নামে এক ব্যক্তির ঠিকানা খুঁজে পান ওই ঠিকানায় পৌঁছে জানতে পারেন, এখন ঐ ঠিকানায় অন্য একজন থাকে যারা রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ জুনিয়ারের থেকে এই জমিটি কিনেছিল। 



এরপর বিভিন্ন রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ জুনিয়ারের ব্যাংক একাউন্টের তথ্য তিনি খুঁজে পেতে সক্ষম হন। ব্যাংক থেকে জানা যায় রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ জুনিয়ারের ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ করা হয়ে গিয়েছে কারণ পাঁচ বছর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল কিন্তু ওনার স্ত্রী তখনও বেঁচে ছিল এবং ফ্লোরিডায় কোথাও বসবাস করছিল।

 ক্যাপ্টেন হুবার্ড ফ্লোরিডার ওই ঠিকানায় গিয়ে রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ জুনিয়ারএর সম্পর্কে খোঁজ করেন। সেখানে তার স্ত্রী যা জানিয়েছিলেন তা শুনে ক্যাপ্টেন হুবার্ড হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন তিনি জানতে পারেন রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ আসলে রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ জুনিয়ারের পিতা ছিলেন যিনি 29 বছর বয়সে 1876 সালে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। তিনি তাঁর বাড়ি থেকে এক সন্ধ্যেবেলা ঘুরতে বেরিয়ে ছিলেন এবং তারপরে আর কোনদিনও ফিরে আসেননি এগুলি শুনে ক্যাপ্টেন হোবার্ট ও তার কর্মীরা হয়রান হয়ে যান কেউ কিছু বুঝতে পারছিল না যে এটা কি করে সম্ভব।


 

কৌতুহলী হুবার্ড 1876 সালের সমস্ত মিসিং ডায়েরি গুলি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন এবং একদিন তার হাতে আসে রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ নামে এক ব্যক্তির 1876 সালের একটি মিসিং রিপোর্ট।  নিরুদ্দেশ সংক্রান্ত তথ্যতে নিরুদ্দেশ ব্যক্তির যে বিবরণ দেয়া হয়েছিল 1951 সালে পাওয়া রুডল্ফ ফ্রেঞ্চ এর সাথে হুবহু মিল খায়। ক্যাপ্টেন হুবার্ড এর সংগ্রহ করা এই প্রমাণগুলি থেকে এটা প্রমাণ হয়ে যায় যে মিসিং রিপোর্টের রুডল্ফ এবং 1951 সালে পথদুর্ঘটনায় মৃত রুডল্ফ একি ব্যক্তি কিন্তু প্রশ্ন হল 1876 সালে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি 1951 সালে কি করে পৌঁছে ছিল এই প্রশ্নের জবাব আজ অব্দি কেউ দিতে পারেনি। কেবলমাত্র কিছু থিওরি পাওয়া যায় যা বলে - এটা একটি টাইম ট্রাভেল সম্পর্কিত ঘটনা যাতে রুডল্ফ হঠাৎ করে টাইম ট্রাভেল করে ফেলেছিলেন।.....

Saturday, 8 May 2021

প্রাচীন মহাকাশযান রহস্য, সক্রেটিস কি মহাকাশে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন?

প্রাচীন গ্রীস বহু আগে বিজ্ঞান এবং গণিতের বিশেষ অগ্রগতির জন্য খ্যাতি লাভ করেছিল যা পরবর্তীকালে পাশ্চাত্যের সভ্যতাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। স্যামোসের আরিস্টারকাস কোপার্নিকাসের অনেক আগেই হেলিওসেন্ট্রিক কসমোলজি বা সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের প্রস্তাবনা দিয়েছিল এবং এছাড়াও রাইট ব্রাদার্সদের 1903 সালে উড়োজাহাজ আবিষ্কারের বহু আগেই বাষ্প চালিত উরন্ত যন্ত্র আবিষ্কারক হিসাবে তার সম্মান আছে।

এটা খুব অবাক করা বিষয় নয় যে বহু লোক দাবি করে, প্রাচীন গ্রিক এবং অন্যান্য সমকালীন অত্যাধুনিক সভ্যতা গুলি যেমন প্রাচীন চীন এবং ভারত - যারা হয়তো এখনকার মানুষের ধারণার বাইরেও উন্নত ছিল এমনকি প্রাচীন মহাকাশযান তারা বানাতে সক্ষম হয়েছিলেন।



সক্রেটিস পৃথিবীকে উপর থেকে দেখতে যে রঙিন বলের মতো মনে হয়, তার যা বর্ণনা দিয়েছেন সেটা অনেকটা কক্ষপথ থেকে বর্তমানের পৃথিবীতে দেখতে যে রকম লাগে তার সাথে মিল পাওয়া যায়।

অরবিটের এই কক্ষপথ মহাকাশচারী এবং মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের কাছে একটি বিখ্যাত প্যাসেজ যেখান থেকে ভূমির উপরে থেকে একটি পজেটিভ ভিউ পাওয়া যায়।



অন্যান্যরা যদিও মনে করেন আরো একটি লেয়ার আছে, কিন্তু কিছু গবেষকরা মনে করেন যে, এটি আসলে একটি প্রমাণ যে আসলে সক্রেটিস পৃথিবীপৃষ্ঠকে অরবিট থেকে দেখেছিলেন অথবা তার কাছে হয়তো অন্য কোন উন্নত সভ্যতার রেকর্ড ছিল যাদের কাছে প্রাচীন মহাকাশযান ছিল এবং ফলস্বরূপ তারা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দৃশ্যের নিখুঁত বর্ণনা দিতে সক্ষম হয়েছিল।

এমনকি এটাও হতে পারে হয়তো প্রাচীন গ্রিকদের কাছে আরও উন্নত প্রযুক্তি ছিল যা বর্তমান আর্কিওলজিস্ট ও ঐতিহাসিকদের ধারণার বাইরে।



প্রাচীন গ্রীকের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি --

যদিও গ্রিসের থেকে বিজ্ঞানের সূত্রপাত হয়নি তবে আধুনিক বিজ্ঞান যেভাবে পরিচালিত হয়ে চলেছে তার শিকড় প্রাচীন গ্রিসের চিন্তাধারা থেকে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, প্রাচীন মিশরীয় এবং মেসোপটেমিয়া সভ্যতা, তাদের উন্নত জ্যোতির্বিদ্যা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য পরিচিত।

প্রাচীন মিশরীয় এবং মেসোপটেমিয়ান পুরোহিতরা কেবলমাত্র জ্যোতির্বিদ্যায় আগ্রহী ছিলেন যেটি তাদের ক্যালেন্ডার পঞ্জিকা তৈরি করতে এবং জ্যোতির্বিদ্যার মাধ্যমে ঈশ্বরের ইচ্ছাকে জানতে সাহায্য করত। তেমনি  চিকিৎসকরা কেবলমাত্র এ্যানাটমী এবং ফিজিওলজিতে আগ্রহী ছিলেন যা তাদের চিকিৎসায় সাহায্য করত।

প্রাচীন সভ্যতা গুলির মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে আরেকটি পার্থক্য বলা যায়, প্রাকৃতিক ঘটনাগুলিকে ব্যাখ্যা করতে ঈশ্বরের কথা তুলে ধরা হতো; যদিও এতে কিছু ব্যতিক্রম ছিল কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সভ্যতা গুলি বিজ্ঞানকে দৈনন্দিন কার্যকলাপে ব্যবহার করত, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে বোঝার জন্য নয়। বিশ্বের গঠনগত ও অন্যান্য কার্যকলাপ বিষয়টি তখন পুরান শাস্ত্রের  অন্তর্গত রাখা হতো এই ভাবেই প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকরা চিন্তা ভাবনা করতেন। পরবর্তীকালে যেগুলি দর্শনবিদ্যায় প্রবেশ করে। 



প্রথম থেলস (৬২৪-৫৪৬ খ্রি পু:) এর সময় থেকে সক্রেটিস পূর্ব গ্রিক দার্শনিকরা বিজ্ঞানকে অন্যান্য কারনে ব্যবহার করা শুরু করলো। তাদের বৈজ্ঞানিক প্রয়োগ গুলো কেবলমাত্র ব্যবহারিক কারণ যেমন ক্যালেন্ডার তৈরি জন্য নয় বরং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে বোঝানোর কাজে লাগাতে শুরু করলেন। এছাড়াও বজ্রপাত, ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ হিসেবে ঈশ্বরকে জড়িত না করে এই দার্শনিকরা তাদের প্রকৃতির উপর অভিজ্ঞতা থেকে জড়বাদী ব্যাখ্যা খোজার চেষ্টা করলেন। যেমন - থেলস ব্যাখ্যা দিলেন, ভূমিকম্পের কারণ হলো - যার উপর স্থলভাগ ভেসে আছে সেই সমুদ্রের ঢেউ পৃথিবীর ডিস্ক গুলিতে ধাক্কা মারে ফলে ভূমিকম্প ঘটে থাকতে পারে।

 সক্রেটিস পূর্ব দার্শনিকদের বেশিরভাগ ধারণা এবং ব্যাখ্যা গুলি আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে সম্পূর্ণ ভুল ছিল কিন্তু যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার কারণ হলো তারাই প্রথম এই ভৌত জগৎকে অতিপ্রাকৃত বা দৈবিক ছেড়ে প্রাকৃতিক বা পদার্থবিদ্যাগত দিক দিয়ে ব্যাখ্যা করার বা বোঝার চেষ্টা করেছিলেন।



এই প্রচেষ্টা গুলি পরবর্তীকালে বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং-এ কিছু ফলপ্রসূ উন্নয়ন এনেছিল।

 পরবর্তী কালের গ্রিক এবং হেলেনিস্টিক বৈজ্ঞানিকরা প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কে এই ধরনের চিন্তাভাবনা করেই বাষ্প চালিত যন্ত্র, এনালগ রোবট আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং যুক্তি দিয়েছিলেন যে মানুষের বুদ্ধি মস্তিষ্ক থেকে আসে হৃদয় থেকে নয় - যেরকম প্রাচীন সভ্যতার মানুষেরা বিশ্বাস করত এবং এটাও বলেছিলেন যে পৃথিবী গোলাকার, চ্যাপ্টা নয় যেমনটা প্রাচীন জ্যোতির্বিদ এবং কিছু সক্রেটিস পূর্ব দার্শনিক যেমন থেলস এবং অনাক্সাগোরাস বলেছিল।

প্রথম যে গ্রিক দার্শনিক গোল আকৃতি পৃথিবীর স্বপক্ষে যুক্তি রেখেছিলেন তিনি হলেন পর্মানিডস (খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দি)।

 পিথাগরিয়ান স্কুল অফ ফিলোসফির প্রতিষ্ঠাতা পিথাগোরাসও  (570 থেকে 490 খ্রিস্টপূর্বাব্দ) গোলাকার পৃথিবীর সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন। সবচেয়ে বিখ্যাত পিথাগোরিয়ানদের মধ্যে একজন হলেন ফিলোলাস যিনি গোলাকার পৃথিবীতে বিশ্বাস করতেন। এছাড়া তিনি বলেছিলেন, পৃথিবী চলমান এবং এটি বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে মোটেই অবস্থিত নয়। ফিলোলাস সক্রেটিসের সমকালীন তাই সম্ভবত সক্রেটিসও তার চিন্তাধারার সাথে পরিচিত ছিল সক্রেটিসের বর্ণনা অনুযায়ী, পৃথিবী একটি রঙিন বলের মতো এবং ফিলোলাসের বর্ণনা অনুযায়ী এটি চলমান। 

 এছাড়া প্লাটো যিনি সক্রেটিসের সবচেয়ে বিখ্যাত ছাত্র ছিলেন তিনি বিশ্বাস করতেন, পৃথিবী গোলাকার ও ফিলোলাসের মহাকাশ সম্পর্কিত চিন্তাধারাগুলো কে বিশ্বাস করতেন। সক্রেটিস নিজে মহাকাশবিদ্যা সম্পর্কে প্রথমে তেমন কোনো চিন্তা ভাবনা করেননি এমনকি হয়তো সময়ও দিতেন না যদি প্লাটো এই বিষয়ে তার সাথে অসম্মতি না জানাতো।


সক্রেটিস এর সময়কালীন গোলাকৃতি পৃথিবী সম্পর্কিত ধারণা অনেকেই মেনে নিয়েছিলেন, শুধু তাই না বেশিরভাগ বিদ্বান মেধাবী গ্রীকরা দর্শন শাস্ত্রের চর্চায় আগ্রহ প্রকাশ ও যোগদান করতে শুরু করেছিল। তার মানে এই দাঁড়ায় যে তিনি এমন কিছু উল্টোপাল্টা বলেননি, যেটা প্রাচীন গ্রীকদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। এটা হয়তো প্রমাণ হতে পারে যে পৃথিবী পৃষ্ঠকে অরবিট থেকে দেখতে কেমন হয় তা সম্পর্কে গ্রিকদের প্রাথমিক ধারণা ছিল। কিন্তু তার মানে এই হয় না যে এই ধারণাটি কক্ষপথে পৌঁছাতে পারলেই হবে, এছাড়া আরেকটি সমস্যা হল প্রাচীন মানুষদের অরবিট থেকে পৃথিবীকে দেখার স্বপক্ষে কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই এবং অবশ্যই মহাকাশযান তৈরি করা সংক্রান্ত তো বটেই।

এছাড়া যদি কেউ উঁচু পর্বতের শীর্ষে যেতে পারে তবে পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে তার ধারণা হওয়া খুব একটি অসম্ভব কিছু নয়। আবার এটাও সম্ভব হতে পারে এই বিষয়গুলি কোন প্রাচীন মহাকাশযানের অস্তিত্ব থাকার প্রমাণ। অথবা কোনো উন্নত সভ্যতা যারা তাদের এই জ্ঞান দিয়েছিলো। আপনার কি মনে হয় ?



Sunday, 18 April 2021

চীনের ধ্বংস হয়ে যাওয়া অন্ধকারের শহর

27 বছর আগের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বা পরিতক্ত হওয়া এই শহরটিকে নিয়ে প্রচুর অসাধারণ কাহিনী রয়েছে যাতে এই শহরের বাস্তব গুলি আমাদের কল্পনাকেও হার মানিয়ে দিতে পারে। শহরটি প্রায় 213 মিটার/126 মিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত যাতে প্রায় 33 হাজার মানুষের বসতি ছিল, যা এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে জনঘনত্ব পূর্ণ স্থান বানিয়েছিল। এই শহরের কষ্টকর, ময়লা এবং থাকার পক্ষে অযোগ্য অবস্থার জন্য কলুন শহরটিকে অন্ধকারের শহর বলা হতো যেখানে কোন আইন চলতো না।



এই শহরটি 1810 স্থল সালে হংকংয়ে একটি দুর্গ শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় যেটি হল চীন এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের তৎকালীন জটিল সম্পর্কের ফলাফল। 1898 সাল থেকে ক্লুন শহর ব্রিটিশাধীন হংকং এলাকায় ঘেরা একটি ছোট চাইনিজ ভূমি হিসাবে থেকে গিয়েছিল।
স্বাভাবিকভাবে এই স্থানটি ধীরে ধীরে বিকশিত হতে শুরু করেছিল এবং ধীরে ধীরে আরও মানুষ এখানে বসবাস করতে শুরু করেছিল। এই স্থানটি আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল তার কারণ হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চীন এবং গ্রেট ব্রিটেন কারো কাছেই এই শহরটির উপর প্রভাব বিস্তার করার মত শক্তি বা ইচ্ছা কোনটি ছিল না; তাই চাইনিজ শরণার্থী যারা হংকংয়ে বসবাস করতে সমর্থ ছিলনা তারা এখানে বসবাস করতে শুরু করল।




কলুন শহরে পূর্বে বিদ্যমান বিল্ডিংগুলোর সাথে সাথে অনিয়ন্ত্রিতভাবে আরো নির্মাণ গড়ে উঠেছিল। ফলে একসময় দেখা গেছে প্রায় 15 তলা উঁচু বিল্ডিংগুলির মাঝামাঝি দূরত্ব 2 মিটারের বেশি ছিল না। যার ফলে রাস্তা গুলিতে সূর্যের আলো প্রবেশ করতোনা এবং ঝুলন্ত বিভিন্ন তারের বান্ডিলের তলা দিয়ে মানুষকে ঝুকে ঝুকে চলতে হতো। 1990 সালে এই শহরে 500 টি বিল্ডিং পাওয়া গিয়েছিল যাতে মাত্র দুটি এলিভেটর ছিল এবং বিল্ডিং গুলির উপরের তলা গুলির মধ্যে একপ্রকার ব্রিজের মত যোগাযোগ রক্ষা করার ব্যবস্থা ছিল ফলে বসবাসকারীদের পাশের বিল্ডিং গুলোর মধ্যে যাওয়ার জন্য নিচের তলায় নামতে হতো না।



এই শহরটি কোন পরিকল্পনা ও নিয়ম ছাড়া তৈরি করা হয়েছিল এবং পর্যাপ্ত জানালা এবং কোন প্রকার ভেন্টিলেশন সিস্টেম পরিকল্পনা করা হয়নি। কোন যুক্তি ছাড়া এ বিস্ময়কর স্থাপত্যটি এখনো নির্মাতা এবং স্থাপত্যবিদ্দের মনে কৌতূহল জাগায়। এখানকার অ্যাপার্টমেন্ট গুলির আয়তন 4 বর্গমিটার থেকে 16 বর্গ মিটার পর্যন্ত আয়তনের ছিল এবং একই সাথে বাসস্থান এবং কর্মস্থান হিসেবে ব্যবহার করা হতো।




Sunday, 11 April 2021

রহস্যময় গোপন দস্তাবেজ যখন সরকারের সংগ্রহ থেকে হারিয়ে যায় ---

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে কিভাবে কিছু কিছু বিশেষ ধরনের সরকারি ফাইল বা দস্তাবেজ হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং তা কখনো আর খুঁজে পাওয়া যায় না।  এই ধরনের ঘটনা অনেকবার ঘটেছে, এর একটি নিখুঁত উদাহরণ হল রসঅয়েলের ঘটনা সংক্রান্ত যা 1947 সালের জুলাই মাসে ঘটেছিল। এমনকি ইউ এস এয়ার ফোর্স এখনো স্বীকার করে যে রসওয়েল আর্মি এয়ার ফিল্ডের থেকে বেরোনো ফাইলগুলি যেগুলো সংগ্রহ করে রাখা দরকার ছিল সেগুলো আর কখনো পাওয়া যায়নি। 



ঠিক এরকমটাই ঘটেছিল 1980 সালের 'রেন্দেলসম ফরেস্ট ইউএফও ল্যান্ডিং' সংক্রান্ত ফাইলের ক্ষেত্রে; এই ঘটনা সংক্রান্ত বহু ফাইলের অস্তিত্বের উল্লেখ থাকলেও সেগুলো কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।  এরকমই বিভিন্ন বিতর্কিত হারিয়ে যাওয়া ফাইলের ঘটনার একটি ঘটেছিলো  1970 সালে। এর সাথে আমেরিকান সরকারের ক্ষমতাশালী কিছু ব্যক্তিত্ব জড়িয়ে পড়ে এবং যেই ফাইলটি একসময় সকলের চোখের সামনে ছিল সেটি খুব দ্রুত অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনাটি যে এডগার হুভার কে কেন্দ্র করে সে বেশ কয়েক দশক ধরে এফ বি আই এর হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। 1972 সাল পর্যন্ত সে পালিয়ে বেরিয়েছিল এবং এরপর তার মৃত্যু ঘটে এবং এফবিআই ও পাল্টে যায়। 



77 বছর বয়সের হুবারের মৃত্যুর ঘটনা যখন পাওয়া যায়, তার কাছের বন্ধু এবং অ্যাসোসিয়েট ডাইরেক্টর টলসন এবং সেক্রেটারি গ্যন্ডী খুব দ্রুত উবারের গোপন ফাইল গুলি নিয়ে নেয়। হ্যাঁ, এগুলি কোন সাধারন ফাইল না যা হুবার এবং তার স্পেশাল এজেন্টরা সংগ্রহ করে রেখেছিল, এগুলি কোন সাধারন সংগ্রহের অংশ নয়-- এগুলি এফ বি আই এর হেডকোয়ার্টারে এমন গোপনীয়তার সাথে রাখা ছিল যা বেশিরভাগ কর্মকর্তাদের হাতের বাইরে ছিল। হুভারের প্ল্যান ছিল তার মৃত্যু ঘটলে, এই স্পর্শ কাতর ফাইলগুলি হয় ধ্বংস করে দেওয়া হবে অথবা এফবিআইয়ের কোন বিশ্বস্ত কর্মকর্তার হাতে দেওয়া হবে।  

অবাক করা বিষয় হলো এই নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিতদের মধ্যে একজন ছিলেন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এম নিক্সন। এফ বি আই এর তখনকার ডাইরেক্টর লুইস প্যাট্রিক গ্রে খুব দ্রুত এই গোপন ফাইল গুলি কব্জা করে এবং সেগুলিকে হোয়াইট হাউসে তার বসের কাছে পাঠিয়ে দিতে উদ্যত হন। কিন্তু গ্যন্ডী এবং টলসন খুব দক্ষতার সহকারে এই দস্তাবেজ গুলো গ্রে এর হাত থেকে দূরে রাখেন এবং বলতে গেলে সকলের থেকেই সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেন কিন্তু সেটা পুরোপুরি সফল হয়নি। 



টলসন এবং গ্যন্ডী গোপনে দস্তাবেজগুলি হুভারের ঘর থেকে নিয়ে এসে ভূগর্ভস্থ একস্থানে লুকিয়ে রাখে। ঠিক সেই সময় একটি প্রসেস শুরু করা হয় যার উদ্দেশ্য হলো গোপনীয়তায় ভরা ক্ষতিকারক অথবা গুরুত্বপূর্ণ এই দস্তাবেজ গুলির সবকটিকে ধ্বংস করে দেওয়া যদিও বহু জিনিসপত্র অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। অবাক করা বিষয় হল, এই দস্তাবেজ ধ্বংস করার জন্য জেমস জেসাস অংলেন্টন সহায়ক হিসেবে এসেছিলেন, যিনি বছরের পর বছর জুড়ে সি আই এ তে 'চিফ অফ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স' পদাধিকারী ছিলেন তিনি হুবারের বাড়িতে এসেছিলেন; সম্ভবত তার ভয় ছিল এই দস্তাবেজ গুলির মধ্যে তার বিরুদ্ধে কোন তথ্য থাকতে পারে। কানাঘুষো তে শোনা যায়, হুবারের ফাইলগুলি নষ্ট করার প্রক্রিয়া চলাকালীন একসময় অংলেনটন বেশকিছু বিশালাকৃতির ফাইলের বাক্স নিয়ে কোন এক অজ্ঞাত স্থানে উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তিনি এই ফাইলগুলি কোথাও সুরক্ষিত করে রেখেছেন অথবা নষ্ট করে দিয়েছেন তা হয়তো আমরা কোনদিনও জানতে পারবো না। 



এর মধ্যে একটি কানাঘুষো শোনা যায় যে অংলেনটন মার্লিন মনরোর গোপনীয় ফাইলের হদিশ পেয়েছিলেন। অবশ্যই মার্লিন সংক্রান্ত ফাইলগুলি এফবিআই প্রকাশ করে একটি অসাধারণ কাজ করেছিল, কিন্তু এফবিআইয়ের ওয়েবসাইটে এই হলিউড কিংবদন্তি সম্পর্কে যে ফাইল গুলি পাওয়া যায় তা হুবারের সংগ্রহের মধ্যে থেকে খুবই সাধারণ কতগুলি; কিন্তু গোপন মারলিনের ফাইলগুলি 1972 সালে হুবারের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে এবং এটি আরেকটি রহস্য যা অমীমাংসিত হয়ে রয়েছে।



প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বহু সময় ধরে হুবারের এই গোপনীয় ফাইল গুলি সম্পর্কে ভীতসন্ত্রস্ত ছিলেন। কারণ, গ্যন্ডী এবং টলসন আদতে ফাইলগুলি ধ্বংস করেছে অথবা কোথাও লুকিয়ে রেখেছে তা সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত সন্দিহান ছিলেন এবং এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপদজনক ও স্পর্শ কাতর কিছু তথ্য থাকতে পারতো, যাই হোক না কেন এই ফাইল গুলিতে যা কিছুই থাকুক না কেন সেগুলি কি ধ্বংস করা হয়েছিল, নাকি এখনো সেগুলো কোনো গোপন জায়গায় পুঁতে রাখা হয়েছে, হয়তো কোন একদিন প্রকাশ্যে আসবে সেদিন কি আমেরিকা সম্পর্কে আমাদের অবাক করা কিছু ধারনার সৃষ্টি হবে? দেখা যাক....


Saturday, 3 April 2021

মানুষ কি ভবিষ্যতে কোন বিষাক্ত প্রাণী তে বিবর্ধিত হবে?

একটি নতুন গবেষণায় তথ্য পাওয়া গেছে যে, মানুষ বিবর্তনের মাধ্যমে একটি বিষাক্ত প্রজাতিতে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। যদিও এর সম্ভাবনা খুবই কম; এই গবেষণা দেখা গেছে স্তন্যপায়ী এবং সরীসৃপদের সালিভারি গ্ল্যান্ডে বিষ তৈরি করার উপাদান আছে এবং এই ভাবেই একশটির ওপরে বিষহিন প্রজাতি বিষাক্ত প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। 




মজার ব্যাপার হলো স্তন্যপায়ীরা তাদের বিষ অন্য ভাবে ব্যবহার করে।
যেমন রক্তচোষা বাঁদরেরা তাদের বিষাক্ত লালা ব্যবহার করে ক্ষতস্থানের রক্ত তঞ্চন বা ব্লাড ক্লট হওয়া রোধ করে সেখান থেকে ক্রমাগত রক্ত পান করার জন্য।
বিষাক্ত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীরা তাদের বিষ তাদের থেকে বিশাল আকৃতির প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচতে এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের শিকারকে অসার বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত করতে ব্যবহার করে, যাতে শিকারকে তারা পরে ফিরে এসে খেতে পারে। 

আবার প্লাটিপাস জাতীয় প্রাণীদের স্যালাইভা বা লালারসে বিষ থাকে না, তাদের পায়ের পেছনদিকে বিষাক্ত স্পার থেকে নির্গত হয় যা আত্মরক্ষার কাজে আসে। 



প্রাইমেট অর্থাৎ বানর ও মানুষ জাতীয় উন্নত প্রজাতির মধ্যে একমাত্র 'স্লো লরিস' হল একটি বিষাক্ত প্রজাতি যাদের বিষ এতটা শক্তিশালী যা মাংসে পচন ঘটাতে পারে কিন্তু তারা অন্য কোন প্রাণীর উপর এগুলি প্রয়োগ করে না। কেবলমাত্র নিজেদের উপরই প্রয়োগ করে। 
তাহলে মানুষ কি এই স্লো লোরিস এর মত বিষাক্ত হবে নাকি তার থেকেও বেশি অর্থাৎ সাপ বা মাকড়সার মতো?

জাপানের 'ওকিনাওয়া ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির' এভলিউশনারি জেনেটিক্স এর ডক্টরাল স্টুডেন্ট এবং এই গবেষণার সহ-সম্পাদক অগ্নিশ বড়ুয়ার মতে, মূলত আমাদের শরীরে এর জন্য প্রয়োজনীয় সবরকম উপাদানই উপস্থিত আছে। এখন এটা কেবল বিবর্তনের উপর নির্ভর করে, যে সে আমাদের কখন ও কোথায় নিয়ে যাবে।




এই গবেষণার অপর সহ-সম্পাদক 'অস্ট্রেলিয়ান ইউনিভার্সিটির' এভলিউশনারি বায়োলজিস্ট আলেকজান্ডার মিখায়েভ এবং বড়ুয়া দুজনে মিলে কেবলমাত্র বিষ নয় বরং এই সম্পর্কিত জিন গুলি নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন। তারা এক ধরনের 'ব্রাউন পিট' প্রজাতির সর্প যাকে 'তাইওয়ান হাবু' বলা হয় তাকে নিয়ে পরীক্ষায় দেখেছেন, এমনিওট (যে সকল প্রজাতির প্রাণীরা তাদের ডিম ভিতরে বহন করে অথবা বাইরে প্রসব করে) জাতীয় প্রজাতির মধ্যে অনেকগুলি জিনের মিল আছে এবং সেই সকল জিনের মধ্যে ফোল্ডিং প্রোটিন আছে।

মানুষের লালারসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, বিশেষ করে 'কালীক্রেইন' যেই প্রোটিনগুলি অন্য প্রোটিনগুলির পচন ঘটায়। এই প্রোটিন গুলিকে লালারসে পাওয়া যায় এবং এগুলি বিভিন্ন বিষের মধ্যে বর্তমান থাকে। 'অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ডের' বায়োকেমিস্ট এবং ভেনোম বা বিষ সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ফ্রাই এই গবেষণার অংশ না হলেও তিনি দাবি করেছেন, সকল প্রাণিকুল জুড়ে যে কোন বিষের মধ্যে এইভাবে এই কালীক্রেইন এর উপস্থিতি কোন আকস্মিক ঘটনা হতে পারেনা। এটি যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি অত্যন্ত সক্রিয় উৎসেচক এবং এটি কিছু একটা ঘটাতে চলেছে।




তবে গবেষকদের মতে আপাতত আমাদের বিষাক্ত প্রাণীতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম, যদি না এমন কিছু ঘটে যা আমাদের ভবিষ্যতে বিষাক্ত প্রাণীতে বিবর্তিত হতে বাধ্য করে। লন্ডনের 'ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম'এর বিষ বা ভেনম সংক্রান্তঃ গবেষক রোনাল্ড জেনার এই গবেষণার অংশ না হলেও তিনি 'লাইভ সাইন্স' কে একটি ইন্টারভিউতে এই সংক্রান্ত একটি পুনরুক্তি করেন যে, কোন প্রাণী আত্মরক্ষার্থে অথবা শিকার করার প্রয়োজনে বিষাক্ত প্রাণীতে বিবর্তিত হয়।

এই গবেষণাটি 'প্রসিডিংস অফ দা ন্যাশনাল একাডেমী অফ সাইন্সেস' জার্নালে প্রকাশিত হয় এখানে আপনারা বিস্তারে এ সম্পর্কিত তথ্য পড়তে পারেন।